পাঞ্জাবে সামরিক ছাউনিতে হামলায় চার ভারতীয় সেনার মৃত্যু

    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি

ভারতে পাঞ্জাবের ভাতিন্ডায় একটি সামরিক ছাউনির ভেতরে বুধবার ভোররাতে একটি গুলি চালানোর ঘটনায় অন্তত চারজন সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে এই ঘটনার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কোনও জঙ্গী হামলার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

সেনা ছাউনিতে আর্মির ‘কুইক রেসপন্স টিম’কে সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাক্টিভেট করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে এখন সেখানে তল্লাসি চালানো হচ্ছে।

ভাতিন্ডা মিলিটারি স্টেশনের ভেতরে এই ফায়ারিংয়ের ঘটনাটি ঘটে ভোর ৪টে ৩৫ মিনিট নাগাদ।

গুলিতে নিহত চারজন সেনা জওয়ানই আর্মির আর্টিলারি ইউনিটের সদস্য ছিলেন বলে একটু বেলার দিকে সেনা বিবৃতিতে জানানো হয়।

কিন্তু কে বা কারা এই গুলি চালাল, বন্দুকধারীরা সংখ্যায় কজন ছিল, তারা বাইরে থেকে এসেছিল না কি মিলিটারি স্টেশনের ভেতরেই ছিল সে ব্যাপারে কোনও তথ্যই পাওয়া যায়নি।

ঘটনাচক্রে ভাতিন্ডার ওই মিলিটারি স্টেশন থেকেই দুদিন আগে একটি ইনস্যাস রাইফেল ও সঙ্গে ২৮ রাউন্ড গুলির খোঁজ মিলছিল না।

এদিনের ঘটনার সঙ্গে সেই হারিয়ে যাওয়া রাইফেল ও কার্তুজের কোনও সম্পর্ক আছে কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সেনা বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে

ভাতিন্ডার এই ঘটনা নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণ পশ্চিম কমান্ডের হেড কোয়াটার্স থেকে এদিন সকালে পরপর দুটি বিবৃতি জারি করা হয়।

প্রথম বিবৃতিতে শুধু বলা হয়, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ সেনা ছাউনির ভেতরে একটি ফায়ারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে এবং চারজনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভাতিন্ডা মিলিটারি স্টেশন বাইরে থেকে সিল করে দিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে চিরুনি তল্লাসি চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়। কাজে নামে কুইক রিঅ্যাকশন টিম-ও।

ঘন্টাখানেক পরে যে দ্বিতীয় বিবৃতিটি আসে, তাতে অবশ্য অতিরিক্ত আরও কিছু তথ্য ছিল।

সেখানে বলা হয়, নিহত চারজন সেনা জওয়ানই আর্টিলারি ইউনিটের সদস্য ছিলেন। ফায়ারিংয়ের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরই তারা মৃত্যুবরণ করেন বলেও জানানো হয়।

এই চারজনের প্রাণহানি ছাড়া সেনা ছাউনিতে জীবন ও সম্পত্তির আর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত জানতে সেনাবাহিনী পাঞ্জাব পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত ও অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।

গুলিচালনার ঘটনায় সম্ভাব্য সব দিকই এই মুহুর্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুদিন আগে থেকে খোঁজ না-মেলা ইনস্যাস রাইফেল ও গুলির সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক আছে কি না, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে সেটাও।

ঘটনাটির ‘সংবেদনশীলতা’ বিবেচনা করে সংবাদমাধ্যমকে সব ধরনের গুজব পরিহার করতে ও জল্পনামূলক খবর না-করতেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

‘জঙ্গী হামলা নয়’

ভাতিন্ডা মিলিটারি স্টেশনের এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকে পাঞ্জাব পুলিশের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভারতের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের কাছে জানিয়েছেন, এই ফায়ারিংয়ে বাইরের জঙ্গীরা জড়িত ছিল বলে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এটি যে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা নয়, ঘটনা ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তারা সে কথা প্রকাশ্যেই জানিয়ে দেন।

দিল্লিতে ‘দ্য হিন্দুস্তান টাইমস’ পত্রিকা আবার ভাতিন্ডা জেলার পুলিশ সুপার গুলনীত খুরানাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন একজন সেনা সদস্যই তার সহকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছেন।

তবে সেনাবাহিনীর সূত্রে এ ধরনের কোনও তথ্য এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খালিস্তানপন্থী নেতা অমৃতপাল সিং-কে আটক করার চেষ্টায় পাঞ্জাব পুলিশ যে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে, তাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যেই পরিস্থিতি বেশ থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাঞ্জাবের ভাতিন্ডাতে চারজন সেনা জওয়ানের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, এই ধরনের আশঙ্কা কিছুটা থাকছেই।

ঠিক এই কারণেই সেনাবাহিনী ও পাঞ্জাব পুলিশ গোটা ঘটনাটি খুব সাবধানতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনার বিষয়ে তথ্যও প্রকাশ করা হচ্ছে খুব অল্প অল্প করে, এবং অনেকটা সময় নিয়ে।

ইতিমধ্যে দিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-কে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভাতিন্ডার ঘটনা নিয়ে ‘ব্রিফ’ করেছেন।

রাজধানীর সাউথ ব্লকে বেলা সাড়ে এগারোটায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন এবং এই ফায়ারিংয়ের ঘটনার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন বলেও জানা গেছে।