বিজয় দাবি করে মোদী বললেন 'আজকে আমি ভীষণ, ভীষণ খুশি'
ভারতের লোকসভায় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত পাওয়া ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি কিংবা কংগ্রেস- কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পায়নি। কাজেই ক্ষমতার আসনে বসতে হলে তাদেরকে অন্যদলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই বিজয়ের দাবি করেছেন নরেন্দ্র মোদী।
সার সংক্ষেপ
ভারতের জাতীয় নির্বাচনে বিজেপি অথবা কংগ্রেস- কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি
সরকার গঠন করতে হলে জোট সঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হবে
বিজয় দাবি করে জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী
বিজেপি সরকার গঠন করলে জওহরলাল নেহেরুর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসাবে টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদী
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, তাদের লড়াই ছিল সংবিধান বাঁচানোর লড়াই
সরাসরি কভারেজ
বিজয় দাবি করে ভাষণে যা বললেন মোদী, এবারের বিজয়কে “ভারতীয়দের বিজয়” হিসাবে বর্ণনা করেছেন তিনি
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, নির্বাচনে বিজয় দাবী করেছেন নরেন্দ্র মোদী
ভারতের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ'র বিজয় দাবি করেছেন বিজেপি শীর্ষ নেতা ও ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই তারা টানা
তৃতীয় বারের মতো সরকার গঠন করবেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায়
দিল্লিতে বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা জানান মি. মোদী।
“আজকে আমি
ভীষণ, ভীষণ খুশি,” বলেন মি. মোদী।
তিনি আরও বলেন, “আজকের
এই বিজয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজয়।”
নির্বাচনে বিজেপি
নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়কে তিনি “ভারতীয়দের বিজয়” হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
ভোট দিয়ে এনডিএ’র
পাশে থাকার জন্য ভারতের জনগণকে ধন্যবাদ দিয়েছেন মি. মোদী।
এছাড়া সুষ্ঠুভাবে
দায়িত্ব পালন করার জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি।
“তারা খুবই
দক্ষতার সাথে কাজটি করেছে”,
বলেন মি. মোদী।
নতুন সরকার গঠনের পর পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ভারতে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।
একই সঙ্গে, ভারতকে পুরোপুরি দারিদ্রমুক্ত করতে তার সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের জাতীয় নির্বাচনে বিজেপি অথবা কংগ্রেস- কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
কাজেই সরকার গঠন করতে হলে জোট সঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এক্ষেত্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সঙ্গীদের নিয়েই সরকার গঠন করবেন বলে জানিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতা মি. মোদী।
তার জোট সরকার গঠন করলে জওহরলাল নেহেরুর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসাবে টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদী।
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, নির্বাচনের পর বিজেপি সমর্থকদের একটি সমাবেশে নরেন্দ্র মোদী
ভারতের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি ও এনডিএ-র বিজয়
দাবি করেছেন নরেন্দ্র মোদী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে নিউদিল্লির বিজেপি সদর দপ্তরে একটি সমাবেশে তিনি বিজয়ী করার জন্য দেশবাসী ও এনডিএ সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘’আজকের বিজয় ভারতের সংবিধানের ওপর
অটুট বিশ্বাসের জয়।‘’
‘’বিজয়ের এই মুহূর্তে আমি জনগণকে অভিনন্দন জানাই।
সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে এনডিএর সকল সঙ্গীকে ধন্যবাদ জানাই। ‘’
নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘’১৯৬২ সালের পর কোন সরকার
নিজেদের দুই দফা পূর্ণ করার পর তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে আসলো।‘’
‘’আজ তৃতীয়বার জনগণের যে আর্শীবাদ মিললো, আমি
সেটার সামনে, বিনয়ের সঙ্গে মস্তক অবনত করছি।‘’
তিনি দাবি করেন, যে’খানেই বিধানসভার নির্বাচন
হয়েছে, সেখানেই এনডিএ-র বিজয় মিলেছে। সেটা অরুণাচল, অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা হোক অথবা
সিকিম। এসব রাজ্যে কংগ্রেসের সুপরা সাফ হয়ে গেছে। আমাার কাছে বিস্তারিত নেই, হয়তো
তাদের জামানত বাচানো মুশকিল হয়ে গেছে।‘’
তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের আভাস মোদীর, এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় তিনি ভারতের জনগণকে ধন্যবাদ দিয়েছেন
ছবির উৎস, GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান, সরকার গঠন করলে জওহরলাল নেহেরুর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসাবে টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদী
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও জোটসঙ্গীদের নিয়ে টানা
তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের আভাস দিয়েছেন বিজেপি নেতা ও ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত বার্তায় মি. মোদী বলেছেন,
“ টানা তৃতীয়বারের মতো (ভারতের) জনগণ এনডিএ’র উপর আস্থা রেখেছে!
ভারতের ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক কীর্তি।”
ভোট দিয়ে পাশে থাকার জন্য ভারতের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মি. মোদী। আশ্বাস
দিয়েছেন, জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করতে বিগত ১০ বছরের মতো সামনের বছরগুলোতেও
ভাল কাজ চালিয়ে যাবেন।
সরকার গঠন করলে জওহরলাল নেহেরুর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসাবে টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদী।
পশ্চিমবঙ্গের
৪২টি আসনের গণনা প্রায় শেষের পথে। কিন্তু যত রাউন্ড গণনা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে,
তা থেকে কে কোন
আসনে জিততে চলেছেন, তা
মোটামুটি ভাবে স্পষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকটি আসনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে
হাড্ডা হাড্ডি লড়াই চলছে।
কিন্তু
মোটের ওপরে যেটা স্পষ্ট, তা
হল তৃণমূল কংগ্রেস গত লোকসভা নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ২২টি আসনের তুলনায় আসন সংখ্যা অনেকটাই বাড়িয়ে নিতে চলেছে। অন্যদিকে বিজেপি যেখানে আগের নির্বাচনে –
২০১৯ সালে জয়ী হয়েছিল ১৮টি আসনে, তা
কমে যেতে চলেছে।
বিকেল
সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত যা ট্রেন্ড, তাতে
তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টিতে আর বিজেপি ১২টিতে এগিয়ে আছে।
জাতীয়
কংগ্রেস আগের বারের জেতা দুটি আসনের বদলে একটি পেতে চলেছে হয়তো।
তৃণমূল
কীভাবে আসনসংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হল?
বিশ্লেষকরা
বলছেন, এই
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণের দুটি দিক আছে : একটি যদি হয় তৃণমূল কীভাবে আসনসংখ্যা
বাড়াতে পারল আর দ্বিতীয়টি হল বিজেপি কেন খারাপ ফলাফল করল?
প্রথম
দিকটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ইত্যাদির
মতো যেসব সামাজিক প্রকল্পগুলি চালায় – যেগুলির মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পৌঁছয়
ভোটারদের হাতে – বিশেষত নারীদের হাতে, সেই ব্যবস্থায় যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করতে
চেয়েছেন ভোটাররা।
তৃণমূল
কংগ্রেস তাদের প্রচারে এটা বারেবারে বলেছে যে বিজেপি যদি সরকারে আসে তাহলে এধরনের
প্রকল্পগুলি বন্ধ করে দেবে।
রাজনৈতিক
বিশ্লেষক বিশ্বজিত ভট্টাচার্য বলছিলেন, “সাধারণ মানুষ স্থিতাবস্থা চান। তারা দেখলেন, যদি বিজেপি সরকারে
আসে, হোক
না তা কেন্দ্রীয় সরকার, যদি
তখন এই ধরণের সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ করে দেয়, তাহলে তো সমস্যায় তারাই পড়বেন।
“আবার
বিজেপি নেতারা বলছিলেন গতবারের থেকে সামান্য বেশি আসন পেলেও তারা রাজ্যের তৃণমূল
কংগ্রেস সরকারকে ফেলে দেবেন। এই হুমকিতে মানুষ কিছুটা হলেও আতঙ্কিত হয়েছেন,
“বলছিলেন মি.
ভট্টাচার্য।
আবার
কয়েক বছর ধরেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রচার চালাচ্ছে যে কেন্দ্রীয় সরকার বহু
উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অর্থ আটকিয়ে রেখেছে। সাধারণ মানুষ নিজেরা প্রত্যক্ষভাবে
ভুক্তভোগী হচ্ছেন – গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজ করেও তারা পারিশ্রমিক
পাচ্ছেন না।
বিজেপির
বিরুদ্ধে এই দুটি প্রচার তৃণমূল কংগ্রেসকে নির্বাচনি সাফল্য এনে দিতে অনেকটা
সহায়তা করেছে।
বিজেপির
মেরুকরণের রাজনীতি
দ্বিতীয়
দফার ভোটের পর থেকেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি শুরু করে –
তার আগে নিজেদের দশ বছরের কাজের খতিয়ান দিচ্ছিল তারা।
কিন্তু
সেটা কতটা কাজ করছে ভোটে, তা
নিয়ে কিছুটা আশঙ্কা তৈরি হয় বিজেপি নেতাদের মনে। তাই মি. মোদী নিজেই ধর্মীয়
মেরুকরণের বিষয়গুলি সামনে আনতে থাকেন। যেমন কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে হিন্দু নারীদের
মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নেবে, হিন্দুদের
ধনসম্পত্তি ছিনিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিলিয়ে দেবে ইত্যাদি।
যখনই
এই মেরুকরণ শুরু করলেন তারা, পশ্চিমবঙ্গের
মুসলমান ভোটার, যার
হয়তো একটা সময়ে ভাবছিলেন কংগ্রেস-বাম জোটকে ভোট দেওয়ার কথা, তারা সম্ভবত সিদ্ধান্ত
নিয়ে ফেললেন যে বিজেপিকে আটকাতে হলে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত মমতা ব্যানার্জীর দলকেই
ভোট দেওয়া দরকার।
রাজনৈতিক
বিশ্লেষক আশিস বিশ্বাস বলছিলেন, “এদিক
থেকে বিজেপির প্রচারে বুমেরাং হয়েছে। তারা ভেবেছিল ধর্মীয় মেরুকরণ করে ফলাফল ভাল
করবে, কিন্তু
প্রকৃতপক্ষে হয়েছে বিপরীত। এটা তাদের প্রচারাভিযানে একটা বড় ভুল ছিল।''
“অন্যদিকে
বাম-কংগ্রেস জোট কিন্তু একনিষ্ঠ-ভাবে প্রচারণা চালিয়েছিল। তাদের অনেক নতুন,
তরুণ মুখ জনপ্রিয়ও
হয়েছেন ভোট প্রচারে। কিন্তু তাদের ভোটও মোটামুটিভাবে একই আছে গতবারের তুলনায়।
কিছু ক্ষেত্রে কমেওছে,” বলছিলেন
মি. বিশ্বাস।
তিনি
বিজেপিরভুল প্রচার নীতির যে
বিষয়টি উল্লেখ করছিলেন, তারই
ব্যাখ্যা দিলেন আরেক বিশ্লেষক বিশ্বজিত ভট্টাচার্য।
তার
কথায়, “বিজেপি
এরাজ্যের প্রচারটাকে মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে অ্যান্টি ইনকামবেন্সির প্রচারে
নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এটাতো রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন নয়। এটা নরেন্দ্র মোদীর
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দশ বছরের কাজের পরীক্ষা ছিল। তাই তাদের প্রচার পরিকল্পনার
গোড়ায় গলদ ছিল।“
এ
ছাড়াও বিজেপির নিচু তলায় প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ, দলে অন্তর্দন্দ্বও কাজ করেছে।
জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে নাকচ করছে না কংগ্রেস, বিজেপি কিংবা কংগ্রেস, কেউই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে
ছবির উৎস, Congress
ছবির ক্যাপশান, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের লোকসভায় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে
হলে একটি দলকে অন্তত ২৭২টি আসন পেতে হবে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি
কিংবা কংগ্রেস- কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পায়নি।
কাজেই ক্ষমতার আসনে বসতে হলে তাদেরকে অন্যদলের সঙ্গে জোট
গঠন করতে হবে বলেই মনে হচ্ছে।
মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এখন পর্যন্ত মোট ২৯৪টি আসনে
এগিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর ইন্ডিয়া জোট এগিয়ে আছে ২৩২টি আসনে।
আপাতদৃষ্টিতে সরকার গঠনের দৌড়ে মোদী এগিয়ে রয়েছে মনে হলেও
মুহুর্তেই দৃশ্যপট পাল্টে যেতে পারে যদি মিত্র দলগুলো জোট বদলের সিদ্ধান্ত নেয়।
মোদীর নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ’র দলগুলোর মধ্যে বিজেপির পরে বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে
জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং তেলেগু দেশম পার্টি।
এই দু’টি দল অন্তত ৩০টি পেতে যাচ্ছে।
কাজেই তারা এনডিএ থেকে বের হয়ে যদি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটে
যোগদান করে, তাহলে কংগ্রেসের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দল দু’টির কথা বলা হচ্ছে, কারণ তারা মোদীর জোট যাওয়ার আগে কংগ্রেসের সঙ্গে
জোট বেঁধেছিলো।
এখন পুনরায় তাদেরকে জোটে ফেরাতে কংগ্রেস কী জোরালো কোনও
প্রচেষ্টা চালাবে?
