বন্যায় মৃত্যু ৩১ জনের, শেখ হাসিনার নামে আরও তিন হত্যা মামলা, জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বাতিল
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রকৃতচিত্র তুলে ধরতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত। এস আলমের সম্পদ না কেনার পরামর্শ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের। নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সাবেক তিন প্রধান বিচারপতিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা।
সার সংক্ষেপ
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১, ক্ষতিগ্রস্ত ৫৮ লাখ মানুষ
নেপালকে হারিয়ে প্রথমবার সাফ অনূর্ধ্ব–২০ শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ
এস আলমের সম্পদ না কেনার পরামর্শ গভর্নরের
সাবেক তিন প্রধান বিচারপতিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা
অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়নে কমিটি গঠন
সরাসরি কভারেজ
বুধবার সারাদিন যা ঘটেছে:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য অন্তর্বতী সরকার কাজ শুরু করেছে। সেইসঙ্গে, বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চেয়ে সরকার ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারে অভিযুক্ত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের যাবতীয় সম্পদ জব্দের পর নিলামে তুলে বিক্রি করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে চায় সরকার। সেজন্য গোষ্ঠীটির কোনো সম্পদ এখন না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বন্যায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বন্যা আক্রান্ত ১১ জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়ালো। অন্যদিকে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৮ লাখ ছাড়িয়েছে।
শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রকৃতচিত্র তুলে ধরতে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে প্রধান করে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বুধবার আরও তিনটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন 'অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসে'র (আসিয়ান) সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস।
সাবেক তিন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলা করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। অন্যদিকে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধেও আরেকটি মামলা হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দায়িত্ব পালন করা সকল সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন মন্ত্রণালয়। নতুন করে ১৬১ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে এবং ৬৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সব সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, বুধবার দু'টি আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দায়িত্ব পালন করা সকল সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
নতুন করে ১৬১ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
একইভাবে, নয়জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাদে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন মন্ত্রনালয়। একইসাথে ৬৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বুধবার এ বিষয়ে দু'টি আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সচিবদের নিজ আওতাধীন কোম্পানির চেয়ারম্যান থাকা উচিত নয় : জ্বালানি উপদেষ্টা
ছবির উৎস, BSS
ছবির ক্যাপশান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, সচিবদের নিজের আওতাধীন কোনো কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে থাকা উচিত নয়।
"এতে স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটে। ভবিষ্যতে কোনো সচিব যাতে নিজের আওতাধীন কোনো কোম্পানির চেয়ারম্যান না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। কোম্পানি গুলোতে ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে," বুধবার পেট্রোবাংলায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেন মি. খান।
এছাড়া জ্বালানি খাতে যেসব অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনে কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
'ফ্রান্স অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত'
ছবির উৎস, BSS
ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত ম্যারি মাসদুপুই
বাংলাদেশ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ফ্রান্স অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত ম্যারি মাসদুপুই।
বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মিজ মাসদুপুই এ কথা জানিয়েছেন বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে।
ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে খবরে আরও বলা হয়েছে যে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকেফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
মিজ মাসদুপুই বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
এসময় অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ছাত্রদের নেতৃত্বে সংগঠিত গণবিপ্লব অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশ পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।
"দেশ পুনর্গঠন একটি বড় কাজ। তবে আমরা এটিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছি। যদি আমরা এই সুযোগ ব্যবহার করতে না পারি, তাহলে এটি আমাদের জন্য বড় ব্যর্থতা হবে," বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।
ফ্রান্সের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তিনটি সৌর পার্ক স্থাপন এবং দেশে ১৫টি বজ্রপাতপ্রবণ জেলায় ‘বজ্রপাত নিরোধক’ স্থাপনে আগ্রহী বলেও তিনি জানিয়েছেন।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার, বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চেয়ে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার অন্তর্বতী সরকার কাজ শুরু করেছে।
'অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা' নামে-বেনামে কে কত টাকা ঋণ আত্মসাৎ করেছে, সেটি খতিয়ে দেখো হচ্ছে।
একই সঙ্গে, বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চেয়ে সরকার ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় বার্তা সংস্থা 'বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা' (বাসস)।
"কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং তা বিদেশে পাচার করেছেন, যার সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলমান," খবরে বলা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, "ব্যাংকসমূহের নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইউই, সিআইডি ও দুদকের সহায়তা নিয়ে আত্মসাৎকারীদের স্থানীয় সম্পদ অধিগ্রহণ ও বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে।"
শিগগিরই ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে খবরে বলা হয়েছে, কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যাংকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করবে এবং ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনের জন্য ছয়মাসের মধ্যে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করবে।
দেশে-বিদেশে পাচার ও আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যাপক ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
শেখ হাসিনার নামে আরও তিনটি হত্যা মামলা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ এবং সায়মা ওয়াজেদকেও আসামি করা হয়েছে
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, শেখ হাসিনাকে আসামি করে গত তিন সপ্তাহে আরও অর্ধ-শতাধিক মামলা হতে দেখা গেছে
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বুধবার আরও তিনটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসব মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে।
একই সঙ্গে আসামি করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি'র তৎকালীন মহাপরিচালকদের।
নতুন তিনটি মামলার দু'টিই হয়েছে ঢাকার খিলগাঁও থানায়।
এর মধ্যে একটি মামলা করেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় খিলগাঁও এলাকায় নিহত মুদি দোকানী মিজানুর রহমানের বাবা কামাল হোসেন।
একই থানায় আরেকটি মামলা করেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত কিশোর আশিকুল ইসলামের মা আরিশা আফরোজ।
অন্যদিকে, তৃতীয় মামলাটি দায়ের হয়েছে সাভারের আশুলিয়া থানায়। মামলার বাদী হয়েছেন ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে প্রাণ হারানো আশুলিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন সজলের ভাই মিজানুর রহমান।
গত তিন সপ্তাহে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আসামি করে আরও অর্ধ-শতাধিক মামলা হতে দেখা গেছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি গণহত্যার মামলাও রয়েছে।
অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়নে ড. দেবপ্রিয়কে প্রধান করে কমিটি গঠন, তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন
ছবির উৎস, CPD
ছবির ক্যাপশান, অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রকৃতচিত্র তুলে ধরতে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
কমিটির প্রধান করা হয়েছে অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে।
বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের অনুমোদনক্রমে মি. ভট্টাচার্য শ্বেতপত্র কমিটির বাকি সদস্যদের মনোনিত করবেন বলে প্রজ্ঞোপনে জানানো হয়েছে।
আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে তাদের সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত সপ্তাহে অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রকাশে কমিটি গঠন করা হবে বলে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
শ্বেতপত্রে দেশের বিদ্যমান অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র থাকার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়ে সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপ, জাতিসংঘের টেকসই অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন ও স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে করণীয় ইত্যাদি বিষয়ের প্রতিফলন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা অবৈতনিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিকল্পনা কমিশন কমপ্লেক্সের কোনো একটি ভবনে হবে কমিটির দপ্তর। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।
সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর প্রস্তাবিত কমিটির চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসিয়ানের সদস্য হতে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন 'অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসে'র (আসিয়ান) সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ ইউনূস।
বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ হাশিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এই আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
আসিয়ান ও সার্কের মধ্যে বাংলাদেশ সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে বলেও জানান ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার এই বার্তা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন হাইকমিশনার মিজ হাশিম।
উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়া আসিয়ানের পরবর্তী 'চেয়ার' তথা নেতা হতে যাচ্ছে।
মালয়েশিয়া ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার।
"আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি। আপনাকে শুভ কামনা জানাই," বলেন মিজ হাশিম।
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১, ক্ষতিগ্রস্ত ৫৮ লাখ মানুষ
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৮ লাখ ছাড়িয়েছে
অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পানির ঢলে বাংলাদেশে সৃষ্টি হওয়া বন্যায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বন্যা আক্রান্ত ১১ জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়ালো।
অন্যদিকে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৮ লাখ ছাড়িয়েছে। এর আগে, মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৬ লাখ ১৯ হাজার বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রণালয়টির কর্মকর্তারা।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা।
তিনি জানান, বন্যায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে কুমিল্লায়। জেলাটিতে সবমিলিয়ে মারা গেছেন ১২ জন।
এছাড়া চট্টগ্রামে পাঁচজন, নোয়াখালীতে ছয়জন, কক্সবাজারে তিনজন, ফেনীতে দুইজন, খাগড়াছড়িতে একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন এবং লক্ষ্মীপুরে একজন জন মারা গেছেন।
এর বাইরে, মৌলভীবাজারে দু'জন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মি. রেজা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এখনো ১২ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৪টি পরিবার পানিবন্দী আছে। মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিলো ১২ লাখ সাত হাজার ৪২৯টি।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৭৩৪ জন, যা মঙ্গলবারে ছিলো ৫৬ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৫ জন।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্রে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার পাঁচশ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া প্রায় ৪০ হাজার গবাদিপশুকেও আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বুধবার কাঠমান্ডুর কাছেই অবস্থিত ললিতপুরের আনফা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত ম্যাচে নেপালকে ০৪-০১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা।
সাফের বয়সভিত্তিক অন্যসব প্রতিযোগিতায় শিরোপা জেতা হলেও এতদিন অনূর্ধ্ব-২০ এর ট্রফি অধরাই ছিলো বাংলাদেশের।
শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন মিরাজুল ইসলাম। এছাড়া রাব্বি হোসেন এবং পিয়াস আহমেদ একটি করে গোলে বাংলাদেশকে বিজয়ী করেন।
এর আগে, ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হয়েছিলো বাংলাদেশ।
এস আলমের সম্পদ না কেনার পরামর্শ গভর্নরের
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর
ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারে অভিযুক্ত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের যাবতীয় সম্পদ জব্দের পর নিলামে তুলে বিক্রি করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিয়ে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
সেজন্য গোষ্ঠীটির কোনো সম্পদ এখন না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
"এই গ্রুপের সম্পদ যেন কেউ না কেনে। সেটা নিয়ে হয়তো লিগ্যাল চ্যালেঞ্জ হবে। আমি বলবো, দেশের স্বার্থেই ওই সম্পদে যেন কেউ হাত না দেয়," বুধবার দুপুরে ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন গভর্নর মি. মনসুর।
তিনি আরও বলেন, "এই সম্পদগুলো আমাদের ডিপোজিটরদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্যই আমরা ব্যবহার করতে চাই।"
রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এস আলম গ্রুপ যেভাবে 'ব্যাংকলুট' করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে সেটি নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন গভর্নর।
"সিস্টেমেটিক ওয়েতে ব্যাংকলুট করা এরকমভাবে এবং বিস্তৃত আকারে এত সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে অন্য কোথাও আমি শুনি নাই," সাংবাদিকদের বলেন মি. মনসুর।
ব্যাংকিংখাতের দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
"অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হবে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না," বলেন মি. মনসুর।
উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে।
গত দেড় দশকে গ্রুপটি সরকারি-বেসরকারি সাতটিরও বেশি ব্যাংক থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ জালিয়াতি করেছে বলে বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এসব অর্থের বেশিরভাগই আবার দেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে ওএসডি, নতুন জ্যেষ্ঠ সচিব হলেন আওয়ামী লীগ আমলে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো মোখলেসুর রহমান
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
তার জায়গায় দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো মো. মোখলেসুর রহমানকে। ২০১৫ সালে অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাকে অবসর দেওয়া হয়েছিল।
মি. চৌধুরীকে ওএসডি করা এবং মি. রহমানকে অবসর থেকে ফিরিয়ে জ্যেষ্ঠ সচিবের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে বুধবার দু'টি আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিরোধীদের হুঁশিয়ার করতে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টানলেন মমতা ব্যানার্জী, 'কেউ কেউ মনে করছেন এটা বাংলাদেশ'
কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে তরুণী
চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত নয়ই আগস্ট থেকে যে উত্তপ্ত
পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেই সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে আরও একবার বাংলাদেশের প্রসঙ্গ
টেনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে এই আন্দোলন
যার আগুন অন্যদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে, এটির সঙ্গে অনেকেই তুলনা করেছেন বাংলাদেশের
সাম্প্রতিক আন্দোলনের।
বুধবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা
দিবসের অনুষ্ঠানে আরজি করের ঘটনা, বুধবার ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’-এর ডাকা
নবান্ন অভিযান এবং তাতে বিজেপির ইন্ধন থাকার অভিযোগসহ একাধিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন
মমতা ব্যানার্জী।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রতিবাদের আড়ালে বিজেপি রাজনৈতিকষড়যন্ত্র করতে চাইছে।
তাই তদন্তের অগ্রগতির উপর জোর না দিয়ে, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা না চেয়ে তার
পদত্যাগ দাবি করছে।
অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জী বলেন, “কেউ কেউ মনে করছেন
এটা বাংলাদেশ। আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি কারণ ওরা আমদের মতো কথা বলে। ওদের সংস্কৃতি
আমাদের সংস্কৃতি এক। কিন্তু মনে রাখবেন বাংলাদেশ একটা আলাদা রাষ্ট্র, ভারতবর্ষ আলাদা
রাষ্ট্র।”
এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে
হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “মোদী বাবু আপনার দলকে দিয়ে আগুন লাগাচ্ছেন? মনে রাখবেন বাংলায়
যদি আগুন লাগান তাহলে আসামও থেমে থাকবে না, উত্তর-পূর্বাঞ্চলও থেমে থাকবে না।
উত্তরপ্রদেশ, বিহার, উড়িষ্যা, ঝাড়খণ্ডও থেমে থাকবে না। আর দিল্লিও থেমে থাকবে না। আপনার
চেয়ার আমরা টলোমলো করে দেব।”
ছবির উৎস, AITC/FACEBOOK
ছবির ক্যাপশান, মমতা ব্যানার্জী।
এমন কোনও মামলা দিবেন না, যাতে সারবস্তু থাকবে না: মির্জা ফখরুল, 'এই সরকারকে আমরা যৌক্তিক সময় দিতে চাই'
অন্তর্বর্তী সরকারকে যৌক্তিক সময় দেয়ার কথা ও সারবস্তু ছাড়া মামলা না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, “এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।”
বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন যে সরকার ও প্রশাসনের সাথে সহযোগিতা না করলে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হবে না।
“অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। সরকারকে সহযোগিতা না করলে কিন্তু সেটা হবে না। মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধির পার্লামেন্ট ছাড়া কোনও সমস্যার সমাধান হয় না। এই সরকারকে আমরা যৌক্তিক সময় দিতে চাই,” বলেন তিনি।
এসময় তিনি ঢালাওভাবে যেসব মামলা দায়ের করা হচ্ছে, সে ব্যাপারেও কথা বলেন।
“ঢালাও মামলা দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ, মামলাগুলো নেওয়ার আগে যাচাই কবেন। এমন কোনও মামলা দিবেন না, যাতে সারবস্তু থাকবে না।”
দেশে বিভিন্ন লুটপাটের ঘটনার দায় বিএনপির না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, কোনোরকম দুর্বৃত্তায়নের সাথে বিএনপি বা বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়িত নয়।”
“বিএনপির বিরুদ্ধে ফের পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত হচ্ছে। অথচ গত ১৫ বছরে বিএনপির প্রত্যেকটি নেতাকর্মী নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার। মিথ্যা মামলায় জর্জরিত। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করা হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশান্তরিত করা হয়েছে। এমন কোনও নেতাকর্মী নেই যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়নি।”
জামায়াত-শিবিরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, “আমরা কোনও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নই।”
আদালতে যাওয়ার সময় কাউকে আক্রমণ করা উচিৎ না: আসিফ নজরুল
“আদালত চত্বরে যে হামলা হচ্ছে, এটা কোনও অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য না। আদালতে যাওয়ার সময় আক্রমণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য না। কিন্তু আপনারা প্রেক্ষাপটটা বুঝবেন।”
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
বিদায়ী সরকারের বিভিন্ন নেতাকর্মীকে আদালতে নেওয়ার সময় তাদের ওপর ডিম ছুড়ে মারাসহ নানা ধরনের আক্রমণ হয়েছে। সে প্রসঙ্গে মি. নজরুল বলেন, “মন্ত্রিসভার সাথে থাকা লোকগুলোকে জনগণের শত্রূতে রূপান্তর করার দায়ভার সাবেক সরকারের। তারা এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে গেছে, জনরোষে পরিণত হয়েছে।”
“আদালত চত্বরে অনেক বিক্ষুব্ধ মানুষ থাকে। যারা ১৫ বছরে চাকরি হারিয়েছে, জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে, জীবিকা হারিয়ে ঢাকা শহরে লুকিয়ে থেকেছে, গুম-হত্যার শিকার পরিবার আছে…এখন মানুষের এত ক্ষোভ, এত ক্রোধ, তার কিছু বহিঃপ্রকাশ ঘটে…তবে এই বহিঃপ্রকাশকে সমর্থন করছি না, প্রশ্নই আসে না।”
পুলিশ-প্রশাসন কেন যথেষ্ট বাধা দিতে পারে না, এ প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
“যথেষ্ট বাধা দিলে তখন অন্যদিকে মোড় নিবে। কারণ পুলিশ খুব ডিমোরালাইজড অবস্থায় আছে। এটাও সাবেক সরকারের অবদান। কারণ তারা পুলিশকে এমন একটা গণশত্রু বাহিনীতে পরিণত করেছিলো যে পুলিশ সাহস করে তাদেরকে বাধা দিতে পারে না। মানুষ তাদেরকে বলে, তোরা তো ওনার পুলিশ।”
তবে আদালত চত্বর থেকে ভিড় কিভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে তারা চিন্তা করছেন বলেও তিনি জানান।
সাবেক তিন প্রধান বিচারপতিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা
সাবেক তিন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলা করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ।
এই সাবেক তিন প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিক ও ওবায়দুল হাসান।
আপিল বিভাগের অন্য সাবেক চার বিচারপতি হলেন সৈয়দ ঈমান আলী, মির্জা হোসেইন হায়দার, আবু বকর সিদ্দিকী ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বাতিল করেছে সরকার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার এ বিষয়ে আগের আদেশ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
এতে বলা হয়েছে, 'যেহেতু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও উহার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাস ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় নাই এবং যেহেতু সরকার বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও উহার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গসংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত নহে' এই কারণে বিগত প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১লা আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ (১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সে সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলছিল। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতন হয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে এরদোয়ানের ফোন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন জানান।
ফোনালাপে তিনি বাংলাদেশের বন্যাদূর্গত এলাকায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে শোক প্রকাশ করেন। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এসময় মি. এরদোগান বলেন, “বন্যাদুর্গতদেরকে মানবিক সহায়তা দেবে তুরস্ক।”
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
তুরস্কের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আরও বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের মতো প্রধান খাতে তুরস্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তুরস্ক একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক শক্তি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার জন্য তিনি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল পাঠাবেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে তুরস্কের সফরের আমন্ত্রণ জানান।
অধ্যাপক ইউনূস আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বলেন, তিনি সুবিধাজনক সময় তুরস্ক সফর করবেন। প্রধান উপদেষ্টাও প্রেসিডেন্ট মি. এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে শাহবাগ থাকায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন এ মামলা করেন।
মামলার তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, লোভের বশবর্তী হয়ে দুর্নীতিমূলক, বিদ্বেষাত্মক ও বেআইনিভাবে রায় দেওয়াসহ অসত্য ও জাল-জালিয়াতিমূলক রায় সৃষ্টির অপরাধের অভিযোগে মামলাটি হয়েছে।
সাবেক এ প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলাটি দণ্ডবিধির ২১৯ ও ৪৬৬ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
অনুদঘাটিত অনেকগুলো বিষয়ে আমরা কাজ করতে পারবো: নূর খান
বাংলাদেশের গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনের সদস্য নূর খান বলেছেন, পারিপার্শ্বিকতা এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি পাওয়ার ঘটনা- সব মিলিয়ে এই বিষয়গুলো পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ বাহিনীগুলোর নেই।
“যেহেতু একটা কমিশন গঠন হয়েছে, আমি নিশ্চিত এই কমিশন দ্বারা অনুদঘাটিত অনেকগুলো বিষয়ে আমরা কাজ করতে পারবো, আমার বিশ্বাস,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন মি. খান।
গত ১৫ বছরে বাহিনীগুলোকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং জনগণের মুখোমুখি যেভাবে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছিল তাতে এই বাহিনীগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে বলে মন্তব্য করেন এই মানবাধিকারকর্মী।
“এই বাহিনীগুলোর ব্যাপারে এক ধরনের অনাস্থা জনমনে রয়ে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এই বাহিনীগুলো বিলুপ্ত হবে নাকি সংস্কার হবে নাকি বাহিনীগুলোর জায়গায় নতুন বাহিনী আসবে এটা বলা খুব কঠিন। কারণ এ বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের এখতিয়ারের বিষয়,” যোগ করেন মি. খান।
তবে ব্যক্তির দায় বাহিনীগুলোকে দেয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।