ইসরায়েল আর হামাসের লড়াইয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১৮০০, আহত কয়েক হাজার মানুষ

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। গাজায় বিদ্যুৎ, খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার পর সেখানকার পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সেখানকার সর্বশেষ খবর জানাতে বিবিসি বাংলার লাইভ আয়োজন।

সরাসরি কভারেজ

  1. ইসরায়েল ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে

    ফিলিস্তিনি গাজান শহরের বিধ্বস্ত একটি ভবন

    ছবির উৎস, Getty Images

    ·ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছেন সৌদি আরবের অঘোষিত শাসক - ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

    ·হামাসের গণহত্যার চালানোর পেছনে ইসরায়েল দায়ী বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি। তিনি বলেছেন: "যারা ইহুদিবাদী শাসকদের উপর হামলার পরিকল্পনা করেছে আমরা তাদের হাতে চুম্বন করি।" তবে তিনি হামাস যোদ্ধাদের হামলার পেছন ইরানের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

    ·ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ব্লিঙ্কেন বলেছেন "সব জিম্মিদের মুক্তি অবিলম্বে নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।"

    ·ফিলিস্তিনি মৃতের সংখ্যা ৭৫০ ছাড়িয়েছে, আহত চার হাজারের বেশি, জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পশ্চিম তীরে সংঘর্ষে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত।

    ·ইসরায়েলি মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস এই তথ্য জানিয়েছে।

    ·ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী- আইডিএফ বলছে, ইসরায়েলে এবং গাজা উপত্যকার আশপাশে দেড় হাজার হামাস যোদ্ধার লাশ পাওয়া গেছে।

    ·জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেছেন, ইসরায়েল থেকে অপহরণের পর গাজায় "১০০ থেকে দেড়শ জনকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।”

    ·সোমবার সন্ধ্যায়, হামাস হুঁশিয়ারি দেয় যে যদি ইসরায়েল কোন সতর্কতা ছাড়া বিমান হামলা চালিয়ে যায় তাহলে তারা ইসরায়েল থেকে আটক করা জিম্মিদের হত্যা করবে। তাদের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমা নেতারা।

    ·যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিম্মিদের নিয়ে আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়েছে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ।

    ·রাতভর হামাসের অন্তত ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ৩৫টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে।

    ·গাজা উপত্যকা জুড়ে এক লাখ ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে – এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ৮৩টি স্কুলে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫শ মানুষকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

    · ইউনিসেফ গাজার ভেতরে এবং বাইরে একটি মানবিক করিডোর স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ ইসরায়েল জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে গাজার হাসপাতালগুলো।

    ·গাজার জ্বালানি কয়েক দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে, এতে বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে গাজা উপত্যকা - জাতিসংঘ

    ·ইসরায়েলি বোমা হামলার কারণে মিশরের রাফাহ ক্রসিং বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এটাই অবরুদ্ধ গাজা থেকে মানুষের বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ। এছাড়া ইসরায়েলও গাজার সঙ্গে তাদের সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে।

    ·ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এমন উদ্বেগের কারণে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে।

  2. ব্রেকিং, হামাসের হুঁশিয়ারির পর আশকেলন শহরে বিস্ফোরণ

    ইসরায়েলের দক্ষিণের শহর আশকেলন থেকে বাসিন্দাদের স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার মধ্যে সরে যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হামাস। কারণ সেখানে হামলা করা হবে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছে।

    ওই সময়সীমা পার হওয়ার পর জানা যাচ্ছে, আশকেলন শহর থেকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

  3. ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৭৫০ ছাড়িয়েছে, আহত চার হাজারের বেশি

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা গিয়েছে যে, যা হামাস পরিচালিত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

    আহত হয়েছেন চার হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

  4. ইসরায়েলি মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে

    শনিবার থেকে অন্তত এক হাজার আট জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস এই তথ্য জানিয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দূতাবাস বলেছে, হামলায় তিন হাজার ৪১৮ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

  5. মানচিত্রে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত পরিস্থিতি

    আইডিএফের অভিযান
    গাজা
    ফিলিস্তিনি বসতি
    যেখানে প্রথম হামলা হয়েছিল
  6. হামাস: যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা জিম্মিদের নিয়ে আলোচনা করব না

    হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ বলেছেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা জিম্মিদের নিয়ে ইসরায়েলের সাথে কোন আলোচনা করবে না।

    "যারা শত্রুপক্ষের বন্দীদের বিষয়ে জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে তাদেরসহ সব পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনা হবে না," তিনি বলেন।

    তারা শুধুমাত্র এই শর্তে আলোচনায় যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইসরায়েল ধারণা করছে যে শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েল থেকে অপহৃত হওয়া ১০০ থেকে ১৫০ জনকে হামাস বন্দি করে রেখেছে।

  7. বিমান হামলা নিয়ে এক মায়ের আতঙ্ক

    গাজা উপত্যকায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানোর সময়, এক মা তার সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করছিলেন।

    অক্সফামের জন্য কাজ করা নাজলা শাওয়া বিবিসিকে বলেন, তিনি ভাবতেন তিনি গাজার একটি "নিরাপদ" অঞ্চলে আছেন।

    "মানুষ পালিয়ে আমাদের বাড়িতে আসতো এবং গতকাল দুপুর থেকে আমাদের সাথে ১৮ জন ছিল," তিনি বলেন।

    কিন্তু রাত ১টার দিকে লোকজনের চিৎকারে তার ঘুম ভেঙে যায়। কারণ সবাই ওই এলাকা ছেড়ে পালাতে শুরু করে

    “আপনি সেই আতঙ্কের বিষয়টি হয়তো বুঝতে পারছেন - বাড়িতে ছয়টি শিশু রয়েছে, বিভিন্ন পরিবারের মোট ২০ জন সদস্য, আমাদের গাড়িতে যাচ্ছে এবং গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছে।”

    রাতে আমরা একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেই, নাজলা বলেন যে তিনি বাড়ি ফিরে দেখেন যে তাদের পুরো ভবনটি মাটিতে মিশে গিয়েছে এবং জানালা ভেঙে গেছে।

    “বাচ্চাদের নিয়ে এমন আতঙ্কের মধ্যে জেগে উঠা - আমি মনে করি না এই মুহূর্তগুলি আমি আমার জীবনে কখনও ভুলব।"

    এমন আতঙ্কের মধ্যে [আমার সন্তানদের] জেগে উঠা - আমি মনে হয় না এই মুহূর্তগুলোর কথা আমি আমার জীবনে কখনও ভুলতে পারবো।"

    গাজা শহরে ইসরায়েলি হামলায় বাড়িঘর ও ভবন ধ্বংস হয়ে যায়।

    ছবির উৎস, Reuters

    ছবির ক্যাপশান, গাজা শহরে ইসরায়েলি হামলায় বাড়িঘর ও ভবন ধ্বংস হয়ে যায়।
  8. হামাসের হামলায় নিহত ১৮ থাই নাগরিক

    থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের ওপর হামাসের গণ হামলায় নিহত থাই নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়া আরও ১১ থাই নাগরিককে হামাস জঙ্গিরা অপহরণ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা জিম্মি থাই নাগরিকদের মুক্তির জন্য ইসরায়েলকে সহায়তা করার কথা বলছে।

  9. গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৭০, ইসরায়েলে দুই ফরাসি নাগরিক নিহত

    ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ইসরায়েল পাল্টা বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে গাজা উপত্যকায় এখন পর্যন্ত ৭৭০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে প্রায় চার হাজার একশ জন।

    ইসরায়েলে আরও দুই ফরাসি নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।

    হামাসের হামলায় নিহত ফরাসি নাগরিকের সংখ্যা চারজনে দাঁড়িয়েছে।

    ফরাসি কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে যে তাদের কাছে ১৩ ফরাসি নাগরিকের কোন খবর নেই। "তাদের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন অপহরণের শিকার হতে পারেন"।

    এদিকে, ইসরায়েল কোনো সতর্কতা ছাড়া বিমান হামলা চালালে জিম্মিদের হত্যার করা হবে বলে হামাস যে হুমকি দিয়েছে, তার নিন্দা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

    "হামাস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর এখন ব্ল্যাকমেইল করছে যা জঘন্য এবং অগ্রহণযোগ্য," তিনি বলেন।

  10. ইসরায়েলি বোমা হামলার কারণে মিশরের রাফাহ ক্রসিং বন্ধ

    গাজার অবরুদ্ধ অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ মিশরের রাফাহ সীমানা।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই এলাকায় ইসরায়েলি বিমান চালানোয় মিশর ওই সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে।

    উল্লেখ্য যে, রাফাহ সীমানা খোলা থাকলেও, সেটি পার হওয়ার হওয়ার জন্য গাজাবাসীকে তাদের নাম তালিকাভুক্ত করতে হয়।

    সাম্প্রতিক হামলার কারণে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা আটকা পড়েছেন এই মানুষেরা।

    আজ সকালেও এই সিমানা খোলা ছিল- তবে ওই সীমানা দিয়ে শুধু তারাই পার হতে পেরেছে যাদের নাম সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগেই তালিকাভুক্ত ছিল।

    গাজা থেকে মিশরে প্রবেশ করতে হলে অন্তত দুই দিন আগে তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে একটি তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করতে হয়।

    তাই অনুমোদন নেই এমন কেউ এই সীমানা পার করতে পারছেন না, পারাপারের বিষয়ে ফেসবুক পেজে আজ বেশ কয়েকটি পোস্টে এসব তথ্য স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

    যেহেতু গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সব সরকারি ভবন বর্তমানে বন্ধ বা ধ্বংস হয়ে গেছে, তাই বর্তমানে নতুন করে কাউকে তালিকায় যুক্ত করা যাচ্ছে না।

  11. ফিলিস্তিনিদের প্রতি সৌদি সমর্থনের কথা জানিয়েছে প্রিন্স মোহাম্মদ, সামির হাশমি মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা, দুবাই

    মোহাম্মদ বিন সালমান, গত মাসে তোলা ছবি

    ছবির উৎস, Reuters

    ছবির ক্যাপশান, মোহাম্মদ বিন সালমান, গত মাসে তোলা ছবি

    সৌদি আরবের অঘোষিত শাসক - যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান - ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাথে ফোনে কথা বলেছেন।

    যুবরাজ মোহাম্মদ বলেছেন যে, তার দেশ "ফিলিস্তিনি জনগণের একটি স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার রক্ষা, তাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য সবসময় তাদের পাশে থাকবে।," সরকারি সৌদি প্রেস এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।

    তিনি মাহমুদ আব্বাসকে আরও বলেছেন যে, তিনি সংঘর্ষের "বিস্তৃতি" রোধ করতে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক পক্ষের সাথে কাজ করেছে।

    এটা মনে রাখা দরকার যে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং হামাস, যারা গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করে, তারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।

    মি. আব্বাস পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণকারী ফাতাহ আন্দোলনের প্রধান। তিনি প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) প্রধান হিসেবেও দায়িত্বরত।

    তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

    রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ইসরাইল, সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে এটি সৌদি আরবের ভিন্নমুখী অবস্থান।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ওই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় একটি বড় ধরণের আঘাত।

    হামাসের হামলার পর শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি আরব এই উত্তেজনার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

    তারা জানিয়েছে যে এটি " ফিলিস্তিনে অব্যাহত দখলদারিত্ব, সেখানকার মানুষদের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং এর তাদের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর বারবার আঘাতের কারণে সেখানকার পরিস্থিতি বিস্ফোরণমুখী হয়ে উঠতে পারে সে ব্যাপারে বার বার সতর্ক করা হয়েছে।”

  12. ইসরায়েল ও গাজার অবস্থান

    ইসরায়েল ও গাজার অবস্থান
  13. বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে গাজার হাসপাতালগুলো

    ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে উভয় পক্ষেরই বহু মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গাজা উপত্যকায় ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৩শ মানুষ।

    গাজায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে হাসপাতালগুলোয় সেবা দিয়ে যাওয়া বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বলছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    সেইসাথে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে যে তারা গাজা উপত্যকা জুড়ে ৬৪টি স্কুলে ৭৩ হাজার ৫৩৮ জন বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিচ্ছে।

    গাজার একটি হাসপাতাল (ফাইল ছবি)

    ছবির উৎস, Reuters

    ছবির ক্যাপশান, গাজার একটি হাসপাতাল (ফাইল ছবি)
  14. সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে

    সাম্প্রতিক সংঘাতময় পরিস্থিতিতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এমন উদ্বেগের কারণে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে।

    মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের মতে, তেলের দাম চার শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৬ ডলারে ঠেকতে পারে।

    ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন কোন তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল নয়। তবে বিশ্বব্যাপী যতো তেল সরবরাহ হয় তারমধ্যে এক তৃতীয়াংশ হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

  15. গাজার জ্বালানি কয়েক দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে - জাতিসংঘ

    গাজার একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জ্বালানি কয়েক দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে, রবিবার রাতে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ

    বিদ্যুতের অভাবে গাজা উপত্যকা অন্ধকারে ডুবে গেলে অনেকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।- গাজা উপত্যকায় প্রায় ২৩ লাখ মানুষ বসবাস করে।

    বিদ্যুৎ সরবারাহের ক্ষেত্রে গাজা ইসরায়েলের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

    স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সাধারণত তারা ইসরায়েল থেকে প্রতিদিন ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় করে। এবং তাদের একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আরও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদেশের পর, রবিবার গাজায় সব ধরণের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল।

    সাম্প্রতিক ঘটনায় এর আগেও গাজাবাসী বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছিল।

    ইসরাইল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করলে গাজার অধিকাংশ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাবে।

    ছবির উৎস, Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, ইসরাইল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করলে গাজার অধিকাংশ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাবে।
  16. হামাস কারা এবং গাজায় কী ঘটছে?

    হামাস কারা

    হামাস হল একটি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী যা ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকায় শাসন করে আসছে।

    গাজা উপত্যকা

    গাজা উপত্যকা হল ৪১ কিলোমিটার বা ২৫ মাইল দীর্ঘ এবং ১০ কিলোমিটার প্রস্থের একটি অঞ্চল যা ইসরায়েল, মিশর এবং ভূমধ্যসাগর দ্বারা বেষ্টিত। এখানে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ বসবাস করে।

    কেন ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধ করছে?

    কয়েক বছর ধরে চলমান উত্তেজনা এবং গাজায় একটি শাস্তিমূলক অবরোধের জেরে, হামাস শনিবার ইসরায়েলের দিকে হাজার হাজার রকেট নিক্ষেপ করে।

    এবং তাদের বড় সংখ্যক যোদ্ধা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়।

    হামাস ১৯৮৮ সালে প্রথম ফিলিস্তিনি বিদ্রোহের সময় গঠিত হয়েছিল।

    ছবির উৎস, ANADOLU AGENCY

    ছবির ক্যাপশান, হামাস ১৯৮৮ সালে প্রথম ফিলিস্তিনি বিদ্রোহের সময় গঠিত হয়েছিল।
  17. হামাসের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইসরাইলের হামলা

    ইসরায়েলি বিমান বাহিনী জানিয়েছে যে, তারা রাতভর হামাসের অন্তত ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তারা মঙ্গলবারও তারা এই হামলা অব্যহত রেখেছে।

    ইসরায়েলের বিমান বাহিনী-আইএএফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান রিমাল এবং খান ইউনিস এলাকায় হামলা চালিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।

    সেখানকার একটি মসজিদের ভিতরে অস্ত্রের গুদাম এবং কথিত হামাস কমান্ডারের বাড়ি ছিল বলে দাবি করেছে আইএএফ।

    এদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীও (আইডিএফ) বলেছে যে, ওই মসজিদটি ছিল জাবালিয়া অঞ্চলে। এই মসজিদকে "অপারেশনাল অ্যাসেট" হিসেবে ব্যবহার করত হামাস।

    হামাসের নৌবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তা মুহাম্মদ কাশতার সাথে যুক্ত একটি ভবনও লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বলে আইডিএফ জানিয়েছে।

    গাজায় বিমান হামলা
    ছবির ক্যাপশান, গাজায় বিমান হামলা
  18. গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বিকল্প খুবই সীমিত, রুশদি আবু আলুফ বিবিসি নিউজ, গাজা সিটি

    মিশরের সাথে গাজার সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে দিনে মাত্র ৪০০ জনকে যাওয়া আসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে – এই অনুমোদন পেতে অপেক্ষমান গাজাবাসীর তালিকা খালি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

    সাধারণ মানুষের জন্য গাজা থেকে বেরিয়ে আসার সহজ কোন পথ নেই, অনেক বছর ধরেই। বিশেষ করে যখন থেকে ইসরায়েল পাল্টা হামলা শুরু করে, এতে গাজাবাসীর চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

    এখানকার মানুষের জন্য একমাত্র বিকল্প হচ্ছে জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুল। জাতিসংঘ বলেছে যে এই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় ইতিমধ্যে এতো মানুষকে ঠাঁই দেয়া হয়েছে যে তাদের মোট ধারণক্ষমতার ৯০ শতাংশ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।

    এখন তারা আর নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় দিতে পারছে না।

    তাই মানুষের পালিয়ে যাওয়াও খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ তাদের বাড়ির নীচতলায় বা বেসমেন্টে আশ্রয় নিচ্ছেন, কিন্তু ওই ভবনে যদি হামলা হয় তাহলে ভবনটি তাদের উপর ধসে পড়ে তারা আটকা পড়বেন।

    এরিমধ্যে গাজাবাসী স্থানীয় গণমাধ্যমকে ফোন করে সাহায্যের আবেদন করছে। গত রাতে প্রায় ৩০টি পরিবার একটি বেসমেন্টে আটকা পড়েছিল।

    গাজার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা আছে খুব সীমিত।

    গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা

    ছবির উৎস, EPA

    ছবির ক্যাপশান, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা
  19. ইসরায়েলের আয়রন ডোম ব্যবস্থা যেভাবে কাজ করে

    আয়রন ডোম
  20. ইসরায়েলের গোয়েন্দারা কেন আগে থেকে হামলার কোনো ইঙ্গিত পায়নি?

    হামাসের হামলা সম্পর্কে ইসরায়েলি কোন গোয়েন্দা সংস্থাই আগে তথ্য জানতে পারেনি।

    ছবির উৎস, Reuters

    ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাকে বলা হয় মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিস্তৃত গোয়েন্দা সংস্থা। একইসাথে ঐ অঞ্চলের যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নও সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হয়।

    ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভেতরেও তাদের গোয়েন্দা আছে। এছাড়া লেবানন, সিরিয়া সহ অন্যান্য অনেক দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যেও তাদের গোয়েন্দা রয়েছে।

    অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতাদের গুপ্ত ঘাতকের সাহায্যে হত্যা করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব নেতাদের কার্যক্রম আগে থেকে জেনে পদক্ষেপ নিতো ইসরায়েলি গোয়েন্দারা।

    হামাস যোদ্ধারা যেভাবে বেড়া কেটে, সমুদ্রপথে বা প্যারাগ্লাইডারের সাহায্যে যেভাবে ইসরায়েলের সীমানার ভেতরে প্রবেশ করেছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

    ইসরায়েলের ঘরোয়া গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত, গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী মিলে আগে থেকে এই হামলার কোনো ধারণাই পায়নি। এই বিষয়টিকেই অত্যাশ্চর্য মনে করা হচ্ছে।

    এ নিয়ে বিবিসির ফাঙ্ক গার্ডনারের প্রতিবেদনটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন