মণিপুরে সেনাবাহিনীর হাত থেকে 'সশস্ত্র বিদ্রোহীদের' ছিনিয়ে নিল মেইতেই নারীরা

মণিপুরের একটি গ্রামে অভিযান চালানোর সময় স্থানীয়দের সাথে সেনা সদস্যরা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মণিপুরের একটি গ্রামে অভিযান চালানোর সময় স্থানীয়দের সাথে সেনা সদস্যরা
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি

ভারতের দাঙ্গা উপদ্রুত মণিপুর রাজ্যে আটক হওয়া ডজনখানেক সশস্ত্র ব্যক্তিকে ‘মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী গত মধ্যরাতে ঘোষণা করেছে। যাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের 'জঙ্গি' হিসেবে বর্ণনা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

এই সশস্ত্র ব্যক্তিরা একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠির সদস্য, যাদের কেন্দ্র মিয়ানমারে। মেইতেই অধ্যুষিত ইথাম গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল শনিবার তাদের মুক্তির দাবিতে প্রায় হাজার দেড়েক মানুষ সেনা সদস্যদের ঘিরে ধরলে সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, 'জঙ্গিদের' মুক্তির দাবিতে যে জনতা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন নারী।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে ‘স্পিয়ার কোর’ মণিপুরে সহিংসতার মোকাবিলা নিয়ে টুইটারে নিয়মিত আপডেট জানাচ্ছে, তারা এই বিক্ষোভকারীদের ‘অ্যাগ্রেসিভ মব’, অর্থাৎ ‘আক্রমণাত্মক ক্ষুব্ধ জনতা’ বলে বর্ণনা করেছে।

সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রায় দিনভর মুখোমুখি সংঘাত চলার পর তারা সিদ্ধান্ত নেয় বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা উচিত হবে না এবং ধৃত 'জঙ্গিদের' মুক্তি দেওয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর :
কাংপোকপি জেলায় অভিযান চালাচ্ছে সেনা ও আসাম রাইফেলস

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কাংপোকপি জেলায় অভিযান চালাচ্ছে সেনা ও আসাম রাইফেলস

যে সেনা কমান্ডার এই অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন তাকে এই ‘পরিণত সিদ্ধান্তে’র জন্য সেনাবাহিনীর তরফ থেকে ভূয়সী প্রশংসাও করা হয়েছে। তারা বলেছে, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে একটি মানবিক মুখ আছে, এই সিদ্ধান্ত তারই পরিচায়ক।”

যেভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হল

এর আগে শনিবার (২৪ জুন) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মণিপুরের ইম্ফল ইস্ট জেলার ইথাম গ্রামে অভিযান চালায়। পুরো গ্রামটি ঘিরে ফেলে কোনায় কোনায় তল্লাশি চালানো হয়।

এরপর সেনাবাহিনী টুইট করে, “ওই অভিযানে বারোজন কে.ওয়াই.কে.এল ক্যাডারকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম-সমেত আটক করা হয়েছে।”

‘কে ওয়াই কে এল’ একটি মেইতেই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, যাদের সংগঠনের পুরো নাম ‘কাংলেই ইয়াউল কান্না লুপ’।

ওই বারো জন ধৃত জঙ্গীর মধ্যে (স্বঘোষিত) লে: কর্নেল মোইরাংথেম তাম্বা ওরফে উত্তমকেও শনাক্ত করা হয়েছিল বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

Skip X post, 1
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না

End of X post, 1

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন :

২০১৫ সালে ৬ ডোগরা রেজিমেন্টের ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় এই উত্তমকেই মূল পরিকল্পনাকারী বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

কিন্তু এর পরই বিশাল সংখ্যায় স্থানীয় জনতা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। সেনা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের যে বর্ণনা দিয়েছে তা এরকম :

“প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ মানুষের ক্ষুব্ধ জনতা সঙ্গে সঙ্গে টার্গেট এরিয়াটি ঘিরে ফেলে এবং সেনাবাহিনীকে অভিযান চালাতে বাধা দিতে থাকে। ওই জনতার নেতৃত্বে ছিলেন নারীরা ও স্থানীয় একজন গ্রাম প্রধান।"

"ওই আক্রমণাত্মক জনতাকে বারবার অনুরোধ জানানো হতে থাকে সেনাবাহিনীকে আইন অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিন, কিন্তু তাতে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।”

গত পঞ্চাশ দিনেরও বেশি সময় ধরে মণিপুরে টহল দিচ্ছে ভারতীয় সেনা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গত পঞ্চাশ দিনেরও বেশি সময় ধরে মণিপুরে টহল দিচ্ছে ভারতীয় সেনা

“এই ধরনের বিশাল সংখ্যক ক্ষুব্ধ মানুষের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর বলপ্রয়োগ কী ধরনের সংবেদনশীল বিষয় হবে এবং সেটা করলে প্রাণহানিরও সম্ভাবনা থাকবে – এটা বিবেচনায় নিয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ধৃত ১২জন ক্যাডারকেই স্থানীয় নেতার হাতে হস্তান্তর করা হবে।"

"এরপর আমাদের সেনা কলামগুলি তাদের কর্ডন তুলে নেয় এবং অভিযানে জঙ্গীদের কাছ থেকে যে সব অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধ-উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছিল সেগুলো নিয়ে এলাকা ত্যাগ করে।”

দিল্লির বৈঠক নিয়েও বিরোধ

এদিকে গতকাল (শনিবার) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সর্বদলীয় বৈঠকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী “একেবারে প্রথম দিন থেকে মণিপুর পরিস্থিতির ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখছেন” এবং “পরিপূর্ণ সংবেদনশীলতা নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।”

ভারতের প্রধান বার্তা সংস্থা পিটিআই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে।

এর আগে মণিপুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব, এই প্রশ্নে ভারতে সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এমন কী, আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর সদ্যসমাপ্ত রাষ্ট্রীয় সফরেও তাঁকে এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।

Skip X post, 2
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না

End of X post, 2

পিটিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বদলীয় বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান গত ১৩ জুন থেকে মণিপুরে একটিও প্রাণহানি হয়নি এবং রাজ্যের পরিস্থিতি যে ‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে’ এটি তারই একটি উদাহরণ।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস অবশ্য অমিত শাহর ডাকা এই বৈঠককে পুরোপুরি ‘লোকদেখানো’ বলে বর্ণনা করেছে।

কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ টুইট করে অভিযোগ করেছেন, বৈঠকে তাদের প্রতিনিধি ছিলেন মণিপুরের সবচেয়ে সিনিয়র রাজনীতিবিদ তথা তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিং – কিন্তু তাঁকে তাঁর বক্তব্যই পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।