'অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ আহ্বান আন্দোলনকারীদের

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের সাথে সংলাপে বসতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য 'সর্বাত্মক অসহযোগের' ডাক আন্দোলনকারীদের, অন্যদিকে জমায়েত কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আওয়ামী লীগের।

সার সংক্ষেপ

  • সরকার পতনের এক দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তারা জাতীয় সরকার গঠনের দাবিও জানিয়েছে।
  • আন্দোলনকারীদের সাথে সংলাপে বসতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা।
  • রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য "সর্বাত্মক অসহযোগ" আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
  • রোববার রাজধানী ঢাকার সব ওয়ার্ডে এবং দেশের সব জেলা ও মহানগরীতে জমায়েত কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ।
  • ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। দেশের অন্যান্য জেলাতেও বড় সমাবেশ হয়েছে, কুমিল্লাসহ অনেক স্থানে সংঘর্ষ ও গুলি করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
  • পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারফিউ সকাল ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শিথিলের ঘোষণা

সরাসরি কভারেজ

  1. শনিবার যা যা ঘটেছে:

    • বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এক দফা দাবি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই সাথে 'সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনের' দাবি জানানো হয়েছে।
    • রবিবার থেকে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ আহ্বান করেছে আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি দেশের সব জেলা, উপজেলা, পাড়া, মহল্লায় বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি, আন্দোলন চলাকালে হওয়া সব হত্যার বিচার ও সব রাজবন্দীকে মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
    • পাল্টা কর্মসূচি হিসাবে রোববার রাজধানী ঢাকার সব ওয়ার্ডে এবং দেশের সব জেলা ও মহানগরীতে জমায়েত কর্মসূচি পালন করার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
    • পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারফিউ সকাল ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
    • বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় বিশাল সমাবেশ হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া রংপুর, সিলেট, ফরিদপুর, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, বরগুনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, সিলেটসহ অনেক স্থানে মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
    • গাজীপুরের সহিংসতায় এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আরো একজনের। কুমিল্লায় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ১০ জন। চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত তিনজন। এই সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
    • আন্দোলনকারীদের সাথে সংলাপে বসতে চান বলে গণভবনে একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা।
    • বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘’ যখন আমরা ডিবি অফিসে বন্দী ছিলাম, তখনই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে আন্দোলন স্থগিত করতে বলা হয়। এমনকি জোর করে গণভবনে নিয়া যাওয়ার পরিকল্পনাও চলছিল। এই প্রস্তাবের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে আমরা অনশনে বসেছিলাম।”
    • কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে আটক সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রস্তাবিত বহুল বিতর্কিত প্রত্যয় পেনশন ব্যবস্থা তিনি বাতিল ঘোষণা করেছেন।
    • বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘ছাত্র জনতার দাবি’ মেনে নিয়ে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
    • আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে বলেছেন ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেহাত হয়ে গেছে।
    • রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
    • বাংলাদেশে সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ জন সেনেটর ও কংগ্রেসম্যান।
    • শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোববার প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলবে না। কবে খুলবে, সেই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
    • ২৭ই জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে তুলে নেয়ার পর শনিবার রাতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাকে বনানীর সেতু ভবন হামলার মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল।
  2. কোন শিশু এখানে মারা যায়নি, হয়তো দুই-একজন কিশোর মারা গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারফিউ সকাল ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে বলেছেন যেহেতু আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে সে জন্য অসহযোগিতা আন্দোলনের কর্মসূচি তুলে নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    “কোটা আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নিয়েছি। এখন সময় এসেছে ছাত্রদের দাবি যেহেতু অবশিষ্ট নেই আমরা আশা করি স্ব স্ব ক্ষেত্রে চলে যাবেন। তারা যেন লেখাপড়ায় ফিরে যান। যেহেতু তাদের সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে,” রাতে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিং এ বলছিলেন তিনি।

    অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,''এই দেশের জনগণ যদি আন্দোলনে যুক্ত হয়, হবে, সেটা আমরা নসাৎ করতে চাই না।''

    সেক্ষেত্রে তারা আক্রমণের শিকার হবে কিনা, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ''এখন আপনাকে যদি মারে, আপনি মার দেবেন না? আপনি বসে থাকবেন? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জীবনরক্ষা করার অধিকার তাকে দেয়া হয়েছে। আপনাকে যদি কেউ অ্যাটাক করেন, আপনি সেলফ ডিফেন্সে যেতে পারেন, এটা আইনগত অধিকার।''

    এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দাবি করেন এবারের সহিংসতায় কোন শিশু মারা যায়নি এবং গুলির অনেকগুলো আলামত সংগ্রহ করে তারা দেখেছেন যে সেগুলো পুলিশের গুলি নয়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ''এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে (সাংবাদিক) কেউ মারা যায়নি।''

    ''পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। পুলিশের প্রতিটা গুলির হিসাব আছে। চরম ধৈর্য সহকারে এই আন্দোলনের শুরু থেকেই পুলিশ মোকাবেলা করে আসছে,'' দাবী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তাহলে কাদের গুলিতে মারা গেছে, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ''আপনার জানা উচিত, মাননীয় সাংবাদিক, আমাদের কাছে যে গুলির ইয়েগুলি পেয়েছি, এর অনেকগুলো পুলিশের রাইফেলের গুলি নয়। পুলিশ এগুলো ইউজ করে না। ......যুবলীগের নেতা দেখেছেন, তারা বাধা দিতে গেছে, গুলি করতে যায়নি। আপনি নিশ্চয়ই জানেন আমার ছাত্রলীগের নেতা কয়জন মারা গেছেন, আওয়ামী লীগের নেতা কয়জন মারা গেছে, তাহলে সেটা জিজ্ঞেস না করে উল্টোটা জিজ্ঞেস করলেন?''

    ইউনিসেফ এক হিসাবে বলেছে, গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে ৩২ টি শিশু নিহত হয়েছে।

    তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, “কোন শিশু এখানে মারা যায়নি। হয়তো দুইএকজন কিশোর মারা গেছে কয়েকজন কারণ তাদের আন্দোলনের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো। পেছনের শক্তিটা রূখতে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে,” বলছিলেন তিনি।

    আন্দোলনকারীরা যে মন্ত্রীদের পদত্যাগ চেয়েছে সে বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘প্রয়োজন হলে এবং প্রধানমন্ত্রী মনে করলে তিনি পদত্যাগ করবেন’। মি. খান বলেন, যেহেতু তাদের সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে সেজন্য তাদের অসহযোগ আন্দোলন তুলে নেয়া উচিত।

    “এরপরেও কোন দাবি থাকলে প্রধানমন্ত্রীর দরজা খোলা আছে। তাদের কিছু বলার থাকলে বলতে পারে”।

    তিনি জানান এইচএসসি পরীক্ষার্থী যাদের আটক করা হয়েছিলো গতকাল ও আজ তাদের ১৩৪ জনকে জামিন দেয়া হয়েছে। “যেসব ছাত্রকে আটক করা হয়েছে তাদের ছেড়ে দিচ্ছি। তবে সুনির্দিষ্ট বিষয় যেমন যাত্রাবাড়ীতে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছিলো- এমন ঘটনাগুলো ছাড়া বাকীদের জামিনে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে,” বলছিলেন তিনি।

  3. গাজীপুরে সংঘাতে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু

    গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় সংঘাতে সময় এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

    শনিবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান।

    তিনি জানান, শনিবার (৩ আগস্ট) মাওনা চৌরাস্তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা আন্দোলন করেন। এ সময় মাথায় আঘাত পেয়ে জাকির হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

    তিনি সাতক্ষীরার বাসিন্দা। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেননি পুলিশের এই কর্মকর্তা।

    এর আগে দুপুর তিনটার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা হাইওয়ে থানায় হামলা চালিয়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

    এসময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সাথে ছাত্রদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

    সংঘর্ষের এক পর্যায়ে থানার সীমানা প্রাচীরের ভেতরে থাকা রেকার (বিকল গাড়ি সরানোর গাড়ি) ও টহলের কাজে ব্যবহৃত পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    তারও আগে, বেলা ১১টার থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মাওনা চৌরাস্তার পল্লী বিদ্যুত মোড়ে অবস্থান নেয়।

    এদিকে সরকার দলীয় কর্মী-সমর্থকরা মাওনা চৌরাস্তার ফ্লাইওভারের নিচে অবস্থান নিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

    কিছু সময় পর শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঠা হাতে মিছিল নিয়ে মাওনা ফ্লাইওভার এলাকায় যায়।

    এসময় শিক্ষার্থীরা পুলিশ ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দেয়।

    পরে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা মাওনা ফ্লাইওভারের নিচে থাকা তিনটি পুলিশ বক্সে আগুন দেয়। এরপর তারা পুলিশের তিনটি গাড়িতে আগুন দেয়।

    গাজীপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়

    ছবির উৎস, মো. পলাশ প্রধান

    ছবির ক্যাপশান, গাজীপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়
  4. সরকারকে পদত্যাগের আহবান মির্জা আলমগীরের

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘ছাত্র জনতার দাবি’ মেনে নিয়ে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।

    “সমগ্র দেশে, গ্রাম-শহরে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, সন্ত্রাস, হামলা, মামলা দিয়ে চলমান ছাত্র জনতার আন্দোলন দমানো যাবে না। ছাত্র গণআন্দোলন নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে গিয়ে সকল হত্যা, ধ্বংস, নৈরাজ্য ও সঙ্কটের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার এককভাবে দায়ী,” এক বিবৃতিতে বলছিলেন তিনি।

    তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি ‘আওয়ামী লীগের অন্যায় হুকুম অনুযায়ী ছাত্র জনতার ওপর নির্যাতন নিপীড়ন ও গুলি’ না চালানোর আহবান জানান। একই সঙ্গে তিনি গ্রেফতারকৃত সাধারণ ছাত্র-জনতাসহ বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারেরও দাবী জানিয়েছেন ওই বিবৃতিতে।

    প্রসঙ্গত, সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানানোর পর এ বিবৃতি দিলেন মি. আলমগীর।

  5. চট্টগ্রামে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা, গাড়ি ও কার্যালয়ে আগুন

    শিক্ষামন্ত্রীর বাসায় গাড়ীতে আগুন

    ছবির উৎস, Subol Barua

    ছবির ক্যাপশান, শিক্ষামন্ত্রীর বাসায় গাড়িতে আগুন

    চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সাথে শনিবার সন্ধ্যার পর পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্তত তিন জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    নিউমার্কেট এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমাবেশ শেষ হওয়ার পর মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরের টাইগারপাসসহ আরও কয়েকটি এলাকা ঘুরে মুরাদপুর হয়ে বহদ্দারহাট পৌঁছানোর পর আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নেয়।

    সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বহদ্দারহাটে সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসায় হামলার চেষ্টা হলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

    এ সংঘর্ষের সময় অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে এর আগে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর চশমাহিলের বাসায়ও হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা এ সময় বাসা সামনে রাখা দুটি গাড়ি ভাংচুর করে এবং একটিতে আগুন দেয়।

    এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরীর লালখান বাজারে চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিনের কার্যালয়েও হামলার হয়। এ সময় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়।

    এ ছাড়া নগরের নিউমার্কেট, টাইগারপাস, জিইসি মোড় এলাকায় কয়েকটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এসব হামলার সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জড়িত নয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটির স্থানীয় একজন সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ।

    চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী বা মেয়রের বাড়িতে হামলার ঘটনার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।

    ওদিকে এসব ঘটনার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক শাহাদত হোসেন এবং বর্তমান আহবায়ক এরশাদ উল্লাহর বাড়িতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা।

  6. শাহবাগ ও শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীর অবস্থান

    শহীদ মিনার
    ছবির ক্যাপশান, কর্মসূচি শেষ করে আন্দোলনকারীরা চলে গেলেও শহীদ মিনারের সামনে এক দফার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে কয়েকশো আন্দোলনকারী
    শহীদ মিনার
    ছবির ক্যাপশান, কর্মসূচি শেষ করে আন্দোলনকারীরা চলে গেলেও শহীদ মিনারের সামনে এক দফার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে কয়েকশো আন্দোলনকারী
    শাহবাগে শ'খানেক আন্দোলনকারীর অবস্থান
    ছবির ক্যাপশান, শাহবাগে শ'খানেক আন্দোলনকারীর অবস্থান
  7. সিলেট ও ফরিদপুরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, পুলিশের টিয়ার সেল নিক্ষেপ

