ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, সরকার কী বলছে

ঢাকার শাহবাগ এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানের গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।
জাতিসংঘের অধীনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনার তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা- কর্মীরা।
একই দাবিতে তারা শুক্রবার বিকালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় ও শাহবাগ এলকায় অবরোধ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।
এরপর শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারীরা পুনরায় শাহবাগে অবস্থান নেন।
তখন আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আন্দোলনকারীরাও তখন পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে।
পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
এই সংঘর্ষে "পুলিশের গুলিতে" ইনকিলাব মঞ্চের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
তবে সরকার বলেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।

ছবির উৎস, ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পাতা থেকে
ইনকিলাব মঞ্চের দাবি
রাত পৌনে নয়টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সংগঠনটির ফেসবুক পাতা থেকে লাইভে আসেন।
সরকারের উদ্দেশ্যে লাইভে তিনি বলেন, পুলিশ সংগঠনটির কয়েকজন কর্মীকে বুট দিয়ে আঘাত করেছে, গলা চেপে ধরেছে এবং খামচি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করে পুলিশের কিছু সদস্য অতর্কিত হামলা করে এবং আমাদের ভাইদেরকে রক্তাক্ত করেছে।"
তাদের ওপর আক্রমণের সাথে জড়িতদের অতি দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান আব্দুল্লাহ আল জাবের।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব এ-ও বলেন, "অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের কোনো নেমপ্লেট ছিল না, তারা নেমপ্লেট খুলে ফেলেছে। এবং প্রত্যেকে মাস্ক পরা ছিল। নেমপ্লেট খুলে, মাস্ক ও হেলমেট পরে হামলা ফ্যাসিবাদী হাসিনার আমলে দেখেছি।"

এ বিষয়ে সরকারের বিবৃতি
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সরকারের এই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমদিনের বিক্ষোভ পর আবার শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে।
"সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

ছবির উৎস, ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পাতা থেকে
জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি সরকারের
"বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়" উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।"
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সরকার বলেছে, "দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।"
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, "সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।"








