জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ : হাইকোর্ট

বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি এম মোয়াজ্জম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, এবং বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের বেঞ্চ আজ এই রায় ঘোষণা করেছেন।
বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না থাকলে কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। তাই এ রায় বহাল থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
তবে জামায়াত ইতিমধ্যেই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক বিবিসিকে বলেছেন, তারা আপিল করেছেন এবং এর মধ্যে দিয়ে তারা রায় স্থগিতের আদেশ পাবার চেষ্টা করবেন।স্থগিতাদেশ পেলে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনে অংশ নিতে কোন বাধা থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের প্রতিক্রিয়া শুনুন এখানে>
এ রায়ের প্রতিবাদে সংগঠনটি আগামী ১২ই আগস্ট থেকে ৪৮ ঘন্টার হরতালও ডেকেছে।
নির্বাচন কমিশনের একজন আইনজীবী মোহসিন রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, আদালতের রায়ে নিবন্ধন বাতিল হলে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্ধারিত প্রতীক পাবার অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারের সময় পাবার অধিকার হারাবে।
২০০৯ সালে জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অন্য কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠনের ২৫ জন নেতার এক আবেদনের পর হাইকোর্টের জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় হলো।

ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল যে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও ভাবধারা বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আজ উচ্চ আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর যে নিবন্ধন তা অবৈধ এবং বাতিল বলে ঘোষিত হলো।
জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীরা বলেছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
২০০৮ সালে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল। আইনানুযায়ী কোন দল নিবন্ধিত না হলেও সংগঠন হিসেবে সক্রিয় থাকতে পারে, কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।