    সিলেটে বিক্ষোভ সমাবেশের জন্য সমবেত হওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর বল প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যুবলীগ ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

    এতে ১০জন গুরুতর ও শতাধিক আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।

    স্থানীয় সাংবাদিক হাসান নাঈম জানান, শনিবার সারাদেশে ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে বেলা তিনটা থেকে সিলেটের বিভিন্ন জায়গা থেকে নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা।

    শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক, শ্রমজীবী ও সাধারণ জনতাও বিক্ষোভে যোগ দেন। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে ঝুম বৃষ্টি শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রাখে।

    এসময় চৌহাট্টা পয়েন্টসহ নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ অবস্থান নেয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের এক পর্যায়ে বিকাল পাঁচটার দিকে পুলিশ অতর্কিতভাবে শিক্ষার্থীদের উপর সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড করে দেয়।

    নগরের চৌহাট্টা, মিরবক্সটুলা, জিন্দাবাজার, দরগা গেইটসহ বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় পঞ্চাশ রাউন্ডের অধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    অপরদিকে শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। পুলিশের সাথে সিলেট জেলা যুবলীগ ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

    এতে তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, রড ও লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায়। আহতরা সিলেটের ওসমানী মেডিকেল, মাউন্ট এডোরা, ইবনে সিনাসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    এদের মধ্যে ১০জন গুরুতর ও শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শাবিপ্রবির বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফয়সাল আহমেদ।

    অন্যদিকে এখন পর্যন্ত দুইজন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    এদিকে ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল মেরেছে পুলিশ।

    স্থানীয় সংবাদদাতা পান্না বালা জানান, এর আগে সকাল ১০টা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের সামনে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা।

    সেখান থেকে মিছিল নিয়ে এগোতে থাকলে মাঝপথেই শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ তাদের ওপর হামলা করে।

    পরে শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।

    কিন্তু সামনে আগাতে গেলে পুলিশ বাঁধা দেয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। এসময় ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় ১০ জন।

    পরে বিক্ষোভকারীরা আবার মেডিকেলে ফেরত আসার সময় সংঘবদ্ধ হয় শিক্ষার্থীরা।

    তাদের বাধা দিতে আবারও আট থেকে ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ।

    কিন্তু পুলিশের দিকেই বাতাস বয়ে যাওয়ার কারণে টিয়ারশেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখে লাগে।

    ফিরে এসে মেডিকেল সড়কের সামনে ২০ মিনিটের মতো অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।

    সংঘর্ষের সময় নিজের শটগানের গুলিতেই এক নারী ডিবি কর্মকর্তার আহতহওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    সিলেটে অস্ত্র হাতে যুবলীগ ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

    ছবির উৎস, হাসান নাঈম

    ছবির ক্যাপশান, সিলেটে অস্ত্র হাতে যুবলীগ ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
    সিলেট

    ছবির উৎস, হাসান নাঈম

    ছবির ক্যাপশান, সিলেট
  8. 'অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ আহ্বান আন্দোলনকারীদের

    শহীদ মিনারের সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।

    এই কর্মসূচিতে রবিবার থেকে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ আহ্বান করা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি দেশের সব জেলা, উপজেলা, পাড়া, মহল্লায় বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি, আন্দোলন চলাকালে হওয়া সব হত্যার বিচার ও সব রাজবন্দীকে মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল খুলে দেয়ার দাবি করেছেন আন্দোলনের সমন্বয়করা।

    কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন ‘সর্বস্তরের নাগরিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে’ শীঘ্রই ক্ষমতা হস্তান্তরের ‘জাতীয় রূপরেখা’ পেশ করবেন তারা।

  9. রোববার খুলছে না প্রাথমিক বিদ্যালয়

    রোববার খুলছে না প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আবুল খায়ের বিষয়টি বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

    তবে কবে থেকে স্কুল খুলবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

    তাই আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্যই বন্ধ থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুল কবে খুলবে তা পরবর্তী নির্দেশনায় জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান মি. খায়ের।

    এর আগে, ৩১শেজুলাই প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।

    কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ১৬ই জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান) এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর শ্রেণি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    আর ২৪শে জুলাই বন্ধ করা হয় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়।

  10. যা বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম

    এক দফার দাবির বক্তব্যে যা বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম

    ভিডিওর ক্যাপশান, সরকার পতনের এক দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। জাতীয় সরকার গঠনও চায় তারা
  11. সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা আন্দোলনকারীদের

    সরকারের পদত্যাগ চেয়ে এক দফা দাবির ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

    শনিবার (৩রা আগস্ট) ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘোষণা করেন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

    বর্তমান সরকার পদত্যাগের পর একটি জাতীয় সরকার গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    ঘোষণাপত্রে তারা বলেন-

    'যেহেতু, বর্তমান সরকারের নির্দেশে নির্বিচারে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, নারী-শিশু-ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক কেউ এ গণহত্যা থেকে রেহাই পাননি;

    যেহেতু, সরকার এ হত্যাযজ্ঞের বিচার করার পরিবর্তে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে;

    যেহেতু, সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ সংঘটন করেছে;

    যেহেতু, ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক-মজুরসহ আপামর জনগণ মনে করছে এ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ বিচার এবং তদন্ত সম্ভব নয়;

    সেহেতু, আমরা বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করছি।

    একইসাথে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনের দাবী জানাচ্ছি।'

    এসময় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জনগণকে মুক্ত করতে আবার রাস্তায় নেমে এসেছি। আমরা আজকে এক দফা দাবিতে এখানে হাজির হয়েছি। আমরা বাংলাদেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, সমাজের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি”।

    এই সরকার কোনোভাবেই আর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার অধিকার রাখে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা বলেছে, গণভবনের দরজা খোলা আছে। আমরা সাধুবাদ জানাই যে তিনি বুঝতে পেরেছেন গণভবনের দরজা খোলা রাখতে হবে। কারণ তার যাবার সময় হয়েছে”।

    তিনি আরও বলেন, “আপনি দরজা খুলে অপেক্ষা করুন। আমরা সংলাপ না, আপনাকে উৎখাত করার জন্য আসবো। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করলেই হবে না। এই যে খুন-লুটপাট, দুর্নীতি এই দেশে হয়েছে, তার বিচার হতে হবে”।

    “আমরা পদত্যাগ দিয়ে তাকে কোনো এক্সিট রুট দিতে চাই না। তাকে পদত্যাগও করতে হবে, বিচারের আওতায়ও আনতে হবে। শুধু শেখ হাসিনা না, মন্ত্রীপরিষদ, সরকার সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে। এবং এই যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা এটাকে বিলোপ করতে হবে”।

    শহীদ মিনারে সমাবেশ
    ছবির ক্যাপশান, শহীদ মিনারে সমাবেশ
  12. রোববার ও সোমবার নতুন কর্মসূচি দিলো আওয়ামী লীগ

    রোববার রাজধানী ঢাকার সব ওয়ার্ডে এবং দেশের সব জেলা ও মহানগরীতে জমায়েত কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ।

    শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    পরদিন সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত শোকমিছিল করার কথাও জানান তিনি।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী পাঁচ আগস্ট ঢাকা সিটির সব ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জমায়েত এবং বাংলাদেশের সব জেলা ও মহানগরীতে জমায়েত। আর ৫ তারিখে আমরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত শোকমিছিল করবো।’

    এছাড়াও চলমান আন্দোলনকে ঘিরে কোনো সংঘাতে জড়াতে চান না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “একদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অন্যদিকে আমরা কোনো প্রকার কনফ্রনটেশনে জড়াতে চাই না, সে কারণে আমরা সংঘাত এড়াতে আমরা কনফ্রনটেশনাল (মুখোমুখি) প্রোগ্রাম এড়িয়ে চলেছি”।

  13. মুক্তি পেয়েছেন সমন্বয়ক আরিফ সোহেল

    মুক্তি পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আরিফ সোহেল।

    শনিবার আরিফ সোহেলের বোন উম্মে খায়ের ইদি বিবিসি বাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে ২৭ই জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে তুলে নেয়া হয়ে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার।

    পরে রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনে হামলার মামলায় আরিফ সোহেলের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিহতদের মৃত্যুর বিচার এবং গণগ্রেফতার বন্ধে চলমান কর্মসূচির মধ্যেই শনিবার তাকে মুক্তি দেয়া হলো।

    আরিফ সোহেল

    ছবির উৎস, Arif Sohel

    ছবির ক্যাপশান, আরিফ সোহেল
  14. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশাল জমায়েত, শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদ

    শহীদ মিনারে সমবেত বিক্ষোভকারীদের একাংশ।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত হয়ে সরকার বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দিয়েছে এবং এক পর্যায়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে পুরো শহীদ মিনার এলাকা।

    দুপুর থেকেই নগরীর বিভিন্ন দিক থেকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে সমবেত হতে থাক। এছাড়া শিল্পীদের একটি গ্রুপসহ বিভিন্ন প্লাটফরম থেকেও বেশ কিছু ছোট ছোট মিছিল এসে আন্দোলনকারীদের সাথে যোগ দিয়ে তাদের সংহতি প্রকাশ করেছে।

    সেখানে মূহুর্মূহু শ্লোগানে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি এবং সরকারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে আন্দোলনকারীরা।

    শিক্ষার্থীদের অনেকের অভিভাবকও সেখানে জমায়েত হয়েছেন। আজিমপুর এলাকা থেকে সপরিবারে আসা এক অভিভাবক বিবিসি বাংলাকে বলেন তার এক সন্তান কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিচ্ছে।

    “আমরাও দুদিন ধরে আসছি এসব কর্মসূচিতে। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ করতে আমরা এখানে এসেছি,” বলছিলেন তিনি। শহীদ মিনারের বিভিন্ন দিক দিকে একের পর এক মিছিল আসায় পুরো এলাকা বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। রিকশা চালকদের একটি দলও সেখানে গিয়ে সংহতি জানিয়েছে।

    এর আগে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে জড়ো হয় শিক্ষার্থী এবং বিক্ষোভকারীরা। পরে সেখান থেকে তারা শহীদ মিনার অভিমুখে মিছিল সহ যাত্রা শুরু করে। এই কর্মসূচির জন্য শনিবার বেলা তিনটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো আন্দোলনের সমন্বয়করা।

    শুক্রবার সারাদেশে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছিলো বিক্ষোভকারীরা। তারা ইতোমধ্যেই রোববার থেকে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

  15. আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত

    রাবার বুলেটবিদ্ধ হওয়ার আগে পুলিশের সামনে এভাবেই দাঁড়িয়েছিলেন আবু সাঈদ

    ছবির উৎস, SHARIER MIM

    ছবির ক্যাপশান, রাবার বুলেটবিদ্ধ হওয়ার আগে পুলিশের সামনে এভাবেই দাঁড়িয়েছিলেন আবু সাঈদ

    রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ দুজন হলেন—রংপুর পুলিশ লাইনের এএসআই আমির হোসেন ও তাজহাট থানার কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

    শনিবার দুপুরে ওই দুজনকে সাময়িক বরখাস্তের তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান। দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তারা ‘অপেশাদারি আচরণস্বরূপ’ শটগান থেকে ফায়ার করেন। আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৮ জুলাই পুলিশের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পহেলা আগস্টে আংশিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

    গত ষোলই জুলাই রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন আবু সাঈদ।

    আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় ১৭ জুলাই মেট্রোপলিটন তাজহাট থানায় মামলা করা হয়। মামলার বাদী ওই থানার উপপরিদর্শক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়।

    যদিও আবু সাঈদের মামলায় এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। এই কিশোর রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির (বিজ্ঞান বিভাগ) ছাত্র।

    ওই কিশোরকে উনিশে জুলাই আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটনের তাজহাট আমলি আদালতে হাজির করার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছিলো।

    পরে পহেলা অগাস্ট আদালত তাকে জামিন দেয়।

  16. কুমিল্লায় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের হামলায় আহত অন্তত ১০

    কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ

    ছবির উৎস, বাহার রায়হান

    ছবির ক্যাপশান, কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ

    শিক্ষার্থী হত্যার বিচার ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে কুমিল্লা জিলা স্কুলের সামনে সকাল ১০টায় গণমিছিলে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা।

    স্থানীয় সাংবাদিক মাসুক আলতাফ চৌধুরী জানান, প্রায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে যোগ দিতে জিলা স্কুলের সামনে জড়ো হয়।

    ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ফৌজদারি হয়ে পুলিশ লাইনসের দিকে এগোতে থাকে।

    এসময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান থাকলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেয়া হয়নি।

    কিন্তু মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা রেসকোর্স এলাকায় পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা করে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা–কর্মীরা।

    এসময় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছররা গুলিও ছোঁড়ে তারা। এতে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হবার খবর পাওয়া গেছে।

    তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান আন্দোলনকারীরা।

    আর বাকি পাঁচজন বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।

    কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ

    ছবির উৎস, বাহার রায়হান

    ছবির ক্যাপশান, কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ
  17. ঢাকার বাইরের বিক্ষোভের খবরাখবর

    চলমান আন্দোলনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক শনিবার বিকাল তিনটায় বিবিসিকে জানিয়েছেন, সেখানে “এখনও বিক্ষোভ চলছে”। এদিন সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মহাসড়কে জড়ো হতে শুরু করেন।

    এতে করে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    এছাড়া, বিক্ষোভ চলাকালে “ব্যাপক মারামারি” হয় এবং এতে কয়েকজন আহত হন বলেও জানান তিনি।

    “আন্দোলনকারীরা গাজীপুরের চন্দ্রাতে গাড়ি পুড়িয়েছে” বলেও জানান তিনি।

    এছাড়া, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে সাড়া দিয়েছেন সিলেটের মানুষও।

    সমাবেশে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দসহ ডাক্তার, আইনজীবী, শ্রমজীবীদের পাশাপাশি অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

    কিন্তু আন্দোলনকারীদের বাঁধা দিতে সিলেটের টিলাগড়, পাঠানটুলা ও মদিনা মার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্ট লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে এবং নয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে বরিশালের শিক্ষার্থীরা।

    শনিবার বেলা ১১টায় বরিশালে এ কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম।

    নথুল্লাবাদ থে‌কে মি‌ছিল নি‌য়ে আমতলা মোড় যাওয়ার সময় চৌমাথা পু‌লিশ ব‌ক্সে হামলা ভাংচুর করা হয়। ঘটনার সময় পু‌লিশ থাক‌লেও তারা কোন বাধা দেয়নি বলে তিনি জানান।

    এছাড়া, রংপুরেও শত শত মানুষ বিক্ষোভ-মিছিল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    এদিন বিকাল তিনটা থেকে চট্টগ্রামের নিউমার্কেটের মোড়েও বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে। কুমিল্লাতে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় মোট ১০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    এর বাইরে রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ার আলী হিমু জানিয়েছেন যে শনিবার সকালে রাজশাহীর হাজারখানেক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হয়েছে এবং কিছু সংঘর্ষের ঘটনাও সেখানে ঘটেছে।

  18. ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের ছবি

    ঢাকার সাইন্সল্যাবে বিক্ষোভ

    ছবির উৎস, Nagib Bahar/BBC

    ছবির ক্যাপশান, ঢাকার সাইন্সল্যাবে বিক্ষোভ
    ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    ছবির উৎস, Ovi Islam

    ছবির ক্যাপশান, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
    ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    ছবির উৎস, Ovi Islam

    ছবির ক্যাপশান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
    বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজ অবরোধ করেছে

    ছবির উৎস, Ovi Islam

    ছবির ক্যাপশান, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজ অবরোধ করেছে
    ঢাকার সাইন্সল্যাবে বিক্ষোভ

    ছবির উৎস, Nagib Bahar/BBC

    ছবির ক্যাপশান, ঢাকার সাইন্সল্যাবে বিক্ষোভ
  19. আন্দোলন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, বললেন বিএনপি মহাসচিব

