মিয়ানমারের অং সান সু চি এবং অন্য রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারের পর দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে সামরিক বাহিনী।
সরাসরি কভারেজ
সুচি সরকারের ২৪ মন্ত্রী বরখাস্ত, নতুন মন্ত্রীদের অধিকাংশ সেনা অফিসার
মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের প্রথমে দিনেই ক্ষমতাচ্যুত অং সান সুচির সরকারের অধিকাংশ সদস্যকে বরখাস্ত করে নতুন লোক নিয়োগ করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টর্স এবং বিবিসি বার্মিজ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সুচি সরকারের ২৪ জন মন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সেই সাথে নতুন ১১ জন মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে ।
নুতন মন্ত্রীদের অধিকাংশই সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা। কয়েকজন রয়েছেন সেনা সমর্থিত দল ইউএসডিপির সদস্য। ইউএসপিডির অন্যতম নেতা উনা মং লউনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। জানা গেছে তিনি নভেম্বরের নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন।
সেনাবাহিনী পরিচালিত টেলিভিশনে নতুন এসব নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়।
ছবির উৎস, AFP/Getty
ছবির ক্যাপশান, ইয়াঙ্গনে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা
অভ্যুত্থান ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার‘ - বলছে অনেক আসিয়ান প্রতিবেশী
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের কয়েকটি দেশ তাদের সদস্য মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানকে ‘অভ্যন্তরীণ‘ ব্যাপার বলে বিবেচনা করছে। জোটের পক্ষ থেকে অথবা সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের সরাসরি কোনো নিন্দা করা হয়নি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দিশের এই জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান ব্রুনেই এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই জোট আশা করে জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান রেখে সংলাপের মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।“
আসিয়ান চেয়ারম্যানের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “আমরা আবারো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে আসিয়ান জোটের সদস্য দেশগুলোতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এই এলাকার শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।“
তবে আসিয়ানের তিনটি সদস্য দেশ - ক্যাম্বোডিয়া, ফিলিপিন্স এবং থাইল্যান্ড - খোলাখুলি বলেছে, মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা তাদের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে তাদের কিছু বলার নেই।
ক্যাম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বলেছেন, “অভ্যুত্থান মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।“ থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে একই মন্তব্য করেছেন।
ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট দুতার্তের একজন মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এবং এনিয়ে আমরা কোনো নাক গলাতে চাইনা, তবে আমরা আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।“
মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা আশা করে মিয়ানমারে নির্বাচন নিয়ে যে বিরোধ সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষ বসে তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করে ফেলবে।
তবে নিন্দা না করলেও অপেক্ষাকৃত শক্ত ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুর।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন - আইনের শাসন, সুশাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বং সাংবিধানিক সরকার আসিয়ান জোটের চার্টারের মূলমন্ত্র।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে “গভীর উদ্বেগ“ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “সিঙ্গাপুর আশা করে সব পক্ষ যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং একসাথে বসে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ একটি সমাধানের চেষ্টা করে।“
ছবির উৎস, AFP
ছবির ক্যাপশান, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রবাসী বার্মিজ নাগরিকরা তাদের দেশে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন। ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২১
অভ্যুত্থান প্রতিরোধের ডাক অং সান সুচির
অং সান সুচির দল এনএলডি ফেসবুকে তাদের একটি পাতায় এক বিবৃতিতে সামরিক অভ্যুত্থান প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ করার ডাক দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর হাতে তাদের বন্দী নেত্রীর পক্ষে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে বলে রয়টর্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রচারণার জন্য ফেসবুকে যে অ্যাকাউন্ট এনএলডি ব্যবহার করতো, সেই পাতাতেই এই বিবৃতি পোস্ট করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা দেশকে একনায়কতন্ত্রে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। জনগণকে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি তারা যেন এটা মেনে না নেয়। তারা যেন সেনাবাহিনীর এই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে।“
বিবৃতির নীচে মিস সুচির নাম থাকলেও তার কোনো সই নেই।
তবে বিবৃতির নীচে এনএলডির চেয়ারম্যান উইন টিনের হাতে লেখা একটি নোট রয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন, “এই বিবৃতি সুচির “ইচ্ছার প্রতিফলন“, এবং এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।“ তিনি লেখেন, “আমি কসম করে বলছি অং সান সুচি নিজে জনগণের প্রতি এই আহ্বান জানাচেছন।“
উইন টিনের সাথে রয়টর্স যোগাযোগ করতে পারেনি। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এবং অং সান সুচি সহ ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) দলের শীর্ষ বেশ কজন নেতাকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, অং সান সুচি
ছবির ক্যাপশান, প্রেসিডেন্ট এবং অং সান সুচি সহ ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) দলের যেসব নেতাদের আটক করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী
মিয়ানমারের অভ্যুত্থান নিয়ে চীনের সতর্ক প্রতিক্রিয়া
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশে চীন খুবই সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।
চীন সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আলাদাভাবে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেয়া হয়নি, তবে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র তাদের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত এবং সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, মিয়ানমারের ঘটনাবলির দিকে চীন নজর রাখছে, এবং ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “চীন মিয়ানমারের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী, এবং আমরা আমা করি দেশের সাংবিধানিক এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষ তাদের মতভেদ দূর করবে, এবং রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।“
মিয়ানমারের সাথে চীনে দীর্ঘ ২,২০০ কিমি সীমান্ত রয়েছে যার বেশ কিছু অংশে মিয়ানমারে সশস্ত্র কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী তৎপর।
তাছাড়া তাদের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের জন্য চীনের কাছে মিয়ানমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। চীন গত বছরগুলোতে মিয়ানমারের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। চীনের ইউনান প্রদেশ প্রদেশ থেকে মিয়ানমারের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত একটি রেল লাইন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে যার জন্য চীন প্রায় ৯০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
গত মাসের মাঝামাঝি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মিয়ানমার সফরে গিয়েছিলেন। ঐ সফরে তিনি অং সান সুচি সহ মিয়ানমারের সেনা নেতৃত্বের সাতেও বৈঠক করেন।
ছবির উৎস, Getty
ছবির ক্যাপশান, ০২০ সালের জানুয়ারি মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের মিয়ানমার সফরে তার সাথে অং সান সুচি
এ পর্যন্ত যা ঘটলো
মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের সর্বশেষ খবর জানাতে এ পর্যন্ত আপনাদের সাথে ছিলাম আমি মুন্নী আক্তার। এখন এ ঘটনার সব খবর জানাবেন আমার সহকর্মী শাকিল আনোয়ার।
এক নজরে দেখে নিন এ পর্যন্ত যা ঘটলো:
* স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে গ্রেফতার করেছে সামরিক বাহিনী।
* এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
* ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন মিয়ন্ত সোয়ে।। তবে আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের ক্ষমতা নিয়েছেন সেনাপ্রধান।
* জরুরি অবস্থা শেষ হলে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে সেনাবাহিনী।
* সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্ব নেতারা।
* সেনা অভ্যুত্থান হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত হবে না বলে আশা করছে বাংলাদেশ
'রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের সাথে আলোচনা হয়েছে ব্যক্তি বিশেষের সাথে নয়'
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দুই দেশের সরকারের সাথে
আলোচনা হয়েছে কোন ব্যক্তি বিশেষের সাথে নয় তাই মিয়ানমারের এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
ইতিহাসের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এর আগেও এই সেনা সরকার অধীনেই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল।
কাজেই এই প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চলছে সেটা কিছু সময়ের
জন্য পিছিয়ে গেলেও আটকে যাবে না বলে জানান।
রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার যে
অঙ্গীকার করেছে সেটা সেনা সরকার নিশ্চিত করলে প্রত্যাবাসন নিয়ে আর কোন চিন্তা
থাকবে না।
সেনা সমর্থকদের বিক্ষোভ থেকে সাংবাদিকদের উপর হামলা
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের সমর্থনে ছোট ছোট কিছু গোষ্ঠী আনন্দ
মিছিল করেছে।
সুলে প্যাগোডার কাছে সামরিক বাহিনী সমর্থিত বিক্ষোভকারীরা স্থানীয়
এবং বিদেশি সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে। ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সাংবাদিকদের
মারধর করতে দেখা গেছে।
ইয়াঙ্গনের প্রধান সড়কে ট্রাকে করে পতাকা হাতে সেনা সমর্থকদের
ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
নেপিডোর উত্তরাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র, ট্যাংক এবং হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। একই
এলাকায় পার্লামেন্টে যাওয়ার প্রধান প্রধান সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে সামরিক বাহিনী।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, পার্লামেন্টে যাওয়ার প্রধান রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে সামরিক বাহিনী।
পার্লামেন্ট সদস্যদের বাসভবনে পাহারা
মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে পার্লামেন্টের সদস্যদের বাসভবনের
বাইরে পাহারা দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। কমপক্ষে দুই জন আইনপ্রণেতা এখবর বার্তা
সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন।
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর এই ঘটনা ঘটলো।
সাই লিন মিয়াত নামে হাউজের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অধিবেশন চলার সময়টাতে আইনপ্রণেতারা যে সরকারি
ভবনগুলোতে বাস করেন তার বাইরের প্রবেশ মুখে সামরিক ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।
ভেতরে যারা রয়েছেন তারা সবাই সুস্থ থাকলেও কাউকে বের হতে দেয়া
হচ্ছে না বলে জানানো হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং ইইউ’র নিন্দা
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের
নিন্দা জানিয়েছেন। অং সান সু চিকে গ্রেফতারের ঘটনার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী একে
“বেসামরিক নাগরিকদের বেআইনি অবরোধ” বলে উল্লেখ করেছেন।
এক টুইটে মি. জনসন বলেন, মিয়ানমারে “সেনা অভ্যুত্থান এবং অং সান সু চিসহ বেসামরিক
নাগরিকদের অবরোধের নিন্দা জানাচ্ছি।”
“জনগণের ভোটকে স্বীকৃতি দিয়ে বেসামরিক নেতাদের
মুক্তি দেয়া উচিত।”
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান চার্লস মিশেলও মিয়ানমারে সেনা
অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছেন এবং আটক নেতাদের মুক্তির দাবি করেছেন।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট তার টুইটে বলেন, “নির্বাচনের ফলকে স্বীকৃতি দিয়ে গণতান্ত্রিক
প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করা উচিত।”
ছবিতে মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের চিত্র
ছবির ক্যাপশান, মিয়ানমারে একটি মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
ছবির ক্যাপশান, সেনা অভ্যুত্থানের পর শুকনো খাবার সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ছবির ক্যাপশান, সেনা অভ্যুত্থানের পর ইয়াঙ্গনের প্রায় জনশূন্য রাস্তা।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ইয়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রবেশ মুখে অবস্থান নেয় সেনা সদস্যরা।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ইয়াঙ্গনের রাস্তায় গাড়িতে অবস্থান নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ব্যাংককে মিয়ানমারের দূতাবাসের বাইরে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ব্রেকিং, ৪টি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে সেনাবাহিনী
সামরিক বাহিনী থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে বিবিসি মিয়ানমারের সংবাদদাতা জানাচ্ছেন। এগুলো হল:
১. নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে এবং নিয়মানুযায়ী ভোটার তালিকা তদন্ত এবং পর্যালোচনা করা হবে;
২. কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে সামরিক সরকার যুদ্ধ চালিয়ে যাবে এবং মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করা হবে;
৩. দেশজুড়ে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া বন্ধ করতে কাজ করে যাবে সেনাবাহিনী; এবং
৪. জরুরি অবস্থা শেষে একটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করবে সেনাবাহিনী।
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা
প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সেই সাথে আশা প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশটির সাথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের
স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “আমরা আশা করছি মিয়ানমারে গণতন্ত্র ও সংবিধান
সমুন্নত রাখা হবে।”
“মিয়ানমারের সাথে পারস্পরিক কল্যাণমূলক সম্পর্ক
উন্নয়নে আমরা বদ্ধ পরিকর। সেই সাথে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছার ভিত্তিতে
নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সাথে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।”
“আমরা আশা করছি যে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
জরুরি অবস্থা শেষ হলে নতুন নির্বাচন
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বলেছে যে, জরুরি অবস্থা শেষ হলে দেশটিতে নতুন করে নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হবে এবং বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। সেনা অভ্যুত্থানের কয়েক
ঘণ্টা পর এমন তথ্য জানানো হলো।
সামরিক বাহিনীর ফেসবুক পেইজে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা প্রকৃত বহু-দলীয় গণতন্ত্র চর্চা করবো...
যেখানে পূর্ণ ভারসাম্য এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে।”
বিবৃতিতে বলা হয়,
“অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর এবং জরুরি অবস্থা শেষ হয়ে যাওয়ার পর” ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
পার্লামেন্টের সামনের রাস্তা বন্ধ
মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে পার্লামেন্টের সামনের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
বন্ধ রাস্তায় ব্যারিকেডের পাশাপাশি ভারী সামরিক যান ও অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে সেনা সদস্যদের।
এর আগে এক সেনা অভ্যুত্থানে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে গ্রেফতার করা হয়।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে পার্লামেন্টের সামনের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
সব ধরণের ব্যাংক সাময়িক বন্ধ
মিয়ানমারের ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে দেশটির বর্তমান
অবস্থার কথা তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল থাকার কারণে ব্যাংকগুলোতে সোমবার সব ধরণের অর্থনৈতিক
সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয় যে, এর মধ্যে ব্যাংকগুলো বন্ধের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি
নেবে এবং এরপরই কবে থেকে আবার তাদের সেবা চালু হবে সে বিষয়ে জানাবে।
মিয়ানমার ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশনার বরাত দিয়ে দেশটির
কানবাওজা ব্যাংক তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে যে, সাময়িকভাবে তাদের ব্যাংকের শাখাগুলো কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।
ইন্টারনেট এবং মোবাইল ব্যাংকিংও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে বিবৃতিতে
জানানো হয়।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ইয়াঙ্গনে সাময়িক বন্ধ কেবিজেড ব্যাংকের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রাহকরা।
ক্ষমতার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিলেন সেনাপ্রধান
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মুখপত্র মিয়াওয়াদি টিভি এক ঘোষণায়
বলেছে যে, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট
মিয়ন্ত সোয়ে দেশটির প্রধান তিনটি বিভাগের ক্ষমতা সেনাপ্রধান মিন অং লাইংয়ের কাছে হস্তান্তর
করেছেন। এই বিভাগ তিনটি হলো আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ।
২০০৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী তার হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে
বলে জানানো হয়।
সোমবার সকালে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মিয়ন্ত সোয়ে। এর আগে বেসামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন মিয়ন্ত সোয়ে।
ভিডিও: এক নজরে দেখে নিন মিয়ানমারের সর্বশেষ পরিস্থিতি
জাপানের টোকিওতে
ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির সামনে অং সান সু চির পক্ষে বিক্ষোভ করেছে মিয়ানমারের একদল অধিকারকর্মী।
মিয়ানমারে সেনা
অভ্যুত্থানের পর অং সান সু চিসহ জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের সামরিক বাহিনী আটক করার পর
এই বিক্ষোভ হলো।
এদিকে জাপানের
চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি কাসুনোবু কাটো বলেছেন,
“জাপান বিশ্বাস করে যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের সমস্যার
সমাধান করা উচিত।”
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, জাপানে সু চির পক্ষে বিক্ষোভ হয়েছে।
ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ
মিয়ানমারে সেনা
অভ্যুত্থানের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, “মিয়ানমারে যা ঘটছে তা আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে দেখছি। মিয়ানমারে
গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর প্রক্রিয়ার প্রতি ভারতের সমর্থন সব সময়ই অবিচল ছিল।
আমরা বিশ্বাস করি যে আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত থাকবে। আমরা নিবিড়ভাবে
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”
তবে সেনা অভ্যুত্থানকে
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি কম্বোডিয়া।