বাংলাদেশে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন: ৫৮৬ কেন্দ্রে সব ভোট নৌকা মার্কায়

৩০শে ডিসেম্বর ২০১৮-র নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন এক নারী

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, সুজনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , ১০৩টি আসনের ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে।
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে ৩০শে ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের মাত্রা কতটা ব্যাপক ছিল তার কিছু খণ্ড চিত্র উঠে এসেছে বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজনের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে।

নির্বাচনের ছয় মাস পরে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র-ভিত্তিক যে ফলাফল প্রকাশ করেছে সেটি পর্যালোচনা করেই এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, ৭৫টি আসনের ৫৮৬টি কেন্দ্রে যতগুলো বৈধ ভোট পড়েছে, তার সবগুলোই পেয়েছে নৌকা মার্কার প্রার্থীরা।

এসব কেন্দ্রে ধানের শীষ কিংবা অন্য প্রার্থী কোন ভোটই পাননি।

তবে মাগুরা ২ আসনের একটি কেন্দ্রে সব ভোট পেয়েছে ধানের শীষ। যদিও সে আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেছে।

নির্বাচনে অনিয়মের আরেকটি দিক হচ্ছে, অন্তত পাঁচটি কেন্দ্রে ভোট গণনার পরে রিটার্নিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে যে ফলাফল প্রকাশ করেছে, তার সাথে সর্বশেষ প্রকাশিত কেন্দ্র-ভিত্তিক ফলাফলের কোন মিল নেই।

সুজনের প্রতিবেদন বলছে, ৭৫টি আসনের ৫৮৬টি কেন্দ্রে যতগুলো বৈধ ভোট পড়েছে, তার সবগুলোই পেয়েছে নৌকা মার্কার প্রার্থীরা।
ছবির ক্যাপশান, সুজনের প্রতিবেদন বলছে, ৭৫টি আসনের ৫৮৬টি কেন্দ্রে যতগুলো বৈধ ভোট পড়েছে, তার সবগুলোই পেয়েছে নৌকা মার্কার প্রার্থীরা।

উদাহরণ হিসেবে সুজন তুলে ধরেছে, চট্টগ্রাম-১০ আসনের কথা। এই আসনে গণ-সংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মারুফ হাসান রুমী কোন ভোট পাননি। অর্থাৎ তিনি শূন্য ভোট পেয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছিলেন রিটার্নিং অফিসার। কিন্তু কয়েকদিন আগে প্রকাশিত কেন্দ্র-ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তিনি ২৪৩ ভোট পেয়েছেন- জানাচ্ছে সুজন।

সুজনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , ১০৩টি আসনের ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। এ বিষয়টি কোনক্রমেই বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ফলাফল পর্যালোচনা করে চরম অসঙ্গতি এবং কারচুপি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মি. মজুমদার বলেন, "সুষ্ঠু নির্বাচন তো হয় নাই। এর মধ্যে অনেক অসঙ্গতি, অনিয়ম এবং জালিয়াতি আছে। এ ব্যাপারে অনেকেরই দায় আছে। তবে সবচেয়ে বড় দায় আছে নির্বাচন কমিশনের।"

আরো পড়তে পারেন:

ভিডিওর ক্যাপশান, চট্টগ্রামে ভোটের আগে ব্যালট বাক্স ভরা পেলেন বিবিসি'র সাংবাদিক

সুজনের এই পর্যালোচনা প্রতিবেদন নিয়ে নতুন করে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। তবে কয়েকদিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়া স্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, নির্বাচন-কালীন অথবা গেজেট প্রকাশের আগে কেউ যদি অভিযোগ করতো সুনির্দিষ্টভাবে, তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে দেখতে পারতো। যেহেতু এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি বা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি, গেজেট নোটিফিকেশন করার পরে আর কিছু করার থাকে না।

কিন্তু বদিউল আলম মজুমদার এ ধরনের বক্তব্যের সাথে একমত নন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারতো। এমনকি নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বাতিল করারও ক্ষমতা রয়েছে বলে মি: মজুমদার উল্লেখ করেন।

আরো পড়তে পারেন: