শপথ নিয়েই একশোর বেশি নির্বাহী আদেশ সই ডোনাল্ড ট্রাম্পের, মার্কো রুবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন
শপথ নিয়ে প্রথম দিনেই একশোর বেশি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ ট্রাম্পের। তুরস্কের স্কি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৬ জন নিহত। সাইবার আইনের সব মামলা ও গায়েবি সব মামলা প্রত্যাহার করছে সরকার।
সরাসরি কভারেজ
মঙ্গলবার যা যা হলো:
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের যে বিধান দেশটির
সংবিধানে আছে সেটি বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য ৩০ দিন
সময় দেয়া হয়েছে। যদিও এ পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করার
প্রক্রিয়া শুরু করা সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্যারিস চুক্তি থেকেও বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে "জাতীয় জরুরি অবস্থা" ঘোষণা করেছেন তিনি।
২০২১ সালের ছয়ই জানুয়ারির ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় যুক্ত থাকার
অভিযোগে আটক হওয়া প্রায় ১৫০০ মানুষকে ক্ষমা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওদিকে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের পর
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।
বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল
অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের বিধান রেখে আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ
অধ্যাদেশ-২০২৫ এর গেজেট নোটিফিকেশন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আসিফ নজরুল আরও জানিয়েছেন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মুক্তমত
প্রকাশের জন্য সাইবার সিকিউরিটি আইনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা সব মামলা
প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়াও সব গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সরকার
প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে।
ফ্লোরিডার
সিনেটর মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
সিনেট তার মনোনয়ন নিশ্চিত করবে। এর ফলে তিনিই হবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার
প্রথম সদস্য, যিনি কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে যাচ্ছেন।
তুরস্কে বোলুতে একটি স্কি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৬ জনের
মৃত্যু হয়েছে। আগুনের ঘটনায় আরো অন্তত ৫১ জন আহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০২১ সালে ক্যাপিটল দাঙ্গার সময় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা উইনস্টন পিনজেওন বলেছেন, সেদিন যে পুলিশ কর্মকর্তারা আক্ষরিক অর্থেই ওই দাঙ্গা মোকাবেলা করেছিলেন, হামলার শিকার হয়েছিলেন, এটা তাদের মুখে চড় মারার সমান।
''এটা অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার যে, সহিংস অপরাধীর, যাদের অপরাধের জন্য জুরিরা দোষী সাব্যস্ত করেছে, যারা দেশ ও বিশ্বের মানুষ দেখেছে, তারা এখন মুক্ত হয়ে তাদের এলাকায় চলে যাবে।,'' তিনি বলেন।
সেদিন ওই দাঙ্গার সময় তিনি মুখে ঘুষি খেয়েছিলেন, পিঠে মার খেয়েছেন, পেপার স্প্রের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনার ১০ মাস পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।
তিনি বলেন, ''সেদিন যারা আইন প্রয়োগকারীদের ওপর হামলা করেছিল, তাদের বিচার হওয়া উচিত, অথচ এখন আর সেটা হচ্ছে না।''
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট
ক্লডিয়া শেইনবাউম বলেছেন মেক্সিকোর মানুষ এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারে যে সরকার ‘সবসময়
মেক্সিকোর সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করবে’।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী
আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন মেক্সিকো সবসময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা মেক্সিকানদের সমর্থন
দিয়ে যাবে।
তিনি বলেন ট্রাম্প দক্ষিণ
সীমান্তে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি জারি করে যে আদেশে স্বাক্ষর করেছেন সেটি ২০১৯ সালে
তার প্রথম মেয়াদের আদেশের মতোই। “এটা নতুন কিছু নয়,” বলেছেন তিনি।
মেক্সিকো উপসাগরের নাম
পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ‘আমেরিকা উপসাগর’ বলতে পারে কিন্তু
মেক্সিকোসহ বাকী বিশ্বের কাছে এটা কোন পরিবর্তন আনবে না।
মার্কো রুবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, শপথ নিচ্ছেন মার্কো রুবিও
ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সিনেট তার মনোনয়ন নিশ্চিত করবে।
এর ফলে তিনিই হবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার
প্রথম সদস্য, যিনি কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে যাচ্ছেন।
সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে তার কয়েক
বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা
বলেছেন তিনি।
তিনিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক। দেশটির
পররাষ্ট্র দফতরে মোট প্রায় ৭০ হাজার কর্মী কাজ করে থাকে।
মি. রুবিওকে পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে খুবই কট্টর হিসেবে
বিবেচনা করা হয়। বিশেষত ইরান ও চীনের বিষয়ে।
শপথ গ্রহণের পর মার্কো রুবিও বলেছেন, নতুন
প্রশাসনের সবকিছু নির্ভর করবে তিনটি প্রশ্নের ওপর- ‘এটা কী আমাদের শক্তিশালী করবে?
এটি কী আমাদের নিরাপদ করবে এবং এটা কী আমাদের আরও উন্নতি দিবে’?
“যদি তা না হয়, তাহলে আমরা সেটি করবো না,” তিনি
বলেছেন।
তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন যুগের দিকে এগিয়ে
যাচ্ছে, যা বিশ্বকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।
“ট্রাম্প এটি পরিষ্কার করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের
পররাষ্ট্রনীতির প্রাথমিক ভূমিকা হবে শান্তি,” বলেছেন তিনি।
চলতি সপ্তাহে লস এঞ্জেলস যাবেন ট্রাম্প
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, দাবানলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে লস এঞ্জেলসে
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব
শুরুর পর লস এঞ্জেলসে প্রথম সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দুই সপ্তাহ আগে ধ্বংসাত্মক দাবানলে সেখানে ব্যাপক
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শপথের আগে সমাবেশে মি. ট্রাম্প বলেছিলেন যে
তিনি শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়া সফর করবেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসম সোমবার এক
বিবৃতিতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরের দিকে তিনি তাকিয়ে আছেন এবং এটি নাগরিকদের
ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ও পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে।
তুরস্কের স্কি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৬ জন নিহত
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, হোটেলের রেস্তোরা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে
তুরস্কে বোলুতে একটি স্কি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনের ঘটনায় আরো অন্তত ৫১ জন আহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গ্রান্ড কার্তাল হোটেল নামের ১২ তলা ওই আবাসিক হোটেলে ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে আগুন লাগে। বছরের এই ব্যস্ত সময়ে হোটেলটিতে ২৩৪ জন অতিথি ছিলেন।
তুরস্কের গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেকে জানালা থেকে বিছানার চাদর বা কাপড় ঝুলিয়ে ভবনের আগুন থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন।
বোলু গভর্নর আবদুল্লাআজিজ আয়দিন জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে যে, চারতলায় হোটেলের রেস্তোরা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। পরে সেটি ওপরের তলাগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে।
হোটেলের কক্ষগুলো আরো অতিথি আটকে আছে কিনা, এখন তার অনুসন্ধান চলছে।
ট্রাম্পের অভিবাসন আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে
একের পর এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি অঙ্গীকার করেছেন লাখ লাখ ‘ক্রিমিনাল অ্যালিয়েন’কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দিবেন এবং মেক্সিকোর সাথে সীমান্তে’ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি’ জারি করেছেন।
ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের ক্লিনটন ইন্সটিটিউটের যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক স্কট লুকাস বলেছেন এতো নির্বাহী আদেশের মধ্যে কোনগুলো দ্রুতই আইনে পরিণত হবে।
তিনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রক্রিয়ায় আছে কংগ্রেস, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা।
“এসব নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন”।
যেসব বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবেই আইন হয়ে গেছে, বলেছেন তিনি।
“অভিবাসনের বিষয়ে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সাথে সাথে প্রয়োগ হয়েছে, কিন্তু এটি আইনি দিক থেকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়বে,'' লুকাস বলেন।
''জন্ম সূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল করতে চান প্রেসিডেন্ট, কিন্তু আমেরিকায় যারা জন্মগ্রহণ করে, তারা আমেরিকান নাগরিক, এটা সংবিধানেই বলা আছে।''
''ফলে এটা বাতিল করে দেয়ার মতো আইনগত অধিকার কি তার আছে? অন্তত এই ইস্যুতে তিনি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন,'' বলছেন মি. লুকাস।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ১২/১৩ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনকে নির্দেশ দিতে পারেন।
''কিন্তু আমি মনে করি না এটা খুব সহজ হবে। এখানে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের প্রশ্ন আছে, এটা নিয়ে বেশ শোরগোলও তৈরি হবে,'' বলেছেন মি. লুকাস।
উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল হচ্ছে
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্ট
বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের বিধান রেখে আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫ এর গেজেট নোটিফিকেশন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
“উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য একটি কাউন্সিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। ছয় সদস্যের এ কাউন্সিল নিজেরাও নাম সংগ্রহ করে যাচাই বাছাই করবেন, আবার অন্য যে কেউ নাম প্রস্তাব করে যাচাই বাছাইয়ের জন্য কাউন্সিলে চিঠি দিতে পারবে। উচ্চ আদালতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রক্রিয়ায় বিচারক নিয়োগ হবে,” মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন তিনি।
তিনি বলেন “গত সরকারের আমলে যে এতো অনাচার হতো, চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হতো, মানুষকে যে দমন নিপীড়ন করা হতো- তার বড় প্লাটফরম ছিলো উচ্চ আদালত। সেখানে মানুষ প্রতিকার পেতো না। এটার কারণ ছিলো রাজনৈতিক সরকারগুলো দলীয় বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্যদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিতো”।
আসিফ নজরুল বলেন উচ্চ আদালতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ ও যোগ্য লোকেরা নিয়োগ না পেলে সতের কোটি মানুষের মানবাধিকারের বিষয়টি অমীমাংসিত ও ঝুঁকির মুখে থেকে যায়।
“আমরা চেষ্টা করেছি ভালো আইন করার জন্য। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। দক্ষ, অভিজ্ঞ, দল নিরপেক্ষ ও প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা বিচারক হবেন- এমন দাবি অনেক দিন ধরেই উত্থাপন হয়েছিলো। এ কারণেই এই আইন হয়েছে”।
একই সঙ্গে তিনি জানা যে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে কাজ চলার পাশাপাশি স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিসের বিষয়েও আইন তৈরির কাজ চলমান আছে।
সাইবার আইনের সব মামলা ও গায়েবি সব মামলা প্রত্যাহার করছে সরকার
ছবির ক্যাপশান, সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি আইনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়াও সব গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সরকার প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে।
“দুই সপ্তাহের মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। সেই সঙ্গে সাইবার সিকিউরিটি আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি দেশের ২৫টি জেলায় আড়াই হাজার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বা গায়েবি মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রত্যাহার হবে,” মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান চারটি ক্রাইটেরিয়াতে গায়েবি মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- এ মামলা পুলিশ দায়ের করেছিলো কি-না, বিস্ফোরক আইন, অস্ত্র, পুলিশের ওপর হামলা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা, যেসব মামলায় অনেক আসামি ও অজ্ঞাত আসামি থাকে এবং বিএনপিসহ বিরোধীদের আন্দোলনের আগে-পরে ও ভুয়া তিনটি নির্বাচনের আগে-পরে এসব মামলা হয়েছে।
“এসব ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে আড়াই হাজারের মতো মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রত্যাহারের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। বাকি জেলাগুলোতেও এসব মামলা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পাওয়া গেলে সেগুলোও প্রত্যাহার করা হবে”।
আসিফ নজরুল জানান আড়াই হাজারের বেশি মামলায় লাখ লাখ আসামি আছে এবং আরও অনেক জেলায় আরও অনেক মামলা আছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্যারিস চুক্তি থেকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফা প্রত্যাহার করতে পারেন?
