ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ম্যাচে যত নাটকীয় ঘটনা ঘটেছিলো

ছবির উৎস, Getty Images
বিশ্বকাপ এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে, ঠিক তখন পাকিস্তান প্রায় হারতে বসা একটি ম্যাচে ৩ উইকেটের জয় পায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে, যেটিকে এবারের আসরে এখন পর্যন্ত হওয়া ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ন ম্যাচের একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঐ জয় পাকিস্তানের সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে।
লো স্কোরিং ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান ২২৭ রান তোলে।
২২৮ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান প্রথম ওভারেই উইকেট হারালেও সহজ জয়ের পেই এগুচ্ছিলো।
কিন্তু বিপত্তি শুরু হয় দলীয় ১৫৬ রানে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ আউট হবার পর।
তখন ৬৬ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৭২ রান।
সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছান ৫৪ বলে ৪৯ রান তোলা ইমাদ ওয়াসিম, ওয়াহাব রিয়াজের ৯ বলে ১৫ রানের ছোট ইনিংসও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তবে খেলার বাইরেও এই ম্যাচে অনেক ঘটনা ঘটে যা নানা বিতর্কের জন্ম দেয়।
আরো পড়ুন:
মাঠের ভেতরেই মারামারি
লিডসের হেডিংলি স্টেডিয়ামের নিরাপত্তারক্ষীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় এই ম্যাচে দুই পক্ষের সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সমর্থকরা একে অপরের সাথে হাতাহাতি করা শুরু করে এক পর্যায়ে।
সাথে বোতল ছোড়াছুড়ি, এমনকি আবর্জনা ফেলার পাত্র ছোড়ারও ঘটনা ঘটে।

ছবির উৎস, Clive Mason
মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে মারামারি
শুধু মাঠে হট্টগোল করেই ক্ষান্ত থাকে না সমর্থকরা, মাঠের বাইরে মাঠ সংলগ্ন রাস্তার লোহার ব্যারিয়ার দিয়েও মারামারি করে দুই দলের সমর্থকরা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টে গত অনেক বছরে এমনটি দেখা যায়নি।
মাঠে উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতাও কম পড়ে যায় হাতাহাতির প্রাবল্যের কাছে।
জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকিনফোর তথ্যমতে, খেলার শুরুতে কিছু সমর্থক দেয়াল ডিঙ্গিয়ে মাঠে ঢুকে পড়ে, যাদের কাছে টিকেটও ছিল না।
খেলার জায়গায় ঢুকে যায় দর্শকরা
একটা সময় ক্রিকেটের খুব পরিচিত দৃশ্যের মধ্যে একটি ছিল খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে দর্শকদের মাঠে ঢুকে পড়া।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান ম্যাচে আবারও পুনরাবৃত্তি ঘটে সেই ঘটনার।
ঠিক খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে বেশ কয়েকজন দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন।
এসময় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের নিরাপদে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ছবির উৎস, টুইটার থেকে নেয়া
'জাস্টিস ফর বালুচিস্তান' ব্যানার নিয়ে বিমান উড়ে যায়
হেডিংলিতে ম্যাচ চলাকালীন একটি বিমান উড়ে যায়, যেখানে লেখা ছিল 'জাস্টিস ফর বালুচিস্তান।'
এর সাথে যোগ করা ছিল "হেল্প এন্ড ডিজ্যাপিয়ারেন্স ইন বালুচিস্তান" অর্থাৎ 'বালুচিস্তানে গুম বন্ধ করতে সাহায্য করা হোক।'
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংগঠনটি কোনো ধরণের রাজনৈতিক বার্তাকে প্রশ্রয় দিবে না, লিডসের আকাশপথ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি দেখবে।
পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশটির সাথে আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্ত রয়েছে।
বালুচিস্তানে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে বিধায় ঐ অঞ্চলের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সেখানে সেনা অভিযান পরিচালনা করা এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
কী বলছে আইসিসি
পাকিস্তান-আফগানিস্তান ম্যাচের দর্শক সমর্থকদের দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে আইসিসি'ও গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
"কিছু ভক্ত সমর্থকদের মারামারির কথা আমরা শুনেছি, আমরা এখন ভেন্যুর নিরাপত্তা দলের সাথে কাজ করছি, সাথে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীও আছে, এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সেটা আমরা নিশ্চিত করবো," বলেন আইসিসির এক মুখপাত্র।
আফগানিস্তানের নাটকীয় হার
হেডিংলির ঐ ম্যাচে আফগানিস্তান মূলত দ্বিতীয় ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ছিটকে গিয়েছে।
পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ভাল হলেও ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় রান ও বলের ব্যবধান বাড়তে থাকে।
মাঝপথে আফগানিস্তানের স্পিনাররা ডট বল ও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেয়।
ম্যাচ যত গড়াচ্ছিল, হেডিংলির উইকেটে স্পিন খেলা দু:সাধ্য হয়ে পড়েছিল।
আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী, পুরো ১০ ওভার বল করে ২৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।

ছবির উৎস, GLYN KIRK
কিন্তু ৪৬তম ওভারে গুলবাদিন নাইব বল হাতে নিয়ে ১৮ রান দেন, সেখানেই রান ও বলের দূরত্ব কমিয়ে আনেন ইমাদ ওয়াসিম।
রশিদ খানও নিজের সামর্থ্যের পুরোটা দিতে পারেননি এই টার্নিং উইকেটে।
হামিদ হাসান চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় একজন বোলার কমে যায় আফগানিস্তানের।
শেষ পর্যন্ত ইমাদ ওয়াসিম ও ওয়াহাব রিয়াজ পাকিস্তানকে মূল্যবান দুটি পয়েন্ট এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন।








