মাঠে ময়দানে

নটিংহ্যামে চলতি আ্যসেজ সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিং নিয়ে যত বিতর্ক হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তার নজির খুবই কম। সেই সাথে নতুন করে বিতর্ক উঠেছে ডিআরএস অর্থাৎ আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের যে ব্যবস্থা তার কার্যকরিতা নিয়ে।
ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের স্পষ্ট কট বাহাইন্ড আম্পায়ার আলিম দারের চোখে না পড়া, ডিআরএসের কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ না করতে পারা, ইংলিশ ওপেনার জনাথন ট্রটকে আম্পায়ার আউট না দিলেও ডিআরএসে সেই সিদ্ধান্ত খারিজ – এরকম বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন অনেকে।
অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়ক ব্রাড হাডিন বলেছেন, ডিআরএসর সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আম্পায়ারদের হাতে তুলে দেওয়া উচিৎ। আর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক আ্যাডাম গিলক্রিস্ট একটি কলামে লিখেছেন, তিনি এখন বুঝতে পারছেন কেন ভারত ডিআরএসের বিরোধিতা করে।

ডিআরএস নিয়ে নতুন করে এই বিতর্ক প্রসঙ্গে আইসিসির আম্পায়ার প্যানেলের নিয়মিত সদস্য এনামুল হক মনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, নটিংহ্যামের টেস্টে জনাথন ট্রটের আউটের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যন্ত্র ব্যাবহার হলেও সেখানেও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। "যন্ত্রের পেছনের মানুষটিরও ভুল হতে পারে।"
ডিআরএসের ক্ষমতা ক্রিকেটারদের হাত থেকে আম্পায়ারদের হাতে তুলে দেওয়ার যে দাবি উঠেছে, মি মনি সেটা সমর্থন করেন। "আম্পায়াররা ক্লিন ক্যাচ নিয়ে থার্ড আম্পায়ারের সাথে পরামর্শ করছে, বাউন্ডারি হওয়া না হওয়া নিয়ে পরামর্শ করছে, আউটের ব্যাপারে তাদের মনে সন্দেহ থাকলে, তা নিয়েও তারা পরামর্শ করতে পারে। সেটা ক্রিকেটের জন্য ভালো হবে। "
নিশ্চিত আউট জেনেও, কেন স্টুয়ার্ট ব্রড নিজ থেকেই চলে গেলেন না, তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।
এনামুল হক মনি এ প্রসঙ্গে বলেন, এটা ক্রিকেটারদের ব্যাক্তিগত মূল্যবোধের বিষয়। "ক্রিকেটে দিন দিন এই মূল্যবোধ কমে যাচ্ছে। ক্রিকেটাররা অনেক বেশি পেশাদারি হয়ে উঠছেন। ব্যক্তিগত রেকর্ড, দলকে জেতানো এগেুলো এখন অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।"
প্রিমিয়ারশীপে মুসলিম ফুটবলার
বিশ বছর আগে যখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল চালু হয়েছিল তখন পুরো লীগে একজন মুসলিম ফুটবলার ছিলেন, নাইম নামে টটেনহ্যামের একজন মিডফিল্ডার। গত মৌসুমে প্রিমিয়ারশীপে মুসলিম ফুটবলারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চল্লিশে। তাদের অনেকেই প্রিমিয়ার লীগের সুপার স্টার। যেমন চেলসির ডেমবা বা, ম্যানচেষ্টার সিটির ইয়াইয়া তোরে, সামির নাসরি, এভার্টনের মারওয়ার ফেলাইনি বা আর্সেনালের আবু দিয়াবি।

আর এসব মুসলিম ফুটবলারের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইংলিশ ফুটবলে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলের অন্যতম তারকা, চেলসির ফরোয়ার্ড ডেমবা বা গোল করলেই প্রথমে মাঠে সেজদা দেন। ধর্মপ্রাণ এই মুসলিম খোলাখুলি বলেন, বলছিলেন, ফুটবলের চেয়ে তার ধর্ম তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইংলিশ ফুটবল ফ্যানরা জানেন তাদের অনেক প্রিয় ফুটবলার মুসলিম এবং তারা নামাজ রোজা করেন। ক্লাবগুলোও এই বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।
লিভারপুলের টিম ডক্টর জাফর ইকবাল, যিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম, বিবিসিকে জানান ক্লাবের ক্যান্টিনে এখন সব মুরগির মাংস হালাল। অমুসিলমরাও তা মেনে নিচ্ছেন।
তারপরেও রোজার মত কিছু ব্যাপারে, বিশেষ করে ম্যাচের সময় বা আগে ফুটবলারদের রোজা রাখা নিয়ে ম্যানেজার-কোচদের আপত্তি উদ্বেগ রয়েছে।
আর্সেনালের আবু দিয়াবি বিবিসিকে বলেন, "আর্সেনাল চায়না আমি রোজা রাখি, কিন্তু তারা বুঝতে পারে, রমজান আমার কাছে একটা বিশেষ মূহুর্ত। আমার ইচ্ছার সাথে তারা খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে।"
চেলসির ডেমবা বাও স্বিকার করলেন, রোজা রাখা নিয়ে ম্যানেজারদের সাথে একটা টানাপোড়েন চলেই। "যখনই ম্যানেজাররা রোজা রাখা নিয়ে আপত্তি তোলেন, আমি তাদের সরাসরি বলি, দেখ আমি রোজা রাখবো। তারপরও যদি আমার পারফরমেন্স ভালো, আমাকে খেলতে দিও। যদি মনে করা ভালো হচ্ছেনা, বেঞ্চে বসিয়ে রেখ"
ডেমবা বা গত মৌসুমে নিউ ক্যাসেল ছেড়ে চেলসিতে গেছেন। তবে নিউ ক্যাসেলের পার্কের ফুটবলে অনেক বাচ্চা গোল করার পর তার মত করে হাঁটু গেড়ে মাঠে মাথা ঠেকায়। হয়তো বা না বুঝেই।
বোঝা যায়, মুসলমানদের ধর্মীয় আচার, সংস্কৃতি ইংলিশ ফুটবলে জায়গা করে নিচ্ছে।