অভিনেতার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির জোয়ার

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

ছবির উৎস, Mohsin Ahmed

ছবির ক্যাপশান, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী
    • Author, ফারহানা পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বিশ্ব মা দিবসে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পাতায় তার মায়ের সাথে তোলা একটা ছবি পোষ্ট করেছিলেন। এর পর থেকেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ।

আলোচনা হচ্ছে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে। কারণ ছবিতে তার মাকে দেখা যাচ্ছে মাথায় সিঁদুর, হাতে শাঁখা-পলা পরা।

ফেসবুকে একপক্ষ চঞ্চল চৌধুরীর হিন্দু পরিচয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

আরেক পক্ষ বলছেন, তার ধর্মীয় পরিচয় এখানে মুখ্য বিষয় হতে পারে না। তিনি একজন অভিনেতা - এটাই দর্শকদের কাছে তার পরিচয় হওয়া উচিত।

চঞ্চল চৌধুরীর ঐ ছবিতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ কমেন্ট করেন। এসব মন্তব্যের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানারকম কথা রয়েছে।

চঞ্চল চৌধুরী নিজে তার ভেরিভাইড অ্যাকাউন্ট থেকে কমেন্ট বক্সে লেখেন "ভ্রাতা ও ভগ্নিগণ...আমি হিন্দু নাকি মুসলিম,তাতে আপনাদের লাভ বা ক্ষতি কি?? সকলেরই সবচেয়ে বড় পরিচয় 'মানুষ'। ধর্ম নিয়ে এসকল রুচিহীন প্রশ্ন ও বিব্রতকর আলোচনা সকল ক্ষেত্রে বন্ধ হোক...আসুন,সবাই মানুষ হই"।

বাংলাদেশে ফেসবুকে তারকাদের ছবি বা পোস্টে নেতিবাচক কমেন্ট করার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের সন্তানের একটা ছবিতে মারাত্মক কটূক্তি করা হয়েছিল - যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় ফেসবুকে।

অভিনেত্রী রাফিয়া রশিদ মিথিলা কিছুদিন আগে অনলাইনে হয়রানির শিকার হবার অভিযোগ এনে আইনের সহায়তা নিয়েছিলেন, যা গণমাধ্যমে খবর হয়েছিল।

চঞ্চল চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে এই প্রসঙ্গে বলেন, "এটা আমার একার বিষয় না, এটা সার্বিকভাবে চিন্তার বিষয়"।

"ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিয়ে আলোচনা পুরনো কিন্তু এখন যারা মুক্তমনা তাদেরকেই সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে" - বলেন তিনি।

আরো পড়ুন:

অনলাইনে নেতিবাচক মন্তব্য নতুন কিছু না

ছবির উৎস, Peter Dazeley/Getty

ছবির ক্যাপশান, অনলাইনে নেতিবাচক মন্তব্য নতুন কিছু না

চঞ্চল চৌধুরী বলছেন, ২০১১ সালে তিনি একটি ছবি শেয়ার করেন যেখানে তার মা এবং তার সন্তান ছিল। "সেই সময় পরিস্থিতি আজকের মত হয়নি" - বলেন তিনি।

তিনি বলেন, একদল মানুষ আছে যারা সুসংগঠিত এবং তারা মাঝে মাঝে তাদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার জন্য একেবারে টার্গেট করে এই কাজগুলো করছে।

তবে তিনি মনে করেন, তার ঐ ছবির নিচে যত নেতিবাচক কমেন্ট এসেছে তার চেয়ে বেশি তাকে সমর্থন করে মানুষ তার পক্ষে লিখেছেন। কিন্তু এটা যে সবার ক্ষেত্রেই ঘটবে - এমনটা তিনি মনে করছেন না।

এদিকে আরেক ঘটনায় একজন অভিনেত্রী ও টিভির স্পোর্টস প্রেজেন্টার মিশু চৌধুরী ফেসবুক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি একজন সাবেক ক্রিকেটার। সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে তার পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন কিছু ব্যক্তি।

তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন "আজকের পর থেকে আমি আর ফেসবুকে থাকবো না.. এইসব মৌলবাদী, কুচিন্তা, মন্তব্য কারীদের সাথে আমি পারবো না... মানুষের চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গির এতটা অবক্ষয় ভাবাই যায় না.. ছি: ছি:।"

মিশু চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন "আমি খুবই অসম্মানিত বোধ করছি। তারা সেখানে বলছে আমাকে তারা ধর্ষণ করতে চাচ্ছে, আমাকে দেখে তারা শিহরিত হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে আমি ধর্ষণই হয়ে গেলাম তাদের কাছে"।

"সেই কারণে আমার মনে হয়েছে আমার আর ফেসবুকে থাকার দরকার নেই"।

এদিকে চঞ্চল চৌধুরী বলেন "অনলাইনে হয়রানি এটা নতুন কিছু না। সাইবার বুলিং হলে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। যাতে অন্যরা বুঝতে পারে এবং যারা এটা করছে তাদের আস্ফালনটা এতে করে থাকবে না"।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: