নির্বাচনের রোডম্যাপ চায় বিএনপি, জামায়াত চায় সংস্কার ও বিচার, ইসিতে আস্থা নেই এনসিপি’র

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনের রোডম্যাপ চেয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে সংস্কার ও বিচার দাবি করেছে, আর নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা নেই বলে জানিয়েছে এনসিপি। সার্বক্ষণিক সব খবর জানতে যুক্ত থাকুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

সরাসরি কভারেজ

  1. শনিবার যা যা হলো

    • প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সন্ধ্যায় বৈঠক করেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রতিনিধিরা।
    • বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি'র সঙ্গে আলোচনার পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, "নির্বাচন আগামী বছরের জুনের ৩০ তারিখের মধ্যেই হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা বিএনপিকে জানিয়েছেন।"
    • প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠকের পর বিএনপি প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিএনপি কখনোই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায়নি। তারা জানান, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে বাদ দেওয়ার জন্য আজকেও তারা লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন।
    • জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠকের পর বলেছেন, ‘জনগণের ভোগান্তি না হয়’ এমন সময়ে নির্বাচন হওয়া উচিত এবং "নির্বাচনের আগে সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচারের কিছু প্রক্রিয়া জনগণের সামনে আসতে হবে"।
    • এনসিপির প্রতিনিধি দল ড. ইউনূসের সাথে বৈঠকে শেখ হাসিনার সময়ে হওয়া সব জাতীয় নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা'র দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এনসিপি যে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না, এই বিষয়টিও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় উল্লেখ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
    • দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর এলাকায় পরিকল্পনা কমিশনে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক বিবৃতিতে বলা হয় "যদি পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের ওপর আরোপিত দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হয়, তবে সরকার সকল কারণ জনসমক্ষে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।"
    • শনিবার দুপুরে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের ‘অনির্ধারিত বৈঠক’ শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন উনি আমাদের সাথে থাকছেন।"

    বিবিসি বাংলার আরও খবর পড়তে ওয়েব সাইটের মূল পাতায় ক্লিক করুন।

    এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। রোরববার লাইভ পেইজটি পুনরায় চালু হবে।

  2. জুন ৩০ কাট-অফ টাইম: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমের প্রেস ব্রিফিং

    ছবির উৎস, CA Press Wing

    ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমের প্রেস ব্রিফিং

    বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি'র সঙ্গে কী কী নিয়ে আলোচনা হলো, তা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, সবগুলো দল প্রধান উপদেষ্ঠাকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছে।

    "তারা বলেছে, তার নেতৃত্বে তাদের আস্থা আছে। তারা পদত্যাগের বিষয়ে তাকে অনুরোধ করেছেন... উনার নেতৃত্বেই যেন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হয়। নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি ডিসেম্বরের মাঝে ইলেকশন চেয়েছে। জামায়াত মনে করে, সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ করতে ডিসেম্বর লেগে যাবে। প্রফেসর ইউনূস তিনটি পার্টিকেই বলেছেন যে ইলেকশন ডিসেম্বর থেকে জুনের মাঝেই হবে। জামায়াত তার টাইমলাইনকে সমর্থন জানিয়েছে। এনসিপিও একই।"

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আগামী বছরের জুনের ৩০ তারিখের মধ্যেই হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা বিএনপিকে জানিয়েছেন।

    "প্রফেসর ইউনূস বিএনপির মিটিং-এ বলেছেন, জুন ৩০ কাট-অফ টাইম। জুনের ওই পাড়ে যাবে না। উনি এক কথার মানুষ। উনি যে কথাটা বলেন, সে কথাটা রাখেন... জুন ৩০ তারিখ একটা সুনির্দিষ্ট ডেট," বলেন তিনি।

    শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে "এনসিপি ও জামায়াত মনে করে না যে এখন যে অবস্থায় আছে, তাতে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনের যে পরিবেশ দরকার, সেই পরিবেশ নাই। কোনো লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড নাই। তারা জোর দিয়েছে, যাতে ইলেকশন কমিশনের সংস্কারের মাধ্যমে লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড এনসিওর (নিশ্চিত) করা হয়।"

    "সংস্কারের বিষয়ে প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেছেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ২০শে জুলাইয়ের মাঝে শেষ করে জুলাই চার্টার্ড দ্রুত হবে এবং জুলাই প্রোক্লেমেশনের বিষয়েও আমাদের কাজ হচ্ছে এবং আশা করছি, তা দ্রুত শেষ হবে।"

    এরপর সাংবাদিকরা তার কাছে জিজ্ঞেস করেন, দলগুলোর বক্তব্য শুনে প্রধান উপদেষ্টা কী বলেছেন?

    উত্তরে তিনি বলেন, "বিচার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এ মাসেই বিচার শুরু হবে। জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার এ মাসেই হবে। পার্টিগুলো তাকে অনুরোধ করেছেন, যেন দ্রুত হয়।"

    আজকের বৈঠকের পর দেশের রাজনৈতিক সংকট কাটবে কিনা, জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, "এটা সংকটের কী হলো, আমরা জানি না। আজকে খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশের তিনটি নেতৃস্থানীয় পার্টির সাথে প্রধান উপদেষ্টার মিটিং হয়েছে।"

    "এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন চেয়েছে। তারা মনে করে, এটা হওয়া উচিত। অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশে নির্বাচন হচ্ছে না। তারা খুব জোর দিয়েছে, যাতে দ্রুত এটা শুরু হয়। সেইসাথে তারা পুরো আওয়ামী লীগ আমলে যত নির্বাচন হয়েছে, প্রত্যেকটিকে ওরা অবৈধ ঘোষণা করার জন্য অনুরোধ করেছে।"

    তিন উপদেষ্টার পদত্যাগ প্রসঙ্গে মি. আলমের বক্তব্য, "উনি (প্রধান উপদেষ্টা) এটা শুনেছেন।"

    উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিএনপি তাদের কথা বলেছে, আমরা শুনেছি।"

  3. শেখ হাসিনার সময়ে হওয়া সব নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা'র দাবি এনসিপি'র

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর এনসিপি'র সংবাদ সম্মেলন
    ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর এনসিপি'র সংবাদ সম্মেলন

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি জানিয়েছে, বিশৃঙ্খলা এড়াতে তারা শেখ হাসিনার সময়ে হওয়া সব জাতীয় নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা'র দাবি জানিয়েছে আজ।

    এনসিপি'র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচনকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে বলেছি। কারণ সেই সময়টায় শেখ হাসিনা একটা ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থায় ইলেকশন করেছিলো। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিলো। রাতের ভোট হয়েছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। ফলে, সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই সময়ের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও ওগুলোকে বিভিন্নভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে... তাই, পূর্বের নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে যেন অবৈধ ঘোষণা করা হয়।"

    এরপর এই এনসিপি নেতা বলেন যে তারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।

    তাই, নাগরিক সেবার নিশ্চিত ও নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর জন্য "ইলেকশন কমিশন পুনর্গঠন করে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন" আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    পাশাপাশি, তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য 'জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার বা জুলাই সনদ ঘোষণা, গণপরিষদ বা আইনসভা নির্বাচনের' জন্য সমন্বিত রোডম্যাপও সরকারের কাছে চেয়েছেন।

    মি. ইসলাম জানান যে আগামী জুলাই মাসের মাঝেই জুলাই সনদ আসতে পারে, তাদেরকে এমনটাই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    "আমরা বলেছি, বিচারটাও কবে শেষ হবে, কোন প্রক্রিয়ায় আগাবে এবং ডিসেম্বর থেকে জুনের মাঝে যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেটিও কোন প্রক্রিয়ায় আগাবে, এগুলো আলোচনা হয়েছে।"

    "সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো, ৩০ দিনের মাঝে জুলাই ঘোষণাপত্র হবে। নির্ধারিত সময়ের মাঝে যেন জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করা হয়, সে বিষয়ে আমরা আহ্বান জানিয়েছি এবং সরকারের, ড. ইউনূস স্যারের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে," যোগ করেন তিনি।

    "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীর গতিতে আগাচ্ছে। যে সঞ্চয়পত্র দেওয়ার কথা ছিল, তা এখনও অনেক শহীদ পরিবার পায়নি। মাসিক ভাতাও শুরু হয়নি। আমরা বলেছি যে আর্থিক সহায়তাসহ পুনর্বাসনের যে প্রতিশ্রুতিগত দাবি, তা যেন নিশ্চিত করা যায়," বলেন নাহিদ।

    এক পর্যায়ে তাকে বিএনপি'র তরফ থেকে দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তখন তিনি বলেন, "স্পষ্টভাবে বলেছি, ছাত্র উপদেষ্টাদের সাথে এনসিপির সম্পর্ক নেই। ছাত্র উপদেষ্টারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেসাবে সরকারে গিয়েছেন, সরকারকে বৈধতা দিয়েছেন। ফলে তাদের সাথে কোনো রাজনৈতিক দলের বা এনসিপির সম্পর্ক নাই। আজ সকালেও তা পরিষ্কার করেছি।"

    "বরং, গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি আকারে তারা গিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছে। সেখানে তাদেরকে হেয় করা, তাদেরকে অপমান করা, এ বিষয়ে আমরা নিন্দা জানিয়েছি। আমাদের সাথে তাদেরকে জড়িয়ে, ট্যাগ দিয়ে পদত্যাগ করতে বলাটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক," যোগ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের ভাবনা'র বিষয়ে এনসিপি'র অবস্থান সম্বন্ধে নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা বলেছি— উনি যাতে দায়িত্বে থাকেন। দায়িত্বে থেকে আলোচনার মাধ্যমে সকল পক্ষের সকল সমস্যা সমাধান করেন। কোনো রাজনৈতিক দল নয়, জনগণ ও গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতা, তাদের আহ্বানেই তিনি দায়িত্বে এসেছিলেন। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্যই তিনি কমিটেড। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি উনি কমিটেড না। উনি যেন এ বিষয়টা যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিবেচনা করেন।"

    সরকার কেন এনসিপিকে ডেকেছে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, "বর্তমান যে পরিস্থিতি, তা নিয়ে আলোচনা করতে। এই পরিস্থিতিতে উনি কাজ করতে পারছেন না। উনি দায়িত্ব ছেড়ে দেদিবেন কিনা। এ বিষয়ে ওনার চিন্তাভাবনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই ওনার সাথে আজকের এই বৈঠক।"

    "সরকার বা ড. ইউনূস হতাশা ব্যক্ত করেছেন, কারণ যেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে উনি দায়িত্বে এসেছেন... সেসময় আমরা উনাকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য আহ্বান করেছিলাম... সকলেই জনগণের কাছে নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।"

    "সেই প্রতিশ্রুতি থেকে কোনো কোনো পক্ষ সরে আসছে বলে মনে করছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওনাকে চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন দাবি আদায়ের চেষ্টা চলছে। এর ফলে এইভাবে ওনার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয় এবং সংস্কার বা পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সেই জায়গা থেকে উনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন।"

    তিনি বলেন, এনসিপি'র তরফ থেকে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূস যেন "কোনো রাজনৈতিক দল নয়, গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার প্রতি কমিটেড থাকেন।"

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
    ছবির ক্যাপশান, সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
  4. প্রধান উপদেষ্টার কাছে জামায়াতের দুই দাবি

    জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন
    ছবির ক্যাপশান, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

    বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, "আমরা বলেছি, দুইটা বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার। নির্বাচনটা কখন হবে? আপনি যে সময়সীমা দিয়েছেন, এর ভেতরে জনগণের কোনো বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়ে একটা কমফোর্টেবল টাইমে নির্বাচন হওয়া উচিত। আর দুই নম্বর হলো, নির্বাচনের আগে সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচারের কিছু প্রক্রিয়া জনগণের সামনে আসতে হবে। সংস্কার শেষ না করে যদি নির্বাচন হয়, জনগণ এই নির্বাচনে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না।"

    "আবার সব সংস্কার এই সরকারের পক্ষে করা সম্ভবও নয়" বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এরপর তাকে উপস্থিত সাংবাদিকদের একজন প্রশ্ন করেন যে আজকের আলাপে জামায়াতে ইসলামী কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কিনা। উত্তরে তিনি বলেন, "আমরা কোনো সময় বেঁধে দেইনি। আমরা কমফোর্টেবল দুইটা টাইম জাতিকে জানিয়েছি। যদি সংস্কার শেষ হয়, তাহলে ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগে এটা (নির্বাচন) হতে পারে। আর যদি আরেকটু সময় লাগে, তাহলে রোজার পরপর হতে হবে। তারপর এটাকে টেনে লম্বা করলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।"

    জামায়াতের দুই দাবির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা কী বলেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "তিনি গভীর মনোযোগ সহকারে শুনেছেন এবং আমাদের আস্থা হয়েছে যে তিনি বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।"

    বিএনপি যে তিনজন উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়েছে, সে বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান জানতে চান সাংবাদিকরা।

    উত্তরে তিনি বলেন, "পদত্যাগ চাইলো বিএনপি, আর ফতোয়া দেবে জামায়াতে ইসলামী। এটা কি মানায়? যারা পদত্যাগ চেয়েছে, তারাই ব্যাখ্যা করবে। আমরা কারও কোনো পদত্যাগ চাইনি।"

    সবশেষে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করে, "সরকার আপনাদের কেন ডেকেছিলো? কী বলতে চায় আপনাদেরকে?"

    উত্তরে তিনি তখন বলেন, "আমাদের ব্যাপার আর বিএনপির ব্যাপার একরকম না। একটু পার্থক্য আছে। আমরা কিন্তু নিজেরাই চেয়েছি। টাইমটা ফিক্স-আপ হয়েছে। দাওয়াত আমরা পেয়েছি, কিন্তু এর আগে আমরাই চেয়েছি এবং আমাদের চাওয়ার প্রেক্ষিতেই আজকে সন্ধ্যা ৬টায় সময় নির্ধারিত হয়েছিলো। কিন্তু আমাদের অন্য একটি দলীয় কর্মসূচির কারণে আমরা চেয়েছিলাম, আমাদেরকে আরও দুই ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

    "উনি শুধু এটুকুই বলেছেন, দেশ আমাদের সবার। আমি (মুহাম্মদ ইউনূস) অবশ্যই একটি অর্থবহ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন দিতে চাই। আমি যেন-তেন কোনো নির্বাচন দিতে চাই না," যোগ করেন জামায়াতের আমির।

    জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান
    ছবির ক্যাপশান, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান
  5. জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে বাদ দেওয়ার লিখিত দাবি জমা দিয়েছে বিএনপি

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপি নেতাদের প্রেস ব্রিফিং
    ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপি নেতাদের প্রেস ব্রিফিং

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দেওয়ার জন্য লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছে বিএনপি।

    তার ভাষ্য, "তাদের পদত্যাগের ব্যাপারে আমরা লিখিত বক্তব্য জানিয়েছি। আগেও জানিয়েছি। নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও দুই জন ছাত্র উপদেষ্টা, যাদের কারণে এই সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তাদেরকে বাদ দেওয়ার জন্য আজকেও আমরা লিখিত বক্তব্য দিয়েছি।"

    কোনো আশ্বাস পেয়েছেন কিনা এ ব্যাপারে? সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "তা উনারা দেখবেন। আমরা আমাদের বক্তব্য দিয়েছি।"

    এর আগে, বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি নেতাদেরকে সাক্ষাৎ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। "কিন্তু আলোচনার বিষয়বস্তু আমাদেরকে আগে জানানো হয়নি।"

    তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি যা 'আন্দাজ' করতে পেরেছিলো, তার ওপর ভিত্তি করে তারা একটি লিখিত বক্তব্য নিয়ে এসে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করেন এবং সেই ভিত্তিতেই আলোচনা হয়।

    ওই লিখিত বক্তব্যের সারাংশ সাংবাদিকদের পড়ে শোনান খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র উত্তরণের লক্ষ্যে বিএনপি নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করে আসছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে "বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের জন্য দাবি" জানিয়েছে।

    বিএনপি'র নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের আমলে রাজনৈতিকভাবে কিংবা পারিবারিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই, আ'লীগের বিচার সবচেয়ে বেশি দাবি করে বিএনপি — বলা হয় ওই বক্তব্যে।

    "সুতরাং, বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে স্বাধীন বিচার বিভাগের মাধ্যমে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হয়।"

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি নেতারা

    ছবির উৎস, CA PRESS WING

    ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি নেতারা

    নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যক্রম অবিলম্বে সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মাঝে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অতিদ্রুত একটি রোডম্যাপ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে দলটি। কারণ, এই সরকারের মূল দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন।

    "যেকোনো উছিলায় নির্বাচন যত বিলম্ব করা হবে, আমরা মনে করি, জাতির কাছে আবার স্বৈরাচার ফিরে আসার ক্ষেত্রে প্রস্তুত হবে। এর দায়-দায়িত্ব বর্তমান সরকার ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্টদের ওপর বর্তাবে।"

    এরপর মি. হোসেন লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী বলেন, "বিএনপি কখনোই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায়নি। বরং, প্রথমদিন থেকেই এই সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে।"

    এরপর তাকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করে যে তারা সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের আশ্বাস পেয়েছে কিনা।

    এর সরাসরি উত্তর দেননি মি. হোসেন। বরং, একই প্রশ্নের উত্তরে পাশ থেকে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, "স্পেসিফিক কোনো কথা হয় নাই। উনি স্পেসিফিক জানান নাই। আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি।"

    আজকের আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এখনই প্রতিক্রিয়া জানানোর দরকার নাই। ওনাদের প্রেস সেকশন কী বলে- তারপর আমরা প্রতিক্রিয়া জানাবো।"

    এর আগে, মি. হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, "আলোচনার মাঝে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন এসেছে। আমরা বলেছি, একটার সাথে আরেকটির কোনো সম্পর্ক নাই। কারণ সংস্কার চলমান বিষয়। এটা চলতে থাকবে।"

    "আমরা আশা করেছি, এই সরকার সকলের সাথে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা সংস্কার প্রস্তাব দেবে, যা চলমান থাকবে। ভবিষ্যতে যদি জনগণ আমাদেরকে ক্ষমতায় বসায়, আমরা সেই সংস্কার বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা করবো।"

    মামলাগুলোর ব্যাপারে তার বক্তব্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি "বিক্ষুব্ধ"। তারা এই "স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট সরকারের" কর্তা-ব্যক্তিদের এবং দায়ীদের বিচার চায়। অর্থাৎ, বিএনপি বিচারের পক্ষে। তবে বিচার ব্যবস্থাও স্বাধীন হতে হবে।

    তাই, বিচারের জন্য "কোনো দিন-তারিখ ঠিক করে দেওয়া সম্ভব নয়" জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা বলেছি, যেগুলো সম্পন্ন না হবে, বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন করা হবে।"

    বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

    ছবির উৎস, CA PRESS WING

    ছবির ক্যাপশান, বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

    বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেন যে তারা তিনটি বিষয়ে আলোচনা করেছেন। "ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কাজ অতিদ্রুত করা সম্ভব, এখানে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি। বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে যে আলোচনা হয়েছে, এখানেও কোনো দ্বিমত নাই। ডিসেম্বরের আগেও নির্বাচন করা সম্ভব, এই আলোচনাও হয়েছে এখানে," যোগ করেন তিনি।

    সবশেষে আরেক বিএনপি নেতা আব্দুল মঈন খান বলেন, "সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন– দে আর মিউচ্যুয়ালি এক্সক্লুসিভ। একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক নেই। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলেছি– যদি দ্রুত নির্বাচন দেওয়া হয়, আজকে বাংলাদেশে যে নৈরাজ্য হচ্ছে, এক অ্যানাউন্সমেন্টের ফলশ্রুতিতে দেশে শান্তি ফিরে আসবে।"

  6. 'বিএনপি কখনোই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায়নি'

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন
    ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের দলটির প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিএনপি কখনোই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায়নি।

    আজ শনিবার রাত ৯টার একটু আগে যমুনার সামনে কথা বলেন বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপির চার নেতা।

    বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিয়েছেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, উনি স্পেসিফিক কিছু জানান নাই। আমরা দাবি জানিয়েছি।

    সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন এই তিনটা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

    বিএনপি নেতারা জানান, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে বাদ দেওয়ার জন্য আজকেও তারা লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন।

  7. বৈঠকে অংশ নিতে যমুনায় এসেছেন এনসিপি নেতারা

    যমুনায় এনসিপি নেতা তাসনিম জারা, নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আরিফুল ইসলাম আদীব
    ছবির ক্যাপশান, যমুনায় এনসিপি নেতা তাসনিম জারা, নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আরিফুল ইসলাম আদীব

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এসেছেন নবগঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি'র নেতারা।

    এই দলের সাথে প্রধান উপদেষ্টার আজ রাত সাড়ে ৮টায় বৈঠক হওয়ার কথা।

    দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলোটির প্রতিনিধি হিসেবে আরও এসেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।

  8. জামায়াতের আমিরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল যমুনায়

    জামায়াতের আমিরের নেতৃত্বে দলটির প্রতিনিধি দল যমুনায় পৌঁছেছে
    ছবির ক্যাপশান, জামায়াতের আমিরের নেতৃত্বে দলটির প্রতিনিধি দল যমুনায় পৌঁছেছে

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পৌঁছেছে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটির প্রতিনিধি দল।

    বিএনপি'র সাথে বৈঠক শেষে আজ রাত ৮টা থেকে জামায়াতের সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হওয়ার কথা।

    জামায়াতের সাথে বৈঠক শেষে আজ রাত সাড়ে ৮টায় জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি'র সঙ্গেও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

  9. প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি নেতারা

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি নেতারা

    ছবির উৎস, Shafiqul Alam

    ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করছেন বিএনপি নেতারা

    রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করছে বিএনপির প্রতিনিধি দল।

    সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দিকে বৈঠক শুরু হয়।

    এতে বিএনপির হয়ে অংশ নিচ্ছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এদিন সন্ধ্যা ৭টায়, কিন্তু পরে তা পিছিয়ে সাড়ে ৭টায় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    আজ রাতে জামায়াতে ইসলামী ও নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সঙ্গেও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

  10. প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করতে যমুনায় বিএনপি নেতারা

    বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ যমুনায় এসেছেন
    ছবির ক্যাপশান, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ যমুনায় এসেছেন

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পৌঁছেছেন।

    বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

    অন্যরা হলেন— খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    সাড়ে ৭টায় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা।

  11. আজ যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপি'রও বৈঠক

    আজ ২৪শে মে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার প্রাঙ্গণ
    ছবির ক্যাপশান, আজ রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা

    বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি'র সাথে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আজ রাতেই বৈঠক হওয়ার কথা তার।

    একই দিনে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি'র সঙ্গেও যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের কথা শোনা যাচ্ছে।

    এনসিপি'র যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলের আহ্বায়্ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

    বিএনপির সঙ্গে প্রথমে সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। পরে তা পিছিয়ে সাড়ে ৭টায় নেওয়া হয়।

    জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাত ৮টায় প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।

  12. যমুনায় সাড়ে সাতটায় বিএনপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

    রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা
    ছবির ক্যাপশান, আজ ২৪শে মে বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার প্রাঙ্গণ

    রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি'র সাথে প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক করবেন আজ।

    সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় যমুনার সামনে থেকে বিবিসি'র সংবাদদাতা জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই বিএনপি নেতারা আসবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এদিন সন্ধ্যা ৭টায়, কিন্তু পরে তা পিছিয়ে সাড়ে ৭টায় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  13. চার দাবিতে এনবিআরের সব অফিসে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি

    চার দাবিতে এনবিআরের সব অফিসে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি
    ছবির ক্যাপশান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন

    চার দাবিতে সব অফিসে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকার এনবিআর প্রধান কার্যালয়ে নিচে 'এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের' ব্যানারে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের কর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

    এই কর্মসূচি ঢাকার বাইরে এনবিআর-এর আওতাধীন সব অফিসে চলছে বলেও জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

    এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনবিআরে পুলিশ, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

    এনবিআর-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চার দাবি হলো— জারিকৃত অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে; অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে; রাজস্ব সংস্কার বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত খসড়া এবং পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আলোচনা-পর্যালোচনা করে বিভিন্ন সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে উপযুক্ত ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

    চার দাবিতে এনবিআরের সব অফিসে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি
    ছবির ক্যাপশান, চার দাবিতে এনবিআরের কর্মীদের কর্মবিরতি
    এনবিআরের কর্মীদের কর্মবিরতি
    ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় এনবিআরের কর্মীদের কর্মবিরতি
  14. সরকারের দায়িত্ব পালন অসম্ভব করে তোলা হলে সব কারণ জনসমক্ষে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত: উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতি

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

    ছবির উৎস, Chief Adviser’s Press Wing

    ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

    "যদি পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের উপর আরোপিত দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হয়, তবে সরকার সকল কারণ জনসমক্ষে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে"- উপদেষ্টা পরিষদের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই বিবৃতি প্রকাশ করে।

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর এলাকায় পরিকল্পনা কমিশনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    ‘উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতি’ শিরোনামের এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে––“আজ শনিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে উপদেষ্টা পরিষদের এক অনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর অর্পিত তিনটি প্রধান দায়িত্ব (নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।”

    বিবৃতিতে জানানো হয়, “এসব দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অযৌক্তিক দাবি দাওয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও এখতিয়ার বহির্ভূত বক্তব্য এবং কর্মসূচি দিয়ে যেভাবে স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করে তোলা হচ্ছে এবং জনমনে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে।”

    “দেশকে স্থিতিশীল রাখতে, নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে এবং চিরতরে এদেশে স্বৈরাচারের আগমন প্রতিহত করতে বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন বলে মনে করে উপদেষ্টা পরিষদ।”

    এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য শুনবে এবং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবে–– বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

    “শত বাধার মাঝেও গোষ্ঠীস্বার্থকে উপেক্ষা করে অন্তর্বর্তী সরকার তার উপর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যদি পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের উপর আরোপিত দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হয়, তবে সরকার সকল কারণ জনসমক্ষে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।”

    “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে। কিন্তু সরকারের স্বকীয়তা, সংস্কার উদ্যোগ, বিচার প্রক্রিয়া, সুষ্ঠু নির্বাচন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ড অর্পিত দায়িত্ব পালন করাকে অসম্ভব করে তুললে সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে,” বলা হয় এতে।

  15. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে 'মার্চ ফর ইউনূস'

    মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ

    ছবির উৎস, Collected

    ছবির ক্যাপশান, মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সামনে 'মার্চ ফর ইউনূস' কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার পাশাপাশি জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।

    তাদের আরও তিনটি দাবি আছে। সেগুলো হলো- সংবিধান সংস্কার, 'জুলাই গণহত্যাকারী' আওয়ামী লীগের বিচার সম্পন্ন এবং ড. ইউনূসকে পাঁচ বছর সময় দেওয়া।

    শাহবাগের ওই অবস্থান কর্মসূচি থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলা হয়, "আপনারা আলোচনা করুন, বসুন, সময় নিন। প্রয়োজনে যেন বিতর্কিত রাষ্ট্রপতিকে দ্রুত সময়ে অপসারণ করে ড. ইউনূস স্যারকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করে একটা শক্তিশালী সরকার গঠন করুন, যেখানে আওয়ামী লীগের বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর আমাদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকল নির্যাতিত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সরকার চাই।"

    এসময় তারা "ইউনূস তুমি ঐক্য করো, বাংলাদেশ রক্ষা করো" শীর্ষক স্লোগানও দেন।

    শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, "ইনকিবাল মঞ্চের লোকজন এই সমাবেশ করছে। অল্প কিছু লোকজন আছে।"

    মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ
    ছবির ক্যাপশান, মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ
  16. পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের হেফাজত থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরলেন বিএসএফ জওয়ান

    মি. সাউ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।

    ছবির উৎস, ANI

    ছবির ক্যাপশান, মি. সাউ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।

    পহেলগামে পর্যটকদের নিশানা করে চালানো হামলার পরপরই পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের কাছ থেকে পাকিস্তানি রেঞ্জার্সদের হাতে আটক হয়েছিলেন বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউ। পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার রিষড়ার বাসিন্দা তিনি।

    পহেলগাম হামলাকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার আবহে অসাবধানতাবশত তিনি আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ।

    দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পর, গত ১৪ মে আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে তাকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয় পাক রেঞ্জার্স।

    শুক্রবার বাড়ি ফেরার পর পরিবার-পরিজনদের মাঝে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বার্তা সংস্থা এএনআই-কে পূর্ণম কুমার সাউ বলেন, “বাড়ি ফিরে ভাল লাগছে। বাবা-মাকে নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম তাই তাদের সঙ্গে… পরিবারের সমস্ত সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”

    “অপারেশন সিন্দুরের সময় আমি ওখানে (পাকিস্তানের হেফাজতে) ছিলাম। আমার বাবা-মাও খুবই চিন্তিত ছিলেন। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে ভালো লাগছে।”

  17. প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সাথে থাকছেন: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

    উপদেষ্টাদের বৈঠক

    ছবির উৎস, CA Press Wing

    ছবির ক্যাপশান, উপদেষ্টাদের বৈঠক

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে দু'দিন ধরে যে জল্পনা-কল্পনা চলছিলো, সেটি নাকচ করে দিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

    আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের ‘অনির্ধারিত বৈঠক’ শেষে তিনি বলেন, “উনি তো চলে যাবেন- বলেননি। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন উনি আমাদের সাথে থাকছেন, অন্য উপদেষ্টারাও থাকছেন। আমরা যে কাজ করছি, আমাদের ওপরে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে দায়িত্ব পালনে অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে; কিন্তু আমরা সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আমাদের অর্পিত দায়িত্ব, এটা তো বড় দায়িত্ব, এটার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ, বহু বছরের ভবিষ্যৎ, এ দায়িত্ব ছেড়ে তো আমরা যেতে পারব না।”

    দায়িত্ব পালনে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আসছে, আজকের বৈঠকে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে কী প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, কার কী প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সংস্কার কাজ আমরা এগিয়ে নিতে গেলে কী হচ্ছে, সেগুলো আমরা দেখছি।”

    পরিকল্পনা উপদেষ্টাসহ কয়েকজন উপদেষ্টার পদত্যাগের জন্য বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ''আমি জানতে চেয়েছি, এটা কি দলীয়ভাবে এরকম কথা বলা হয়েছে কিনা? মনে হচ্ছে, আমাকে জানানো হবে, এটা দলীয় কোনও মতামত নয়। যদি দলীয় কোনও মতামত হতো, তাহলে...এই সরকার তো সকল গণঅভ্যুত্থানের সকল শক্তির সমর্থনে এই সরকার এসেছে। সেখানে কোনও বিতর্ক সৃষ্টি হোক কাউকে নিয়ে, সেটা তো সমীচীন হবে না।''

    ''সেরকম কিছু হলে আমরা তো কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে এখানে আসিনি, এই দায়িত্ব খুব উপভোগ্য দায়িত্ব না, সেরকম হলে আমরা যেকেউ পদত্যাগ করতে পারতাম। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে, আসলে দলীয়ভাবে এমন কোনও কথা আসেনি, বরং উল্টোটাই হবে,'' তিনি বলেন।

    এদিকে গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই 'অনির্ধারিত বৈঠক' চলাকালীন 'জরুরি কাজ আছে' বলে বেরিয়ে যান পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার বেরিয়ে যাওয়ার পরপর উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকেও বের হতে দেখা গেছে বলে জানা যায়।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজকের বৈঠকে ১৯ জন উপদেষ্টা অংশ নেন।

  18. সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে জাতিসংঘে যা বলল ভারত

    জাতিসংঘের বৈঠকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়

    ছবির উৎস, ANI

    ছবির ক্যাপশান, জাতিসংঘের বৈঠকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে তোলা পাকিস্তানের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ।

    জাতিসংঘের এক বৈঠকে শুক্রবার তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভারত বরাবরই দায়িত্বশীল আচরণ করে এসেছে।”

    “ভারত ৬৫ বছর আগে সদিচ্ছা ও বিশ্বাসকে ভিত্তি করে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এর মূলে ছিল সদিচ্ছা ও বন্ধুত্বের চেতনা। কিন্তু গত ছয় দশকে পাকিস্তান তিনটে যুদ্ধ এবং হাজার হাজার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে পাকিস্তান সেই মূল চেতনাকে লঙ্ঘন করেছে।”

    তিনি জানিয়েছেন, গত চার দশকে ভারতে ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত মাসে পহেলগাম হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়।

    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্লোভেনিয়ার স্থায়ী মিশন দ্বারা আয়োজিত ‘সশস্ত্র সংঘাতের আবহে জল সুরক্ষা ও বেসামরিক জীবনের নিরাপত্তা’ শীর্ষক বৈঠকে ভারতের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    গত ২২শে এপ্রিল পহেলগামে নিরীহ পর্যটকদের নিশানা করে চালানো হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে ভারত।

  19. 'কোথায় সংকট, আমি কোনও সংকট দেখি না,' পদত্যাগ ইস্যুতে বিএনপি নেতা আমির খসরু

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
    ছবির ক্যাপশান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

    বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন ডিসেম্বরে কেন, তার আগেও হতে পারে।

    ''এখন মুখ্য বিষয় হলো কীভাবে দ্রুত সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাবে বাংলাদেশ। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ হবে যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হবে- এটাই মুখ্য বিষয়,” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলছিলেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ ভাবনা ইস্যুর কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, এগুলো আলোচনার কোন বিষয় নয়। ''কোথায় সংকট। আমি কোনও সংকট দেখি না,'' বলেছেন তিনি।

  20. জুলাই সনদ, বিচার ও সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান এনসিপির

    এনসিপির প্রেস ব্রিফিং
    ছবির ক্যাপশান, এনসিপির প্রেস ব্রিফিং

    জুলাই ঘোষণাপত্র, বিচার-সংস্কার ও নির্বাচনি রোডম্যাপ একত্রে প্রকাশ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। সেই সাথে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তাদের যে কাজ সেটাই যেন তারা পালন করেন।

    শনিবার ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, ''আমরা মনে করি, এই অন্তর্বতী সরকার একটি গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছে।, ফলে সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। শুধু নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং জুলাই গণহত্যাসহ বিগত সময়ের অপরাধসমূহের বিচার, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার মধ্য দিয়েই সরকারকে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।''

    ''তাই আমাদের আহ্বান থাকবে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্বে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সকল পক্ষের সাথে আলোচনা করে একটি সমাধানের দিকে যাবেন। আমরা মনে করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র, বিচার-সংস্কার এবং নির্বাচন, এই তিনটির রোডম্যাপ একত্রে প্রকাশ করা উচিত। তাহলে জনমনে এবং সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও আস্থার জায়গা তৈরি হবে,'' বলেছেন নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, ''তাই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, জুলাই সনদ, বিচার-সংস্কার ও নির্বাচনি রোডম্যাপ একত্রে ঘোষণা করা। সবার সাথে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু সমাধানের দিকে যাওয়া। পাশাপাশি আমাদের রাজনৈতিক দলের সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।''

    সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ''সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ৬২৬ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেটা আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছিলাম। এই তালিকা যদি আরও আগে প্রকাশ করা হতো, যেহেতু এটা অগাস্ট মাসের ঘটনা, তাহলে জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের সন্দেহ আর শঙ্কা তৈরি হতো না। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সুযোগ পেতো না।''

    ''আমরা চাই, সেনাবাহিনী সার্বভৌমত্বের প্রতি, গণঅভ্যুত্থানের প্রতি যে ভূমিকা পালন করছে, সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সাথে আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময় দেখেছি, সেনাবাহিনীর সাথে একটা রাজনৈতিক সম্পর্ক কখনো কখনো তৈরি হয়, আমরা ওয়ান ইলেভেনের ঘটনা জানি।''

    ''এসব ঘটনা কিন্তু আমাদের গণতন্ত্রের জন্য, আমাদের রাষ্ট্রেের জন্য, সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কারও জন্যই ভালো ফলাফল নিয়ে আসেনি। সেই বিষয়টা যেন আমরা সকলেই বিবেচনা করি। যার যেটা কাজ, যেটা দায়িত্ব, সেটাই যাতে সে পালন করে।''

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ''বিগত আমলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছে। আমলাতন্ত্র, পুলিশ, সেনাবাহিনী- তাদের দিয়ে নানারকম মানবতাবিরোধী কাজের অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান, এই সময়ে এসে একটা বিচারের মধ্য দিয়ে যারা অভিযুক্ত তাদের শায়েস্তা করবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে, এটা আমাদের প্রত্যাশা।''

    ''গুমের অভিযোগ যেসকল সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রেফতার হয়নি। তাদের অবস্থান কী, সেটা আমরা এখনো জানি না। সুতরাং এই বিষয়গুলো সুস্পষ্ট করলে সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠান হিসাবে আরও বেশি জনগণের আস্থার জায়গা পাবে। আমরা সেই আস্থার জায়গা সেনাবাহিনীকে দিতে চাই।''

    সম্প্রতি ইশরাক হোসেনের ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে বিএনপি ও এনসিপি অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে। সেই প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ না করলেও স্থানীয় সরকার নিয়ে কথা বলেছেন নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, ''এছাড়া আওয়ামী আমলের যে নির্বাচনগুলো আদালতে গিয়ে একধরনের বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা একপ্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। সেটা নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে যাওয়া উচিত।''

    সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে এনসিপি। সেই প্রসঙ্গ নাহিদ ইসলাম বলেন, ''নির্বাচন কমিশনের যে নিরপেক্ষতা, আস্থা সেটা তারা হারিয়েছে বলে আমরা মনে করি। নির্বাচন কমিশন আস্থার জায়গা ধরে রাখতে না পারলে তাদের পক্ষে একটা সুস্থ নির্বাচন দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে নির্বাচন কমিশনকে সেই আস্থার জায়গায় আসার চেষ্টা করতে হবে, অথবা তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।''

    যে দু্ই ছাত্র উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারে রয়েছে, তাদের সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।