ছবির উৎস, EPA
ছবির ক্যাপশান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্যারিস চুক্তি থেকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইউনিভার্সিটি
কলেজ ডাবলিনের ক্লিনটন ইন্সটিটিউটের যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ক
অধ্যাপক স্কট লুকাসের মতে- হ্যাঁ তিনি পারেন।
শপথ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প যতগুলো নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তার মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থা ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরুর
আদেশও আছে।
“তিনি আন্তর্জাতিক
কর্মসূচিগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করতে পারেন,” লুকাস বলছিলেন।
তার ব্যাখ্যা হলো:
“যদি চুক্তিজনিত কোন বাধ্যবাধকতা না থাকে যে যুক্তরাষ্ট্রকে এতে থাকতেই হবে, তাহলে
এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের কোন প্রয়োজন নেই”।
এর অর্থ হলো
যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজে সরে যাওয়ার পথে আছে।
মৌলভীবাজার সীমান্তে নদী-বাঁধ নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়ল অমিত শাহর কাছে
ছবির উৎস, Nitai De
ছবির ক্যাপশান, ভারত অভিযোগ করেছে সীমান্ত পিলারের খুব কাছেই বাঁধের জন্য মাটি ফেলা হয়েছে বাংলাদেশের তরফে
ভারতের ত্রিপুরার সীমান্তে মনু নদীর ওপরে বাংলাদেশের তরফে যে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।
ত্রিপুরা সরকারের অভিযোগ যে সীমান্ত পিলারের খুব কাছেই বাঁধের জন্য মাটি ফেলে রাখা হয়েছে – যা দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী করা যায় না।
দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মি. শাহের সঙ্গে দেখা করে আগরতলায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে উনকোটি জেলার কৈলাসহরের পাশে যেখানে বাঁধ নিয়ে বিতর্ক বেঁধেছে, সেই এলাকাটি সরেজমিনে দেখে এসেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। তাদের রিপোর্টের সঙ্গেই উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি ইত্যাদি সব কিছুই তিনি দিল্লিতে জমা দিয়ে এসেছেন।
তার কথায়, “এটা খুবই সিরিয়াস বিষয়। ওখানে যে সীমানা ফলক আছে, তার ৪০-৫০ মিটারের মধ্যেই বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। কোনভাবেই উচিত না এটা। এরফলে পুরো কৈলাসহরের দিকে জলপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে জল জমে যাবে। এটা কাম্য নয়।“
মনু নদীর ওপরে কৈলাসহরের কাছে যে বাংলাদেশের তরফে নদী বাঁধ দেওয়া হচ্ছে, সেটা প্রথম ত্রিপুরা বিধানসভায় তোলেন কংগ্রেস বিধায়ক বীরজিত সিনহা।
তিনি বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ তাদের অংশে মনু নদীর বাঁধ সংস্কার এবং উচ্চতা বাড়ানোর কাজ চালাচ্ছে এবং এর ফলে তার এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দেবে।
মি. সিনহা অবশ্য উল্লেখ করেছিলেন যে ওই মনু নদীতেই ভারতের দিকে যে বাঁধ আছে, সেটি সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে।
এই বাঁধ দুটি অবশ্য নদীর মাঝ বরাবর যে ড্যাম বা ব্যারাজ বানানো হয়, সেরকম নয়, নদী-পাড়ের ভাঙ্গন আটকাতে দেওয়া হয়েছে এই বাঁধ।
এরপরেই গত শুক্রবার ওই বাঁধের অঞ্চলটি পরিদর্শন করেন জেলাশাসক। তার দেওয়া রিপোর্টই জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে।
তবে বাংলাদেশের তরফে বিবিসি বাংলাকে আগেই জানানো হয়েছিল যে তারা কোনও বাঁধ নতুন করে বানাচ্ছে না, প্রায় চার দশকের পুরনো একটি বাঁধের সংস্কার করা হচ্ছে মাত্র।
বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ খালেদ বিন অলীদ বিবিসিকে বলেন যে ভারতের কৈলাশহর ডুবে যাবে, এমন আশঙ্কার কোনও কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।
তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন যে মনু নদীর বাঁধ সংস্কারের কাজ ‘চলমান রয়েছে’।
“বাঁধটি আগে থেকেই ছিল। কিছু জায়গায় উঁচু নিচু ছিল। ডিজাইন অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় একেক লেভেলে, যতটুকু দরকার ততটুকু করছি। আবার তিনটা পয়েন্টে উনাদের বাধার জন্য আমরা কাজ করতে পারছি না,” বলেন মি. অলীদ।
পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে বলবেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব হস্তান্তর বিষয়ক টিমের প্রধান রবার্ট উইলকি বলেছেন মি. ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলবেন।
তিনি আরও জানান যে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেও ফোন করে বলবেন যে তিনি যথেষ্ট করেননি।
যদিও পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য মি. ট্রাম্পের কথা না শোনেন তাহলে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ আমেরিকার জ্বালানির শক্তি দেখাবে।
“আমেরিকার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ইউরোপে যাওয়া শুরু হবে,” উইলকি বলছিলেন।
“এবং বিশ্ব তেলের বাজারে আমেরিকার উপস্থিতি তেলের দাম কমিয়ে দেবে- যা রাশিয়ার অর্থনীতিকে দেউলিয়া করবে। এটি পুতিনের যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিবে”।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের যে বিধান দেশটির সংবিধানে আছে সেটি বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছেন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফেডারেল এজেন্সিগুলোকে
অবৈধ অভিবাসী কিংবা সাময়িক ভিসাধারী বাবা মায়ের সন্তানকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না
দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্ট
সংস্থাগুলোকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য ৩০ দিন সময় দেয়া হয়েছে।
যদিও এ পদক্ষেপ আইনি
চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ছবির উৎস, EPA
ছবির ক্যাপশান, দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেকগুলো নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, টিকটকের সিইও (মাঝে) সোমবার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিকটককে আইনি বাধ্যবাধকতা পালনের জন্য ৭৫ দিনের সময় দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
সোমবার ওভাল অফিসে এটি স্বাক্ষরের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “টিকটকের বিষয়ে প্রতিটি ধনী মানুষ আমাকে কল করেছিলো”।
নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা সময়ের মধ্যে কোন আইনি পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয় সাময়িক এই পদক্ষেপ ‘আমার প্রশাসনকে টিকটকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই একটি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ এনে দিবে’।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতবছর টিকটক বিষয়ক আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে সময়ে এটা বন্ধ করা হয়েছিলো তা দুঃখজনক।
যুক্তরাষ্ট্রে শনিবার টিকটক বন্ধ হয়ে গেলেও রবিবার আবার চালু হয়েছে।
রামকৃষ্ণ মিশনে ভাঙচুরের পরে মেঘালয়ের গ্রামে কারফিউ
ছবির উৎস, Joe Thangkhiew
ছবির ক্যাপশান, গ্রামবাসীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে রামকৃষ্ণ মিশনের একটি
নির্মীয়মাণ স্কুলে স্থানীয় মানুষ ভাঙচুরের পরে সেখানে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। সোমবারের
ওই ঘটনার পরে মঙ্গলবারও গ্রামটিতে উত্তেজনা রয়েছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে
পুলিশ।
মাউকেনরৌ গ্রামটি মেঘালয়ের ইস্ট খাসি হিলস জেলায়।
পুলিশ বলছে সোমবার প্রায় ২৫০ জন নারী-পুরুষ নির্মীয়মাণ ওই স্কুলটিতে
ভাঙচুর চালান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে সেখানে লাঠিচার্জ করে
ও তারপরে টিয়ার শেলও ফাটায়। অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন ওই ঘটনায়। আহতদের মধ্যে অন্তত চার
জন পুলিশ কর্মীও আছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় মাউকেনরৌ গ্রামে
কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন।
কারফিউ জারির নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসন বলেছে যে এই সমস্যা
“খুব সম্ভবত চলতে থাকবে এবং শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার গুরুতর আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে
জানমালের ক্ষতি হতে পারে।“
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলবে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, কয়েক বছর আগে ওই স্কুল তৈরির জন্য
গ্রাম প্রধানের কাছ থেকে ২০২২ সালে জমিটি নিয়েছিল রামকৃষ্ণ মিশন। তবে সেই গ্রাম-প্রধান
বদলিয়ে এখন যিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি আগের সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে জমিটি ফেরত
নেওয়ার কথা বলছেন। ওই জমিটি আদতে আদিবাসী জমি এবং গ্রামের খেলার মাঠ হিসাবে চিহ্নিত
করা হয়েছে।
তবে এই অশান্তির মধ্যে কোনও ধর্মীয় বিষয় জড়িত নয় বলেও উল্লেখ
করছে স্থানীয় সূত্রগুলি।
অতিবিপ্লবী চিন্তা দিয়ে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি ঠিক হবে না, বললেন মির্জা আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন অতিবিপ্লবী চিন্তা ভাবনা নিয়ে সমাজে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।
“এ মুহূর্তে সব পাল্টে দিবো, এ মূহুর্তে দখল করবো, এ মুহূর্তে সব অন্যায় দূর করবো- এটা হয় না। ধাপে ধাপে যেতে হবে,” জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বলছিলেন তিনি।
তিনি বলেন সরকার অনেকগুলো কমিশন করেছেন কিন্তু শিক্ষার সংস্কারে কোন কমিশন হয়নি। এটা করা উচিত ছিলো।
“শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা একদম শেষ হয়ে গেছে। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সব জায়গায় মান এত নীচে নেমে গেছে তা বলে বোঝানো যাবে না। অসংখ্য স্কুল ও কলেজ তৈরি হয়েছে যেখানে শিক্ষক নেই। শিক্ষা ঠিক না হলে সমাজের কোন পরিবর্তন হবে না।”
মি. আলমগীর বলেন দেশে যে অস্থিরতা চলছে সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ধৈর্য ধরে পা ফেলতে হবে এবং কোন হঠকারিতা করা যাবে না।
“প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা পাল্টায়। আরও বিপদ যেন ডেকে না আনি,” বলছিলেন তিনি।
ছয়ই জানুয়ারির দাঙ্গাকারীদের ‘ক্ষমা করা উচিত হয়নি’ – চাক শুমার
সেনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন যে “তারা সহিংসতা করুক বা না করুক," ছয়ই জানুয়ারির ক্যাপিটল হিলের হামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষমা করা উচিত হয়নি।
“তারা আইন অমান্য করে ক্যাপিটলে ঢুকে শান্তিপূর্ণভাবে চলমান ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলো। তারা যা করেছে, তা ছিল একটি গুরুতর অপরাধ,” মি. শুমার বলেন।
যারা আইন ভঙ্গ করে ও সরকার উৎখাতের চেষ্টা করে, তাদের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সোনালি যুগের শুরু করতে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, চাক শুমার
ইলন মাস্কের ‘নাৎসি’ অঙ্গভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানের পর এক আয়োজনে বক্তৃতা দেয়ার সময় করা অঙ্গভঙ্গি নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।
ওয়াশিংটনে আয়োজিত ওই অভিষেক অনুষ্ঠানে এক্স, স্পেসএক্স এবং টেসলার প্রধান নির্বাহী মাস্ক যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন তাকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায়।
একপর্যায়ে তিনি এক বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করেন।
তিনি ডান হাত বুকের বাম পাশে রাখেন, তারপর সেই হাত ওপরে ছুড়ে দেন।
তিনি পরপর দুইবার এই ভঙ্গি করেন।
দর্শকদের অনেকেই ওই ভঙ্গিকে ‘নাৎসি’ বা ‘ফ্যাসিবাদী’ স্যালুট হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
ট্রাম্পের উদযাপনের রাতে কমালা হ্যারিস কী করছেন?
ছবির উৎস, Reuters
শপথ গ্রহণের পর থেকে একের পর এক উদযাপনে ব্যস্ত রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস।
এরপর হোয়াইট হাউজ থেকে বেরিয়ে নিজ রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ জীবনে ফিরে গেছেন কমালা হ্যারিস।
লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছে তিনি দু'টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যান।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোরর জন্য খাবার বিতরণ করতে প্রথমে তিনি ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনে যান।
ওই দাবানলে ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন ও হাজার হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে।
এরপর কমালা দমকল বাহিনীর কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন, যারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দাবানলের আগুন নিভিয়েছিলেন।
শোনা যাচ্ছে, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবার জন্য কিছুটা সময় নেবেন কমালা।
জানা গেছে, হয়তো তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে প্রার্থী হতে পারেন।
কিংবা, তিনি আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে এখনো তিনি এসব বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
"কিম জং আন কেমন আছেন?" – ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ২০১৯ সালে কোরিয়া সীমান্তের অসামরিকীকৃত এলাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং-আন
উত্তর কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা পুরনো, কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশটির নেতা কিম জং-আনের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের রসায়ন বেশ ব্যতিক্রমী।
প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকার সময় নিরস্ত্রীকরণে রাজি করাতে নিজেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আনের সাথে সাক্ষাতের উদ্যোগ নেন ট্রাম্প।
২০১৯ সালে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মি. ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর খোঁজ নিয়েছেন কিম জং-আনের।
শপথ গ্রহণের পর কয়েকশো নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত সদস্যদের সঙ্গে মঞ্চে ভিডিও কলে কথা বলেন ট্রাম্প।
সেসময় তিনি জিজ্ঞেস করেন, “সবাই কেমন আছেন ওখানে? কিম জং আন কেমন আছেন?”
তার এই রসিকতা শুনে উপস্থিত অনেকেই হেসে ওঠেন।
বড় পর্দায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কথা বলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটির কমান্ড সার্জেন্ট মেজর রবিন বলমার।
তিনি মি. ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা আপনাকে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত, মি. প্রেসিডেন্ট।”
এর আগে, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া নিয়ে কথা বলেন।
সেসময় তিনি দেশটিকে একটি 'পরমাণু শক্তিধর দেশ' হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে, তার এই মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, আমেরিকার লক্ষ্য হওয়া উচিত উত্তর কোরিয়াকে নিরস্ত্রীকরণ করা, এবং আমেরিকার উচিত ওই লক্ষ্যে অবিচল থাকা।