খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলা করতে উত্তর কোরিয়ার মানুষ উদ্ভাবন করছে নতুন খাবার

উত্তর কোরিয়ায় নিষেধাজ্ঞার কারণে খাদ্যের অভাব মোকাবেলা করতে তৈরি হচ্ছে সস্তায় বানানো যায় এমন নানাধরনের মুখরোচক খাবার।

উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণে পালিয়ে যাওয়া হং ইউন হাই দেখাচ্ছেন কীভাবে ভূট্টার পাউডার দিয়ে চমৎকার কেক বানানো সম্ভব।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, বহু বছর ধরে উত্তর কোরিয়ায় খাদ্যের অভাব নৈমিত্তিক ঘটনা। যার ফলে সেখানে মানুষকে দেখা যায় সাধারণ উপকরণ ব্যবহার করে নতুন খাবার তৈরিতে সৃজনশীলতা দেখাতে। এই খাবারের স্থানীয় নাম সোউকদুজিওন। এটা ''চটজলদি কেক'' নামেও পরিচিত। বেক না করেও এই কেক বানানো যায় কয়েক মিনিটে। উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণে পালিয়ে যাওয়া হং ইউন হাই দেখাচ্ছেন কীভাবে ভূট্টার পাউডার দিয়ে চমৎকার কেক বানানো সম্ভব।
হং ইউন হাই দেখাচ্ছেন কীভাবে সোউকদুজিওন বানানো হয় ভূট্টার পাউডার জলের সঙ্গে মিশিয়ে।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, হং ইউন হাই দেখাচ্ছেন কীভাবে সোউকদুজিওন বানানো হয় ভূট্টার পাউডার জলের সঙ্গে মিশিয়ে। তিনি এখন সোলে একটি রেস্তোঁরা চালান। উত্তর কোরিয়ায় দরিদ্র মানুষের ভূট্টাই প্রধান খাদ্য, কারণ চালের থেকে তার দাম কম। হং ইউন হাই-তার রেস্তোঁরায় তৈরি করে দেখিয়েছেন অভাবের মধ্যেও কীধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করছেন উত্তর কোরীয়রা।
ইনজোগোগি যার আরেক নাম ''মানুষের তৈরি মাংস''।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, এটা নিরামিষ প্রোটিন - নাম ইনজোগোগি। এটার আরেক নাম ''মানুষের তৈরি মাংস''। সয়াবিনের তেল উৎপাদনের সময় যে বস্তু তলানি হিসাবে পড়ে থাকে তার থেকে তৈরি করা হয় এই নিরামিষ মাংস। সাধারণত এই তলানি খাওয়ানো হয় শূকরকে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ায় এই বস্তুটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নিরামিষ প্রোটিন।
ইনজোগোগিবাব সস্তায় তৈরি উপাদেয় খাবার

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, ইনেজোগোগি বা নিরামিষ মাংস ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে ইনজোগোগিবাব নামে উপাদেয় খাবার। ভাতের ভেতর নিরামিষ মাংসের পূর দিয়ে লংকার সস বা মাছ থেকে বানানো একটু সস দিয়ে মাখিয়ে খাওয়া হয় ইনজোগোগিবাব। বলা হয় এতে ক্যালরি আছে কম এবং কিন্তু প্রোটিন ও ফাইবার আছে বেশি।
দুবুবাব হল টফু বা সয়াবিন দুধের পাতলা ছানার স্তর ও রাঁধা ভাত ময়দা জাতীয় রুটির মোড়ক।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, ইনজোগোগিবাবের মতই আরেকটি খাবারের নাম 'দুবুবাব'। দুবুবাব হল টফু বা সয়াবিন দুধের পাতলা ছানার স্তর ও রাঁধা ভাত ময়দা জাতীয় রুটি দিয়ে মোড়া। এটি একটি কম খরচে তৈরি সুস্বাদু স্ন্যাক। এই মোড়ক লংকার সস দিয়ে খাওয়া হয়।
মুখরোচক স্ন্যাক - বিস্কিট জাতীয় রুটি - মাঝখানটা নরম ও আঠালো।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, মুখরোচক স্ন্যাক - বিস্কিট জাতীয় রুটি - মাঝখানটা নরম ও আঠালো। এটি বানানো হয় ময়দা, ইস্ট, আর চিনি দিয়ে। চিনি যখন দুষ্পাপ্র হয় তখন চিনির বদলে ব্যবহার করা হয় আঙুর থেকে তৈরি শর্করা। উত্তর কোরিয়ার মানুষ বিভিন্ন ফল থেকে শর্করা তৈরি করে।
উত্তর কোরীয় সসেজ সনডে

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, সনডে নামের এই খাবার কোন আইসক্রিম বা মিষ্টিজাতীয় খাবার নয়। জমাট রক্ত দিয়ে তৈরি একধরনের সসেজ এটি। শূকরের রক্তের সঙ্গে সব্জি আর চাল জাতীয় শস্য মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই সসেজ জাতীয় খাবার। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া দুই অংশেই এটি খাবার চল রয়েছে।
মুখরোচক ও জনপ্রিয় কুংসাতাং।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, কুংসাতাং অনেকটা ভূট্টার দানা থেকে তৈরি পপ কর্ন-এর মত বিন জাতীয় সব্জি থেকে তৈরি লজেন্স। সয়াবিনের দানা ঝলসে নিয়ে তাতে চিনির পলেস্তারা দিয়ে তৈরি করা হয় মুখরোচক ও জনপ্রিয় কুংসাতাং।
চিনি আর ভিনিগার মিশিয়ে তৈরি আলসাতাং।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, চিনি আর ভিনিগার মিশিয়ে তৈরি হয় এই আলসাতাং। প্লাম জাতীয় ফল চিনির রসে ডুবিয়ে যে লজেন্স জাতীয় মিষ্টি তৈরি হয় তারই সস্তা সংস্করণ হল এই আলসাতাং। কুংসাতাং আর আলসাতাং দুটোই উত্তর কোরিয়ায় বাচ্চাদের হাতে দেওয়ার প্রথা রয়েছে বিশেষ উপলক্ষে যেমন দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং-এর জন্মবার্ষিকীতে।