হরতালে আদালতের ‘নজিরবিহীন‘ ব্যবহার

ছবির উৎস, focus bangla
- Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলোর ডাকা টানা ৩৬ ঘন্টার হরতালকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্টকে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই হরতালের প্রথম দিনে দশটি আদালত মাঠে সক্রিয় ছিল এবং এসময় ৪৫ জনেরও বেশী রাজনৈতিক কর্মীকে করাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বিএনপি অভিযোগ করেছে যে এর মাধ্যমে আদালত ব্যবস্থাকেও সরকার নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো হরতালে মোবাইল কোর্ট ব্যবহারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের ডাকা হরতালের সময় সহিংসতা যেমন নতুন ঘটনা নয়, তেমনি বিরোধীদলীয় কর্মীদের ব্যাপক সংখ্যায় আটক কিংবা গ্রেফতার করার ঘটনাও নতুন নয়।
তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেয়ার ঘটনা প্রথমবারের মতো ঘটেছে চলমান হরতালকে কেন্দ্র করে।

ছবির উৎস, focus bangla
একে ‘অভূতপূর্ব‘ বলে বর্ণনা করে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করছেন, আন্দোলন দমন করার নতুন একটি কৌশলের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই আদালতের মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সাজা দেয়া হচ্ছে।
“এটি সম্পূর্ণভাবে একটি স্বৈরাচারী ঘটনা এবং বিচার বিভাগকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার উদাহরণ।“
মিঃ আলমগীর বলেন, কোন স্বাক্ষ্য-প্রমান নেই, যাকে খুশী তাকে এই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। অত্যন্ত অন্যায়ভাবে, বেআইনিভাবে বিচার বিভাগকে সরকার ব্যবহার করছে।
ঢাকায় হরতালের প্রথম দিনে যে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় ছিল, তার একটির বিচারক ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন।
তিনি জানান, ২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন অনুযায়ী তাঁরা কাজ করছেন এবং তাঁরা সর্বোচ্চ দুই বছরের সাজা দিতে পারেন।
কী ধরনের অপরাধ এই আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে, তা জানতে চাইলে তিনি বিবিসিকে বলেন, বেআইনি সমাবেশ করা, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধার সৃষ্টি করা, মানুষকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা ইত্যাদি অপরাধের বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালত করতে পারে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বলেন যে হরতালের মতো একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবহার নজিরবিহীন।

ছবির উৎস, focus bangla
তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে একটি আদালতকে অসামাজিক অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু হরতাল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি।
তাঁর মতে, হরতালের সময় যাদের গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেয়া হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি করা হচ্ছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে।
তিনি বলেন, অপরাধের কারণে বিচার করা হলে তা হতো ভিন্ন ব্যাপার।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারে শাস্তি দেয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র।
এর নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল এটি বন্ধ করার জন্যেও সরকারের প্রতি দাবি জানান।
তিনি বলেন, যেহেতু এটিকে আদালত বলা হচ্ছে, তাই বিচার ব্যবস্থার বিষয়টি এখানে চলে আসে।
আত্মরক্ষার সুযোগ দেয়া ছাড়া কাউকে কিন্তু কোন রকম শাস্তি দেয়া যায় না, এ কথা উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, একটি মানুষের জীবন থেকে কয়েক ঘন্টাই হোক, কয়েক মূহুর্তই হোক, তা নিয়ে নেয়ার অধিকার জনগণ রাষ্ট্রকে দেয় নি এবং বালাদেশের সংবিধানে তা নেই।
``আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মাধ্যমে নিরীহ সাধারণ মানুষ যে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে না, তা আমরা কিভাবে নিশ্চিত হবো‘‘
সুলতানা কামাল আরো মনে করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মতো ব্যবস্থা আরো বেশী করে ব্যবহার হওয়ারও একটি আশঙ্কা এখন তৈরি হয়েছে।








