সূচনা হলো বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য এলাকার

ছবির উৎস, AFP
আফ্রিকার ৫৪টি দেশের নেতারা রোববার নিজেরে এক শীর্ষ সম্মেলনে তাদের মহাদেশে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন।
সফল হলে, আফ্রিকার ১৩০ কোটি মানুষ একত্রিত হয়ে ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি মুক্ত অর্থনৈতিক এলাকা তৈরি করবে যেটি হবে বিশ্বে এ ধরণের সর্ববৃহৎ অঞ্চল।
আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা আফ্রিকা মহাদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য গত ১৭ বছর ধরে আলোচনা চলছিল। এর উদ্দেশ্য - আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে যেন আরও বেশি করে পণ্য লেন-দেন হয়।
বর্তমানে আফ্রিকার দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ বাণিজ্য হয়, এর বিপরীতে ইউরোপের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য প্রায় ৬৫ শতাংশ।
নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সিংহভাগ পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর প্রত্যাহারে ঐক্যমত্য হয়েছে, এবং ধারনা করা হচ্ছে এর ফলে মধ্যমেয়াদে আফ্রিকায় আন্ত:বাণিজ্য ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে যাবে।
অন্যান্য কিছু মতভেদ দুর হলে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলে ধারনা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ।
আইএমএফ বলছে, এই বাণিজ্য চুক্তি আফ্রিকার চেহারা বদলে দিতে পারে, এবং যেভাবে এ ধরনের মুক্ত বাণিজ্য ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার উন্নয়নকে তরান্বিত করেছে, আফ্রিকাতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে ।

ছবির উৎস, Getty Images
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু শুল্ক প্রত্যাহার করলেই যে আফ্রিকায় কাঙ্ক্ষিত সুফল আসবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তারা বলছেন, এই মহাদেশের দুর্বল সড়ক এবং রেল নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক এবং জাতিগত অস্থিরতা এবং হানাহানি এবং সেইসাথে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমস্যাগুলোর সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সাথে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে এরিত্রিয়া এই চুক্তিতে সামিল হয়নি।
এপ্রিলে নতুন এই মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গঠনে ফয়সালা হয়ে গেলেও আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতি নাইজেরিয়ার সিদ্ধান্তহীনতায় তা আটকে ছিল। তবে নাইজেরিয়া আজ (রোববার) চুক্তিতে সই করে।
৫৪ টি দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৫টি দেশের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়েছে। ফলে এটি পুরোপুরি কার্যকরী হতে আরো কিছু সময় লাগবে।
আরও পড়ুন:








