ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় প্লাস্টিকের পোস্টার, রাত বিরেতে শব্দ দূষণ: প্রার্থীরা কতটা দায়িত্ব নেবেন?

প্লাস্টিক দিয়ে ল্যামিনেট করা পোষ্টার
ছবির ক্যাপশান, প্রচারণায় ব্যাপকহারে পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিক দিয়ে ল্যামিনেট করা পোষ্টার ও ব্যানার ব্যবহৃত হচ্ছে।
    • Author, শাহনাজ পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

কানের পর্দা ফাটানো নির্বাচনী প্রচারণার শব্দ এখন ঢাকা শহরের যে কোনো এলাকাতেই শোনা যাচ্ছে। প্রায় সকল প্রার্থীকে নিয়ে গাওয়া গান আর কিছুক্ষণ পরপর তাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেয়ার আহবান জানানো হচ্ছে প্রচারণায়।

কেন তিনি অন্যদের চেয়ে যোগ্য প্রার্থী সেনিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। প্রচারণায় আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে রাত আটটার পরে মিছিলে উচ্চ শব্দে এক সংগে মোটর সাইকেলের হর্ন বাজিয়ে, মাইকে জোরে চীৎকার করে স্লোগান ও গান বাজিয়ে প্রচারণা চলছে বিভিন্ন পাড়ায়।

প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো পোষ্টারে ছেয়ে রয়েছে ঢাকা। এই পোস্টার যেখানে সেখানে ঝরে গিয়ে পরিবেশও দূষণ করছে। প্রচারণার সময় কর্মীরাও রাস্তাঘাটে আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন।

যিনি প্রচারণার সময় সচেতন নন, নিজের শহরের দেখভাল করার জন্য এমন নির্বাচিত প্রতিনিধি চান কিনা সেনিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

যে প্রার্থীরা একটি সুন্দর শহর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তারা প্লাস্টিকের আবরণ দেয়া হাজার হাজার পোষ্টার অথবা রাতের বেলার লাউড স্পিকারের পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে কতটা ভাবছেন?

প্লাস্টিকের আবরণ দেয়া পোষ্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা।
ছবির ক্যাপশান, প্লাস্টিকের আবরণ দেয়া পোষ্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী উত্তরের বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম বলছেন, "আমাদের প্রচারণা আটটার পরে আমরা করি না। জনতার যখন ঢল নামে তখন আটটা নাকি দশটা নাকি চব্বিশ ঘণ্টা কেউ কিছু বলতে পারবে না। জনতার ঢল আমি তো দাবায়ে রাখাতে পারবো না।"

প্লাস্টিকে ল্যামিনেট করা পোষ্টার সম্পর্কে তিনি দাবি করছেন, "যে যার মতো লাগাচ্ছে। আমি যেমন প্রিন্টিং করেছি ল্যামিনেটিং ছাড়া। কোথা থেকে কে লাগাচ্ছে বোঝার ক্ষমতা কারো নেই।"

কিন্তু মি. ইসলামের প্লাস্টিকে মোড়ানো পোষ্টার ঝুলছে তার নির্বাচনী এলাকা জুড়ে।

ঢাকার উত্তরে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালও বলছেন, "আমার জানামতে আমার পোষ্টার প্লাস্টিকে হওয়ার কথা না। আমরা জানি শুধু বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর অনেক বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ। আমি সচেতনভাবে আমার কর্মীদের বলেছি আমরা যেন কোন পলি ব্যবহার না করি।"

তিনি বলছেন, নির্বাচনের রায় যাই হোক সকল প্রার্থীর ল্যামিনেট করা পোষ্টার তিনি নিজে সরিয়ে রিসাইকেলের ব্যবস্থা করবেন এবং তিনি বলছেন, নিরাপত্তার জন্য তার সমর্থকরা সন্ধ্যা ছয়টা পরে প্রচারণার কাজ বন্ধ রাখছেন।

কান ফাটানো উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে আবাসিক এলাকায় প্রচারণা।
ছবির ক্যাপশান, কান ফাটানো উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে আবাসিক এলাকায় প্রচারণা।

বাংলাদেশে নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী প্রচারণায় মাইক, লাউড স্পিকার বা উঁচু শব্দ তৈরি করে এমন কিছু ব্যবহারের নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

দড়িতে উপরের দিকে ঝুলিয়ে পোষ্টার লাগানোর নিয়ম থাকলেও দেয়াল, যানবাহন, খুঁটি, গাছসহ যেখানে সেখানে পোস্টার লাগানো যাবে না। পোষ্টার কেমন হবে সেব্যাপারেও আইনে বলা রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম অবাধে ভঙ্গ করা হচ্ছে।

অন্যান্য খবর: