ইরানের সঙ্গে যে চুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা

ইরানের সঙ্গে ভারত সম্প্রতি একটা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যা আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ইরানের চাবাহারে অবস্থিত শাহিদ বেহেস্তি বন্দর পরিচালনা করবে।

এদিকে, ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ভারতের সঙ্গে ইরানের চুক্তির পরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক চুক্তিটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত হবে না। যদিও এর ফলে ভারতের উপর ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কোনও পরিকল্পনা করছে কিনা তা জানায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপ-মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেলকে ভারত-ইরান চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "ইরান ও ভারতের মধ্যে চাবাহার বন্দর নিয়ে যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, সেটা আমরা জানি।”

একই সঙ্গে মি. প্যাটেল বলেছেন, “ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।”

তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে যে ভারতীয় সংস্থা, সেটাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে আসবে কি না।

এর জবাবে তিনি জানিয়েছেন, যে কোনও সংস্থা যারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তিতে আবদ্ধ হবে তারা সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে। এবং এক্ষেত্রে কিন্তু ভারতকে কোনও বিশেষ রকম ছাড় দেওয়া হবে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই মন্তব্যের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথাই বলেছেন।

আরও পড়তে পারেন:

কী এই চুক্তি?

ইরানের চাবাহারে অবস্থিত এই বন্দর নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে সোমবার। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী দশ বছরের জন্য ইরানের চাবাহার শাহিদ বেহেস্তি বন্দর পরিচালনা করবে ভারত।

‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড’ এবং ইরানের ‘পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের’ মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

শাহিদ বেহেস্তি ইরানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত লাগোয়া এই বন্দর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণও বটে।

ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও নৌপথ মন্ত্রকের মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ইরানে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হওয়ার পর বলেন, “ইরান এবং ভারতের সম্পর্কের নিরিখে এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

এর আগে, ২০১৬ সালেও ইরানের শহীদ বেহেস্তি বন্দর পরিচালনার জন্য দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। প্রতি বছর এই চুক্তি ‘রিনিউ’ করা হতো। সাম্প্রতিক স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিকে ২০১৬ সালের চুক্তিরই একটা নতুন রূপ হিসাবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ফলে বন্দরে বড় বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হবে।

ইরানের সড়ক ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী মেহরদাদ বজরপাশ জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় প্রায় ১২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ভারতীয় সংস্থা ‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড’। এই বিনিয়োগের পাশাপাশি ২৫ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। চুক্তি মোট ৩৭ কোটি ডলারের।

কেন ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা?

পরমাণু কর্মসূচি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং চরমপন্থী সংগঠনগুলিকে সমর্থনের অভিযোগে ইরানের ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এমন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং দেশগুলোও রয়েছে। এই কারণেই এর মধ্যেই একাধিক বড় বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েলে ড্রোন হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। ইরানের ড্রোন কর্মসূচি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট যানবাহন প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং ইস্পাত উৎপাদক কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেসময় জানিয়েছিলেন, বিশ্বের নেতৃস্থানীয় অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭ এর নেতারা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইসরায়েলের উপর ইরানের হামলার পর তিনি বলেছিলেন, “আমাদের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলো ইরানের সামরিক কর্মসূচি যা স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে, তার উপর লাগাম টানতে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং ব্যবস্থা নিয়েছে।”

মার্কিন ট্রেজারির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিতদের উপর ৬০০টিরও বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

মার্কিন রোষানলে পড়তে পারে ভারত?

এখন প্রশ্ন হল, সাম্প্রতিক সাক্ষরিত চুক্তির ফলে ভারতীয় সংস্থার উপরেও কী নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। এবং সেক্ষেত্রে কী জাতীয় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে?

বিদেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ 'দ্য ইমেজ ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট'-এর প্রেসিডেন্ট রবীন্দ্র সচদেব জানিয়েছেন, ভারতীয় সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করবে কি না, তা এই মুহূর্তে স্পষ্ট নয়।

তিনি ব্যাখা করেছেন, "বিধিনিষেধ বিভিন্ন রকমের হতে পারে। ভারতীয় সংস্থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষিদ্ধ করলে সেখানকার কর্মীরা মার্কিন ভিসা পাবেন না। ওই সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ব্যবসাও করতে পারবে না।

মি. সচদেব বলেন, "যদি ওই সংস্থার কোনও সম্পত্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের সহযোগী দেশে থাকে তবে তা ফ্রিজ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।”

তিনি জানিয়েছেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যাংকিয়েরও একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারি হলে মার্কিন দেশের নজর পড়তে পারে সেই সব ব্যাংকের দিকেও, যেখানে ভারতীয় সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

"নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ওই ব্যাংককে (যেখানে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় লিপ্ত সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে) সুইফট নেটওয়ার্ক থেকে ব্লক করে দেবে।”

“এটা বিশ্বব্যাপী একটা নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাংকের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর করা হয়,” বলেছেন মি. সচদেব।

তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, বন্দর চালানোর জন্য বড় ক্রেন প্রয়োজন যা জার্মানি ও হল্যান্ডের মতো দেশ থেকে ভাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা পাওয়া কঠিন।

কী কাজ করে ভারতীয় সংস্থা?

‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড’- চাবাহার শাহিদ বেহেস্তি বন্দর উন্নয়নের জন্য এই সংস্থার গঠন করা হয়েছিল।

আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বিকল্প পথ প্রশস্ত করাই এই ভারতীয় সংস্থার লক্ষ্য।

সাগরমালা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সহায়ক সংস্থা এই ‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড’। কোম্পানির ওয়েবসাইট বলছে, কন্টেনার হ্যান্ডলিং থেকে শুরু করে ওয়্যারহাইজিং-এর মতো কাজ করে থাকে এই সংস্থা।

২০১৮ সালের শেষের দিকে প্রথম এই বন্দর পরিচালনার কাজ শুরু করে।

ভারতের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় এই বন্দর

ভারত এবং ইরান ২০০৩ সালে ইরানের উপকূলীয় শহর চাবাহারে একটি বন্দর নির্মাণের জন্য রাজি হয়েছিল।

২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরান সফরে গিয়েছিলেন। ১৫ বছরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইরান সফরে যাওয়ার পর সেই বছরেই চাবাহার চুক্তি অনুমোদন পায়।

এই বন্দর ব্যবহার করেই গত ২০১৯ সালে প্রথমবার এই বন্দর ব্যবহার করে পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান থেকে পণ্য ভারতে আসে।

তবে ২০২০ সালে এমনও একটা সময় গিয়েছে যখন ইরান একটা প্রকল্প থেকে ভারতকে বাদ দিয়েছে বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছিল।

নরেন্দ্র মোদীর সফরের সময় রেল চুক্তিতে বিলম্বকে কেন্দ্র করেও ইরান অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। দিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময় যখন একটি নতুন বাণিজ্য রুটের বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়েছিল তখন চাবাহার প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

বলা হচ্ছিল, ভারত-ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যের করিডর তৈরি হয়ে গেলে চাবাহার বন্দর খুব একটা গুরুত্ব পাবে না। এটাকে ইরানের প্রতি ‘উপেক্ষা’ হিসেবেও দেখা হয়েছিল।

কিন্তু এখন চাবাহার নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যেকার বরফ গলেছে বলেই মনে করা হছ

প্রসঙ্গত, চাবাহার বন্দর আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর অর্থাৎ আইএনএসটিসির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই করিডরের আওতায় ভারত, ইরান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, রাশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য ৭,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ জাহাজ, রেল এবং সড়ক রুটের নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এই রুটে ভারতের পক্ষে ইউরোপে পৌঁছানো সহজ হবে। এর পাশাপাশি ইরান ও রাশিয়ারও লাভবান হবে। এবং এদিক থেকে ইরানের চাবাহার বন্দর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তান এবং চীন ইতিমধ্যে ইরান সীমান্তের কাছে গোয়াদর বন্দরের উপর কাজ করছে।

ভারত, ইরান ও আফগানিস্তানকে সংযুক্ত করা চাবাহার বন্দরকে গোয়াদর বন্দরের জন্য চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করা হয়।

ভারতের কৌশলগত ও কূটনৈতিক স্বার্থেও চাবাহার বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরব সাগরে চীনের উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষেত্রেও চাবাহার বন্দর ভারতের পক্ষে সহায়ক বলে প্রমাণিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আফগানিস্তানে তালেবান ফিরে আসার পর মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সরাসরি যোগাযোগ কমে গেছে।

চাবাহার মারফত ভারত এখন প্রয়োজনে কাবুল পৌঁছাতে পারবে এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যও বাড়তে পারবে।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর

ভারত কী বলছে?

চাবাহার বন্দর পরিচালনার জন্য ভারত ও ইরানের মধ্যে চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সতর্কবার্তার সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।

চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, "চাবাহার বন্দরের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের কিন্তু আমরা কখনই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারিনি কারণ এতে অনেক বাধা ছিল।”

“কিন্তু শেষ পর্যন্ত, আমরা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর করতে পেরেছি। এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিটা প্রয়োজনীয় কারণ এটা ছাড়া বন্দর সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।"

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে এই চুক্তিকে ঘিরে যে মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে মি জয় শঙ্কর বলেন, "আমি জানি এ বিষয়ে কিছু বক্তব্য (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের) প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এটা যে সবার সুবিধার জন্য সেটা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে বুঝিয়ে বলার মতো বিষয়।”

“আমার মনে হয় না যে এই বিষয়ে কারও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিৎ। এবং অতীতে চাবাহারের প্রতি আমেরিকান মনোভাবের বিষয়টা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তারা কিন্তু সবসময় চাবাহারের যে ব্যাপক ভাবে প্রাসঙ্গিক এই বিষয়টার প্রসংশা করে এসেছে। সেই জন্য আমরা এই বিষয়ে কাজ করব।”