কমনওয়েলথ সম্পর্কে যে সাতটি তথ্য হয়তো আপনি জানেন না

ছবির উৎস, PA
লন্ডনে কমনওয়েলথ নেতারা একটি সম্মেলনে মিলিত হতে যাচ্ছেন। এখানে কমনওয়েলথ সম্পর্কে সাতটি তথ্য তুলে ধরা হল, যা হয়তো আপনি জানেন না।
১. বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষের সংগঠন
বর্তমানে বিশ্বে মানুষের সংখ্যা সাতশো চল্লিশ কোটি। এর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ, অর্থাৎ দুইশ চল্লিশ কোটি মানুষই কমনওয়েলথের আওতাভুক্ত দেশগুলোয় বাস করে। যাদের বেশিরভাগের বয়সই ত্রিশের নীচে।
জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় দেশ ভারত। এই সংখ্যার অর্ধেক মানুষই ভারতে বাস করে।
আরো পড়তে পারেন:
২. অনেক সদস্য দেশ কখনোই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল না।
১৯৯৫ সালে মোজাম্বিক আর ২০০৯ সালে রোয়ান্ডা কমনওয়েলথের সদস্য হয়। কিন্তু দেশ দুটি কখনোই ব্রিটিশ কলোনি ছিল না।
তবে কয়েকবার সংগঠনটি তাদের সদস্যও হারিয়েছে। নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে জিম্বাবুয়ের সদস্যপদ স্থগিত করা হলে, ২০০৩ সালে রবার্ট মুগাবে কমনওয়েলথ থেকে বেরিয়ে যান।

ছবির উৎস, Reuters
১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের জেরে পাকিস্তানের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তবে সাড়ে চার বছর পর তারা আবার সেই পদ ফেরত পান। বর্ণবাদ নিয়ে সমালোচনার জেরে ১৯৬১ সালে কমনওয়েলথ থেকে সরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯৪ সালে তারা আবার এর সদস্য হয়।
সর্বশেষ মালদ্বীপ ২০১৬ সালে কমনওয়েলথ থেকে বেরিয়ে যায়।
৩. মাত্র ১৬টি দেশের প্রধান রানী
ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ কমনওয়েলথ ভুক্ত মাত্র ১৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে রয়েছে। বাকি দেশগুলোর ছয়টিতে নিজেদের রাজা রয়েছে আর ৩১টি দেশ প্রজাতন্ত্র।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির উৎস, Getty Images
৪. বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত
বিশ্বের চারভাগের একভাগ ভূমি কমনওয়েলথভুক্ত।
সবচেয়ে বেশি ভূমি রয়েছে কানাডায়। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় অনেক ভূমি রয়েছে। তবে বাকি দেশগুলোর বেশিরভাগই ছোট। প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষুদ্রাকৃতির কিছু দ্বীপ দেশও রয়েছে।
৫. নাম পরিবর্তন
আধুনিক কমনওয়েলথ গঠিত হয় ১৯৪৯ সালে, যখন এর নাম থেকে 'ব্রিটিশ' শব্দটি সরিয়ে ফেলা হয়। ক্লাবের প্রধান হিসাবে রানীর প্রতি আনুগত্যের বাধ্যবাধকতাও প্রত্যাহার করা হয়।
এ পর্যন্ত দুইজন এই সংগঠনের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন কিং জর্জ সিক্স আর রানী এলিজাবেথ দি সেকেন্ড। যদিও তারাই যে সবসময় এর প্রধান হবেন, সেই নিয়ম এখন আর নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রিন্স অফ ওয়েলস ক্ষমতায় এলে তিনিও এর প্রধান হবেন।
প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা আর যুক্তরাজ্য।
২০১২ সালের আগে কমনওয়েলথে কোন সংবিধান ছিল না।
সমালোচকরা বলেন, কমনওয়েলথ হচ্ছে কলোনি-উত্তর একটি ক্লাব। তবে সমর্থকদের মতে, এটি সদস্য দেশগুলোর উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

ছবির উৎস, Getty Images
৬. কমনওয়েলথের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি
এই জোটের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাজ্য। ভারতও খুব তাড়াতাড়ি প্রথম ধাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এরপরেই রয়েছে কানাডা। সবচেয়ে ছোট অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে টুভালু, নাউরু আর কিরিবাতি।
৭. অন্য কমনওয়েলথ
ফরাসি ভাষাভাষী দেশগুলোকে নিয়েও এরকম একটি জোট রয়েছে, যার নাম ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ লা ফ্রানকোফোনি।
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা পাওয়া দেশগুলোকে নিয়ে রয়েছে কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস, যা ১৯৯১ সালে গঠিত হয়।








