ব্রেক্সিট ইস্যু: বরিস জনসন নতুন আইন না মানলে আদালতে যাবেন এমপিরা

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যদি ব্রেক্সিট পিছিয়ে দিতে রাজি না হন, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন পার্লামেন্টের সদস্যরা

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যদি ব্রেক্সিট পিছিয়ে দিতে রাজি না হন, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন পার্লামেন্টের সদস্যরা, যাদের মধ্যে বরখাস্ত হওয়া টোরি এমপিরাও রয়েছেন।

চুক্তি ছাড়া বেক্সিট এড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সময় বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে দায়িত্ব দিয়ে একটি বিল রানীর অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবার কথা রয়েছে ব্রিটেনের।

তবে প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেছেন, বেক্সিট পিছিয়ে দিতে বলার চেয়ে বরং তিনি খাদে পড়ে মারা যেতে চান।

আইনি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, নতুন আইনটি মানতে অস্বীকার করলে প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে যেতে হতে পারে।

এদিকে ব্রিটেনের নিয়োগ ও অবসর বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাম্বার রাড মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছে।

তিনি বলেছেন, তিনি আর বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, একটি চুক্তির মাধ্যমৈ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মঙ্গলবার যে ২২জন টোরি এমপিকে বরখাস্ত করা হয়েছে, সেটি সভ্যতা এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে তিনি বর্ণনা করেছেন।

আরো পড়ুন:

ব্রেক্সিটের পক্ষে আর বিপক্ষের সমর্থকরা শনিবার ওয়েস্টমিনিস্টারে সমাবেশ করেছে, যাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, ব্রেক্সিটের পক্ষে আর বিপক্ষের সমর্থকরা শনিবার ওয়েস্টমিনিস্টারে সমাবেশ করেছে, যাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট এড়াতে পাশ হওয়া আইনটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দরকার হলে আদালতে লড়াই করার জন্য আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিরোধী আর বিদ্রোহী সদস্যরা।

ব্রেক্সিটের পক্ষে আর বিপক্ষের সমর্থকরা শনিবার ওয়েস্টমিনিস্টারে সমাবেশ করেছে, যাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

একাধিক পার্টির এমপিদের সমর্থনে বিলে বলা হয়েছে, আগামী অক্টোবরের মধ্যে যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি চুক্তির ব্যাপারে পার্লামেন্ট সম্মত না হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে বেক্সিট কার্যকর করার জন্য ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় চাইতে হবে।

যদিও সরকার বলেছে যে, তারা আইন মেনে চলবে। তবে মি. জনসন বলেছেন, অযৌক্তিক দেরি করার জন্য ব্রাসেলসকে অনুরোধ করার জন্য একটি ধারণায় এই বিল তাকে বাধ্য করছে।

ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, ব্রিটিশ জনগণ পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, তারা ব্রেক্সিট সম্পন্ন হয়েছে দেখতে চায়।

লেবার নেতা জেরেমি করবিন বিবিসি নিউজকে বলেছেন, আইনটি নিয়ে কোন আইনি ব্যবস্থায় যাচ্ছে না তার দল। তবে তারা এ ধরণের ব্যবস্থার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে এবং সেটি নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

''আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পরিষ্কার বার্তা চাই যে, তিনি পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন,'' বলেছেন মি. করবিন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: