ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাল্টা বিবৃতি বাংলাদেশের, চট্টগ্রামের নিহত আইনজীবী 'প্রিয় দলীয় সহকর্মী' দাবী জামায়াতের আমীরের
চট্টগ্রামে চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে এক আইনজীবীর মৃত্যু। সংবিধানে উপ-প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতির বিধানসহ ৬২ জায়গায় সংশোধন চায় বিএনপি। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি, কলকাতায় বিক্ষোভ। শাপলা চত্ত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে হেফাজতে ইসলামের অভিযোগ।
সরাসরি কভারেজ
মঙ্গলবার সারাদিন যা যা হলো
সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের
জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে তার সমর্থকরা।
পুলিশের সাথে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সাথে দিনভর দফায় দফায় সংর্ঘষ,
ভাঙচুর ও হামলার সময় সাইফুল ইসলাম নামের চট্টগ্রাম আদালতের একজন আইনজীবী
মারা যান।
চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবীকে নিজ দলের কর্মী দাবি
করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর
রহমান।
চিন্ময়
কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার ও জামিন বাতিলের ঘটনায় গভীর জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ
করে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলা বেড়ে গেছে। কেউ যদি মিথ্যা মামলা করে
তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বাংলাদেশের
রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোট ১০ প্লাটুন
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
পরপর
দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, উপ
প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতি, সংসদে উচ্চকক্ষ ও গণভোটের বিধান রাখাসহ সংবিধানের
৬২ জায়গায় সংশোধনের প্রস্তাব জানিয়েছে দিয়েছে বিএনপি।
হামলা
ও ভাংচুরের শিকার পুরান ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং ২০২৫ সালের প্রথম শ্রেণি ও নার্সারিতে ভর্তির
লটারি স্থগিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যার ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের নিন্দা
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যার নিন্দা
জানিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই হত্যাকাণ্ডের
তদন্ত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার রাতে
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
এই ঘটনায় জনগণকে
শান্ত থাকার এবং অপ্রীতিকর কার্যকলাপে অংশ না নেওয়ারও আহবান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
এই ঘটনার পর বন্দর
নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসহ আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে
নির্দেশনাও দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস।
বিবৃতিতে বলা হয়,
অন্তবর্তী সরকার যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে ও
সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাষ্টদ্রোহ মামলায় চিন্ময়
কৃষ্ণ দাসকে চট্টগ্রামের আদালত কারাগারে পাঠানোর সময় বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও হামলার
ঘটনা ঘটে।
ছবির উৎস, KAMOL DAS
ছবির ক্যাপশান, চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাল্টা বিবৃতি বাংলাদেশের
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারে উদ্বেগ জানিয়ে যে
বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তার পাল্টা বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ
বলেছে, যেভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়, চিন্ময় দাসের গ্রেফতারের বিষয়টি
নিয়ে কোন কোন মহল ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, তাতে বাংলাদেশ হতাশা ও দুঃখ বোধ করছে।
এ ধরনের ভিত্তিহীন বিবৃতি শুধুমাত্র ঘটনাটিকে ভুল
ভাবেই তুলে ধরছে না, বরং প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্ব এবং বোঝাপড়ার সম্পর্ক
রয়েছে, তার মনোভাবের বিরোধী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ
গভীরভাবে বিশ্বাস করে, কোনরকম ব্যত্যয় ছাড়াই প্রত্যেক ধর্মের মানুষের তাদের ধর্মীয়
উৎসব, রীতিনীতি পালনের বা মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। অন্য সব নাগরিকের মতো বিশেষ
করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের রক্ষা করা বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম
দায়িত্ব।
সেই সাথে বাংলাদেশ সরকার মনে করিয়ে দিতে চায় যে,
দেশটির বিচার বিভাগ পুরোপুরি স্বাধীন এবং সরকার তাদের কার্যক্রমে কোন হস্তক্ষেপ
করে না। বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে কথা তোলা হয়েছে, সেটিও দেশের আদালতে বিচারাধীন
রয়েছে।
বাংলাদেশের সরকার সব সম্প্রদায়ের মধ্যে
সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চট্টগ্রামে নিষ্ঠুরতার সাথে যেভাবে আইনজীবী
সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়েছে, তাতেও বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
যেকোনো মূল্যে বন্দর নগরীতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সরকার সেখানে
নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে।
চট্টগ্রামের নিহত আইনজীবী 'প্রিয় দলীয় সহকর্মী' দাবী জামায়াতের আমীরের
ছবির ক্যাপশান, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে হত্যার ঘটনার নিন্দা ও
প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের আমির নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে ‘প্রিয় দলীয়
সহকর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, "তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনের ঘটনায়
আমি গভীরভাবে মর্মাহত। মহান রবের দরবারে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি"।
নিহত আইনজীবীর শোকসন্তপ্ত পরিবার,
আপনজন, প্রিয়জন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর
সমবেদনাও জানান তিনি।
জামায়াতের আমির মি. রহমান বলেন, “চট্টগ্রামে যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড
সংঘটিত হয়েছে, তা অত্যন্ত জঘন্য এবং
নিন্দনীয় অপরাধ। একটি গোষ্ঠী পতিত স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশকে অস্থির করার
জন্য ক্রমাগতভাবে দুরভিসন্ধি ও অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে”।
তবে কোন
অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান
জানান জামায়াতের আমির মি. রহমান।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা প্রতিহতের আহবান হাসনাত ও সারজিসের
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে
কারাগারে পাঠানোর সময় চট্টগ্রামে হামলায় এক আইনজীবী নিহতের পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না করার আহবান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলনের দুই নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলাদা ফেসবুক
পোস্টে তারা এই আহবান জানান।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেন, “আপনারা ধৈর্য ধরুন, শান্ত থাকুন। নিজেরা আইন হাতে তুলে নিয়ে দয়া করে
কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না”।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না করার আহবান
জানিয়ে মি. আব্দুল্লাহ বলেন, “আমাদের বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক
সম্প্রীতির বাংলাদেশ। আমরা কোনোভাবেই আমাদের এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে
দিবো না”।
তিনি বলেন, “গত পাঁচই আগস্টের পর থেকেই
একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমাদের দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য ক্রমাগত
চক্রান্ত করেই যাচ্ছে। দয়া করে নিজেরা নিজেরা কোন্দলে জড়িয়ে কুচক্রী এই মহলের হীন
ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথ তৈরি করে দিয়েন না”।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ আইনজীবী সাইফুলের হত্যাকারীদের
দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সারজিস আলম লিখেছেন, "ধর্মকে ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী সংগঠন যদি
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে, তবে সেসব
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে"।
মি. আলম
লিখেন, “যিনিই জড়িত থাকুক না কেন, খুনের
সর্বোচ্চ শাস্তি চাই ৷ ষড়যন্ত্রকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় নয় ৷ বেশি ছাড় পেলে মাথায়
উঠে নাচবে” ৷
ছবির ক্যাপশান, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম
বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত; সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত
দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায়
অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে
এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি মঙ্গলবার
দুপুরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২০২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার
সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা
সমুদ্র বন্দর থেকে ১৯৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর
থেকে ১৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এ সময় গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮
কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। যা
দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিলো।
যে কারণে গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকট এলাকার
সমুদ্র খুব উত্তাল রয়েছে। যে কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,
মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর
দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত
মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি
সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে (ফাইল ছবি)
কেউ মিথ্যা মামলা করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
বলেছেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলা বেড়ে গেছে। কেউ যদি করে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
কোন অবস্থায় মিথ্যা মামলা না নিতে পুলিশের
প্রতি নির্দেশনাও দেন তিনি।
মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউসে সার্বিক
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক সভায় এসব কথা বলেন উপদেষ্টা মি. চৌধুরী।
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার পেছনে চাঁদাবাজিও দায়ী। এই
সংকট মোকাবেলায় শক্ত হাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে
না। কেউ পরিচয় জানতে চাইলে উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে। অকারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা
যাবে না”।
অবৈধ
অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
ছবির উৎস, ZAKIR HOSSAIN
ছবির ক্যাপশান, সিলেট সার্কিট হাউসে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত সভায় কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
চট্টগ্রামে চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে এক আইনজীবীর মৃত্যু
রাষ্ট্রদ্রোহ
মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে সংঘর্ষে এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল তসলিম উদ্দিন বিবিসি বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওই আইনজীবীর
নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে।
হাসপাতালের
পরিচালক মি. উদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ঘটনাস্থলেই হয়তো সাইফুল মারা যায়।
হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।''
ওই সংঘর্ষে
আহত হয়ে সাত থেকে আটজন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তবে আহতের সংখ্যা আরো বেশি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে চট্টগ্রামে আদালত থেকে কারাগারে
নেওয়ার সময় তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যান প্রায় দুই ঘণ্টা ঘণ্টা আদালত
প্রাঙ্গনে আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন তার ভক্ত-অনুসারীরা।
পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে চাইলে তারা সড়ক অবরোধ করেন। এ
সময় টিয়ার সেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আদালত জাতীয় পতাকার
অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন
নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ছবির উৎস, KAMOL DAS
ছবির ক্যাপশান, চট্টগ্রামে চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে এক আইনজীবী মারা গেছে
সংঘাত, অস্থিরতা ও আন্দোলনের মিত্রদের বিভক্তির দায় সরকার এড়াতে পারেনা: এবি পার্টি
দেশে টানা অস্থিরতা ও চলমান সংঘাত নিয়ে মিত্রদের বিভক্তির দায় অন্তর্বর্তীকালীন
সরকার এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন এবি (আমার বাংলাদেশ) পার্টির নেতারা।
বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ
সম্মেলনে দলটির নেতারা এ কথা বলেন।
এবি পার্টি’র সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু
বলেন, গত কয়েকমাসের সংঘাত, সংঘর্ষ, অস্থিরতা ও গণ অভ্যুত্থানের মিত্রদের বিভক্তির
দায় অন্তর্বর্তী সরকার কোনভাবেই এড়াতে পারে না। সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ
গ্রহণ করে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার ও দেশবাসীর উদ্বেগ দুর করার আহ্বান জানান
তিনি।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এবি পার্টি জরুরী এই সংবাদ
সম্মেলন করে।
সদস্য সচিব মি. মঞ্জু এসময় অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার আন্দোলনে
সম্পৃক্ত সকল পক্ষের ঐক্য রক্ষার ব্যপারে শুরু থেকেই উদাসীন। দ্রব্যমূল্যরে
উর্দ্ধগতিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্বেগ তারা আমলে নিচ্ছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের
নীতির সমলোচনা করে দলটির নেতারা বলেন, রাষ্ট্র শাসনে কোমলতা বলে কিছু নেই বরং
ন্যায় ও ইনসাফের জন্য যথার্থতার নীতি অনুসরণই কাম্য।
ছবির উৎস, AB PARTY
ছবির ক্যাপশান, বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে এবি পার্টি
ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোট ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি মোতায়েন
করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এর মধ্যে চট্টগ্রামে ছয় প্লাটুন ও এবং ঢাকায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
থাকবে। তারা দায়িত্ব পালন করবে রাজধানীর শাহবাগ, মৎস্য ভবন ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
এলাকায়।
ঢাকার
সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল
কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের
সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সোমবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকায়
বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
পরপর দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, উপ-প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতি, সংসদে উচ্চকক্ষ ও গণভোটের বিধান রাখাসহ সংবিধানের ৬২ জায়গায় সংশোধন চায় বিএনপি।
আজ মঙ্গলবার সংবিধান সংস্কার কমিশনের কাছে তাদের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে দলটি।
সংবিধান সংস্কার কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোরকে সংস্কার প্রস্তাব পেশ করতে বলেছিলো। সেই আহ্বানের ধারাবাহিকতায়ই আজ বিএনপি তাদের প্রস্তাব পেশ করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের প্রস্তাবনার বিষয়ে আজ বলেন, “ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্যই এসব প্রস্তাবনা করা হয়েছে।”
“বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্যারেক্টার পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো যে সমস্ত বিধান পঞ্চদশ সংশোধনীতে আওয়ামী লীগ এনেছিলো, ওগুলোসহ পরপর দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে কেউ আসীন হবেন না, সেই বিধান চেয়েছি। নতুন করে সংসদের উচ্চ কক্ষ সৃষ্টির বিধান প্রস্তাব করেছি এবং জুডিশিয়ারির ক্ষেত্রেও আমরা নতুন প্রস্তাবনা দিয়েছি,” বলেন তিনি।
তাদের প্রস্তাবনার মাঝে ত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও রয়েছে বলে জানান মি. আহমদ।
ছবির উৎস, TV Grab
ছবির ক্যাপশান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ
অনির্দিষ্টকালের জন্য সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ বন্ধ ঘোষণা
হামলা ও ভাংচুরের শিকার পুরান ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং ২০২৫ সালের প্রথম শ্রেণি ও নার্সারিতে ভর্তির লটারি স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার এই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দু'টো পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সেখানে বলা হয়েছে, “বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উদ্ভুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের মর্নিং শিফট, ডে শিফট ও কলেজ শাখার সকল প্রকার ক্লাস, পরীক্ষা ও অফিস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।”
বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেরামতের কাজের জন্য তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবকিছু অনুকূলে এলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম আবার শুরু হবে।
এর আগেরদিন, রোববার আরেকটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছিলো, ওইদিন বিকাল ৫টায় শতাধিক বহিরাগত “দুর্বৃত্তদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছে” প্রতিষ্ঠানটি।
সেদিন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের কক্ষ, ডিসিপ্লিন কমিটি কক্ষ, শিক্ষক-মিলনায়তন, কয়েকটি অফিস কক্ষসহ শ্রেণিকক্ষে ব্যাপক ভাংচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
ছবির উৎস, sghscdhaka.edu.bd
ছবির ক্যাপশান, সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ
মানুষ কেন তাদের ওপর বিক্ষুব্ধ, গণমাধ্যমের তা স্পষ্ট করা উচিৎ: নাহিদ ইসলাম
পত্রিকা অফিসে ভাংচুর হলে সরকার সেটি আইনগতভাবে দেখবে, কিন্তু “এটি কেবল আইনি বিষয় না” বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সাথে এ কথা বলে তিনি।
তার ভাষ্য, “বিগত সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নানান কারণে মানুষের অনেক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কেন মানুষ তাদের ওপর বিক্ষুব্ধ, এটি স্পষ্ট করা সাংবাদিকদের ও ওই গণমাধ্যমের দায়িত্ব।”
“তাদের উচিৎ আলোচনায় বসা। নিজেদের অবস্থান, কর্মকাণ্ড স্পষ্ট করা উচিৎ তাদের। গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব আছে। ল অ্যান্ড অর্ডারে গেলে সরকার অবশ্যই তার দায়িত্ব পালন করবে,” বলেন তিনি।
“পত্রিকা অফিস ভাংচুর বা চাপ প্রয়োগ করা হলে আমরা মেনে নিবো না”; কিন্তু, “জনগণের ক্ষুব্ধতা থাকলে তারা সভা-সমাবেশ করবে। তবে সেটি যেন শান্তিপূর্ণভাবে করে।”
পুলিশও যাতে দায়িত্বশীল আচরণ করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে দেয়, সরকারের তরফ থেকে সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তবে সাংবাদিকরা তার কাছে ক্ষুব্ধতার কারণ জানতে চেয়েছিলো। উত্তরে তিনি বলেন যে “কেন এই ক্ষুব্ধতা, তা আন্দোলনকারীরা ভালো বলতে পারবে।”
ছবির উৎস, TV Grab
ছবির ক্যাপশান, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম
ছবির ক্যাপশান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিজেপির বিধায়করা
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের
গ্রেফতারের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপির
বিধায়করা।
তাদের সবার হাতে পোস্টারে
লেখা ছিল “চিন্ময় মহাপ্রভুর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।“
ওই বিক্ষোভের
নেতৃত্ব দেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি
জানিয়েছেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।
“সারা পৃথিবীর সব
হিন্দুদের ঐকবদ্ধ হতে হবে। আজ কলকাতায় বিজেপি বিধায়করা বিক্ষোভ দেখালেন। তবে
বাংলাদেশে যদি হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার অতি সত্বর বন্ধ না হয় তাহলে আমরা আরও জোরালো
বিক্ষোভ শুরু করব,” জানিয়েছেন মি. অধিকারী।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
ছবির উৎস, KAMOL DAS
ছবির ক্যাপশান, গ্রেফতারের পর আদালতে নেয়া হয়েছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে
বাংলাদেশ সম্মিলিত
সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার ও জামিন
বাতিলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।
মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক
বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানাানো হয়।
এতে বলা হয়, তাকে আটকের পর বাংলাদেশের চরমপন্থী
গ্রুপগুলো হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও হিন্দু
এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুর
এবং মন্দিরে হামলার মতো ঘটনাও ঘটছে বাংলাদেশে।
বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় অপরাধীরা যেখানে ধরা ছোয়ার বাইরে সেখানে একজন ধর্মীয়
নেতা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখন কথা বলেছে তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে গ্রেফতার
করা হয়েছে।
বিবৃবিতে বাংলাদেশের হিন্দুসহ সকল সংখ্যালঘুদের
নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহবান জানানো
হয়।
শাপলা চত্ত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে হেফাজতে ইসলামের অভিযোগ
২০১৩ সালে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সমাবেশে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে হেফাজতে ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
পরে হেফাজত ইসলামের নেতারা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই গণহত্যার বিচার তো হয়নি, বরং তাদের সংগঠনের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে বছরের পর বছর কারাগারে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।
এখন অন্তবর্তী সরকার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন তারা।
এসময় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা জানান, হেফাজতের সামবেশে র্যাব ও পুলিশের হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩’- এর গণহত্যার মধ্যে পড়ে।
হেফাজতে ইসলামের অভিযোগটি দ্রুত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম।
ছবির ক্যাপশান, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম আলোচনায় এসেছিল
রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনায় যুক্ত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না: আসিফ মাহমুদ
“রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনায় যুক্ত থাকলে কোনোপ্রকার ছাড় দেওয়া হবে না” বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ মঙ্গলবার রংপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর যদি কোনোপ্রকার হস্তক্ষেপ ও আঘাত আসে, এবং রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে সরকার অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিবে।”
এরপর তিনি বলেন যে “একটি গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে”। তবে “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কেউ যদি রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনায় যুক্ত থাকে, সে যে-ই হোক, যত বড় নেতাই হোক, তাকে কোনোপ্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।”
এক্ষেত্রে, “সম্প্রদায় বিবেচনায় নয়, রাষ্ট্রের বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে” বলেও তিনি জানান।
কার গ্রেফতারের ঘটনায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে, সেটি সরাসরি বলেনি ক্রীড়া উপদেষ্টা। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তাকে গতকাল সোমবার ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার তাকে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম তার জামিন নাকচ করার আদেশ দেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে গতকাল তো দেশজুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকে বিক্ষোভ করেছেনই। আজও তার অনুসারীরা আদালত চত্বরেইপ্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করেছেন।
এদিকে জামিন নামঞ্জুরের আদেশের পর প্রিজন ভ্যান থেকেই মি. দাস হ্যান্ডমাইকে তার অনুসারীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানান।
এক ভিডিওতে মি. দাসকে বলতে দেখা যায়, “রাষ্ট্র অস্থিতিশীল হয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নষ্ট হয় আমরা এইরকম কিছু করবো না। আবেগকে সংযত করে, আবেগকে শক্তিতে পরিণত করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবেন।”
ছবির উৎস, SHARIER MIM
ছবির ক্যাপশান, স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
চিন্ময় দাসের জামিন নাকচ, কারাগারে পাঠানোর আদেশ
সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
আজ মঙ্গলবার তাকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম এ আদেশ দেয়।
তবে জামিন নাকচ করলেও মি. দাসের কারাগারে ডিভিশন এবং ধর্মীয় রীতি-নীতি পালনের অনুমতি চেয়ে করা দুইটি আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীরা গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করছেন এবং কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর আদালত চত্বরেই মি. দাসকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানটি ঘিরে ধরেন বিক্ষোভরতরা।
চিন্ময় দাসের মুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা করতে ভারতের প্রতি অনুরোধ ইসকনের
গতকাল ইসকন ইনক (ইনকরপোরেটেড) তাদের এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে টুইট করে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সাথে ইসকনের যুক্ত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত আপত্তিজনক।
ইসকন ইনক নিউইয়র্কভিত্তিক ইসকনের একটি কেন্দ্র বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে ইসকনের সদর দপ্তর।
টুইটে বলা হয়, “ইসকন ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে যেন তারা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা করে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে যে আমরা একটি শান্তিপ্রিয় ভক্তি আন্দোলন।”
তারা 'ইসকন নেতা চৈতন্য কৃষ্ণ দাসকে' অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধও জানায়।
গতকাল সোমবার বিকালে ঢাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটক করা হয়েছিলো। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, "সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে উনাকে আটক করা হয়েছে। উনার নামে যে মামলা রয়েছে, সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।”
উল্লেখ্য যে, গত পাঁচই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানান কর্মসূচি পালন করে আসছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট।
ছবির উৎস, @IskconInc
ছবির ক্যাপশান, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন)-এর বিবৃতি
ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারে আরআরএজি’র নিন্দা
ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার করাকে “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কণ্ঠরোধ এবং দমন করার চেষ্টা” বলে নিন্দা করেছে রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপ (আরআরএজি)।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গতকাল সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে বিষয়টিকে উল্লেখ করে আরআরএজি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “তাকে বিদেশে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয় ও বিমানবন্দর থেকে থানায় নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করা হয়।”
যদিও এটি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বিদেশে না কি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন।
গত ৩০শে অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তদের তালিকায় তিনিসহ মোট ১৯ জন রয়েছেন।
তাদের বিরুদ্ধে “অভিযোগ, গত ২৫শে অক্টোবর চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট এলাকায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করা হয়” বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
আরআরএজির পরিচালক সুহাস চাকমা বলেন, “এই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি করা হয়েছে যাতে হিন্দু সংখ্যালঘুরা সংগঠিত হতে না পারে ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে।”
তিনি আরও বলেন, “ড. ইউনূস (বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস) এখন বিরোধীদের দমাতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ব্যবহার করছেন।”