ট্রাম্প কি তার বিরুদ্ধে মামলাকে ভোটের অস্ত্র বানাতে পারবেন?

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, সারা স্মিথ,
- Role, উত্তর আমেরিকা সম্পাদক, বিবিসি
তার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলাকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নজরের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন।
সোমবার যখন ফ্লোরিডায় তার প্রাসাদ-সম বাড়ি মার-এ-লাগো থেকে নিউ ইয়র্কে আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য তিনি রওয়ানা হন তখন থেকে পুরোটা পথই বলতে গেলে মার্কিন টিভি নেটওয়ার্কগুলো লাইভ প্রচার করেছে।
পথে তিনি সম্ভবত তার উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ করছিলেন কিভাবে, কোন কায়দায় আদালতের প্রক্রিয়াগুলো তার সামাল দেওয়া উচিৎ – তিনি কি আদালতে এই মামলাকে হাসিমুখ করে তাচ্ছিল্য করবেন, নাকি মুখভঙ্গি- চালচলন গুরু-গম্ভীর করে রাখবেন?
তবে যেটা সত্যি, তা হলো আদালত মঙ্গলবার যা হবে তাকে কোনোভাবেই নির্বাচনী প্রচারণা বলা যাবে না। অপরাধের মামলায় আমেরিকার কোনও সাবেক প্রেসিডেন্টের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো খুবই গুরুতর একটি ঘটনা।
কিন্তু প্রশ্ন হলো মি. ট্রাম্প কি এই অপরাধের মামলাকে রাজনীতির তকমা দিতে সমর্থ হবেন? একে কি তিনি নির্বাচনী অস্ত্রে রূপান্তর করতে পারবেন? পারলেও কতটা পারবেন?

ছবির উৎস, Getty Images
গত সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর থেকে তার নির্বাচনী প্রচারণা টিমের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে যে মানুষজনের কাছ থেকে বেশি চাঁদা আসছে। এক সপ্তাহে ৮০ লাখ ডলার চাঁদা পেয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপ উল্লেখ করে ট্রাম্প শিবির বলছে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তার বেড়ে গেছে। অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়ে জনপ্রিয়তার দৌড়ে তিনি এগিয়ে গেছেন।
সন্দেহ নেই মি. ট্রাম্প শিবির থেকে এরকম আতিশয্য শোনা যাবে। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যেটা লক্ষণীয় তা হলো রিপাবলিকান পার্টিতে যারা তার প্রতিপক্ষ তাদের অনেকে যেভাবে মি. ট্রাম্পের সমর্থনে কথা বলছেন বা কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন।
যেমন, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর রান দ্যসান্তিস –যাকে আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে দেখা হচ্ছে - বলেছেন, “বিচার ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক এজেন্ডা চরিতার্থ করলে আইনের শাসন নষ্ট হবে।''
তিনি বলেন বিচারের জন্য ফ্লোরিডা থেকে মি. ট্রাম্পকে যদি জোর করে নিউইয়র্কে পাঠানোর কোনও অনুরোধ তাকে করা হয়, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন।
অবশ্য তেমন কোনও অনুরোধ আদালতকে করতে হয়নি, কারণ মি. ট্রাম্প নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নিউইয়র্কে হাজির হয়েছেন।
মি ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন এই মামলা বাকি বিশ্বের কাছে মার্কিন বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে “ভয়াবহ বার্তা” দেবে।
রিপাবলিকান এসব রাজনীতিক অবশ্যই এসব কথা বলছেন তাদের ভোটার এবং সমর্থকদের কথা মাথায় রেখে। কারণ, তারা জানেন বহু রিপাবলিকান ভোটার এখন এসব কথা শুনতে চান।
ফলে রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি অর্থাৎ প্রার্থী নির্বাচনের ভোটে মি. ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে আসা এই মামলাকে কাজে লাগাতে পারেন। কারণ ঐ ভোটে ভোট দেবেন রিপাবলিকান সমর্থকরা।
তবে অনেক বিশ্লেষক সন্দেহ করেন মূল নির্বাচনের ভোটে এই কৌশল তার জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।
জর্জিয়া থেকে শুরু করে উইসকনসিন – যুক্তরাষ্ট্রের এ কোনা থেকে আরেক কোনায় অনেক মানুষের সাথে আমি কথা বলেছি যারা কোনও রাজনৈতিক দলের ঘোর সমর্থক নন। বিভিন্ন নির্বাচনে তাদের আনুগত্য বদলায়। তাদের অনেকেই অমাকে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক নীতি-কর্মসূচি তারা পছন্দ করতেন। কিন্তু তাকে নিয়ে যে নাটক এখন চলছে তাতে তারা ক্লান্ত, বিরক্ত।

ছবির উৎস, Getty Images
ফলে এই মামলাকে যদি মি. ট্রাম্প রাজনৈতিক নাটকে রূপ দিতে চান, তাহলে ২০২৪ সালের নভেম্বরে হোয়াইট হাউজে নতুন করে ঢোকার ভোটে অনেকের সমর্থন তিনি হারাতে পারেন।
সোমবার ম্যানহাটনে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে কথা হয় কট্টর ট্রাম্প সমর্থক জন ম্যাগুইগানের সাথে। তিনি মনে করেন এই মামলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মি ট্রাম্পকে সুবিধা দেবে।
“যারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে মি. ট্রাম্প সাক্ষাৎ শয়তান রূপে জন্ম নিয়েছেন, তাদের এই মামলার ফলাফলে কোনও সুবিধা হবেনা। মামলার ফলাফলে মি. ট্রাম্পের সমর্থকদেরও আনুগত্য বদলাবে না," তিনি বলেন।
কিন্তু, তার মতে, “যেসব ভোটার মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছেন, ২০২৪ নির্বাচনে তারা ট্রাম্পের ট্রাম্পের পক্ষে ভিড়তে পারেন।“