“আগামীকাল (বুধবার) আমাদের জোটের বৈঠক আছে। সেখানে আমরা
জোটের শরীক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো,” মঙ্গলবারের বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, কংগ্রেস জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে
একেবারেই নাকচ করছেন না।
ভারতের জনগণ বলে দিয়েছে যে, তারা মোদীকে চায় না : রাহুল গান্ধী
ছবির উৎস, Congress
লোকসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের অবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে
সংবাদ সম্মেলন করেছে কংগ্রেস।
সেখানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, “আমাদের এবারের লড়াইটি ছিল (ভারতের) সংবিধান বাঁচানোর লড়াই।”
এই লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য ভারতের জনগণের পাশাপাশি জোট সঙ্গী
এবং কংগ্রেসের নেতা-কর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মি. গান্ধী।
লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলাকালেই মঙ্গলবার হঠাৎ করেই ভারতের শেয়ার
বাজারের সূচকে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
সেই প্রসঙ্গ টেনে মি. গান্ধী বলেন,“আপনারা নিশ্চয়ই আদানির স্টক দেখেছেন। ভারতের মানুষ জানে যে, মোদীর সঙ্গে আদানির
সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক আসলে দুর্নীতির সম্পর্ক আছে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ফলাফলে ভারতের জনগণ বলে দিয়েছে যে, নরেন্দ্র
মোদী আমরা আপনাকে চাই না। (অমিত) শাহকে চাই না”
"আমি জনগণের রায় মেনে নিচ্ছি," ওমর আব্দুল্লাহ
উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা লোকসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী শেখ আবদুল রশিদের কাছে পরাজিত হয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের সহ-সভাপতি ও জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।
ইঞ্জিনিয়ার রশিদ নাম পরিচিত ওই প্রার্থী কিন্তু জেলে আটক রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি নির্বাচনে লড়েছেন। ভারতের সন্ত্রাস দমন আইন বা ইউএপিএর অধীনে একটি অভিযোগে তিনি জেলে আটক রয়েছেন।
মি. আব্দুল্লাহ বলেছেন, তিনি বলেছেন, "আমি জানতাম এই লড়াইটা কঠিন হবে। আমি জনগণের রায় মেনে নিচ্ছি।" একইসঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, "কার্গিল ও লেহ-র মানুষ বিজেপিকে হারিয়েছেন।"
জয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওমর আব্দুল্লাহ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'উত্তর কাশ্মীরে জয়ের জন্য ইঞ্জিনিয়ার রশিদকে অভিনন্দন। আমি বিশ্বাস করি না যে তার জয় জেল থেকে তার মুক্তি ত্বরান্বিত করবে বা উত্তর কাশ্মীরের জনগণ তাদের অধিকার অনুযায়ী প্রতিনিধিত্ব পাবেন।' 'তবে ভোটাররা কথা বলেছেন এবং গণতন্ত্রে এটাই গুরুত্বপূর্ণ।'
ছবির ক্যাপশান, ছবি- ওমর আব্দুল্লাহ
এনডিএ কারা?
এনডিএ-এর পূর্ণ অর্থ হল
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট।
বর্তমান শাসক দল
বিজেপির নেতৃত্বে আরও কিছু দল মিলে এই জোট গঠন করেছে।
এতে বেশ কিছু
বিশিষ্ট জাতীয় ও আঞ্চলিক দল রয়েছে।
প্রাথমিক ফলাফল
থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের ৫৪৩টি নির্বাচনী
এলাকার মধ্যে প্রায় ৩০০টিতে এনডিএ
এগিয়ে রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য একটি জোট বা দলকে ২৭২টি আসনে জিততে হবে।
ছবির উৎস, Getty Images
বহরমপুরে পিছিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বহরমপুর আসনে পিছিয়ে রয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। পাঁচবারের সংসদ সদস্য তিনি এবং বহরমপুর তার 'গড়' হিসাবেই পরিচিত। কিন্তু চলতি লোকসভা নির্বাচনে আপাতত ভিন্ন সমীকরণ ধরা পড়ছে। এপর্যন্ত ভোট গণনার নিরিখে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী তথা তৃণমূলের প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের চাইতে পিছিয়ে রয়েছেন। বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত পাওয়া নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৫৬ হাজারেরও বেশি পিছিয়ে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের চেয়ে।
প্রসঙ্গত, এটাই ভোটের রাজনীতিতে প্রথম ম্যাচ মি. পাঠানের।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ছবি- অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও ইউসুফ পাঠান।
কেরালা ও উত্তর প্রদেশে এগিয়ে রাহুল গান্ধী, উভয় আসনে মি. গান্ধী তিন লাখেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, রাহুল গান্ধীর দল কংগ্রেস এবার আগের চেয়ে ভালো করছে
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবারের লোকসভা নির্বাচনে কেরালা
এবং উত্তর প্রদেশের দু’টি আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
এখন পর্যন্ত পাওয়া ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, উভয় আসনেই তিনি
এগিয়ে আছেন।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি এই আসন থেকে জয় পেয়েছিলেন।
ওয়েনাদের পাশাপাশি মি. গান্ধী এবার উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলি
থেকেও ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সেখানে তিনি তিন লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন বলে
জানা যাচ্ছে।
এর আগের কয়েকটি নির্বাচনে রায়বেরেলি থেকে নির্বাচন করেন
মি. গান্ধীর মা সোনিয়া গান্ধী।
এবার নিজে নির্বাচন না করে তিনি ছেলে রাহুল গান্ধীর জন্য
আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ফাইল চিত্র -নরেন্দ্র মোদী।
চলতি লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে জিতলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৬৯২১৭০।
ওই আসনে তার বিপরীতে লড়েছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অজয় রাই। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাকে ১৫২৫১৩টি ভোটে পরাজিত করেছেন। মি. রাই পেয়েছেন ৪৬০৪৫৭টি ভোট।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী তার প্রতিদ্বন্দ্বী তথা সমাজবাদী পার্টির শালিনী ইয়াদভকে হারিয়েছিলেন সাড়ে ছয় লক্ষেরও বেশি ভোটে।
জয়ের পথে অমিত শাহ, কংগ্রেসের প্রার্থীর চেয়ে তিনি সাত লাখের বেশি ভোটে এগিয়ে
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মি. শাহ প্রায় পাঁচ লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন
প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ও মোদী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অমিত শাহ গুজরাটের গান্ধীনগর থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হতে চলেছেন বলেই মনে
হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া বুথ ফেরত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মি. শাহ
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের সোনাল প্যাটেলের চেয়ে সাত লাখেও বেশি ভোটে এগিয়ে
রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মি. শাহ এই আসন থেকে প্রায় পাঁচ
লাখ ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এবার সেই ব্যবধান দ্বিগুণ করাই বিজেপির লক্ষ্য বলে দলটির
পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গান্ধীনগরকে বিজেপি’র একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা
করা হয়।
১৯৮৪ সাল থেকে এই আসনে টানা জয় পেয়ে আসছে দলটি।
পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত মহুয়া মৈত্র পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে রয়েছেন, কৃষ্ণনগরে মিজ মৈত্র ৪৬ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন
ছবির উৎস, GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান, মিজ মৈত্র মোদী সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত
পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে ভোটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের
প্রার্থী মহুয়া মৈত্র। তিনি প্রায় সাড়ে ৪৬ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
মোদী সরকারের কড়া সমালোচক মিজ মৈত্রকে তৃণমূল কংগ্রেসের একজন
গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এর আগে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত
হয়েছিলেন।
এরপর পার্লামেন্টে মোদী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে
জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে মিজ মৈত্র ভারতের রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
কিন্তু গত বছর বিজেপি মিজ মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন
যে, তিনি অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
যদিও মিজ মৈত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে
ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
কিন্তু ভারতের পার্লামেন্টের এথিক্স কমিটির সুপারিশে পরবর্তীতে
তাকে বহিষ্কার করা হয়।
কোন জোট কত আসনে এগিয়ে?, ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগবে
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, মোদীর এনডিএ জোট ভারতের পরবর্তী সরকার গঠনের দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে
এখন পর্যন্ত পাওয়া ভোটের বুথ ফেরত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ জোট ভারতের পরবর্তী সরকার গঠনের দৌড়ে
বেশ এগিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, তাদের প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান
ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স বা ইন্ডিয়া জোট এক্ষেত্রে খানিকটা পিছিয়ে
থাকলেও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রূপে আবির্ভূত হয়েছে।
মোদীর এনডিএ জোট এখন পর্যন্ত মোট ২৯৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যার মধ্যে বিজেপি এককভাবে এগিয়ে আছে ২৪১টি আসনে।
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর ইন্ডিয়া জোট এগিয়ে আছে ২৩২টি আসনে। এর মধ্যে কংগ্রেস এককভাবে এগিয়ে রয়েছে ৯৯টি আসনে।
ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লেগে যেতে পারে।
'ইন্ডিয়া' জোট কারা?
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ইন্ডিয়া জোট ২৮টি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত, এরমধ্যে সবচেয়ে বড় দল কংগ্রেস।
ভারতের আরেক নাম ইন্ডিয়া,
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির জোটের নামও ইন্ডিয়া। তবে জোটের এই নাম দেশ থেকে আসেনি।
ইন্ডিয়ার ইংরেজি
বানানের পাঁচটি অক্ষরের পূর্ণ অর্থ হচ্ছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ
অ্যালায়েন্স।
এই জোট ২৮টি
বিরোধী দল নিয়ে গঠিত – এরমধ্যে প্রধান বিরোধী দল হলো কংগ্রেস।
প্রাথমিক ফলাফল
অনুসারে, ইন্ডিয়া জোট বুথ
ফেরত জরিপকে ভুল প্রমাণ করছে এবং এই নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল
ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-এর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
পাঞ্জাবের জালন্ধরে জয়ী কংগ্রেস
কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে পাঞ্জাবের একটি আসন। পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে কংগ্রেস প্রার্থী চরণজিৎ সিং চান্নিকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
আম আদমি পার্টির ভগবৎ সিং মানের আগে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদেও ছিলেন চরণজিৎ সিং চান্নি। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চরণজিৎ সিং চান্নির প্রাপ্ত ভোট তিন লাখ ৯০ হাজার ৫৩টি।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে এটিই কংগ্রেসের ঝুলিতে আসা প্রথম আসন।
ভারতীয় জনতা পার্টির সুশীল কুমার রিংকুকে মি. চান্নি পরাজিত করেছেন এক লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৩ ভোটে। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির পবন কুমার টিনু পেয়েছেন দুই লাখ আট হাজার ৮৮৯টি ভোট।
জয়পুরে জয়ী বিজেপি
সুরাটের পর আরও একটি আসন এলো বিজেপির ঝুলিতে। রাজস্থানের জয়পুর থেকে বিজেপি প্রার্থী মঞ্জু শর্মাকে জয়ী বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রবীণ বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন আট লাখ ৮৬ হাজার ৮৫০টি ভোট। তিনি কংগ্রেসের প্রতাপ সিং কাছারিয়াওয়াসকে তিন লাখ ৩১ হাজার ৭৬৭ ভোটে পরাজিত করেছেন।
মি. সিং পেয়েছেন পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার ৮৩টি ভোট। ওই একই আসন থেকে ভোটে লড়েছিলেন বহুজন সমাজ পার্টির রাজেশ তনওয়ার। তিনি পেয়েছেন তিন হাজার ৪৬১টি ভোট।
এর আগে গুজরাটের সুরাটে বিজেপি প্রার্থী মুকেশ কুমার চন্দ্রকান্ত দালাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। গত এপ্রিল মাসে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
সুরাটের ওই আসনে ভোটে লড়াইয়ের জন্য আবেদন জানানো কংগ্রেসের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল স্বাক্ষর গরমিলের অভিযোগে। ওই একই আসন থেকে আরও আটজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
'মঙ্গলসূত্র'
ভারতে এবারের নির্বাচনে
একটি শব্দ অনেক শোনা গিয়েছে আর তা হলো 'মঙ্গলসূত্র'। ভারতে হিন্দু সম্প্রদায়ের
বিবাহিত নারীরা 'মঙ্গলসূত্র' নামে এক ধরণের মালা পরিধান করেন।
এই অলঙ্কারটির নাম
জায়গা করে নেয় নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী জনসভায়, যখন কংগ্রেসের ইশতেহারের উদ্ধৃতি দিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন
যে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে নারীদের মঙ্গলসূত্র রক্ষা করতে দেবে না।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী
মনমোহন সিংয়ের নাম নিয়ে মি. মোদী আরও বলেছিলেন, যখন কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখন মনমোহন সিং
বলেছিলেন যে দেশের সম্পত্তিতে প্রথম অধিকার মুসলমানদের।
তবে কংগ্রেস তার এমন দাবিগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে নরেন্দ্র মোদী হিন্দু-মুসলিম
বিভাজনের রাজনীতি করছেন।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে নারীদের 'মঙ্গলসূত্র' রক্ষা করতে দেবে না।
এবারের নির্বাচনে যা কিছু নতুন
ছবির ক্যাপশান, নরেন্দ্র মোদী ও রাহুল গান্ধী
এবারের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ - এই তিনটি রাজ্যে সাতটি ধাপে নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনে অনেক নতুন ধারা দেখা গিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এতে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি
পেয়েছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ ধাপে পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের অংশগ্রহণের হার ছিল
বেশি।
মোট ৯৭ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছে ৬৪ কোটি ২০
লাখের মতো ভোটার। তাদের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৩১ কোটি ২০ লাখের মতো।
এবার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার সুবিধা চালু করা হয়েছে, যেখানে ৮৫ বছরের বেশি বয়সী এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী
ব্যক্তিরা তাদের বাড়ি থেকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
কমিশনের মতে, এবার জম্মু ও
কাশ্মীরে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ৫৮ দশমিক ৫৫
শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
কমিশনের তথ্য বলছে, কাশ্মীর
উপত্যকায় ৫১ শতাংশের বেশি ভোটারের অংশগ্রহণ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ওই রাজ্যের তিনটি সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় গত
নির্বাচনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট বেশি।
ভারতের লোকসভা নির্বাচন: সংক্ষিপ্ত বিবরণ, আপনি যদি এখনই আমাদের সাথে যোগ দিয়ে থাকেন, তাহলে এই পর্যন্ত যা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ দেখে নিতে পারেন:
বিশ্বের সবচেয়ে বড় নির্বাচনে ভোট গণনা শুরু হয়েছে স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটা)
এই পুরো
প্রক্রিয়ায় দেড় কোটি নির্বাচনি কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও ৬৮ হাজার মনিটরিং
টিম বা পর্যবেক্ষক দল কাজ করছে
ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার
সদস্য নির্বাচন করতে কোটি কোটি ভারতীয় সাতটি ধাপে ছয়
সপ্তাহ ধরে অর্থাৎ ১৯শে এপ্রিল
থেকে পহেলা জুনের
মধ্যে ভোট দিয়েছে
ভোটার সংখ্যা প্রায়
৯৭ কোটি হলেও, ভোট পড়েছে ৬৪ কোটির বেশি, অর্থাৎ ভোট পড়ার হার গড়ে ৫৮ দশমিক ৫৮
শতাংশ
লোকসভা নির্বাচনে প্রধান
দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলো বিজেপি-নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স
(এনডিএ) এবং বিরোধী ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল
ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইন্ডিয়া)
প্রাথমিক ফলাফল থেকে দেখা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি নেতৃত্বাধীন
এনডিএ জোট এগিয়ে রয়েছে
বেশিরভাগ বুথ ফেরত জরিপ বলছে, মি. মোদী সহজ জয় পাবেন, আর এমনটা হলে টানা তৃতীয়
মেয়াদে ক্ষমতায় আসবেন মোদী। যেমনটা দেশটির ইতিহাসে কেবল জওহরলাল নেহেরু'র ক্ষেত্রে হয়েছিল
তবে, বিরোধী ইন্ডিয়া জোট প্রত্যাশার
চেয়ে ভালো পারফর্ম করছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে
সরকার গঠনের জন্য ৫৪৩ সদস্যের পার্লামেন্টে একটি দল বা জোটকে ২৭২টি আসন
জিততে হবে
আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে কোন দল বা জোট দেশে পরবর্তী সরকার গঠন করবে