লোকসভা নির্বাচন ২০১৯: পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা-সংঘাতের কারণে এক দিন আগেই প্রচারণা শেষ করার নির্দেশ

ছবির উৎস, Getty Images
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনা আর সংঘাতপূর্ণ পরিবেশের পটভূমিতে ওই রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণা নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এর পাশাপাশি, ''নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপে''র গুরুতর অভিযোগ এনে পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ আমলা বা স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ভারতে নির্বাচনী প্রচার আগেই শেষ করে দেওয়ার এই নির্দেশ যেমন প্রায় নজিরবিহীন, তেমনি ভোটে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে কোনও রাজ্যের শীর্ষ আমলাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও খুব বিরল।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার নেতৃত্বে কমিশন বুধবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামিকাল (বৃহস্পতিবার) রাত দশটার মধ্যেই সব রাজনৈতিক দলকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করতে হবে।
রাজ্যে সপ্তম তথা শেষ দফার ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী রবিবার, ১৯শে মে। সেদিন রাজধানী কলকাতা ও তার আশেপাশের আসনগুলিতে ভোটগ্রহণ হবে, যার জন্য প্রচারণা চলার কথা ছিল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (সিআইডি) রাজীব কুমারকেও দায়িত্ব থেকে ছুটি দিয়ে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল দশটার মধ্যে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে রিপোর্ট করতে।
এর আগে কলকাতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ্-র নির্বাচনী শোভাযাত্রাকে ঘিরে চরম সহিংসতার পর বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়।
তার পরই বুধবার রাতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই সব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
অন্য দিকে, মঙ্গলবার কলকাতায় অমিত শাহ্-র মিছিলের সময় যে গন্ডগোল, মারধর বা কোনো মনীষীর মূর্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে তার বিরুদ্ধে শহরে এক পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এদিন অভিযোগ করেছেন, মমতা ব্যানার্জি তার রাজ্যে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছেন।
মমতা ব্যানার্জীর সংবাদ সম্মেলন
নির্বাচন কমিশনের এই অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়ে বুধবার বেশি রাতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি বলছেন, এই দিনটি ''গণতন্ত্রের পক্ষে একটা কালা দিন''।
তার আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পুরোপুরিভাবে নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির নির্দেশ মেনে চলছে। সেইজন্যই, পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর যে দুটি সভা রয়েছে বৃহস্পতিবার, ''সে দুটো শেষ হওয়ার পরেই প্রচার বন্ধ করার এই নির্দেশনা দেওয়া হল''।
কয়েকজন বিশ্লেষকও এই প্রশ্ন তুলছেন যে, যদি মঙ্গলবারের অশান্তির কারণেই প্রচারণা তাড়াতাড়ি শেষ করে দিতে হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন তো সেটা বুধবার রাত দশটাতেই শেষ করে দিতে পারত!
স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য আর সি আই ডি-র অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজীব কুমারকে সরিয়ে দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন, তারও তীব্র সমালোচনা করেন মিজ. ব্যানার্জী।
এছাড়াও সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে নির্বাচন কমিশন প্রচারের সময় সংক্ষিপ্ত করে দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন আইনজ্ঞরা।
তারা বলছেন, সংবিধানের এই ধারাটির বলে বলীয়ান হয়েই নির্বাচন কমিশন ভোট পরিচালনা করে। এই ধারাটির প্রয়োগ তো শুরু হয়ে গেছে যেদিন থেকে নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে, সেদিন থেকেই। ''প্রথমবার এই ধারা প্রয়োগ করা হল - এই কথার অর্থ কী''!
তবে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের একটি ধারা প্রয়োগ করে এর আগেও ভারত শাসিত কাশ্মীরে প্রচারের জন্য কম সময় দেওয়া হয়েছে।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:








