শাহজালাল বিমানবন্দর সাত ঘণ্টা পর চালু, 'নাশকতার' প্রমাণ খুঁজছে সরকার

বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য রাখা হতো কার্গো ভিলেজের এই অংশে

ছবির উৎস, Bangladesh Fire Service & Civil Defense.

ছবির ক্যাপশান, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য রাখা হতো কার্গো ভিলেজের এই অংশে
পড়ার সময়: ৪ মিনিট

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে লাগা আগুন প্রায় সাত ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রাত নয়টা থেকে ফ্লাইট চলাচলসহ বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম আবারও শুরু করার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে বিমানবন্দরের ফাঁকা জায়গায় অতিরিক্ত বাতাসের কারণে আগুন বেশি ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অবশ্য জানিয়েছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যেখানে আগুন লেগেছে তার পুরোটাই আমদানি কার্গো, রপ্তানি কার্গো পুরোপুরি নিরাপদ রয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক আগুনের ঘটনায় নাশকতার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।

শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানানো হয়, "নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।"

আগুনের এই ঘটনায় বিপাকে পড়েন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রীরা। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করতে বাধ্য হন তারা।

আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

ছবির উৎস, Bangladesh Fire Service & Civil Defense.

ছবির ক্যাপশান, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট

আগুনের ঘটনায় যা জানা যাচ্ছে

হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব অংশের কার্গো ভিলেজে আগুনের সূত্রপাত। জানা গেছে, ওই অংশে দেশের বাইরে থেকে আমদানি হওয়া পণ্য মজুদ করে রাখা হতো।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী শনিবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে আগুন লাগার পর নেভানোর কাজে একে একে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট। তাদের সঙ্গে অংশ নেয় সিভিল এভিয়েশন ও বিমান বাহিনীর ফায়ার ইউনিউও।

আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নি নির্বাপণে কাজ করে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনসহ বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট। যোগ দেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীও।

এরপরই সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।

এমনকি নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকাগামী কয়েকটি ফ্লাইট বিকল্প রুটে পাঠানো হয়। আর বিমানবন্দরে আটকে পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আগুন লাগার পরপরই দুর্ঘটনা এড়াতে হ্যাঙ্গারে থাকা কয়েকটি বিমান কিছুটা দূরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতেও দেখেছেন তিনি।

আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত একজন ফায়ার ফাইটার গণমাধ্যমকে জানান, আগুনের পাশাপাশি কার্গো ভিলেজের ওই অংশে থাকা কয়েকটি ড্রাম বিস্ফোরিত হতে দেখেছেন তিনি।

আগুন নেভানোর সময় তীব্র ধোঁয়া ও প্রচণ্ড গরমে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানান ওই ফায়ার ফাইটার।

বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব কোণে কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে

ছবির উৎস, PINKY AKHTAR

ছবির ক্যাপশান, বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব কোণে কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে

ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি বিবিসি বাংলাকে জানান, দুপুরের পর আট নম্বর গেইটের কাছে কার্গো ভিলেজ থেকে ধোঁয়া দেখতে পান তারা। এরপর দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

দুপুরের পর এই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। যেখানে দেখা যায়, কার্গো ভিলেজে লাগা এই আগুনে ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।

ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিমানবন্দরের কর্মীদেরকেও আগুন নেভানোর কাজ করতে দেখা যায়।

এসময় কার্গো ভিলেজের বাইরে ভিড় করেন বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং করে উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিতেও দেখা যায়।

এছাড়া শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে বলেও জানান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার মাহমুদ।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনের কারণে আটটি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডাইভার্ট করে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে।

নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা?

মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটায় এগুলো নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা এমন প্রশ্ন তৈরি হয় অনেকের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা ধরনের আলোচনা ছড়াতে দেখা যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানায় আগুন লাগার পর ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশেই একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। যদিও এই ঘটনা কারণ এখনো জানা যায়নি।

দুই দিন পর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল কারখানার বড় ধরনের আগুন লাগে। কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও সাত তলা ভবনটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৭ ঘণ্টার বেশি সময় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এরই মধ্যে শনিবার ঢাকা বিমানবন্দরে আগুনের ঘটনা ঘটলো।

রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস টিম থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, "দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার তা গভীরভাবে অবগত"।

সাম্প্রতিক এসব অগ্নিকাণ্ড 'নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত' হলে অথবা 'আতঙ্ক বা বিভাজন সৃষ্টির' লক্ষ্যে ঘটানো হচ্ছে বলে প্রমাণ পেলে সেগুলো 'মোকাবিলা' করার কথাও বলা হয়।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা 'গভীরভাবে তদন্ত করছে' জানিয়ে এতে বলা হয়, "নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না"।

তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এসব অগ্নিকাণ্ডের কোনো কারণ এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি।