অস্ট্রিয়ায় অভিবাসনবিরোধী উগ্র-ডানরা কোয়ালিশনে

ছবির উৎস, Getty Images
অস্ট্রিয়ায় একটি উগ্র-ডানপন্থী দল ক্ষমতার অংশীদার হতে যাচ্ছে। ইউরোপে বেশ কিছু কাল ধরেই উগ্র-দক্ষিণপন্থীদের প্রভাব বাড়ছিল, কিন্তু এখন পশ্চিম ইউরোপে অস্ট্রিয়াই হতে যাচ্ছে একমাত্র দেশ - যেখানে একটি উগ্র-ডান দলকে নিয়ে কোয়ালিশন সরকার গড়া হচ্ছে।
ইউরোপের এই উগ্রদক্ষিণপন্থী দলগুলো অভিবাসন, ইসলাম, এবং ইইউ বিরোধী।
এই কোয়ালিশনে আছে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি এবং উগ্র-ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টি। এই জোট অবশ্য এর আগেও ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন ছিল।
অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডর ভ্যান ডার বেলেন এই কোয়ালিশনকে অনুমোদন দিয়েছেন।
গত অক্টোবরের নির্বাচনে পিপলস পার্টি জয়লাভ করে তবে তারা নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় নি। পিপলস পার্টির নেতা হচ্ছেন সেবাস্টিয়ান কুর্জ - যার বয়েস মাত্র ৩১ এবং তিনি হতে যাচ্ছেন পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়স্ক সরকার প্রধান।
এই সরকারের নীতি কি হবে তা এখনো জানানো হয় নি। তবে নির্বাচনী প্রচারের সময় পিপলস পার্টির প্রতিশ্রুতি ছিল ইউরোপে অভিবাসীদের ঢোকার পথগুলো বন্ধ করে দেয়া, শরণার্থীদের কল্যাণভাতা সীমিত করা এবং অস্ট্রিয়ায় পাঁচ বছর না থাকা পর্যন্ত তাদের কোন ভাতা দেয়া বন্ধ করা।
ফ্রিডম পার্টির নেতা হাইনজ-ক্রিস্টিয়ান স্ট্রাশা নির্বাচনী প্রচারের সময় পিপলস পার্টির নেতা কুর্জকে 'প্রতারক' বলে আখ্যায়িত করে অভিযোগ করেছিলেন, তারা ফ্রিডম পার্টির এজেন্ডা 'চুরি করেছে'।

ছবির উৎস, Getty Images
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন জুড়েই সম্প্রতি দক্ষিণপন্থী গ্রুপগুলোর প্রভাব বাড়ছে। তারা অভিবাসন এবং ইইউ-বিরোধী এজেন্ডা ছড়াচ্ছে।
তবে অস্ট্রিয়ার ফ্রিডম পার্টির মতো ইউরোপের অন্য দক্ষিণপন্থীরা কিছু নির্বাচনী সাফল্য পেলেও ক্ষমতায় আসতে পারে নি।
এ বছরের শুরুর দিকে ফ্রান্সের নির্বাচনে ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্টের মারিন লা-পেন উদারনৈতিক ইম্মানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।
নেদারল্যান্ডসে নির্বাচনেও অভিবাসনবিরোধী গিয়ার্ট ভিল্ডার্স পরাজিত হন। জার্মানির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী এ এফ ডি তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও কোয়ালিশন সরকারে ঢোকার মত অবস্থায় নেই।
সে হিসেবে অস্ট্রিয়ায় ফ্রিডম পার্টি-পিপলস পার্টি কোয়ালিশন একটা ব্যতিক্রম বলা যায়।
উগ্র-ডান নেতাদের বৈঠক প্রাগে
এর মধ্যেই আজ চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে ইউরোপের নয়টি দেশের উগ্র-ডানপন্থী নেতাদের এক সম্মেলন হচ্ছে।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এ সম্মেলনে যোগ দেবেন ফ্রান্সের মারিন লা পেন, ডাচ গিয়ার্ট ভিল্ডার্সের মতো নেতারা, এবং আরো প্রায় হাজার খানেক প্রতিনিধি।
এরা সবাই ইউরোপে অভিবাসী, ইসলাম, এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের হস্তক্ষেপের বিরোধী। তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিকল্প নিয়ে আলোচনা করবেন।








