আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
লিওনেল মেসি: বাংলাদেশের ক্লাবে আসছেন বার্সেলোনা ছেড়ে, ফুটবল ছেড়ে ক্রিকেট ও সামাজিক মাধ্যমে যত আলোচনা
- Author, ফয়সাল তিতুমীর
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
আপনার যে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টই থাক না কেন, সেটা স্ক্রল করতে গেলে সবার আগে এখন চোখে পড়ছে মেসি সম্পর্কিত কোন না কোন পোস্ট।
মূলত মঙ্গলবার রাত থেকে লিওনেল মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার খবরটা ট্রেন্ড করতে থাকে। স্প্যানিশ গণমাধ্যম থেকে দ্রুত তা জায়গা করে নেয় বিশ্ব গণমাধ্যমে।
সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি কেন বার্সেলোনা ছাড়ছেন? কোথায় যাবেন তিনি? - এমন নানা প্রশ্নের উত্তরে গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ছড়িয়ে পড়েছে নানান গুজব, তার ভুয়া অডিও ক্লিপ, আর ট্রেন্ড করেছে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ।
কখনো তাঁর বাবার সাথে কথা বলছে ম্যানচেস্টার সিটি, কখনো ম্যানচেস্টার ইউইটেড - এমন নানা খবরের ভিড় টুইটার আর ফেসবুক দুনিয়ায়।
এমন কি মেসির ফটোশপ বলছে তিনি বাংলাদেশের ক্লাবে যোগ দিচ্ছেন, কিংবা ফুটবল ছেড়ে আসছেন অন্য খেলায়।
সামাজিক মাধ্যমের অবস্থাটা জানার জন্য সোশ্যাল সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম স্প্রেডফাস্টের পরিসংখ্যানটা দেখা যাক।
গত ৪৮ ঘন্টারও কম সময়ে লিওনেল মেসিকে নিয়ে ফেসবুক, টুইটার আর ইন্সটাগ্রামের প্রায় কুড়ি লক্ষ অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট দেয়া হয়েছে ৪৪ লক্ষের বেশি। আর এগুলোতে মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে প্রায় এক কোটি বারের মতো।
অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মেসিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে ১১৪০ গুণ! বুঝতেই পারছেন কেন আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকউন্ট স্ক্রল করলেই শুধু মেসির ছবি ভাসছে!
প্রায় সবাই জানেন যে আর্জেন্টাইন এই তারকা ফুটবলার খানিকটা অর্ন্তমুখী স্বভাবের। সামাজিক মাধ্যমের সব প্ল্যাটফর্মে সমানভাবে সরব নন তিনি।
এমন কি তার নিজস্ব কোন ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্টও নেই। কিন্তু হ্যাশট্যাগ দিয়ে মেসি বা মেসিলিভিংবার্সেলোনা টুইট এখনো উপরের দিকে ট্রেন্ড করছে।
আর স্প্রেডফাস্ট বলছে এই সময়ে মেসিকে নিয়ে সর্বমোট টুইটের পরিমাণ প্রায় আড়াই লক্ষের মতো।
ফেসবুকে মেসির ফলোয়ার প্রায় ১০ কোটি। যদিও সেখানে তার সবশেষ পোস্ট ৯ই অগাস্টে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সেই আলোচিত ম্যাচের ঠিক আগ দিয়ে।
কিন্তু এলএমটেনের বার্সেলোনা ছাড়ার গুঞ্জন ওঠার পর থেকে নতুন আরো এক লক্ষ ভক্ত যোগ হয়েছে তার পেজে।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কোম্পানি সোশ্যালবেকারের তথ্যমতে, এখন প্রতিদিন ৩০ হাজারের উপর নতুন ভক্ত যোগ হচ্ছেন লিওনেল মেসির ফেসবুক পেজে।
মেসি বরাবরাই ইন্সটাগ্রামে বেশি অ্যাকটিভ। তাই সেখানকার পরিবর্তনটাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।
১৬৫ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে ইন্সটার জনপ্রিয় অ্যাকাউন্টের তালিকায় ৮ নাম্বারেই আছেন তিনি। কিন্তু ব্র্যান্ডওয়াচ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে তার নতুন ফলোয়ার যোগ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ।
এবার একটু গুগলে নজর দেয়া যাক। মঙ্গলবার মেসি লিখে শুধু যুক্তরাজ্যেই সার্চ হয়েছে পাঁচ লক্ষের উপর।
এখন অনেকেরই হয়তো জানা যে মেসি একটা ফ্যাক্স করে ক্লাব বার্সেলোনাকে জানিয়েছেন তিনি চলে যেতে চান। যদিও শব্দটা আসলে বুরোফ্যাক্স, যা স্পেনের পোস্টাল সার্ভিসের একটি সেবা।
গুগলে তাই মেসি সংক্রান্ত বিষয়ে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হচ্ছে এই 'বুরোফ্যাক্স' শব্দটা। এখন আপনিও যদি এর বিস্তারিত জানতে চান, গুগল করে দেখতে পারেন।
সব মিলিয়ে সামাজিকমাধ্যমগুলোতে লিওনেল মেসিকে ঘিরে অসংখ্য হ্যাশট্যাগ, ট্রল এমনকি মিমও চোখে পড়ছে - যেগুলোর বেশিরভাগই অবশ্য গুঞ্জন।
এগুলোর একটি এমন - বার্সা কর্তৃপক্ষ যতবারই মেসিকে ফোন করছেন সেটি নাকি তার ছেলে মাতেও ধরে বলছেন 'আলা মাদ্রিদ'। লিও মেসির তিন সন্তানের মধ্যে মাতেও'র যে একটু রেয়াল মাদ্রিদ-প্রীতি আছে, এটি সবারই জানা।
এখন কোটি টাকার প্রশ্ন, লিওনেল মেসি কোথায় যাচ্ছেন?
সবচেয়ে জোর গুঞ্জন ম্যানচেস্টার সিটিকে নিয়ে। কিন্তু খোদ পেপ গার্দিওলার ক্লাবটিই এ ইস্যুতে মজা করতে ছাড়েনি।
বুধবার হঠাৎই টুইট করে যে 'অন্য গ্রহের একজনকে' নিয়ে আসছে তারা। এর ঘণ্টা দু'য়েক পরে অবশ্য বোঝা যায় যে এটা ছিল শুধুই একটা মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। তবে ততক্ষণে আট হাজার রিটুইটে ছাড়িয়ে যায় সেটি।
এমন মজার টুইট অবশ্য অনেক ক্লাবই করছে। এমনকি ভারত-পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজিও সেই রসিকতায় যোগ দিয়েছে।
কলকাতা নাইট রাইডার্স মেসির জন্য দরজা খোলা রাখলেও দিল্লি ক্যাপিটালস সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা আগ্রহী নয়।
আর যুক্তরাষ্ট্রে মাইনর লিগ বেজবল দল ফ্রেসনো গ্রিজলিস তো মেসিকে ফুটবলই ছাড়তে বলেছে।
এরই মধ্যে স্পেনের কাতালোনিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট মেসির বিদায়ে একটা আবেগঘন টুইট করেছেন।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবার অনেকেরই ধারণা যে এই পুরো ব্যাপারটাই একটা স্টান্টবাজি। মেসি শেষ পর্যন্ত বার্সোলোনাতেই থাকবেন।
আর এমন সময় ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টরের মেসিকে নিয়ে নতুন মৌসুমের পরিকল্পনার কথা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লিওনেল মেসিকে ঘিরে আগামী আরো কয়েকদিন সামাজিক মাধ্যমে এসব দেখার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখাই ভালো।