আয়মান আল-জাওয়াহিরি: আল-কায়েদা নেতাকে হত্যায় 'হেলফায়ার' ব্যবহার করেছে আমেরিকা?
আল কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি নিহত হবার পর আবারও আলোচনায় এসেছে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র।
নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আর এই হামলার সফলতার ফলে ভবিষ্যতেও এমন হামলার সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন জাওয়াহিরিকে হত্যার জন্য ড্রোন থেকে ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযানে নিয়মিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার শুরু হয়।
এই ‘হেলফায়ার’ আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ।
হেলিকপ্টার, স্থলযান, জাহাজ, বিমান, মানুষবিহীন ড্রোনসহ নানা প্ল্যাটফর্ম থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যায়।
২০১৫ সালে সিরিয়ায় ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ইসলামিক স্টেটের জঙ্গি ‘জিহাদি জন’ এবং ২০২০ সালের শুরুর দিকে বাগদাদে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে হত্যায় এই ‘হেলফায়ার্’ ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করা হয়।
বারবার এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে- সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিখুঁতভাবে হামলার সক্ষমতা আছে এটার।
কাবুলে আল কায়েদা নেতা জাওয়াহিরির ওপর হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করেছিল, তার কিছু কিছু প্রকাশ হচ্ছে।
আল-কায়েদার এই নেতার ওপর হামলার পর মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, নিয়মিত বারান্দায় যাওয়ার অভ্যাস ছাড়াও জাওয়াহিরির ‘জীবনযাপনের ধরনের’ বিষয়ে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল।
ফলে বুঝা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা জাওয়াহিরির বাড়ির ওপর কয়েক মাস না হলেও অন্তত কয়েক সপ্তাহ ধরে নজর রেখেছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামলার আগে বিভিন্ন পদ্ধতিতে তথ্য নেওয়া হয়েছিল বলে তারা ধারণা করছেন।
অনেকে মনে করছেন, স্থল থেকে দেখা যায় না বা শোনা যায় না - এমন অবস্থানে থেকে মার্কিন ড্রোন বা এয়ারক্রাফটগুলো কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে হামলার স্থানটির ওপর নজর রেখেছে।
এছাড়া আল-কায়েদা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতাদের খোঁজ বের করতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতাও এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
তবে ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সিনিয়র ফেলো বিল রোজিও মনে করেন - কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকায় জাওয়াহিরির ওপর হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের আগের হামলাগুলোর তুলনায় ‘একটু জটিল ছিল’ ।
মি. রোজিও বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছেড়ে আসার পর এটাই দেশটাতে ইসলামিক স্টেট বা আল-কায়েদার বিরুদ্ধে প্রথম হামলা। এটা মোটেও সাধারণ ঘটনা নয়”।
বিবিসি বাংলার আরও খবর: