ভারতে নির্বাচন: শোচনীয় পরাজয়ের পর পদত্যাগ করতে চান রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি, কলকাতা
ভারতের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের সব দায় নিজের কাঁধে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী পদত্যাগ করতে চেয়েছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও দলের কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে তিনিও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিতে চান।
দুজনের প্রস্তাবই খারিজ করে দিয়েছে তাদের দল।
কংগ্রেসের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি- ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল গান্ধী আজ শনিবার বলেন যে দলের পরাজয়ের দায় নিয়ে সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে চান তিনি।
কিন্তু ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস মুখপাত্র রনদীপ সুরজেওয়ালা।
উপরন্তু তার ওপরেই দলকে ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব দিয়েছে ওয়ার্কিং কমিটি।
তবে এখনও রাহুল গান্ধী ইস্তফা দেওয়ার ব্যাপারে অনড় রয়েছেন।
তার মা সোনিয়া গান্ধী আর বোন প্রিয়াঙ্কা ভাদরা অবশ্য রাহুলের ওপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ছেড়ে দিয়েছেন।
তিনি যে ইস্তফা দিতে পারেন, এই কথাটা ভোট গণনার দিন থেকেই শোনা যাচ্ছিল।
তবে অন্যদিকে কংগ্রেস নেতারাও একরকম ঠিকই করে রেখেছিলেন যে তিনি পদত্যাগ করতে চাইলে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গের এক সিনিয়র কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য যেমন বিবিসিকে বলেছেন, "বিকল্প নেতা কে হতে পারেন, এটা ভাবতে গিয়ে আমার তো একজনের নামও মনে এল না।"

ছবির উৎস, Getty Images
আরো পড়তে পারেন:
অন্যদিকে, কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাড়িতে সিনিয়র নেতা-নেত্রী এবং দলের সব প্রার্থীদের নিয়ে এক বৈঠকে মমতা ব্যানার্জী মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন বলে তিনি নিজেই সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। কিন্তু দল যে তার এই প্রস্তাব মেনে নেয় নি, সেটাও তিনি বলেছেন।
তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাজ করতে গিয়ে দলের কাজকর্ম তিনি তদারকি করতে পারছেন না। বিধানসভা নির্বাচনের আর দুই বছর বাকি, সেই সময়টাতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দলটাকে আরও গুছিয়ে তুলতে চাইছিলেন।
একই সঙ্গে মিজ ব্যানার্জী অভিযোগ করছেন যে কেন্দ্রীয় সরকার তাকে মোটেই কাজ করতে দিচ্ছে না।
ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই গোটা রাজ্যেই বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলছে - দোকানপাট ভাঙচুর, আগুন দেওয়া, গুলি, বোমা এসব চলছে, কিন্তু পুলিশ এখনও নির্বাচন কমিশনের অধীনে, তাই তিনি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলে মিজ. ব্যানার্জী অভিযোগ করেছেন।








