নির্বাচনে হেরে সর্বশেষ বক্তব্যে যা বললেন হ্যারিস

হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দেন কমালা হ্যারিস।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দেন কমালা হ্যারিস।
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

নির্বাচনে হেরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের, যেখানে তিনি নিজেও পড়াশোনা করেছেন, সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে একটি আবেগঘন ভাষণ দেন কমালা হ্যারিস।

তিনি উপস্থিত জনতাকে যুক্তরাষ্ট্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।

পরবর্তীতে তার সমর্থকদের উদ্দেশে এই কথাটি তিনি ইমেইলের মাধ্যমেও বলেছেন।

তার নির্বাচনি ক্যাম্পেইন ইমেইলে তিনি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি স্বীকার করেন যে নির্বাচনের ফলাফল “আমরা যা চেয়েছিলাম তা নয়,” তবে যোগ করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা হাল না ছেড়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন, ততক্ষণ “আমেরিকা কখনও মলিন হবে না”।

“এটি একে অপরের হাত ছেড়ে দেওয়ার সময় না, বরং ধৈর্য ধরার সময়,” আরও বলছিলেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প

ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কী?

প্রায় আড়াই মাস পর, ২০২৫ সালের ২০শে জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সেদিন থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, দুই-ই গ্রহণ করবেন।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

রীতি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

তবে তার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং সেটি করা হবে ইলেক্টোরাল কলেজ পদ্ধতি অনুসরণ করে।

আগামী ১৭ই জানুয়ারি ইলেক্টোরাল কলেজের প্রতিনিধিরা, যাদের বলা হয় ইলেকটোর, তারা একসাথে বসে তাদের ভোট দেবেন।

সাধারণত যে অঙ্গরাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী, সেই প্রার্থীর পক্ষেই ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেক্টোরাল ভোট দেয়া হয়। যদিও কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। সেরকম হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও নজির রয়েছে।

এরপর আগামী ছয়ই জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে সেনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট গণনা করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বর্তমান ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কমালা হ্যারিস। ভোট গণনা শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ঘোষণা করবেন।

এর আগে ২০২০ সালে ট্রাম্প সমর্থকরা এই প্রক্রিয়াটি বন্ধের চেষ্টা করেছিলেন। সেনেটের সেই ভোট গণনার সময়েই উত্তেজিত জনতা ক্যাপিটল হিলে হামলা করেছিল। কারণ মি. ট্রাম্প জো বাইডেনের কাছে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন।

সেই অনুষ্ঠানে ভোট গণনা পাঠ করছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় ‘রূপান্তরকালীন সময়’।

ওই সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাছাই করেন এবং পরিকল্পনা তৈরি করে থাকেন।

মি. ট্রাম্পও সেটিই করবেন বলে জানা যাচ্ছে।

কমালা হ্যারিস

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, কমালা হ্যারিস

হ্যারিসের ভবিষ্যৎ এখন কী?

আগামী ২০শে জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্সের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগ অবধি কমালা হ্যারিস ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে তার কাজ চালিয়ে যাবেন।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স শপথ নেওয়ার পর জো বাইডেন ও কমালা হ্যারিসের আর কোনও রাজনৈতিক পদ থাকবে না।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিরোধী দলের নেতা’ নামক কোনো পদ নেই।

তাই, প্রায় আড়াই মাস বাদে মিজ হ্যারিসের কোনও কাজ থাকবে না। তবে এটাও নিশ্চিত যে এরপর তার কাজের প্রস্তাবের অভাব হবে না।