গত এক বছরে তালেবান কি আদৌ কোনো সাফল্য দাবি করতে পারে?

ছবির উৎস, Getty
এক বছর আগে তালেবানের কাবুল পুনর্দখলের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জেরে আফগানিস্তানের অর্থনীতির অবস্থা বেশ সঙ্গিন।
দেশের জনসংখ্যার সিংহভাগ অংশ খাদ্য এবং চিকিৎসার অভাবে ভুগছে। অপুষ্টি বাড়ছে। এবং সেই সাথে নারী শিক্ষা এবং তাদের চাকরি-বাকরির সুযোগ প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছে। কাজ ছাড়িয়ে অনেক নারীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এর পরও গত এক বছরে তালেবান কী কোনো সাফল্য দাবি করতে পারে? বিবিসির দুজন পাঠকের – ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডের ভিকি বুলার্ড এবং মোজাম্বিকের লুডোভিকো আলকোর্টা – প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আফগানিস্তানে বিবিসির সংবাদদাতা সেকান্দার কেরমানি:
যুদ্ধ যে শেষ হয়েছে সেটাই আফগানিস্তানের আম জনতার জন্য বিশাল এক স্বস্তি।
যদিও ইসলামিক স্টেটের বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু তালেবানের বিদ্রোহী তৎপরতা এবং তা ঠেকাতে পশ্চিমা বাহিনী ও আফগান সরকারের পাল্টা ব্যবস্থার কারণে যে মাত্রার সহিংসতা এবং প্রাণহানি হতো তা এখন অনেক কমে গেছে।
২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যেখানে গড়ে প্রতি বছর আট থেকে দশ হাজার লোক মারা গেছে, সেখানে এ বছরের গত আট মাসে মৃতের সংখ্যা এক হাজারেরও কম।
এই যুদ্ধে বছরের পর বছর বিপর্যস্ত হয়েছে বিশেষ করে আফগানিস্তানের দক্ষিণ এবং পূর্বের গ্রাম এলাকার মানুষজন। এমনিতেই এসব এলাকার লোকজন খুবই রক্ষণশীল, ফলে তালেবানের শাসন ফিরে আসায় তারা কম-বেশি খুশি।
কিন্তু মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ করে দেয়া নিয়ে এমনকী তালেবানের প্রভাব বলয়ের এলাকাগুলোতেও বড়রকম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
দুর্নীতির ওপর তালেবানের শক্ত অবস্থানে সাধারণ মানুষজন খুশি, কিন্তু তা স্বত্বেও তাদের আর্থিক দুরবস্থা বেড়েছে।
যদিও বাস্তব অবস্থার খুব সোজা-সাপটা বিশ্লেষণ করা ঠিক হবেনা। কিন্তু এটা ঠিক যে শহুরে এলাকায় ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব হওয়া নিয়ে জনমনে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আবার এটাও বাস্তবতা যে শান্তি ফিরে আসায় গ্রাম এলাকার মানুষজন খুশী।
তালেবানের ব্যাপারে গত এক বছরে আফগান জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে।














