আফগানিস্তান: তালেবান দাবি করছে তারা পাঞ্জশের উপত্যকায় পতাকা উড়িয়েছে

ছবির উৎস, Taliban video
আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সর্বশেষ প্রদেশ পাঞ্জশের দখলের লড়াইয়ে নিজেদের বিজয় ঘোষণা করেছে তালেবান।
অনলাইনে তালেবান একটি ভিডিও পোস্ট করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, তাদের যোদ্ধারা শহরে তালেবানের পতাকা উত্তোলন করছে।
তবে বিদ্রোহী যোদ্ধারা দাবি করেছে যে, তারা এখনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় অবস্থান নিয়ে রয়েছে এবং তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
তালেবানের বিরুদ্ধে সারা দেশে সবাইকে জেগে ওঠার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তাদের নেতা।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি অডিও বার্তায় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অফ আফগানিস্তান (এনআরএফ) অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তালেবানকে বৈধতা দিচ্ছে এবং তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক আস্থা তৈরিতে সহায়তা করছে।
''আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, দেশের ভেতরে অথবা বাইরে, আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি দেশের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং সমৃদ্ধির জন্য জেগে উঠুন,'' তিনি বলেছেন।

ছবির উৎস, Reuters
তিন সপ্তাহ আগে সারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। পশ্চিমা দেশগুলো সমর্থিত সরকারের পতন ঘটিয়ে ১৫ই অগাস্ট রাজধানী কাবুল দখল করে নিয়েছে এই গ্রুপটি।
এর ফলে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিশ বছরের অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে।
রুক্ষ পাহাড়ি উপত্যকা পাঞ্জশেরে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে।
আশির দশকে সোভিয়েত অভিযান এবং ১৯৯৬-২০০১ তালেবান শাসনের সময়েও এই এলাকাটি বিদ্রোহের কেন্দ্রভূমি ছিল।
তালেবানের দাবি নাকচ করে দিয়ে এনআরএফের মুখপাত্র আলি মাইসাম বিবিসিকে বলেছেন, ''তালেবান পাঞ্জশের দখল করতে পারেনি''।
তাদের টুইটার একাউন্টে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ন্যায়বিচার এবং স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত তালেবান এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।''
তবে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ''এই বিজয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশকে পুরোপুরি কদর্য যুদ্ধ থেকে বের করে আনা হলো।''
বিবিসির সংবাদদাতা লিস ডুসেট বলছেন, পাঞ্জশের যদিও আফগানিস্তানের ছোট একটি প্রদেশ, কিন্তু এই এলাকার কিংবদন্তি রয়েছে।

ছবির উৎস, Shamshad News via Reuters
রুক্ষ পাহাড়ি এই এলাকা সোভিয়েতরা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি, তালেবানও তাদের আগের মেয়াদে ব্যর্থ হয়েছে।
হয়তো তালেবান পাঞ্জশেরের গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলো দখল করতে পারে, কিন্তু পাহাড়ি অনেক স্থান শুধু এখানকার বাসিন্দাদেরই চেনা। সেখানে হয়তো তারা বিদ্রোহী যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে।
তবে তালেবান যেভাবে অগ্রগতি করে যাচ্ছে, তাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাঞ্জশের দখল হবে তাদের নতুন ইসলামিক আমিরাতের মুকুটে একটা হিরের মতো। কিন্তু বিদ্রোহী নেতা আহমদ মাসুদ এবং তালেবান সমালোচক আমরুল্লাহ সালেহও এত সহজে হয়তো ছেড়ে দেবেন না।








