চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন: ভোটের দিনে সহিংস সংঘাত, কমপক্ষে দুইজন নিহত

ছবির উৎস, পার্থ প্রতীম কুন্ডু
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে সিটি নির্বাচনের ভোটের দিন সকালে সহিংস সংঘাত হয়েছে পৃথক পৃথক স্থানে। সংঘাতে অন্তত দুইজনের প্রানহানী হয়েছে।
পৃথক সহিংস ঘটনায় তৃতীয় একজনের মৃত্যু ঘটলেও, পুলিশ বলছে, এটা পারিবারিক কারণে, ভোটের সাথে সম্পর্ক নেই।
সকাল দশটার দিকে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক কাউন্সিলর প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জানায় পুলিশ।
পরে বিকালে আরেক ব্যক্তির মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করে তারা। শহরের মতিঝর্ণা এলাকায় ঐ দ্বিতীয় ব্যক্তিও একই ধরণের সংঘর্ষে মারা যায় বলে নিশ্চিত করেন খুলশী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আফতাব হোসেন।
সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ভোটগ্রহণের সময় সহিংসতা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, লালখান বাজার, খুলশি ও পাহাড়তলীতে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। ভিডিওতে আরো দেখা গেছে, শত শত দাঙ্গা পুলিশ সংঘর্ষ নিরসনের জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অতিরিক্ত আট হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংঘাতসংকুল এলাকাগুলোর মধ্যে একটি, পাহাড়তলীতে আজ সকালে এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে নিহত হলেও, পুলিশ বলছে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে ভোটের কোন সম্পর্ক নেই। এটা নিতান্তই পারিবারিক কলহের জের।

ছবির উৎস, মুকিমুল আহসান হিমেল
তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, পাহাড়তলীর ওই ঘটনায় এক ভাই আরেক ভাইকে হত্যা করেছে। দুই ভাই দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বি কাউন্সেলর প্রার্থীর সমর্থক। সমর্থন নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়েই এক ভাই আরেক ভাইকে ছুরিকাঘাত করে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
তবে চট্টগ্রামের পশ্চিম বিভাগের এডিসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, "নির্বাচন চলতে থাকায় এই হত্যাকাণ্ডটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে অনেকে, তাই এ ধরণের গুজব ছড়ানো হচ্ছে।"
নির্বাচনের আগে সাতশো'র বেশি ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাই ভোটগ্রহণ চলাকালে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা এড়াতে আগে থেকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল তারা।
এই নির্বাচনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ৩৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ১৪ জন নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন।








