নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশী নারী: 'চাবি, জুতা ফেলেই জান বাঁচাতে দৌড় দেই"

ছবির উৎস, Getty Images
আল নুর মসজিদে যখন হামলা হয়, তখন আফসানা আক্তার রিতু ছিলেন মসজিদের ভেতরেই।
আফসানার বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে। এক বছর আগে তার বিয়ে হয় নিউজিল্যান্ড-প্রবাসী এক বাংলাদেশীর সঙ্গে। নয় মাস আগে তিনি দেশ ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে যান।
আল নুর মসজিদ থেকে তাদের বাসা মাত্র এক মিনিটের পথ।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আফসানা আক্তার রিতু সেই ভয়াবহ হামলার বিবরণ দিয়েছেন।
বাসার কাছেই যেহেতু মসজিদ, আফসানা তাই প্রতিদিন সেখানে নামাজ পড়তে যেতেন। ঘটনার সময় তারা তিনজন বাংলাদেশী নারী একসঙ্গে ছিলেন।

ছবির উৎস, Getty Images
"আমরা মসজিদের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ করে একটা শব্দ পাই। আমরা শব্দ শুনে দৌড়াদৌড়ি করে বাইরে আসি।"
"যারা গুলি করছিল, ওরা প্রথম মহিলাদের রুমে আসেনি, ওরা প্রথম গিয়েছিল পুরুষদের রুমে। আমরা তিনজন বাংলাদেশী এক সঙ্গে ছিলাম। তিনজনই একসঙ্গে দৌড় দেই।"
"আমাদের বাসা একদম মসজিদের পাশে। বাসায় আসতে এক মিনিট লাগে। গোলাগুলির শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে বাসার দিকে আসি। কিন্তু বাসার চাবি, জুতা এইগুলা মসজিদে রেখে আসছি। জান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে আসি।"

ছবির উৎস, Getty Images
তারা যে তিনজন একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্স এসে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আফসানা জানান, যে ব্যক্তি গুলি করছিল, তাকে দেখেননি তিনি। "আমরা ভয়ে পেছনে তাকাইনি।"
এই ঘটনার পর আফসানা এখন রীতিমত আতংকে আছেন। অথচ নিউজিল্যান্ডে তার গত নয় মাসের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারই অন্যরকম।
"বাংলাদেশে থাকতেই আমি জানতাম, নিউজিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। অনেক নিরাপদ। এ পর্যন্ত কোনদিন কোন সমস্যা হয়নি।"
কিন্তু শুক্রবারের এই ঘটনা তাকে ভীষণ আতংকগ্রস্ত করে তুলেছে।








