আফগানিস্তানের সাথে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে বাংলাদেশের পাঁচ দুশ্চিন্তা

ছবির উৎস, Getty Images
এবারের এশিয়া কাপের ফরম্যাটটাই এমন যে মাত্র দুই ম্যাচেই শেষ হয়ে যেতে পারে কোন দেশের টুর্নামেন্ট। আবার এক ম্যাচ জিতেও কেউ চলে যেতে পারেন সুপার ফোরে। বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানের লাহোরে আজকের ম্যাচটি তাই নকআউট ম্যাচের মতো।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের জন্য মাত্র টুর্নামেন্ট শুরু। রোববারের ম্যাচের আগে তাই কঠিন এক সমীকরণের সামনে বাংলাদেশ দল।
আজ আফগানিস্তানের সাথে হারলেই তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত। আবার জিতলেও অপেক্ষায় থাকতে হবে শ্রীলংকা-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলাফলের।
আর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের বেশ কয়েকটি জায়গা নিয়ে চিন্তায় টিম ম্যানেজমেন্ট। কী সেগুলো, চলুন দেখে নিই।
কঠিন এক সমীকরণ
প্রথমেই সমীকরণটা পরিষ্কার করা যাক। আসরে টিকে থাকতে বাংলাদেশের সামনে একটাই রাস্তা খোলা - জয়। কারণ হারলেই এশিয়া কাপ থেকে বিদায় ঘটবে তাদের।
আফগানিস্তানের সাথে জেতার পর বাংলাদেশকে অপেক্ষায় থাকতে হবে 'বি গ্রুপে'র শেষ ম্যাচের জন্য। মঙ্গলবার সে ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান। ম্যাচে যদি শ্রীলংকা জিতে যায় তাহলে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে সুপার ফোর নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। দুই ম্যাচ হেরে বিদায় নেবে আফগানিস্তান।

ছবির উৎস, Getty Images
কিন্তু যদি আফগানিস্তান জিতে যায় তখন শ্রীলংকা, বাংলাদেশের সাথে তাদেরও পয়েন্ট হবে সমান দুই। এ সময় রান রেটে এগিয়ে থাকা দুটি দল যাবে শেষ চারে।
বাংলাদেশ সেখানেও আছে বেকায়দায়।
প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার সাথে মাত্র ১৬৪ রানে অলআউট হওয়ায় তাদের রানরেট অনেক কম। আফগানিস্তানের সঙ্গে তাই জয়ের পাশাপাশি রানরেট বাড়িয়ে নেয়াও তাই আজ লক্ষ্য থাকবে সাকিবদের।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে এই বাড়তি চাপের কথা স্বীকার করেছেন দলের কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহেও।
তিনি বলেছেন, “শ্রীলংকার সাথে গতদিন যা হয়েছে তাতে আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচটা এখন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেদিন আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী এ ম্যাচে সবাই সেরাটা বের করে আনবে।”
টপ অর্ডার
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
রানরেটের লক্ষ্য পূরণে সবার আগে রান করাটা জরুরী। কিন্তু বাংলাদেশের টপ অর্ডার এক্ষেত্রে বড় দুশ্চিন্তার নাম।
নিয়মিত ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস নেই। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন নাঈম শেখ ও নবাগত তানজীদ তামিম।
শ্রীলংকার সাথে মাত্র আট বল স্থায়ী হয় তাদের জুটি। সে ম্যাচেই অভিষেক হওয়া তানজীদ ফিরে যান শূন্য রানেই, আর নাঈম শেখ করেন ১৬। তিন নম্বরে নামা নাজমুল শান্ত ছাড়া টপ অর্ডারে রান পাননি কেউই।
এছাড়া বাংলাদেশের এক থেকে চার নম্বর পজিশন পর্যন্ত সবাই বাঁহাতি। সেটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে আফগান বোলিংয়ের সামনে। কারণ তাদের প্রধান বোলারদের মধ্যে শুধু ফজল হক ফারুকী ছাড়া বাকি সবাই ডানহাতি।
বাংলাদেশ স্কোয়াডে আরেকজন ওপেনার আছেন ডানহাতি এনামুল হক বিজয়। নাঈম শেখ বা তানজীদ তামিমের জায়গায় আজ তাকে খেলাতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের টপ অর্ডার দলটির বড় শক্তির জায়গা। রাহমানুল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান এবং রহমত শাহ গত এক বছরে দলটির হয়ে সবচেয়ে বেশি রান তুলেছেন।
গুরবাজের ক্যারিয়ারের পাঁচ সেঞ্চুরির দুটিই এসেছে বাংলাদেশের সাথে। এ ম্যাচেও বাংলাদেশের বোলারদের পরীক্ষা নিতে মুখিয়ে থাকবে তারা।

ছবির উৎস, Getty Images
নাম্বার সেভেন
শ্রীলংকার সঙ্গে নাজমুল শান্ত একপ্রান্ত আগলে ৮৯ রানের ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্তে সঙ্গী হিসেবে পাননি কাউকেই।
মিডল অর্ডারে তৌহিদ হৃদয় বা মুশফিক যেমন তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি, তেমনি লোয়ার অর্ডারেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন মেহেদী মিরাজ, শেখ মাহেদীরা। বাংলাদেশ তাদের শেষ চার উইকেট হারায় মাত্র দুই রানে।
ব্যাটিং নিয়ে তাই এখানেও আছে দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে বহুল আলোচিত সাত নাম্বার পজিশন নিয়ে।
এই পজিশনে সাধারণত এমন একজন ক্রিকেটার থাকেন যিনি প্রয়োজনে ধরে খেলতে পারেন আবার দরকার হলে দ্রুত রান তুলতেও সক্ষম।
সাত নম্বর জায়গাটা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বাংলাদেশ দল।
বেশ কয়েকটি ম্যাচ হল সাতে ব্যাট করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ নিজেদের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে আটে খেলিয়েছে শেখ মাহেদীকে।
কিন্তু স্কোয়াডে আরো দুজন ক্রিকেটার আছেন যাদেরকে এই পজিশনের জন্য চিন্তা করেই দলে রাখা হয়েছিল।
আফিফ হোসেন ও শামীম পাটোয়ারি। দুজনই প্রয়োজনে বল করতে পারেন ও বড় শট খেলতে পারেন। পরিবর্তন আসতে পারে তাই এখানেও।

ছবির উৎস, Getty Images
আফগান বোলিং
এটিই বোধহয় এই মূহুর্তে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম। আফগানিস্তানের বোলিংয়ের কথা আসলেই মাথায় আসে রশীদ-নবী-মুজিব স্পিনত্রয়ীর কথা।
কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশী ভীতি ছড়িয়েছেন পেসার ফজল হক ফারুকী। এই বাঁ হাতি বাংলাদেশের সাথে ছয় ম্যাচে শিকার করেছেন ১৪ উইকেট।
তার ওপেনিং স্পেলের সাথে তিন স্পিনারের ৩০ ওভার চাপে রাখবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ওয়ানডে বোলিং র্যাংকিংয়ের শীর্ষ পাঁচে আছেন দুই আফগান মুজিব আর রশিদ।
বাংলাদেশের কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে বলেন, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আফগানিস্তানের বোলিং বিশ্বের সেরা বোলিং অ্যাটাকগুলোর একটি।
"তাদের বিশ্বসেরা স্পিনার ও পেসারদের বিরুদ্ধে খেলাটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ। তবে সম্প্রতি আমরা তাদের সাথে খেলেছি এবং আমাদের খেলোয়াড়েরা সাফল্যও পেয়েছে। আপনি আসলে ওইদিন কেমন পারফর্ম করেন তার উপর নির্ভর করে সব।”-
অন্যদিকে, দুশ্চিন্তা আছে বাংলাদেশের নিজেদের বোলিং নিয়েও।
ইনজুরি থেকে ফেরা পেসার মুস্তাফিজ এখনো ফর্ম খুঁজে পেতে লড়ছেন।
শ্রীলংকার সাথে মাত্র তিন ওভার বল করতে দেখা যায় তাকে। এ ম্যাচে তাই সুযোগ পেতে পারেন আরেক পেসার হাসান মাহমুদ।

ছবির উৎস, Getty Images
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান মুখোমুখি হয়েছে মোট ১৪ বার। যেখানে বাংলাদেশের আট জয়ের বিপরীতে আফগানিস্তান জিতেছে ছয়টি ম্যাচ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মুখোমুখি দেখায় সাফল্যের পাল্লা ভারী আফগানদেরই। সবশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিই জিতেছে তারা।
এ বছর বাংলাদেশের মাটিতে এসে সিরিজও জিতে গিয়েছে আফগানিস্তান।
এদিকে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আজ প্রথম খেলতে নামছে আফগানিস্তান। আর এই মাঠে বাংলাদেশ খেলেছিল সবশেষ ২০০৮ সালে।
তবে আজকের লড়াইটা দু’দলের দুই সেরা তারকা সাকিব আল হাসান আর রশিদ খানেরও।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে উইকেট শিকারে সবচেয়ে এগিয়ে সাকিব আল হাসান। মোট ১৩ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ২৭ উইকেট।
অন্যদিকে ১৯ উইকেট নিয়ে তার পরের অবস্থানই লেগ স্পিনার রশিদের, ১১ ম্যাচে তার শিকার ১৯ উইকেট।
তবে ব্যাটিংয়ে আধিপত্য বাংলাদেশের।
দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান করা শীর্ষ পাঁচ জনই বাংলাদেশী। এর মধ্যে লিটন, তামিম ও রিয়াদ দলে নেই, ব্যাট হাতে সেরাটা দিতে চাইবেন মুশফিক ও সাকিব।
কারণ লড়াইটা যে শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠতে পারে আফগানিস্তানের বোলিংয়ের সাথে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের।











