বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় থাকার জন্য ধন্যবাদ
বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা তথ্য সরাসরি জানাতে বিবিসি বাংলার লাইভ পাতা এখানেই শেষ হলো।
আরও তথ্য জানতে বিবিসি বাংলার মূল পাতা ভিজিট করুন।
সবাইকে সঙ্গে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
কম ভোটারের উপস্থিতি ও নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর বেশিরভাগ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তবে একে 'ডামি নির্বাচন' বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা তথ্য সরাসরি জানাতে বিবিসি বাংলার লাইভ পাতা এখানেই শেষ হলো।
আরও তথ্য জানতে বিবিসি বাংলার মূল পাতা ভিজিট করুন।
সবাইকে সঙ্গে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য আওয়ামী লীগ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ''এটা আমার বিজয় নয়, এটা জনগণের বিজয়। কারণ জনগণের যে অধিকার আছে, সরকার গঠন করার ক্ষমতা আছে, জনগণ ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার মাধ্যমে সেটি নিশ্চিত হয়েছে। জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।''ৎ
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পরেরদিন বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকের নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে বাংলাদেশকে একটি সক্রিয় গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে বিবেচনা করা যায় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ''সব দলের তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে। কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না চায় তার মানে এটা নয় যে গণতন্ত্র নেই। মানুষ নির্বাচনে অংশ নিল কিনা সেটার ওপর নির্ভর করে যে গণতন্ত্র কী।''
''তারা কী করছে, আগুন দিয়ে মানুষ মারছে। ট্রেনে আগুন। এটা কী গণতন্ত্র? আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জনগণকে হত্যা করা সন্ত্রাসী কার্যক্রম। দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করা উচিত নয়। জনগণ সেটা পছন্দমত করে না। আমরা আমাদের ধৈর্য ধারণ করেছি। তারা মানুষকে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া ঠেকাতে চেয়েছে। কিন্তু তারা সেটা পারেনি। কারণ মানুষ সচেতন।''
''গণতন্ত্রের আর কোন সংজ্ঞা আছে কিনা জানি না, যদি জনগণ অংশগ্রহণ করে তাহলে সেটিই মূল বিষয়। তারা নির্বাচন প্রতিহত করতে গিয়ে পারে নি।'' তিনি বলেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিরোধী দল নেই। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে তো বিরোধী দল থাকতে হবে। এ বিষয়ে শেষ হাসিনার মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ''আমি বিরোধীদল ছিলাম দীর্ঘদিন ধরে। আমি রাজনৈতিক পরিবারে থাকায় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম। আমাদের দলকে আমরা সংগঠিত করেছি। বিরোধী দলকে তাদের নিজেদের সংগঠিত করতে হবে। আপনি আমাকে বিরোধী দল পছন্দ করতে বলতে পারেন না। অবশ্য আপনি চাইলে আমরা সেটা করতে পারি।কিন্তু সেটা আসলে বিরোধীদল হবে না।''
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় দলটির সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আরও আটটি দেশের রাষ্ট্রদূত অভিনন্দন জানিয়েছেন।
দেশগুলো হচ্ছে: পাকিস্তান, নেপাল, ব্রাজিল, মরক্কো, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, ভুটান এবং ফিলিপিন্স।
সোমবার সকালে গণভবনে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে নিজ নিজ দেশের ‘অভিনন্দন বার্তা’ পৌঁছে দেন তারা।
এরআগে, চীন, রাশিয়া এবং ভারতও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে অভিনন্দন জানান।

ছবির উৎস, PID
সাতই জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত কানাডা হাইকমিশন।
তারা বলছেন,পর্যবেক্ষক হিসেবে চিহ্নিত কানাডার দু’জন নাগরিক স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। কাজেই নির্বাচন নিয়ে তাদের দেওয়া মতামতের সাথে কানাডা সরকারের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।
উল্লেখ্য যে, রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের একটি দল।
এতে চন্দ্রকান্ত আর্য ও ভিক্টর ওহ নামে কানাডার দু'জন নাগরিক অংশ নেন। তখন “ভোট সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে” বলে সাংবাদিকদের জানান মি. চন্দ্রকান্ত।
তার এই মন্তব্য যে কানাডা সরকারের বক্তব্য নয়, ফেসবুক পোস্টে সেটাই নিশ্চিত করলো কানাডা হাইকমিশন।


সাতই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি এবং অনিয়মের জন্য সরকারকে ভবিষ্যতে মাশুল দিতে হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
তিনি বলেন, “কিছু কেন্দ্রে আমাদের সম্ভাবনা ছিলো এবং এখান থেকে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী বেরিয়ে আসতো। কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ) ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাড়ি-ঘর ঘেরাও করে বলছে, ‘লিখে দাও যে তোমরা আর নির্বাচন করছো না’। এরকম করে তাদেরকে (জাপা প্রার্থীদের) হুমকি দেয়া হচ্ছে।”
“এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজকে থেকে একটা নতুন ডাইমেনশন দেখা গেল।ভবিষ্যতে এটার জন্য সরকারকে মাশুল দিতে হবে বলে আমার বিশ্বাস।”
নির্বাচনের পরদিন কোন বিষয়গুলো আলোচনায় আছে? অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি তাদের প্রতিক্রিয়ায় কী বলছে? নৌকা মার্কার প্রার্থীদের মধ্যে কারা হেরেছেন? আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই নির্বাচন নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে?
বিবিসি সংবাদদাতা আকবর হোসেন জানাচ্ছেন নির্বাচনের পরদিন বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে।
নতুন সরকার গঠনের পর সংসদে বিরোধী দল কারা হবে, সে বিষয়ে ‘লিডার অব দি হাউজ’ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আজ দুপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয় যে সংসদে বিরোধী দল কারা হবেন।
জবাবে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টির অনেকেই জিতেছেন। ১৪ দলেরও দু’জন জিতেছেন। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় দূরে নয়।”
“অর্থাৎ নতুন প্রধানমন্ত্রী, নতুন লিডার অব দি হাউজ পরিস্থিতির বিচারে কি করণীয়, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন।”


ছবির উৎস, bbc
দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে ভারতের জাতীয় স্তরের সব ইংরেজি দৈনিকেই বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার বিপুল জয়ের খবরআজ (৮ জানুয়ারি)প্রথম পাতায় বেশ গুরুত্ব দিয়েই ছাপা হয়েছে।
‘দ্য হিন্দু’ যেমন বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর বরাত দিয়ে লিখেছে ''Bangladesh : Hasina to return as PM as her party sweeps polls" .. অর্থাৎ কিনা আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের মধ্যে দিয়ে হাসিনা আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরে আসছেন। ভোটে যে ‘বিচ্ছিন্নভাবে’ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের শরিকরা নির্বাচন বয়কট করেছে, রিপোর্টের প্রথম প্যারাগ্রাফেই সেটাও জানানো হয়েছে।
‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’তে বাংলাদেশ নির্বাচনের খবর পেয়েছে প্রথম পাতার ‘শোল্ডারে’। বাঁ দিকের কোণায় শেখ হাসিনার একটি ছবি দিয়ে তারা লিখেছে : 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে একটানা চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করলেন শেখ হাসিনা, কারণ আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টের ৩০০ আসনের মধ্যে ২০০টিতে জয় পেয়েছে।'তবে ভোট প্রদানের হার ছিল কম – এবং মূল বিরোধী দল বিএনপি ভোট বয়কট করেছে, সেটাও তারা জানাতে ভোলেনি।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ও প্রথম পাতাতেই ঢাকার পোলিং বুথে শেখ হাসিনার ভোট দানের একটি ছবি দিয়ে লিখেছে,'Hasina Wins4thStraight Term'...অর্থাৎএকটানা চতুর্থবারের জন্য জিতলেন শেখ হাসিনা। ভেতরে বিস্তারিত খবরে তারা অবশ্য শিরোনামে এটাও উল্লেখ করেছে, ২০১৮তে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়লেও এবারে কিন্তু ‘ভোটার টার্নআউট ছিল ৪০ শতাংশের মতো’।
দ্য হিন্দুস্থান টাইমসে প্রথম পাতায় এই খবরটি না-থাকলেও ভেতরে ১২-র পাতায় তারা বেশ ফলাও করে বাংলাদেশ নির্বাচনের খবর দিয়েছে। তাদের শিরোনাম হল "B'desh PM set for 5thterm after Oppn boycotts election" ...মানে বিরোধীরা নির্বাচন বয়কট করার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পঞ্চম মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে চলেছেন। কুমিল্লার একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের ছবিও তারা সঙ্গে ছেপেছে।
অর্থনীতি-বিষয়ক দৈনিক ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’ আবার শিরোনাম করেছে ''Just 40% Voting in B'desh Parl Polls"- অর্থাৎ কি না তারা জানাচ্ছে বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে ভোট পড়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। শেখ হাসিনার একটি ছবি দিয়ে তারা অবশ্য এটাও জানিয়েছে – তিনিই আবার ক্ষমতায় ফিরছেন!


সাতই জানুয়ারি নির্বাচনে সারা দেশে ৪১.৮% ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।
ভোটগ্রহণের পর থেকেই নির্বাচনে ভোটের হার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। ভোটের দিন দুপুর তিনটা পর্যন্ত ২৭ থেকে ২৮ শতাংশ ভোট পড়লেও বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় নির্বাচন কমিশনার ধারনা প্রকাশ করেন যে ৪০ শতাংশের মত ভোট পড়েছে।
আজ দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট প্রদানের হার জানিয়েছেন মি. আউয়াল। সব গণনা ও হিসেব শেষে নির্বাচনে ৪১.৮% ভোট পড়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন তিনি।
তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে কারো সন্দেহ বা দ্বিধা থাকলে ‘চ্যালেঞ্জ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
“যদি মনে করেন এটাকে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তাহলে সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে আমাদের অসততা – যদি মনে করেন – সেটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।”
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় দলের সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশে দায়িত্বে থাকা রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ও ভারতের হাইকমিশনার।
সোমবার সকালে গণভবনে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেন্তিয়েভিচ মান্টিটাস্কি ও ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

ছবির উৎস, PID

ছবির উৎস, PID

ছবির উৎস, Embassy of the People's Republic of China in the People's Republic of Bangladesh
নির্বাচনে জয় লাভ করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। আজ সকালে গণভবনে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে এই অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেন ইয়াও ওয়েন।
চীনের নেতাদের পক্ষে থেকে 'উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা'র বার্তা শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
শেখ হাসিনার সাথে আলোচনার সময় রাষ্ট্রদূত মি. ওয়েন শেখ হাসিনাকে আশ্বাস দেন যে বাংলাদেশের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে চীন সবসময় সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী ও বাংলাদেশের নির্ভরযেগ্য বন্ধু হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

ছবির উৎস, Embassy of the People's Republic of China in the People's Republic of Bangladesh

