পূর্ব জেরুসালেমে ইহুদিদের প্রার্থনাস্থলে হামলায় সাতজন নিহত

ইহুদি সাবাথ পালনের অংশ হিসাবে শহরের ইহুদি বসতির একটি সিনাগগে সমবেত হয়েছিলেন ইসরায়েলি ইহুদিরা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইহুদি সাবাথ পালনের অংশ হিসাবে শহরের ইহুদি বসতির একটি সিনাগগে সমবেত হয়েছিলেন ইসরায়েলি ইহুদিরা। (ফাইল ফটো)

জেরুসালেমে একটি ইহুদিদের প্রার্থনাস্থলে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরও অন্তত তিনজন। গত কয়েক বছরের মধ্যে এ ধরনের বড় হামলা আর হয়নি।

পূর্ব জেরুসালেমের নেভে ইয়াকভের কাছে একটি এলাকায় স্থানীয় সময় রাত সোয়া আটটার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে বর্ণনা করেছে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম বলা হচ্ছে, হামলাকারী পূর্ব জেরুসালেমের একজন ফিলিস্তিনি।

ইসরায়েলি পুলিশ কমিশনার কবি শাবতাই ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘’গত কয়েক বছরের মধ্যে আমরা যেসব ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হয়েছি, এটা তার অন্যতম।‘’

আরও পড়তে পারেন:

ইহুদি সাবাথ পালনের অংশ হিসাবে শহরের ইহুদি বসতির একটি সিনাগগে (প্রার্থনাস্থল) সমবেত হয়েছিলেন ইসরায়েলি ইহুদিরা।

প্রার্থনা শেষে তারা যখন বেরিয়ে আসছিলেন, তখন বন্দুকধারী গুলি করতে শুরু করে। সেই সময় পুলিশের গুলিতে সেও নিহত হয়।

যে গাড়িতে করে হামলাকারী সেখানে এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে পুলিশ।

ফিলিস্তিনি জঙ্গি সংগঠনগুলো এই হামলাকে অভিনন্দন জানিয়েছে, কিন্তু কেউ দায় স্বীকার করেনি।

হামলার পর পশ্চিম তীর ও গাযা ভূখণ্ডে মিছিল করেছে এবং মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

এই হামলা হলো এমন দিনে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির নাৎসি শাসকদের হাতে ৬০ লাখ ইহুদি হত্যাকাণ্ডের স্মরণে হলোকাস্ট মেমোরিয়াল ডে পালন করা হচ্ছে।

পূর্ব জেরুসালেমে হামলার স্থানে ইসরায়েলি জরুরি বিভাগ এবং নিরাপত্তা কর্মীরা অবস্থান নিয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পূর্ব জেরুসালেমে হামলার স্থানে ইসরায়েলি জরুরি বিভাগ এবং নিরাপত্তা কর্মীরা অবস্থান নিয়েছে
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

ঘটনাস্থলে এসে ইহুদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলের পথঘাট তিনি আবার নিরাপদ করে তুলবেন, যদিও তিনি এখনো সেরকম কিছু করছেন না বলে ক্ষোভ রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর থেকেই সেখানে উত্তেজনা চলছে। নিহতদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিরা রয়েছে।

গাযা থেকে ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করার পর ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়।

‘ইসরায়েল এবং দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বর্তমানে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে, তাতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ বলে জানিয়েছেন তার একজন মুখপাত্র।

‘’এই মুহূর্তে সবার উচিত সবচেয়ে বেশি ধৈর্যের পরিচয় দেয়া,’’ বলেছেন মুখপাত্র স্টেফানি ডুয়ারিক।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকেই পূর্ব জেরুসালেম দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। তারা পুরো শহরটিকে নিজেদের রাজধানী বলে দাবি করে, যদিও বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই দাবিতে স্বীকৃতি দেয়নি।

ফিলিস্তিনিরা দাবি করে, তাদের ভবিষ্যৎ দেশের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুসালেম।