জঙ্গিদের অর্থায়ন বন্ধে বাড়ছে গোয়েন্দা নজরদারি

ছবির উৎস, focusbangla
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশ সরকার বলেছে, দেশটিতে জঙ্গি তৎপরতার ক্ষেত্রে অর্থ যোগানদাতাদের চিহ্নিত করার জন্য গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড জোরদার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি টাস্কফোর্সের আজ প্রথম বৈঠক হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, জঙ্গিদের অর্থের যোগান বন্ধের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এখন সরকার গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলেছেন, জঙ্গিরা এখন অর্থ সংগ্রহের কৌশল পরিবর্তন করছে।
বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেছেন, এখন সব ধরণের নজরদারি এড়িয়ে দেশের বাইরে থেকে অর্থ আনা হচ্ছে, সেটাকে তারা উদ্বেগজনক বলে মনে করেন।
এই অঞ্চলে আল কায়দার শাখা খোলার ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে নতুন করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
কয়েকদিন আগে সিনিয়র মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
জঙ্গি তৎপরতা দমনে এই টাস্কফোর্স নেতৃত্ব দেবে।
টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠকেই জঙ্গি তৎপরতার জন্য অর্থের যোগান কিভাবে হচ্ছে, সে প্রশ্নে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ছবির উৎস, Reuters
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, অর্থ যোগানদাতাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন।
তিনি বলছিলেন, “জঙ্গিদের অর্থ কারা দেয়, এসব অর্থ কিভাবে আসে, এ বিসয়ে টাস্কফোর্সের বৈঠকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।”
জেএমবি এবং হরকাতুল জেহাদসহ পাঁচটি সংগঠন জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে নিষিদ্ধ রয়েছে।
এই সংগঠনগুলোর তৎপরতা দৃশ্যমান ছিল ২০০৪ এবং ২০০৫ সালে।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “জেএমবিসহ জঙ্গি সংগঠনগুলো আগে দেশের ভেতর থেকেই অর্থ সংগ্রহ করতো। যেমন যাকাত, কোরবানির সময় পশুর চামড়া এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মানুষের দান। বর্তমানে তারা নেতা,কর্মী, সমর্থক, যারা দেশের বাইরে বিদেশে কর্মজীবনে আছে, তাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। এর বাইরে দাতব্য সংস্থা বা এনজিও’র ব্যানারেও অর্থ আসে। এমন কিছু এনজিও অবশ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

ছবির উৎস, bd police
এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেছেন, ২০০৫ সালে বড় ধরনের কয়েকটি জঙ্গি হামলার ক্ষেত্রে গ্রেফতার করা জঙ্গি নেতাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছিল।
কিন্তু সে সময় আইনের দুর্বলতার কারণে তদন্তে অগ্রগতি ছিল না।
ফলে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা অন্য ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগেই তাদের বিচার হয়।
মি: ইসলাম বলেছেন, এখন সন্ত্রাসী তৎপরতায় অর্থের যোগান দেওয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে নতুন আইন হয়েছে এবং মানি লন্ডারিং আইন কঠোর করা হয়েছে।