ছবির উৎস, BNP Media Cell
সাতই জানুয়ারি হয়ে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জালিয়াতি ও কারচুপির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে মইন খান অভিযোগ তোলেন যে ‘সরকার ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।’
“আওয়ামী লীগ ডামি প্রার্থী, ডামি ভোটারের পর ডামি পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করেছে।....নতুন নির্বাচিত সরকারকে বাংলাদেশের হাস্যরসপ্রিয় মানুষ অব দ্য ডামি, ফর দ্য ডামি, বাই দ্য ডামি বলবে।”
সম্মেলনে তিনি অভিযোগ তোলেন যে ভোট প্রদানের হার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দাবি অসত্য। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নির্বাচনের প্রতিবাদে আগামীকাল ও পরশু বিএনপি অসহযোগ অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষণা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। পরবর্তী কর্মসূচী এরপর জানানো হবে বলে জানান মি. খান।
নির্বাচনের মাধ্যমে ‘জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে’ সরকার গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এবারের নির্বাচনে সেরকম হয়নি বলে মনে করেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার। নির্বাচনকে ঘিরে বিবিসি বাংলার সাথে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলছিলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে যে সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়ার কথা – জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে একটা সরকার গঠিত হবে এবং তারা জনগণের কল্যাণে পরবর্তী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করবে – সেই সুযোগটা সৃষ্টি হল না।”
“আবারও একটা বিতর্কিত নির্বাচন হল, আবারও বহু ব্যক্তি তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হল।”
নির্বাচন কমিশন যদিও বলছে যে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে, এই দাবি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন মি. মজুমদার।
“আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে যা শুনেছি, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে যা দেখেছি – তাতে ২৮ শতাংশ ভোটও মনে হয়না মাঠের বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।”
তার মতে, নির্বাচন কমিশন তাদের কিছু কাজের জন্য নিজেদের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ’ করেছে।

এবারের নির্বাচনে শিল্প, বিনোদন, ক্রীড়াঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকা প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা থেকে নির্বাচন করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা দ্বিতীয়বারের মত নড়াইল থেকে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে।
অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর নীলফামারী থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে। ২০০১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সাংসদ থাকা এই অভিনেতা এ নিয়ে পঞ্চমবারের মত নির্বাচিত হলেন।
মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সঙ্গীতশিল্পী মমতাজ বেগম হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে। বেসরকারি হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদের কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনবার সংসদ সদস্য থাকা মমতাজ বেগম।
চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ ঢাকার একটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন এবং জিতেছেন। তবে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি রাজশাহী থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরেছেন।

নির্বাচন ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠানে আলোচনার সময় সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান মন্তব্য করেছেন যে নির্বাচনে বিরোধী দল বাইরে থাকার কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সীমিত গণতন্ত্র, উন্নয়নের গণতন্ত্র’ নামগুলো ছড়িয়ে পড়বে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গণতন্ত্রের নামে একটা কর্তৃত্ববাদী হাইব্রিড শাসন চলছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই এটা হচ্ছে।’
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘ডামি প্রার্থী’ মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি ‘পলিটিকাল সাইন্সের ইতিহাসে গবেষণার বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই সচিব।
“আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র এই নীতিকে সমর্থন করে না, তবুও এটি হয়েছে। এটি পুরোপুরি সিট অ্যাডজাস্টমেন্ট।”
নতুন ধরনের এই গণতন্ত্র, যেটিকে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ‘নব গণতন্ত্র’ বলা হচ্ছে, সেই পদ্ধতি কেমন হবে তা ‘দেখার জন্য অপেক্সা করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন মি. খান।

সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া হিসেব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ২৪৬টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছে ১৮৫টি আসনে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছে ৫১টি আসনে।
জাতীয় পার্টি জয়ী হয়েছে ১০টি আসনে।
নির্বাচনের ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪

ভোটগ্রহণের পর গতকাল সারারাতই ভোট গণনা আর ফলাফল প্রকাশের কাজ চলেছে। ভোট গ্রহণের পর প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রেই ভোট গণনা করা হয়। তারপর সেই ফল উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়।
এরপর জেলা পর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের কাজটি করেন।
চূড়ান্তভাবে ভোট গণনার পর ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন কর্মকর্তারা। সারারাতই কিছুক্ষণ পর পর সবশেষ ফলাফল জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফলাফলের খবর প্রচার করতে কার্যালয়ে সাররাতই সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল।

সকাল আটটা পর্যন্ত পাওয়া আনুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী:
আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছে – ১৪৯টি আসনে
স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছে – ৪১টি আসনে
জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হয়েছে – ৮টি আসনে

সবশেষ ফলাফল জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার নির্বাচনি ফলাফলের লাইভ পেইজে।