প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন: যা জানা প্রয়োজন

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত হবেন। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি প্রথম জাতীয় নির্বাচন। আপনি যদি এবার প্রথমবারের মত ভোট দিতে যান, বিবিসি বাংলার এই গাইড আপনাকে সাহায্য করবে।
পড়ার জন্য এই অংশে ক্লিক করুন।
ভোট দিতে আমার কি এনআইডি লাগবে?
ভোটকেন্দ্র কোথায় আছে?
কখন থেকে ভোট গ্রহণ হবে?
আমি কীভাবে ভোট দেবো?
কাকে ভোট দেবো?
ক্রস চিহ্ন দেবো, না টিক দেবো?
আমি কি আমার ভোট নষ্ট করলাম?
সেলফি তুলতে পারবো?
ভোটার তালিকা কীভাবে পাবো?
যদি অন্য কেউ আমার ভোট দিয়ে দেয়?
ভোট দেয়ার সময় কি আমি নিকাব পরতে পারবো?
প্রবাসী বাংলাদেশিরা কি ভোট দিতে পারবেন?
আমি কি 'না' ভোট দিতে পারবো?
ভোটকেন্দ্রে কি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ব্যবস্থা আছে?


ভোট দিতে আমার কি এনআইডি লাগবে?
না। নির্বাচনের দিন আপনার কেবলমাত্র ভোটার স্লিপ লাগবে - আর কিছু না। এমনকি আপনি যদি এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে ফেলেন, ভয় পাবেন না। ওটা ছাড়াই আপনি ভোট দিতে পারবেন।
ভোটার স্লিপে আপনার নাম এবং সিরিয়াল নম্বর থাকে, এবং সাধারণত স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিস থেকে সেটি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়। আপনি এখনো পাননি? আপনার নিকটস্থ ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অফিসে গিয়ে সংগ্রহ করুন।
আরও পড়তে স্ক্রল করুন
↓


ভোটকেন্দ্র কোথায় আছে?
বেশিরভাগ সময়, সেটি হয় কাছাকাছি থাকা স্কুল বা কলেজ।
নির্দিষ্ট অবস্থান জানতে চান? স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ ডাউনলোড করুন - এরপর আপনার মোবাইল নম্বর, বয়স, এবং এনআইডি নম্বর দিন। সাথে সাথে আপনার ভোটার তথ্য এবং ভোটকেন্দ্রের অবস্থান জানতে পারবেন।
অ্যাপসে পাচ্ছেন না? চিন্তা নেই! ভোট সংক্রান্ত যেকোন তথ্যের জন্য নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন নম্বর ১০৫ এ ফোন দিন।
আরও পড়তে স্ক্রল করুন
↓


কখন থেকে ভোট গ্রহণ হবে?
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত যে কোন সময় আপনি ভােট দিতে পারেন। ফলে এমনভাবে পরিকল্পনা করুন যাতে ভোটগ্রহণ শেষের আগেই পৌঁছাতে পারেন।
আরও পড়তে স্ক্রল করুন
↓


আমি কীভাবে ভোট দেবো?
খুব সহজ! আপনার নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে যান এবং নির্বাচন কর্মকর্তাকে আপনার ভোটার স্লিপ দেখান। তারা আপনার সিরিয়াল নাম্বার পরীক্ষা করে দেখবেন, আপনার নাম চিহ্নিত করে তারা আপনাকে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করবেন।
এরপর, তারা আপনার আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে দাগ দেবেন, এবং আপনাকে প্রতীকের ছবিসহ একটি ব্যালট পেপার এবং একটি স্ট্যাম্প দেবেন।
পর্দা ঢাকা গোপন স্থানে যান, নিজের পছন্দের প্রার্থীর মার্কায় ভোট দিন, ব্যালটটি ভাঁজ করে (লম্বালম্বি ভাঁজ করুন, যাতে ব্যালটের কালি লেপটে না যায়, এরপর আরো দুইটি ভাঁজ দিন) এবং তারপর ব্যালট বাক্সে ফেলুন।
কোন একটি পর্যায়ে দ্বিধায় পড়েছেন? নির্বাচনী কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করুন - আপনাকে সাহায্য করাই তাদের কাজ!
আরও পড়তে স্ক্রল করুন
↓


কাকে ভোট দেবো?
টিভিতে বক্তব্য দিতে বা অনলাইনে ক্লিপস দেখছেন যে রাজনীতিবিদের - তারা হয়তো কোন দলের নেতা, তাদের দলের সদস্যরা সংসদে বেশিরভাগ আসন পেলে দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হবেন।
প্রতিটি ব্যালটে আপনার নির্বাচনী আসনের সব প্রার্থীর তালিকা থাকবে - তারা যে দলের হয়ে নির্বাচন করছেন তার নাম থাকবে - যদি তিনি কোন দলের না হন, তাহলে লেখা থাকবে স্বতন্ত্র - এবং আপনার ভোট চিহ্ন দেয়ার জন্য পৃথক ঘর থাকবে।
ক্রস চিহ্ন দেবো, না টিক দেবো?
কোনটাই না! পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য আপনাকে বিশেষ আনুষ্ঠানিক স্ট্যাম্প দেয়া হবে।
ভেতরে যান, পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের পাশে সিল মারুন, ব্যালট ভাঁজ করুন, তারপর আপনার কাজ শেষ!
আরও পড়তে স্ক্রল করুন
↓


আমি কি আমার ভোট নষ্ট করলাম?
গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনে ভোট দেয়া স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টিকারী হতে পারে।
কোন ভুল হয়ে গেলে ভয় পাবেন না। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে আপনার ব্যালটটি ফেরত দিয়ে আরেকটি নতুন ব্যালট চেয়ে নিতে পারেন। কোন সমস্যা নেই।
সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার তখন নষ্ট ব্যালটটি নষ্ট ব্যালট রাখার বাক্সে রাখবেন, ব্যালট বাক্সে না।
আরও পড়তে স্ক্রল করুন
↓


সেলফি তুলতে পারবো?
না! সেলফি পরে তুলতে পারবেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ছবি তোলা, ভিডিও করা কিংবা চেক-ইন দেয়া যাবে না।
আসলে, ভোটকেন্দ্রে ফোন না নিয়েই যাওয়া উচিত। যদি একান্ত নিতেই হয়, ভোটকেন্দ্রে ঢোকার সময় সেটি বন্ধ রাখুন। এবং মনে রাখবেন, কীভাবে ভোট দিচ্ছেন সেটি কখনো রেকর্ড করবেন না। সেটি গোপন রাখুন, নিরাপদ রাখুন!
ভোটার তালিকা কীভাবে পাবো?
কোন ওয়েবসাইটে ভোটার তালিকা পাওয়া যাবে না।
একমাত্র বিকল্প উপায় হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশন এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসে সরাসরি হাজির হওয়া।
আরও পড়তে স্ক্রল করুন
↓


যদি অন্য কেউ আমার ভোট দিয়ে দেয়?
যদি দেখেন অন্য কেউ আপনার ভোট দিয়ে দিয়েছে, চলে আসবেন না। সাথে সাথে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা একটি বিশেষ ব্যালট সই করবেন এবং সেটি আলাদা রাখবেন, এটি আলাদা গণনা করা হবে। একে বলা হয় টেনডারড ভোট।
ভোট দেয়ার সময় কি আমি নিকাব পরতে পারবো?
আপনি যেকোন পোশাক পরে ভোট দিতে যেতে পারবেন। কিন্তু, আপনি যদি নিকাব পরেন, তাহলে হয়তো পোলিং এজেন্ট আপনাকে সাময়িক সময়ের জন্য সেটি সরাতে বলবেন।
আরও পড়তে স্ক্রল করুন
↓


প্রবাসী বাংলাদেশিরা কি ভোট দিতে পারবেন?
এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
এছাড়া, আপনি যদি দায়িত্বরত নির্বাচনী কর্মকর্তা বা নিজের ভোটার এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী বা আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার হন, তাহলে আপনিও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
আমি কি 'না' ভােট দিতে পারবো?
হ্যা, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি 'না ভোট' দিতে পারবেন। এটি 'ওপরের কোনটি প্রযোজ্য নয়' এমন অর্থে ব্যবহার হয়। এর মাধ্যমে একজন ভোটার সব প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
আরও পড়তে স্ক্রল করুন
↓


ভোটকেন্দ্রে কি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ব্যবস্থা আছে?
অন্ধ কিংবা ভোট দিতে অপরের সহযোগিতা প্রয়োজন হয় এমন মানুষকে সাথে করে একজনকে নিয়ে আসার অনুমতি দেয়া হয়, যারা তাদের সাথে ভোট দেয়ার গোপন এলাকায় যেতে পারবেন এবং ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
এক প্রেস কনফারেন্সে বলা হয়েছে, "একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা মৌলিক। এজন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের বাধা দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে প্রত্যেক নাগরিক মর্যাদার সাথে ভোট দিতে পারেন।"
ক্রেডিট
লেখা এবং ভিজ্যুয়াল প্রোডাকশন: স্বোয়াতি জোশি
ডিজাইন: লোকেশ শর্মা
অনুবাদ: সাইয়েদা আক্তার


