জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতিমাসে কীভাবে নির্ধারণ করা হবে?

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, সায়েদুল ইসলাম
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিমাসেই তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশের সরকার।
কীভাবে এটি করা হবে, সেই সংক্রান্ত একটি কৌশল নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
বাংলাদেশে এখনো সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর ওঠানামা করছে। সেই সঙ্গে এই খাতে সরকারি ভর্তুকি কমাতেও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর চাপ রয়েছে।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে দাম সমন্বয়ের বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের তরফ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছিল।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এজন্য তারা একটি কৌশল পরিকল্পনা তৈরির কাজ করছেন।
এই মাসেই সেটি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমাসে মূল্য সমন্বয়ের অর্থ কী?
বর্তমানে সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সারাদেশে সেই দরেই জ্বালানি তেল বিক্রি হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এজাজ হোসাইন বলছেন,’’আমাদের দেশে দেখা গেছে, যখন জ্বালানি তেলের দাম খুব কমে যায়, সরকার দামটা সমন্বয় করে না। ফলে ভোক্তারা দামটা কমে যাওয়ার সুবিধা পায় না। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে সরকার কিন্তু সাথে সাথে দাম বাড়িয়ে দেয়।‘’
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে দাম নির্ধারণ করা হলে ভোক্তারা সেই অনুযায়ী জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলছেন এতে ভোক্তারাই বেশি লাভবান হবেন।
অতীতে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তি থাকলেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে দেশের বাজারে তেল বিক্রি করেছে। ফলে জনগণকে সরাসরি তেলের পেছনে বাড়তি টাকা দিতে না হলেও, ভর্তুকির মাধ্যমে আসলে জনগণের টাকাই এর পেছনে ব্যবহৃত হয়।
আবার জ্বালানি তেলের দাম কমার পরেও অনেক সময় সরকার অতীতের ক্ষতি মেটাতে নতুন করে মূল্য সমন্বয় করে না। যেমন ২০১৯-২০২০ সালে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড কমলেও দেশের বাজারে দাম খুব একটা কমেনি।
ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও দেশের জনগণ তার সুফল পায় না।
সরকার এখন যে নতুন কৌশল নেয়ার কথা বলছে, তাতে আর এসব সমস্যা থাকবে না বলে কর্মকর্তারা বলছেন।
কেন জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে চাইছে সরকার?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বাংলাদেশে প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমদানি করা ডিজেলের বড় অংশ পরিবহন খাত এবং কৃষিতে সেচের কাজে ব্যবহার হয়।
জ্বালানি তেলের জন্য ২০২১ সালে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছিল সরকার। তবে এই বছর তেলের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি অনেকটাই সমন্বয় করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ যেসব শর্ত দিয়েছে, তার একটি হচ্ছে জ্বালানি তেলের ওপর থেকে ভর্তুকি কমিয়ে আনা। সেখানে জ্বালানির মূল্য-নির্ধারণ পদ্ধতি বাজারের ওপরেও ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আইএমএফ বলছে, মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির সংস্কার করা হলে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দেয়ার প্রবণতা কমে আসবে।
এখন সেই দিকেই হাঁটছে সরকার। যদিও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় পৌঁছেছে। এই সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল বিক্রি হয়েছে ৮০ ডলারে।
গত ১৩ই ডিসেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠকে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি না দেয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রি বেসরকারি খাতের জন্য খুলে দেয়ার বিষয়ে সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানানো হয়।
ইতোমধ্যে সরকার বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে বিইআরসি বা গণশুনানি ছাড়াই প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে পারবে সরকার।

ছবির উৎস, Getty Images
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. এজাজ হোসাইন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’এতদিন ধরে দেখা যেতো, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে, সরকার একটা পর্যায়ে ডিজেল পেট্রোলের দামও বাড়িয়ে দিতো। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম কমলেও সেভাবে কিন্তু কমানো হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে যদি দাম নির্ধারণ করা হয়, আমার মতে তাতে সবচেয়ে লাভবান হবে ক্রেতারা।‘’
তবে এই কৌশলের মাধ্যমে সরকার নিজেও ভর্তুকি ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলছেন, ‘’সরকার হয়তো জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে আর ভর্তুকি দিতে চায় না। ফলে প্রতিমাসে মূল্য সমন্বয় করলে তারা সেই ভর্তুকি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। ভর্তুকিও তো জনগণের টাকা। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম যখন কমবে, সেটার সুফলও যাতে সবাই পায়, সেটাও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।‘’
কী কৌশল নিতে চায় সরকার?
সরকার নতুন যে কৌশলের কথা বলছে, এটি আসলে একেবারে নতুন কোনো ফর্মুলা নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এভাবে বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়।
আমদানি করা জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে সারা বিশ্বে প্রধানত তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
অধিকাংশ দেশ মার্কেট ডিটারমাইন্ড বা বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় পদ্ধতি অনুসরণ করে। আবার কোন কোন দেশ সর্বোচ্চ দর বা প্রাইস সিলিং পদ্ধতি অনুসরণ করে। বাংলাদেশের মতো কিছু দেশ ফিক্সড প্রাইস বা নির্ধারিত দরে জ্বালানি তেল বিক্রি করে।
প্রতিবেশী ভারতে বহুদিন ধরেই ডায়ানামিক ডেইলি প্রাইসিং মেথড অবলম্বন করা হচ্ছে। সেখানে মাসিক হিসাবে নয়, প্রতিদিন বেন্ট ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দম বিবেচনায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়।
ভারতের সাংবাদিক কুণাল বসু বিবিসি বাংলাকে নভেম্বর মাসে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘’ভারতে দামটা ঠিক হয় এভাবে: বিশ্বের যেসব জায়গা থেকে তেল আমদানি করা হয়, তার সঙ্গে সরকারি কর ও মুনাফা যোগ করে প্রতিদিন তেলের দরটা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। প্রতিদিন সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঠিক করে দেয়, কতো দামে ডিজেল-পেট্রোল বিক্রি হবে। অনেক কিছু বিকেন্দ্রীকরণ করা হলেও এখানে কিন্তু সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ আছে।‘’
আবার আমেরিকায় প্রতি ঘণ্টায় তেলের দাম নির্ধারণ হয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যে প্রতিদিনই জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করে। কিন্তু সেখানে সরকারি কোন সংস্থা সেটা নির্ধারণ করে না। ক্রুড অয়েলের দাম, সরকারি কর, ভ্যাট ইত্যাদির সাথে নিজেদের মুনাফা মিলিয়ে পাম্প মালিকরাই প্রতিদিন সেটা ঠিক করেন। ফলে একই দিন একেক এলাকায় তেলের দাম একেক রকমও হতে পারে।
কীভাবে দাম সমন্বয় করা হবে?
সোমবার একটি অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বিশ্ব বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিমাসে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলছেন, জ্বালানি তেলের বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে, খসড়া এই মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে। এরপর থেকে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হবে। এভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দামও পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে নিয়মে এখন লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা হয়, সেই ফর্মুলা বিবেচনায় নিয়েই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের কথা ভাবছে সরকার।
এলপিজির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে গণশুনানি করে আমদানিকারককের খরচ, পরিবহন ব্যায় ও কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন তার সঙ্গে প্রতিমাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি গ্যাসের দামের ওঠা-নামা যোগ করে দেশের বাজারে মূল্য নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

ছবির উৎস, Getty Images
তেলের ক্ষেত্রেও সেই ফর্মুলা মডেল হিসাবে বিবেচনায় নিয়ে একটি খসড়া কৌশল তৈরি করছে মন্ত্রণালয়।
প্রথমে প্রতি তিন মাস পর পর তেলের দাম নির্ধারণের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রতি মাসেই জ্বালানি তেলের দর সমন্বয়ের কথা ভাবা হচ্ছে।
নতুন কৌশলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মাসের শুরুর দিকে যে দাম থাকবে, তার সঙ্গে পরিবহন খরচ, ডিলারদের কমিশন ইত্যাদি যোগ করে দেশের বাজারে তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে।
ফলে যখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে, দেশের বাজারেও সেটা বেড়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে দেশের বাজারেও দাম সেই হারে কমবে।
এতদিন জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ বা গ্যাসের মতো পণ্যের দাম গণশুনানির পর বিইআরসি নির্ধারণ করে দিতো। কিন্তু সেই ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে গত পহেলা ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’ জারি করে বাংলাদেশের সরকার।
এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিশেষ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নয়, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুননির্ধারণ ও সমন্বয় করতে পারবে সরকার।

ছবির উৎস, Getty Images
কী প্রভাব পড়বে দেশের বাজারে?
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হলে তা ক্রেতাদের জন্য লাভজনক হবে। কারণ তারা সত্যিকারের দামেই তেল কিনতে পারবেন।
কিন্তু জ্বালানি তেলের দামের ওপর ভিত্তি করে গণপরিবহনের ভাড়াও যেহেতু নির্ধারিত হয়, সেখানেও একটি সমন্বয়ের ব্যবস্থা তৈরির তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
ড. এজাজ হোসাইন বলছেন, ''বাংলাদেশে যেহেতু জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধি বা কমার ওপরে অনেক কিছুর দামদর নির্ভর করে, ফলে সেখানেও সরকারকে এমন মেকানিজম তৈরি করতে হবে, যাতে এর সুফল ক্রেতারা সরাসরি ভোগ করতে পারে।''
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দর ওঠানামার কারণে গণপরিবহন থেকে শুরু করে সাধারণ ভোগ্যপণ্যের দরও ওঠানামা করে।
ফলে কখনো বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে দেশের মানুষের ওপর সেটা নতুন চাপ তৈরি করবে কি না জানতে চাইলে ড. হোসাইন বলছেন, ‘’বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তখন সরকার শুল্ক, কর ইত্যাদি কমিয়ে দর নাগালে রাখতে পারবে। দামটা সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সরকারের হাতে কিন্তু অনেক মেকানিজম আছে।‘’
অতীতে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাস, ট্রাক, লঞ্চ থেকে শুরু করে সবরকম পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ফলে বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম। কিন্তু যে দু'একবার জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছে, সেই অনুযায়ী পরিবহন ব্যয় কমেনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এজাজ হোসাইন বলছেন, “যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি ভারতেও বেশিরভাগ গণপরিবহন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চলে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ায় রাতারাতি সেখানে প্রভাব পড়ে না। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের পরিবহন খাতে বেসরকারি খাতের প্রাধান্য বেশি, ফলে তেলের দাম কমে গেলে যতটা না প্রভাব পড়বে, দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।‘’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব দেশে বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে মূল্য সমন্বয় করা হয়, সেসব উদাহরণ বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশেও এমন একটি ফর্মুলা তৈরি করতে হবে, যাতে এর সাথে সাথে গণপরিবহন বা তেল নির্ভর অন্যান্য সেবার মূল্যও পরিবর্তন হয়।
ড. হোসাইন বলছেন, "সরকারকে এমন একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে তেলের দর বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার সুফল ক্রেতারা পায়। হয়তো পরিবহন খাতেও সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করে দিতে হবে, এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে তারাও তেলের দামের সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করতে পারে। সেজন্য হয়তো প্রতি তিনমাস পরপর তাদের সঙ্গেও ভাড়া সমন্বয়ের এবং নজরদারির একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।‘’









