এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা আছে?

- Author, ফারহানা পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
ঢাকার কাছে গাজীপুরে বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মী বুধবার ভোরে দুর্বৃত্তের আঘাতে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
পুলিশ বলছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ভোরের দিকে বুথের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে । বাংলাদেশে টাকা তোলার যন্ত্র এটিএম মেশিনের নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা থাকেন তাদের নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন না। ২৪ঘন্টা সেবা প্রদানের জন্য এসব বুথ যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন তারা নিজেদের রক্ষার জন্য কী প্রশিক্ষণ নেন।
ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তা-কর্মী আমাকে বলছিলেন কি ধরণের নিরাপত্তা রয়েছে তাদের জন্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন " আমাদের ১৫ দিনের একটা ট্রেনিং দেয়া হয়। তারপর ঢাকা বা ঢাকার বাইরে আমাদের পাঠিয়ে দেয়। আমাদের আট ঘণ্টার শিফট। নিজেকে সেফ করার জন্য বড় ধরণের প্রশিক্ষণ আমাদের দেয়া হয় না"।
তিনি বলছিলেন "বড় ধরণের যদি কোন দুর্ঘটনা হয় তাহলে সে মুহূর্তে আমাদের কিছু করার থাকে না। ঐ সময় খালি হাতে যতটুকু পারি ততটুকু করি। এছাড়া বাড়তি নিরাপত্তার জন্য আমাদের জন্য কিছু নেই"।
আরো পড়ুন:

জানুয়ারি মাসের ২১ তারিখে ঢাকার বারিধারায় একজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হন। মে মাসে আরেকজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হন। নিরাপত্তা-কর্মীদের নিরাপত্তা যখন প্রশ্নের মুখে তখন অনেক গ্রাহক জরুরি-ভিত্তিতে যদি টাকার প্রয়োজন হয় তাহলে বুথে গিয়ে টাকা তোলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
চট্টগ্রাম শহরের একজন বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন "একদিন সন্ধ্যার পরে আমি টাকা তুলতে গেছি, ঐ বুথে দেখলাম বৃদ্ধ একজন গার্ড। তখন হঠাত আমার মনে হল এখন যদি দুই তিন জন এসে আমাকে অস্ত্র ধরে পিন নম্বর নিয়ে নেয় আমার কিছু করার থাকবে না। আর যে গার্ড তার ক্ষমতা নেই সেটা ঠেকানোর। তো যেখানে একজন গার্ডের আমাকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না সেখানে আমি সেফ ফিল করি কিভাবে?"
তিনি বলছিলেন "আমি মনি করি এখানে যাদের শক্তি সামর্থ্য আছে এমন লোক দিতে হবে, ভালো প্রশিক্ষণ আর অস্ত্র দিতে হবে"।
বুথের নিরাপত্তা জন্য যেসব গার্ডদের পাঠানো হয় সেগুলো বিভিন্ন সিকিউরিটি সার্ভিস এজেন্সি থেকে ব্যাংকগুলো চুক্তির মাধ্যমে নিয়ে থাকে।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

ছবির উৎস, Getty Images
ঢাকার বড় একটি সিকিউরিটি সার্ভিস এজেন্সির কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তাদের ১৪দিনের প্রশিক্ষণ, অগ্নিনির্বাপক প্রশিক্ষণ এবং কন্ট্রোল রুমের নম্বর দেয়া থাকে। কিন্তু এর বেশি তাদের নিরাপত্তার জন্য কোন ব্যবস্থা থাকে না।
কিন্তু যখন কোন হামলা হয় তখন এসব ট্রেনিং এবং কন্ট্রোল রুমে ফোন করা মত কি অবস্থা থাকে?
বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলেছিলাম ঢাকা ব্যাংকের সিইও এবং এমডি সৈয়দ মাহাবুবুর রহমানের সাথে।
মি. রহমান বলছিলেন "তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে লাভ নেই। কারণ যারা আসে তারা কয়েকজন মিলে আসে এবং খুব প্রস্তুতি ও ক্ষিপ্রতার সাথে আসে"।
তিনি বলছিলেন যেটা করতে হবে " সামগ্রিকভাবে কাজ করতে হবে। এটা শুধু ব্যাংক, সিকিউরিটি কোম্পানি না-এটার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বসে সামগ্রিক একটা গাইডলাইন বের করতে হবে। এটা একেবারে হয়ত নির্মূল করা যাবে না কিন্তু প্রতিরোধের কাজটা করা যাবে"।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী এখন সবমিলিয়ে ব্যাংক রয়েছে ৫৭টি। আর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সবশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী সারাদেশে বুথের সংখ্যা ১০ হাজার ৫শ ৩৬টি।
যেহেতু দেশব্যাপী এতগুলো এটিএম বুথের নিরাপত্তা কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই তাই গ্রাহকরাও আতঙ্কিত বোধ করছেন সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর জন্য।








