'পাচারকারী'র মাথায় বিএসএফের গুলি : নিহত ২ বাংলাদেশি
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি সংবাদদাতা, কোলকাতা
বিএসএফ: লালমনিরহাটে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২ বাংলাদেশি

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। জায়গাটি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার আর বাংলাদেশের লালমনিরহাটের মধ্যবর্তী সীমান্তে।

ছবির উৎস, Getty Images
নিহতরা পাচারকারী: বিএসএফ
বিএসএফ বলছে নিহতরা ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাচার করছিলেন। তারা 'বাহিনীর সদস্যদের আক্রমণ করলে আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালায়' বলে একটি টুইট বার্তায় জানিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ার।
তারা এও জানিয়েছে যে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরে বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরেই ওই দুজন মারা গেছেন বলে বিএসএফ জানতে পেরেছে।
ঘটনায় একজন বিএসএফ সদস্যও আহত হয়েছেন বলেও বাহিনী দাবী করেছে।
ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন মানবাধিকার কর্মীদের
তবে মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কর্মরত মানবাধিকার সংগঠন মাসুম বলছে, "গরু পাচারের জন্য ভারতে প্রবেশ করে থাকলে তাদের মৃতদেহ তো ভারতেই থাকার কথা। আইন অনুযায়ী স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টা জানানোর কথা। তারপরে ময়নাতদন্ত করে বিজিবির হাতে দেহ তুলে দেওয়ার কথা। এক্ষেত্রে মৃতদেহ দুটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চলে গেল কী করে।"
সংগঠনটির প্রধান কিরীটী রায় বলছিলেন, "দুটি মৃতদেহ ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে কারা নিয়ে গেল? বিএসএফের তো দায়িত্ব ছিল সেগুলি রক্ষা করা। নাকি প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ দুটি পাচার করে দেওয়া হল?"

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
'মাথা লক্ষ্য করে গুলি'
মৃতদেহ দুটি বাংলাদেশে উদ্ধার হওয়ার পরের কয়েকটি ভিডিও যোগাড় করতে পেরেছে মাসুম।
সেই ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে দেহ দুটিকে পরীক্ষা করছেন এমন কয়েকজন উর্দিধারী কর্মকর্তা, যে উর্দি বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশের।
সেখানেই দেখা যাচ্ছে অন্তত একটি মৃতদেহের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে।
সাধারণত সীমান্তে গুলি চালানো হলে মাথায় গুলি করে না বিএসএফ। কিন্তু এক্ষেত্রে কেন মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হল, সেই জবাব বিএসএফের কাছ থেকে পাওয়া যায় নি।
গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের কর্মকর্তারা অথবা দিল্লিতে বাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তরে ফোন করে এবং মেসেজ পাঠিয়েও কোনও জবাব পাওয়া যায় নি।
'সরকারের ঘোষণাকেই আমল দিচ্ছে না বিএসএফ'
কিরীটী রায় এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, "মাত্র দুমাস আগে ভারত আর বাংলাদেশ যৌথভাবে জানিয়েছে যে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনাটাই লক্ষ্য। অথচ দেখা যাচ্ছে ভারত সরকার যাদের বেতন দিচ্ছে, সেই বিএসএফই ওই ঘোষণাটাকে আমলই দিচ্ছে না!
প্রায় নয় বছর আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিএসএফকে 'ট্রিগার হ্যাপি ফোর্স' বলে অভিহিত করেছিল।
তা নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক হইচই হয়। বিএসএফ তখন থেকেই চেষ্টা শুরু করেছিল যে মারার জন্য গুলি না চালিয়ে নন-লেথাল ওয়েপনের বা ছররা বন্দুকের ব্যবহার বাড়াতে।
গুলি ছাড়াও সীমান্ত লঙ্ঘনকারীদের উদ্দেশ্যে লঙ্কা বোমার মতো অস্ত্রও ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এধরণের পদক্ষেপের পরে সীমান্ত হত্যা কমেছিল ঠিকই, কিন্তু কোনও সময়েই তা শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে নি বিএসএফ।

ছবির উৎস, BSF
'আত্মরক্ষার্থে' গুলি বিএসএফের
গুলিচালনার ঘটনা হলেই তাদের বক্তব্য থাকে যে পাচারকারীরা তাদের আক্রমণ করেছিল, তাই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে হয়েছে।
তবে এটাও ঘটনা যে পাচারকারীরা বেশিরভাগ সময়েই সঙ্ঘবদ্ধ হয় আর সংখ্যাতেও অনেক বেশি থাকে। অন্যদিকে সীমান্ত রক্ষী মোতায়েন করা হয় বেশ কিছুটা দূরে দূরে, একেকজন করে।
তাই সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণের শিকারও হন বিএসএফ সদস্যরা। এধরণের ঘটনায় বিএসএফ সদস্যরাও আহত হন এবং মৃত্যুও হয়েছে অনেকের।
গরু পাচার তদন্তে গ্রেপ্তার একাধিক বিএসএফ কর্মকর্তা
সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা অবশ্য বলেন যে বিএসএফের একাংশের মদত ছাড়া পাচার হতে পারে না। আর পাচারের অর্থ ভাগ নিয়ে সমস্যা হলেই গুলি চালিয়ে দেয় ভারতীয় রক্ষীরা।
বিএসএফ এই অভিযোগ স্বীকার না করলেও কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো বা সিবিআই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার নেটওয়ার্কের যে বিস্তৃত তদন্ত করছে, তাতে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন একাধিক বিএসএফ অফিসার।
ওই মামলাতেই গ্রেপ্তার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অতি ক্ষমতাবান নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং তার কয়েকজন সহযোগীও।








