শ্রীলংকায় বিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং চলমান সহিংসতার চিত্র

শ্রীলংকায় সরকার সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষের জের ধরে ক্ষুব্ধ জনতা পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশা এবং সরকার দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্যের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।মঙ্গলবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মাহিন্দা রাজাপাকশার সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিজের প্রধান গেট ভাঙার চেষ্টা করার পরে ভারী অস্ত্রসজ্জিত সৈন্যরা বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

মে মাসের ৬ তারিখে শ্রীলংকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কলম্বোর সংসদ ভবনের কাছে প্রেসিডেন্ট গোটাভায়া রাজাপাকসা এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস এবং জল কামান ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলে প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা বাহিনীকে আরো ক্ষমতা দিয়ে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মে মাসের ৬ তারিখে শ্রীলংকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কলম্বোর সংসদ ভবনের কাছে প্রেসিডেন্ট গোটাভায়া রাজাপাকশা এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস এবং জল কামান ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলে প্রেসিডেন্ট, নিরাপত্তা বাহিনীকে আরো ক্ষমতা দিয়ে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন
মে মাসের ৭ তারিখে বিক্ষোভের প্রতীক হিসেবে মেয়েদের অন্তর্বাস ঝুলিয়ে রাখে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের অফিসের সামনের লোহার তৈরি বেড়ায়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মে মাসের ৭ তারিখে বিক্ষোভের প্রতীক হিসেবে মেয়েদের অন্তর্বাস ঝুলিয়ে রাখে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের অফিসের সামনের লোহার বেড়ায়। শ্রীলংকার সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার কারণে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে দেশটিতে।
শ্রীলংকার কলম্বোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাহারা দিচ্ছে। মে’র ৬ তারিখে দেশজুড়ে হরতালের মধ্যে তারা বিক্ষোভের মধ্যে এখানে অবস্থান নেয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শ্রীলংকার কলম্বোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাহারা দিচ্ছে। মে’র ৬ তারিখে দেশজুড়ে হরতালের মধ্যে বিক্ষোভ হলে তারা এখানে অবস্থান নেয়।
মে মাসের ৯ তারিখে দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মে মাসের ৯ তারিখে দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করছে। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের জেরে জরুরি অবস্থা জারি করেন। শ্রীলংকার সরকার-পন্থীরা কলম্বোর বিশেষ স্থানগুলোতে বিক্ষোভ করে, সরকার বিরোধীদের উপর হামলা করে এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে করে অনেক মানুষ আহত হয়।
সরকারবিরোধী একজন বিক্ষোভকারী আহত হন। তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য বিক্ষোভকারীরা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সরকারবিরোধী একজন বিক্ষোভকারী আহত হন। তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারী এবং শ্রীলঙ্কার ধর্মীয় নেতারা রাজাপাকশা পরিবারের সমর্থকদের বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালাতে উস্কানি দেয়ার জন্য দোষারোপ করেন। তারা বলছেন, ওই হামলার জন্যই প্রতিশোধমূলক হামলা হয়েছে।
রান্না করা গ্যাসের সিলিন্ডার ভর্তি একটা ট্রাক লুট করছে বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা। মে মাসের ৮ তারিখে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রান্না করার গ্যাসের সিলিন্ডার ভর্তি একটা ট্রাক লুট করছে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। মে মাসের ৮ তারিখে সারা রাত লাইনে অপেক্ষা করার পর তারা লুটপাট শুরু করে। কর্মকর্তারা বলছেন এই সময় পুলিশ অসহায় ভাবে তা দেখে। বিক্ষোভকারীরা ট্রাকে উঠে ৮৪টা গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে যায়।
বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও প্রেসিডেন্ট গোটাভায়া রাজাপাকশার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও প্রেসিডেন্ট গোটাভায়া রাজাপাকশার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে। গোটাভায়া রাজাপাকশা, মাহিন্দা রাজাপাকসার ভাই। তবে তিনি পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশ জুড়ে চলা কারফিউ বুধবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেনাবাহিনী তলব করা হয়েছে।
মে মাসের ৯ তারিখে পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশার রাষ্ট্রীয় ভবনের সামনে একটা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মে মাসের ৯ তারিখে পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশার রাষ্ট্রীয় বাসভবনের সামনে একটা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঐদিন সরকার সমর্থক এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যারা বিক্ষোভ করে তাদের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতা হয়। এতে অন্তত সাতজন নিহত এবং দুশয়ের মত মানুষ আহত হন।
শ্রীলংকার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কলম্বোর উপকণ্ঠে একজন সরকার দলীয় এমপি অমরাকীর্তি আথুকোরালার গাড়িতে হামলা চালালে তিনি দুইজনকে গুলি করেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মে’র ৯ তারিখে দিনভর সংঘর্ষের পর প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশা পদত্যাগ করেন। সরকার সমর্থকেরা পুলিশ লাইনে হামলা চালায় এবং সরকার-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও দাঙ্গা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রীলংকার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কলম্বোর উপকণ্ঠে একজন সরকার দলীয় এমপি অমরাকীর্তি আথুকোরালার গাড়িতে হামলা চালালে তিনি দুইজনকে গুলি করেন। এতে একজন মারা যান। এরপর সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই সংসদ সদস্য।
সোমবার কলম্বোতে মাহিন্দা রাজাপাকশার সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রির বাইরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সাথে সরকার সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মাহিন্দা রাজাপাকশার সরকারি বাসভবনের সামনে সংঘর্ষে ৭৮জন আহত হয় বলে তার একজন মুখপাত্র জানান। সোমবার কলম্বোতে মাহিন্দা রাজাপাকশার সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রির বাইরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সাথে সরকার সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এরপর মূল বিক্ষোভের কেন্দ্র গ্যল ফেস গ্রিনে তা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার দিনভর বিক্ষোভের পর রাত গভীর হতে থাকলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা সরকার সমর্থক এবং সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করেন।
চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশটিতে গণবিক্ষোভ শুরু হবার পর প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশা সোমবার পদত্যাগ করেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশটিতে গণবিক্ষোভ শুরু হবার পর প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশা সোমবার পদত্যাগ করেন। বিক্ষোভের সময় দোতলা বাড়িটিতে পরিবারকে নিয়ে লুকিয়ে ছিলেন মাহিন্দা রাজাপাকশা। একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ভোররাতের দিকে অভিযান চালানোর পর সেনাবাহিনী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। সেসময় বাড়িটির কমপাউন্ডে কমপক্ষে ১০টি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। মাহিন্দা রাজাপাকশাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পরও শান্ত হয়নি বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা এখন দেশটির প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিক্ষোভকারীরা এখন দেশটির প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করছে। দেশটির সংসদ ভবনের সামনে শ্রীলংকার পুলিশের সদস্যরা এভাবেই পাহারা দিচ্ছে। উনিশশো আটচল্লিশ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট পার করছে শ্রীলংকা। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষুব্ধ। সরকার জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।অর্থনৈতিক দুরাবস্থার জন্য কোভিডকে দায়ী করেছে সরকার, মহামারিতে দেশটির পর্যটন বাণিজ্য যা শ্রীলংকার অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক আয়ের উৎস, তা প্রায় ধসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করেন অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাই এর অন্যতম কারণ।