নেত্রকোণায় জামায়াত এমপির গাড়ি ভাঙচুর, অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ, অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার গাড়ি ভাঙচুর ও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন মি. মোস্তফা। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পূর্বধলার আতকাপাড়া এলাকার একটি তেলের পাম্পে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা তেল নিতে যান। খবর পেয়ে একদল লোক গিয়ে তার গাড়ি ভাঙচুর করে।
এসময় পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন সংসদ সদস্য।হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বিবিসি বাংলাকে বলেন, "কিছুদিন ধরেই বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় আমার বিরুদ্ধে নানা হুমকি ও উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে আসছিলেন। আমি একটি মাদরাসার ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করে ফিরছিলাম। এসময় তেলের পাম্পে তেল নেয়ার প্রয়োজন হলে আমি সেখানে গাড়ি রেখে পাশ্ববর্তী মসজিদে যাই। খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আমার গাড়ি ভাঙচুর করে ও আমাকে মসজিদে অবরুদ্ধ করে রাখে।"
"আমার কর্মী–সমর্থকেরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। তারা যদি মসজিদের দরজা ভেঙে ঢুকতে পারতো তাহলে হয়তো আমাকে কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হতো অথবা হাসপাতালে থাকতাম," যোগ করেন মি. মোস্তফা।
ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য থাকলেও পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা থেকে আরও পুলিশ সদস্য গিয়ে সংসদ সদস্যকে উদ্ধার করেন।
নেত্রকোণা পূর্বধলা থানার ওসি দিদারুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "মূলত, তার গাড়িতে তেল ছিল না। পাম্পের ওখানে গেছিলেন তেল নিয়ে আসার জন্য। ওখানে আগে থেকেই কিছু লোক ছিল। ওখানেই কিছু কথা কাটাকাটি হয়তো হইছে।"
হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেছে কি না জানতে চাইলে মি. ইসলাম বলেন, "তার আগের দিন একটা ঘটনা ঘটছে, বিএনপি'র বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটা পোস্ট নিয়ে। একটা মামলাও রেকর্ড হইছে। আমরা ওই লোককে ধরে চালান দিছি। এইটা নিয়ে একটু উত্তেজনা ছিল। এই উত্তেজনার মধ্যেই স্যার ওখানে গেছে পাম্পে তেল নিয়ে আসার জন্য। বিএনপি'র দলীয় কিছু লোকজন ছিল ওখানে আর কি।"
তবে এমপিকে "অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি" মন্তব্য করে মি. ইসলাম বলেন, "নিরাপত্তার জন্য ওখানে মসজিদে ছিল। নামাজের টাইম হয়ে গেছিলো, মসজিদে নামাজ পড়তে ছিল। ওখানেই ছিল। পরে আমরা থানাপুলিশ গিয়ে ওখান থেকে তাকে নিরাপদে নিয়ে আসছি। ইউএনও-ও ছিলেন।"
এ ঘটনায় সংসদ সদস্য স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।











