ফিলিস্তিন-ইসরায়েল: জেরুজালেমে দ্বিতীয় রাতের মতো সহিংসতায় বহু আহত

সহিংসতায় আহত একজন নারীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

ছবির উৎস, Amir Levy/Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সহিংসতায় আহত একজন নারীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

দ্বিতীয় রাতের মতো জেরুজালেমে পুলিশ এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সহিংসতা চলেছে, যাতে অনেক মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়েছে এবং পুরনো শহরের দামেস্ক গেটের কাছে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জবাবে পুলিশ কর্মকর্তারা স্টান গ্রেনেড এবং জল কামান ব্যবহার করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৪ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য পূর্ব জেরুজালেমের বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার সম্ভাবনায় সেখানে বেশ কয়েকদিন ধরে যে উত্তেজনা চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দিনের মতো এই সহিংসতার ঘটনা ঘটল।

শুক্রবার রাতে আল-আকসা মসজিদের কাছে সহিংসতায় দুইশ জনের বেশি ফিলিস্তিনি এবং অন্তত ১৭ জন ইসরায়েলি পুলিশ আহত হয়েছে বলে স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিশ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:

দ্বিতীয় রাতের মতো জেরুজালেমে পুলিশ এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সহিংসতা চলেছে, যাতে বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

ছবির উৎস, Amir Levy/Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দ্বিতীয় রাতের মতো জেরুজালেমে পুলিশ এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সহিংসতা চলেছে, যাতে বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, কিন্তু সেটি এলাকাটি ইহুদি ধর্মাবলম্বীদেরও একটি তীর্থস্থান, যাকে টেম্পল মাউন্ট বলা হয়।

এই এলাকায় প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তবে শুক্রবারের সহিংসতা ছিল এই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তীব্র।

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায় যেসব দেশ ভূমিকা রাখে, সেই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ এই সহিংসতার ব্যাপারে 'গভীর উদ্বেগ' জানিয়েছে।

সর্বশেষ যা ঘটেছে

শনিবারের সহিংসতার শুরু হয় জেরুজালেমের দামেস্ক গেটে যখন ইসলাম ধর্মের পবিত্র রাত লাইলাতুল আল-কদর উপলক্ষে হাজার হাজার মুসলমান আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

এর আগে শনিবার মসজিদ অভিমুখে নামাজীদের নিয়ে যাওয়া অনেক বাস আটকে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবারের সহিংসতার কারণে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

''তারা আমাদের নামাজ পড়তে দিতে চায় না। সেখানে প্রতিদিনই লড়াই করতে হচ্ছে, প্রতিদিনই সহিংসতা হচ্ছে। প্রতিদিনই সেখানে সমস্যার তৈরি হচ্ছে,'' রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন সাতাশ বছরের মাহমুদ আল-মারবুয়া।

মুসলিম ও ইহুদি উভয় ধর্মেরই পবিত্র স্থান বলে পরিগণিত আল-আকসা মসজিদের সামনে মোতায়েন করা ইসরায়েলি পুলিশ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মুসলিম ও ইহুদি উভয় ধর্মেরই পবিত্র স্থান বলে পরিগণিত আল-আকসা মসজিদের সামনে মোতায়েন করা ইসরায়েলি পুলিশ

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সবার প্রার্থনা করার অধিকার রক্ষার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে তার দেশ।

তবে একে ইসরায়েলের 'পাপীদের আক্রমণ' বলে অভিহিত করেছেন ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস।

সহিংসতার পেছনের কারণ

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকেই পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। পুরো শহরকে তারা নিজেদের রাজধানী বলে মনে করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশ তাতে স্বীকৃতি দেয়নি।

ফিলিস্তিনিরা দাবি করে, পূর্ব জেরুজালেম হবে তাদের স্বাধীন দেশের রাজধানী।

ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে, কারণ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য পূর্ব জেরুজালেমের বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার সম্ভাবনায় প্রতিদিনই কলহ তৈরি হচ্ছে।

জাতিসংঘ ইসরায়েলের প্রতি আহবান জানিয়েছে যেন যেকোনো ধরনের উচ্ছেদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয় এবং ''বিক্ষোভকারীদের প্রতি যেন সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানো হয়''।

জোর করে বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানিয়েছে আরব লীগ।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার বিষয়ে সোমবার একটি শুনানি করতে যাচ্ছে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: