উইন্ডসরে সমাহিত করা হয়েছে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে

রানি এলিজাবেথকে উইন্ডসর প্রাসাদের সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলের কাছে রাজকীয় সমাধিকক্ষে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে উইন্ডসরে নেয়ার পথে হাজার হাজার মানুষ তাকে শেষ বিদায় জানাতে রাস্তার দুপাশে ভিড় করেন।

সরাসরি কভারেজ

  1. রানিকে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উইন্ডসরের সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলের কাছে তার স্বামী ডিউক অব এডিনবরার পাশে সমাহিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে।

    তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়।

    এসময় কেবল ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  2. রানির প্রকাশ্য শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সমাপ্তি

    রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের যেসব দৃশ্য আজ সারাদিন ধরে দেখা গেছে, তা হয়তো বহুবছর ধরে ঘুরে ফিরে আসবে আমাদের সামনে। আজ সারাদিন ধরে যেসব আনুষ্ঠানিকতা আমরা দেখেছি এখানে তার সারাংশ:

    • দিনটি শুরু হয়েছিল ওয়েস্টমিনস্টার হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রানির শায়িত অবস্থার উপসংহার টানার মাধ্যমে। এরপর তার কফিন শোভাযাত্রা করে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে নিয়ে আসা হয়।
    • সেখানে প্রায় দু হাজার মানুষ এক শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন, যাদের মধ্যে ছিলেন বহু রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান।
    • এরপর এক বিশাল শোকযাত্রা কফিন নিয়ে ওয়েলিংটন আর্চের দিকে যাত্রা করে, যেটি ব্রিটিশ ইতিহাসের এক গৌরবময় প্রতীক।
    • রানির কফিন এরপর একটি শবযানে রাখা হয়। এটি যাত্রা করে উইন্ডসরের দিকে।
    • রানির কফিন নিয়ে তৃতীয় শোকমিছিলটি উইন্ডসরের দীর্ঘ রাস্তা পেরিয়ে সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে যায়। সেখানে রানির স্মরণে আরেকটি প্রার্থনায় যোগ দেন প্রায় আটশো মানুষ।
    • সন্ধ্য সাড়ে সাতটায় রাজপরিবারের সদস্যরা সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে যাবেন রানিকে তার স্বামীর পাশে সমাহিত করতে।
  3. রাজকীয় সমাধিকক্ষে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মরদেহ নামানো হয়েছে। আজই আরও পরের দিকে পারিবারিক সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে সমাহিত করা হবে।

    এর আগে সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে আনুষ্ঠানিকভাবে রানির কফিনের ওপর থেকে রাজমুকুট এবং রাজদন্ড সরিয়ে নেয়া হয়।

    এগুলো আবার টাওয়ার অব লন্ডনে ফেরত যাবে। তবে আপাতত সেগুলো ডীন অব উইন্ডসরের কাছে দেয়া হয়েছে। তিনি সেগুলো সযত্নে রেখেছেন বেদির ওপর।

    সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে প্রার্থনা অনুষ্ঠান

    ছবির উৎস, PA Media

  4. সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে প্রার্থনা শুরু

    উইন্ডসর ক্যাসেলের সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে রানির জন্য প্রার্থনা শুরু হয়েছে। সেখানে আশীর্বাদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি।

    এই অনুষ্ঠানে যারা যোগ দিচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির অনুষ্ঠানে ছিলেন না। রানির অনেক বর্তমান এবং সাবেক স্টাফ এই প্রার্থনায় যোগ দিচ্ছেন।

    আজকের সারাদিনের আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি টানা হবে এই সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলেই।

    সন্ধ্যায় রানিকে সমাহিত করা হবে তার প্রয়াত স্বামী ডিউক অব এডিনবরার পাশে।

    সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলরই একটি অংশ হচ্ছে রাজা ষষ্ট জর্জের মেমোরিয়াল চ্যাপেল। সেখানে রাজকীয় সমাধিকক্ষে ডিউক অব এডিনবরাকে সমাহিত করা হয়েছিল।

    এই সমাহিত করার অনুষ্ঠানে কেবল রাজপরিবারের সদস্যরাই থাকতে পারবেন।

    সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে ঢুকছে রানির কফিন
  5. উইন্ডসর প্রাসাদের প্রাঙ্গনে ঢুকলো রানির শবযান

    রানির কফিন বহনকারী শবযান উইন্ডসর প্রাসাদের গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে যাবার আগে সাধারণ মানুষের জন্য স্বচক্ষে তা দেখার শেষ সুযোগ এটাই। কারণ ভেতরে আর সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকবে না।

    এই অনুষ্ঠানে কেবল রাজপরিবারের সদস্য, রানির ব্যক্তিগত স্টাফ এবং আমন্ত্রিতরাই শুধু যোগ দিতে পারবেন।টেলিভিশনে অবশ্য এই অনুষ্ঠান দেখানো হবে।

    এর আগে রানির কফিন উইন্ডসের ঐতিহাসিক দীর্ঘ পথ ধরে প্রাসাদে পৌঁছায়।

    পথের দুধারে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত সামরিক সদস্য। রানিকে বহনকারী শবযান যাওয়ার সময় তারা মাথা নুইয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    রানির শবযান উইন্ডসর প্রাসাদের গেট দিয়ে ঢুকছে
  6. ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবি হতে রানির শোক মিছিলের ছবি

    রানির কফিন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবি থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

    ছবির উৎস, PA Media

    ছবির ক্যাপশান, রানির কফিন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবি থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
    কামানবাহী রাষ্ট্রীয় শকটে করে কফিন নেয়া হচ্ছে ওয়েলিংটন আর্চে

    ছবির উৎস, PA Media

    ছবির ক্যাপশান, কামানবাহী রাষ্ট্রীয় শকটে করে কফিন নেয়া হচ্ছে ওয়েলিংটন আর্চে
    রানির কফিন রাজকীয় পতাকায় আচ্ছাদিত, তার উপরে রাখা রাজমুকুট এবং রাজদণ্ড

    ছবির উৎস, PA Media

    ছবির ক্যাপশান, রানির কফিন রাজকীয় পতাকায় আচ্ছাদিত, তার উপরে রাখা রাজমুকুট এবং রাজদণ্ড
    রাজকীয় নৌবাহিনীর নাবিকরা কফিনের সঙ্গে যাচ্ছেন

    ছবির উৎস, Shutterstock

    ছবির ক্যাপশান, রাজকীয় নৌবাহিনীর নাবিকরা কফিনের সঙ্গে যাচ্ছেন
    পার্লামেন্টের পাশ দিয়ে যাচ্ছে শোক মিছিল

    ছবির উৎস, PA Media

    ছবির ক্যাপশান, পার্লামেন্টের পাশ দিয়ে যাচ্ছে শোক মিছিল
    শোক মিছিলে রাজা তৃতীয় চার্লস

    ছবির উৎস, PA Media

    ছবির ক্যাপশান, শোক মিছিলে রাজা তৃতীয় চার্লস
    মলে ঢুকছে শোক মিছিল

    ছবির উৎস, PA Media

    ছবির ক্যাপশান, মলে ঢুকছে শোক মিছিল
  7. উইন্ডসর যাওয়ার পথের দুপাশে হাজারো মানুষ

    হাজার হাজার মানুষ রানির কফিন যে পথ ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার দুই পাশের রাস্তায় লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রথমে মোটরওয়ে দিয়ে শবযান যাবে বলে পরিকল্পনা থাকলেও পরে এটির রুট পরিবর্তন করা হয়। এটি যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকার ভেতর দিয়ে যাওয়া রাস্তা ধরে, অনেক ছোট ছোট শহর কেন্দ্র হয়ে, যাতে আরও বেশি সংখ্যায় মানুষ রানির শবযান দেখার সুযোগ পান। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মানুষ ফুল ছুঁড়ে দিয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

    রানির শবযান চলেছে উইন্ডসরের পথে
    রাস্তার দুধারে হাজার হাজার মানুষ
    লাইন ধরে দাঁড়িয়ে অনেক মানুষ
  8. ওয়েলিংটন আর্চে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রানির কফিন তোলা হয়েছে রাষ্ট্রীয় শবযানে। গ্রেনেডিয়ের গার্ড বাহিনীর সদস্যরা রানির কফিন তুলে এই শবযানে রেখেছেন। এই গাড়িটি এখন রওনা হয়েছে উইন্ডসর প্রাসাদের দিকে। বিকেল তিনটে নাগাদ এটি উইন্ডসরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাস্তার দুপাশে রানির শবযান দেখার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ।

    রানির কফিন বহন করে গাড়ি যাচ্ছে উইন্ডসরে
  9. শোক মিছিলে রাজপরিবারের কয়েকজন সদস্য

    রাজা চার্লস

    ছবির উৎস, Shuttercock

    প্রিন্সেস অ্যান

    ছবির উৎস, PA Media

    ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি

    ছবির উৎস, PA Media

    প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথারিন

    ছবির উৎস, PA Media

    প্রিন্স জর্জ

    ছবির উৎস, PA Media

  10. শোক মিছিল পৌঁছেছে ওয়েলিংটন আর্চে

    রানির কফিন নিয়ে শোক মিছিল এটির প্রথম গন্তব্য ওয়েলিংটন আর্চে পৌঁছেছে। সময় লেগেছে প্রায় ৪৫ মিনিট।

    ব্রিটিশ ইতিহাসে ওয়েলিংটন আর্চ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    এটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল ১৮২০ সালে বাকিংহাম প্রাসাদের ঢোকার একটি ফটক হিসেবে। ছয় দশক পরে এটি সরিয়ে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে আসা হয়। ফ্রান্সের নেপোলিয়নকে যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন ব্রিটেনের ডিউক অব ওয়েলিংটন, সেই ঘটনার স্মরণে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

    এটি লন্ডনের বিখ্যাত স্থাপনাগুলোর একটি, এর ওপরে স্থাপন করা শান্তির দূতের ভাস্কর্যটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য।

    ওয়েলিংটন আর্চের সামনে শোক মিছিল
  11. বাকিংহাম প্রাসাদ অতিক্রম করলো রানির শোক মিছিল

    শোক মিছিল এখন বাকিংহাম প্রাসাদ অতিক্রম করেছে।

    বাকিংহাম প্রাসাদে আছে ৭৭৫টি কক্ষ, বিশ্বখ্যাত এই প্রাসাদে থেকেই রানি তার রাজকার্য পরিচালনা করতেন। এখানেই তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে আসা বিশ্বনেতাদের জন্য অনুষ্ঠান এবং ভোজের আয়োজন করতেন।

    তবে একই সঙ্গে এটি ছিল ৬৭ বছর ধরে রানির প্রধান পারিবারিক নিবাস। সিংহাসনের অভিষেক হওয়ার পর হতে ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারি পর্যন্ত মূলত এখানেই রানি থাকতেন।

    এই প্রাসাদেই তিনি সন্তানের মা হয়েছেন, এখানেই তার বড় ছেলে চার্লস, এবং দুই ছোট ছেলে এনড্রু এবং এডওয়ার্ডের জন্ম হয়েছে।

    মৃত্যুর পর গত সপ্তাহে তার মরদেহ এই প্রাসাদে এনে একদিন শায়িত রাখা হয়েছিল।

    রানির পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি এক আবেগময় মূহুর্ত। রাস্তার দুপাশে যে হাজার হাজার মানুষ, তারা শেষ বিদায় জানাচ্ছেন রানিকে।

    বাকিংহাম প্রাসাদ অতিক্রম করছে শোকমিছিল
  12. দুই রাজকীয় পার্কের মাঝখান দিয়ে যাচ্ছে শোকমিছিল

    রানির কফিন নিয়ে দীর্ঘ শোক মিছিল এখন লন্ডনের দুটি রাজকীয় পার্কের মাঝখান দিয়ে ওয়েলিংটন আর্চের দিকে যাচ্ছে।

    উত্তর দিকে আছে ৪০ একরের গ্রীন পার্ক, যেটি ১৬৬৮ সালে উদ্বোধন করেছিলেন রাজা দ্বিতীয় চার্লস। এক সময় এই পার্কে ছিল অনেক হরিণ।

    দক্ষিণ দিকে আছে সেন্ট জেমস পার্ক, এটি সবচেয়ে প্রাচীন রাজকীয় পার্কগুলোর একটি।

    এখনো এই দুটি পার্ক লন্ডনের মানুষ এবং এই শহরে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। তবে আজ সেখানে এখন বিষন্ন, ভাবগম্ভীর পরিবেশ।

    শোকমিছিল এগিয়ে যাচ্ছে দুই রাজকীয় পার্কের মাঝখান দিয়ে
  13. রানির কফিন নিয়ে উইন্ডসরের পথে শোকমিছিল

    রানির কফিন নিয়ে আরেকটি শোকমিছিল যাত্রা শুরু করেছে। এটি আগেরটির চেয়ে অনেক বড়, পাড়ি দেবে আরও অনেক দীর্ঘপথ। এই শোকমিছিলে আছে মোট সাতটি গ্রুপ।

    এবার শোকমিছিলের পেছনে পেছনে একটি গাড়িতে যাচ্ছেন কুইন কনসোর্ট ক্যামিলা এবং প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথারিন। তাদের সামনে আছেন রাজা চার্লস, এবং রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। তারা কফিনের পেছনে পেছনে হাঁটছেন।

    দ্বিতীয় একটি গাড়িতে করে যাচ্ছেন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল এবং কাউন্টেস অব ওয়েসেক্স সোফি।

    শোক মিছিলের একেবারে সামনে আছে রাজকীয় ক্যানাডীয় মাউন্টেড পুলিশের দল।

    রানির কফিনের দুপাশে আছেন কফিন বহনকারীদের দল এবং দেহরক্ষীরা।

    যেসব রাষ্ট্রনেতারা শেষকৃত্যানুষ্ঠানে এসেছিলেন এখন তারা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলির দেয়া এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

    রানির কফিন নিয়ে শোকমিছিল চলেছে উইন্ডসরের পথে
    ছবির ক্যাপশান, রানির কফিন নিয়ে শোকমিছিল চলেছে উইন্ডসরের পথে
  14. ছবিতে আজকের লন্ডনের রাস্তার দৃশ্য

    ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবির বাইরে রাস্তায় বহু মানুষ শেষকৃত্যানুষ্ঠান দেখতে ভিড় করেছেন

    রাস্তায় শত শত মানুষ অপেক্ষায় আছেন রানির অন্তিম যাত্রা দেখতে

    ছবির উৎস, Reuters

    ছবির ক্যাপশান, রাস্তায় শত শত মানুষ অপেক্ষায় আছেন রানির অন্তিম যাত্রা দেখতে
    অনেকে মোবাইল ফোনে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের লাইভ ভিডিও দেখছেন

    ছবির উৎস, Shuttercock

    ছবির ক্যাপশান, অনেকে মোবাইল ফোনে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের লাইভ ভিডিও দেখছেন
    ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের প্রার্থনা লাউডস্পীকারে শুনছেন অনেকে

    ছবির উৎস, EPA

    ছবির ক্যাপশান, ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের প্রার্থনা লাউডস্পীকারে শুনছেন অনেকে
  15. যেসব দেশের রাজা-রানিরা এসেছেন

    সারা বিশ্ব হতে প্রায় পাঁচশো রাষ্ট্রনেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে এই শেষকৃত্যানুষ্ঠান যোগ দিচ্ছেন। বিভিন্ন দেশের রাজপরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি বসেছেন।

    ডেনমার্কের রানি দ্বিতীয় মার্গারিট বসেছেন ঠিক রাজা চার্লসের উল্টোদিকে।

    রানি মার্গারিট এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ পরস্পরকে খুব পছন্দ করতেন। ডেনমার্কের রানি এবছর তার সিংহাসনে আরোহনের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছেন।

    অন্য যেসব বিদেশি রাজন্যবর্গ এসেছেন, তাদের মধ্যে আছেন ভুটান, জাপান, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনের রাজা এবং রানি।

    ডেনমার্কের রানি মার্গারিট

    ছবির উৎস, John Sibley/PA Wire

    ছবির ক্যাপশান, ডেনমার্কের রানি মার্গারিট
  16. শেষকৃত্যানুষ্ঠানে রানির বিয়ের স্তোত্র পাঠ

    ১৯৪৭ সালে তৎকালীন প্রিন্সেস এলিজাবেথ এবং প্রয়াত প্রিন্স ফিলিপ মাউন্টব্যাটেনের বিয়ের অনুষ্ঠানে যে স্তবগান করা হয়েছিল, শেষকৃত্যানুষ্ঠানে সেটি গাওয়া হলো।

    রানি তাঁর প্রিয় স্বামীকে হারান গত বছরের এপ্রিলে। তারা ৭০ বছর ধরে বিবাহিত ছিলেন।

    এর আগে রানির জন্য ধর্মগ্রন্থ থেকে বাণী পাঠ করে শোনান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস এবং কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারনেস স্কটল্যান্ড।

    রানির বিয়ের অনুষ্ঠান

    ছবির উৎস, PA Media

  17. ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে এসেছে রানির কফিন

    শোকযাত্রা

    রানির কফিন নিয়ে শোকমিছিল ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে চলে এসেছে।

    এখন রানির কফিন গান ক্যারিজ থেকে তুলে নিয়ে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের জন্য ভেতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    ভবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পর রানির কফিন উঁচু বেদির সামনে একটি প্লাটফর্মের ওপর রাখা হবে।

    ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের ভেতর
  18. প্রথম শোকযাত্রা শুরু হয়েছে

    প্রথম শোকযাত্রা

    যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বেলা পৌনে এগারোটা নাগাদ দিনের প্রথম শোক যাত্রা শুরু হয়েছে।

    ওয়েস্টমিনস্টার হল থেকে রানির কফিন আস্তে আস্তে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠানের জন্য ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে।

    গ্যারিসন সার্জেন্ট মেজর অ্যান্ড্রু স্ট্রোক শোকযাত্রা শুরু করেন।

  19. উইন্ডসর: যেখানে শুরু, যেখানে শেষ

    উইন্ডসর ক্যাসেল

    ছবির উৎস, Reuters

    উইন্ডসর ক্যাসেলের দিকে পায়ে হেঁটে ধীরে ধীরে আসতে শুরু করেছেন জনতা।

    তাদের মধ্যে যেমন তরুণ পরিবার রয়েছে, তেমনি আছে বয়স্ক সৈনিকরাও।

    এখানেই চার বছর আগে এভাবে জনতা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছিল, কিন্তু সেদিনের সঙ্গে আজকের অনেক পার্থক্য।

    সেদিন সবাই এসেছিল প্রিন্স হ্যারি আর মেগান মার্কেলের বিয়ের দিনে। তাদের দেখার জন্য অপেক্ষা করেছিল। রৌদ্রকরোজ্জল সেই দিনে সবাই ছিল উৎফুল্ল, উৎসবের আমেজে। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে যখন রাজকীয় যুগল সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে রওনা হয়েছিল, সবাই চিৎকার করে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিল।

    কিন্তু আজ আবারো সবাই সমবেত হয়েছে, কিন্তু এবার তারা অপেক্ষা করছে রানিকে চ্যাপেলে সমাহিত করার জন্য। যেখানে তিনি প্রয়াত স্বামী ডিউক অব এডিনবরা, তাঁর পিতা রাজা ষষ্ঠ জর্জ, রানি মাতা এবং বোন প্রিন্সেস মার্গারিটের কবরের পাশে সমাহিত হবেন।

    এবার তারা নতুন কোন যুগের সূচনা নয়, বরং একটি যুগের সমাপ্তির প্রত্যক্ষদর্শী হতে এসেছেন।

  20. রানির কফিন বহন করবে যে গান ক্যারেজ

    যে গান ক্যারেজে করে রানির কফিন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে নিয়ে যাওয়া হবে, তার সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে।

    বুধবার বাকিংহ্যাম প্যালেসের শোকযাত্রায় যে গান ক্যারেজ ব্যবহার করা হয়েছিল, এটি তার তুলনায় আলাদা।

    ১৯০১ সাল থেকে এটিকে আবদ্ধ করে রেখেছিল রাজকীয় নৌবাহিনী। সেই বছর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মাতামহী রানি ভিক্টোরিয়ার শেষকৃত্যানুূষ্ঠানের পর থেকে এটিকে সার্ভিস থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

    এর আগে রানির পিতা রাজা ষষ্ঠ জর্জ এবং রানি এলিজাবেথের প্রথম প্রধানমন্ত্রী উইনস্টল চার্চিলের শেষকৃত্যেও এই কামানটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

    ১৪২ জন নাবিক মিলে এটি বহন করে।

    উইন্ডসর থেকে এটিকে বের করে আনতে ৩ হাজার কেজির দড়ি ব্যবহার করে নাবিকরা।

    গান ক্যারেজ