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন কোটা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে গেছে এবং ছাত্র-শিক্ষার্থীদের বিজয় অবশ্যই হবে।

    “দেশে একটা গণজাগরণ শুরু হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষ যোগ দিয়েছেন। সব পেশার মানুষ, সব ধরণের মানুষ এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। তারা যুক্ত হয়েছেন সব ভয়কে উপেক্ষা করে,” বলেছেন মি. আলমগীর। তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসায় তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের পর এসব মন্তব্য করেন।

    গত একুশে জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে তাদের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে।

    মি. আলমগীর বলেন তরুণরাই এবার জেগে উঠেছে। “এজন্যেই আমরা অত্যন্ত আশাবাদী…আশাবাদী এই কারণে যে, তরুণরা যখন জেগে উঠে, ছাত্ররা যেখানে জেগে উঠে, যুবকরা যেখানে জেগে উঠে সেই আন্দোলনকে পরাজিত করা কারো পক্ষে সম্ভব না।”

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ ছাত্ররা যখন আন্দোলন শুরু করেছে তখনই এর যে যৌক্তিকতা তা নিয়ে আমরা কথা বলেছি, আমরা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা শুধু নয়, তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছি। আরও বেশি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, যে ছাত্রদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে আমাদের শুধু সমর্থন নয়, আমাদের সব রকমের সহযোগিতা তাদের প্রতি থাকবে। যেহেতু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এটা। সেজন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব-কর্তব্য তা আমরা পালন করছি, আমরা করতে থাকবো"।

    তিনি তার দলের সব নেতা-কর্মী প্রতির ছাত্রদের আন্দোলনে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার জন্য আহবান জানান।

  20. রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ

    শহীদ মিনারে হাজার খানেক আন্দোলনকারী জড়ো হয়েছে।

    রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও রয়েছেন।

    এর আগে, বেলা ১২টার পর ঢাকার সায়েন্স ল্যাব মোড়ে এসে অবস্থান নিতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা।

    দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সেখানে প্রায় পাঁচশো আন্দোলনকারীদের জড়ো হতে দেখা গেছে।

    সেখানে অবস্থান করা বিবিসি সংবাদদাতা জানান, আন্দোলনকারীরা ছোটো ছোটো দলে ভাগ হয়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে এসে জড়ো হন। সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনারের দিকে মিছিল নিয়ে আগানোর কথা জানা যাচ্ছে।

    পাশেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করলেও তাদের আন্দোলনে কোনো বাধা দিতে দেখা যায়নি।

    এদিকে মৎস্যভবন থেকেও একটি মিছিল শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান সেখানে উপস্থিত এক আন্দোলনকারী।

    মিছিলে তাদের নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়।

    বাড্ডা-রামপুরা সড়কেও অবস্থান নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বেলা ১২টার দিকে ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে একটি দল আফতাবনগরে জড়ো হতে থাকে।

    তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়। পরে ব্র্যাকের সামনে দিয়ে বাড্ডা-রামপুরা-বনশ্রীতে সমবেত হয়।

    দুপুর তিনটার দিকে সেখান থেকে শহীদ মিনারে যাবার কথা জানায় শিক্ষার্থীরা।

    ঢাকার মিরপুর-১০’এর গোলচত্বরের নিচে রাস্তা বন্ধ করে কিছু শিক্ষার্থীকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

    মাথায় বাংলাদেশের পতাকা বেঁধে এবং সড়কে ৯ দফা লিখে তাদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্লোগান দেয় আন্দোলনকারীরা।

    শহীদ মিনারের সামনে
    ছবির ক্যাপশান, শহীদ মিনারের সামনে
    রাজধানীর সড়কে আঁকা গ্রাফিতি
    ছবির ক্যাপশান, রাজধানীর সড়কে আঁকা গ্রাফিতি
    রামপুরা-বাড্ডা-বনশ্রী সড়কে বিক্ষোভকারীরা
    ছবির ক্যাপশান, রামপুরা-বাড্ডা-বনশ্রী সড়কে বিক্ষোভকারীরা