আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সেমিফাইনালের আগে 'অন্যায্য সুবিধা পাওয়া' ভারত এবং আরও তিন আলোচিত ইস্যু
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শেষের যাত্রা শুরু হচ্ছে; সেমিফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ভারত ও অস্ট্রেলিয়া, অন্যদিকে আইসিসি টুর্নামেন্টে 'অভাগা' হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা মাঠে নামতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার ভারত ও অস্ট্রেলিয়া দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায়। বুধবার একই সময়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানের লাহোরে লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল ভারতের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আয়োজিত টুর্নামেন্টে বিশেষ ব্যবস্থা।
শুধুমাত্র ভারতের ম্যাচগুলো হচ্ছে ভিন্ন এক দেশে, নির্দিষ্ট একটি স্টেডিয়ামে। এটা নিশ্চিতভাবেই এই টুর্নামেন্টে ভারতকে 'অন্যায্য সুবিধা' দিচ্ছে বলে মনে করছেন সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরা।
ব্যাপারটা এতোটাই উন্মুক্ত এবং খোলাখুলি হচ্ছে যে ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও এটা নিয়ে কলাম লেখা হচ্ছে।
ভারত যে 'অন্যায্য সুবিধা' পাচ্ছে এই টুর্নামেন্টে
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫-এর মূল আয়োজক দেশ পাকিস্তানে খেলতে ভারত অপারগতা প্রকাশের পর থেকেই আইসিসি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দেনদরবার চলছিল।
এর মাঝে অন্য কোনও দেশে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের পর প্রথম কোনও আইসিসি ট্রফি আয়োজনের সুযোগ কোনভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি হয়নি পাকিস্তান।
শেষ পর্যন্ত ভারতের ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে খেলানোর বিষয়ে সম্মত হয় দুই পক্ষ। যে কারণে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও এবার অস্ট্রেলিয়াকে মূল ভেন্যু পাকিস্তান থেকে উড়াল দিয়ে দুবাই গিয়ে ম্যাচ খেলে আবার পাকিস্তানে ফিরতে হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড ভারতের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে জয় পায়নি। এটা আসলে তাদের জন্য ভালোই হয়েছে নতুবা, রবিবার রাতেই দুবাই থেকে লাহোরে ফিরে সোমবার একদিন সময় নিয়ে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে হতো মিচেল স্যান্টারদের।
এটা নিয়ে খোলামেলাই সমালোচনা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার রাশি ফন ডার ডুসেন। তিনি বলেছেন, "ভারত যে অন্যায় সুবিধা পাচ্ছে এটা বোঝার জন্য রকেট বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই"।
করাচীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ফন ডার ডুসেন বলেন, "এটা অবশ্যই একটা বড় সুবিধা, এর আগে পাকিস্তান এটা নিয়ে কথা বলেছে। আপনি এক জায়গায় থাকছেন, একই হোটেলে থাকছেন একই স্টেডিয়ামে আপনার খেলা এবং একই রকম পিচে টানা খেলছেন এটা তো অবশ্যই বড় সুবিধার জায়গা"।
ভারত যদি ফাইনালে যায় সেক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা অথবা নিউজিল্যান্ডের মধ্যে একটি দলকে দুবাই ভ্রমণ করতে হবে ৯ তারিখের ফাইনাল ম্যাচ খেলার জন্য।
বিবিসির প্রখ্যাত ক্রিকেট সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার জনাথন এগনিউ অস্ট্রেলিয়ার এবিসি স্পোর্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "ভারত যেভাবে কোথায় খেলবে ও কোথায় খেলবে না ঠিক করছে তাতে করে এই টুর্নামেন্টগুলো হাস্যকর হয়ে উঠছে।"
অস্ট্রেলিয়া প্রস্তুত তবে একাদশ নিয়ে সংকট আছে
অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ম্যাট শর্ট চোট পেয়েছেন তার জায়গায় দলে ঢুকতে যাচ্ছেন ফ্রেজার ম্যাকগার্গ। অস্ট্রেলিয়ার এই ওপেনারকে ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা, যিনি ঘরোয়া ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৯ বলে শতক হাঁকিয়ে সারা ফেলেছিলেন ক্রিকেট অঙ্গনে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার লেখক লুইস ক্যামেরন যদিও এই বিস্ফোরক ওপেনারকে দলে নেয়ার বিষয়টিকে 'জুয়া খেলার মতো' বলছেন।
কারণ হিসেবে তিনি মনে করছেন ভারতের মতো স্পিনারদের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা নেই, আবার সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে এমন ঝুঁকি নেবে কি না অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট এটাও ভেবে দেখার বিষয়।
ফ্রেজার ম্যাকগার্গ অবশ্য ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেই রেকর্ড গড়া ঘরোয়া সেঞ্চুরি করার পর মাত্র ১৩ গড়ে রান করেছেন, আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতেও তেমন ভালো করতে পারেননি তিনি।
তাই লুইস ক্যামেরনের মতে ফ্রেজার ম্যাকগার্গকে যদি অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত নেয় সেটা হবে 'বিশ্বাসের জোরে'।
আবার ম্যাট শর্ট না খেলায় অস্ট্রলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের হাত থেকে একটা স্পিন বোলিং অপশন কমে যাবে।
এবারের টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া ডেভিড ওয়ার্নারকেও মিস করছে, ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রথম আইসিসি টুর্নামেন্ট যার স্কোয়াডে ডেভিড ওয়ার্নার নেই।
ভারতের এক্স ফ্যাক্টর- ভারুণ চক্রবর্তী
ভারতের লেগ স্পিনার ভারুণ চক্রবর্তী গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়ে বেশ ভালোভাবেই আলোচনায় এসেছেন, উইকেটে সেট থাকা কেইন উইলিয়ামসনকে রীতিমতো স্পিনে বিভ্রান্ত করে আউট করেছেন তিনি।
সেমিফাইনালের আগে তাই ভারুণ চক্রবর্তীকে নিয়েই ভাবছে অস্ট্রেলিয়া।
আর এখানেও ভারতের অন্যায্য সুবিধা পাওয়ার বিষয়টা চলে আসে।
কারণ ভারত একমাত্র দল যারা দুবাই-এ চার স্পিনার নিয়ে ম্যাচ খেলার মতো স্কোয়াড নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে গিয়েছে, কারণ তারা জানে তাদের সব ম্যাচ একই মাঠে এবং এই মাঠে স্পিন ভালো কাজ করে।
ভারুণ কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর হয়ে পারফর্ম করে নজর কেড়েছেন আগেই, আর এবারে যোগ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী পারফর্ম্যান্স।
জনপ্রিয় ক্রিকেট পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারুণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের কিংবদন্তী লেগস্পিনার অনিল কুম্বলে, "গত এক-দেড় বছরে ভারুণ সব জায়গায় ভালো করেছেন, কলকাতার হয়ে, তামিলনাডুর হয়ে এবং ভারতের জার্সি গায়েও উজ্জ্বল লাগছে তাকে"।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ম্যাচ হবে সমানে সমান
শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ, ভালো পেস বোলিং ইউনিট, দারুণ ফিল্ডিং এবং দুই দলেই আছেন সময়ের সেরা ফিঙ্গার স্পিনার- এমনই সমতায় আছে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
আরও এক দিক থেকে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা এক কাতারে, সেটা হচ্ছে আইসিসির বড় টুর্নামেন্টে দুই দলের নক-আউট ইতিহাস।
কখনো ম্যাচ টাই হয়ে, কখনো সুপার ওভারে বাউন্ডারির হিসেবে, কখনো বৃষ্টির কারণে এই দুই দল শিরোপার কাছে গিয়েও ফিরে এসেছে।
২০১৫ ও ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে নিউজিল্যান্ড, ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর আগে এই দুই দল ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক এক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল যেখানে নিউজিল্যান্ডের গ্রান্ট ইলিয়ট এক স্মরণীয় জয় এনে দিয়েছিলেন।
নিউজিল্যান্ড খুব সহজেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালের জায়গা নিশ্চিত করে নিয়েছে প্রথম দুই ম্যাচেই।
অপর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আইসিসি ট্রফিতে বৃষ্টির বাধার সম্পর্ক এবারো ছিল তবে সেই বাধা পার করে দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে চলে এসেছে।
এবারে দেখার বিষয় হবে আইসিসি ট্রফির 'চির অভাগা' দুই দলের মধ্যে কে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।